ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আযম, আওলাদুর রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি শুরু থেকেই বাতিল ফিরক্বাসমূহ যেমন- ওহাবী, খারেজী, লা-মাযহাবী, শিয়া, মুতাযিলা ও রেযাখানী ইত্যাদির প্রতি প্রতিটি ওয়াজ-মাহফিলে ও মাসিক আল বাইয়্যিনাতের প্রতিটি সংখ্যায় “প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ” দিয়ে আসছেন। বর্তমানেও তা অব্যাহত আছে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। অথচ বাতিল পন্থীরা আজও পর্যন্ত বাহাসের উক্ত চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মত সাহস দেখাতে পারেনি।
পাঠক! বাহাসের ব্যাপারে ওহাবীরা লা-জাওয়াব ও নিশ্চুপ হলেও ইদানিং বে-পর্দা, বে-হায়া, হর-হামেশা হারাম কাজে লিপ্ত, মুশাব্বিহা ফিরক্বার যোগ্য মুকাল্লিদ, ভ-, গোমরাহ, রেযাখানী পা চাটা গোলাম অদক্ষ জলীল তার অবৈধ প্রচার পত্রের মাধ্যমে কিছুটা মাতা-মাতি করছে। তবে তার এ মাতা-মাতি বা লাফালাফি যে শুধুমাত্র জনগণকে ধোকা দেয়ার উদ্দেশ্যে তা আজ দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।
কারণ, যদি অদক্ষ জলীল সত্যিই বাহাস করাতে আগ্রহী হয়, তবে রাজারবাগ শরীফ উনার সাথে বাহাসের চুক্তি নামায় আবদ্ধ হয়না কেন? হবেই বা কেন সাহসে? কেননা অদক্ষ জলীল তো ভাল করেই জানে যে, বাহাসে গেলে প্রথমেই তাকে তার কুফরী আক্বীদা ও বদ আমলের জবাবদিহী জনগণের সামনে করতে হবে।” আর তখনই মূলতঃ প্রকাশ পেয়ে যাবে তার সত্যিকার জিহালতী ও ভ-ামী। কারণ, সে যে সকল কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও বদ আমলে অভ্যস্ত সে বিষয়ে কোন দলীলই তার কাছে নেই।
“প্রসঙ্গ : ছানী আযান”
পাঠক! ভ- জলীলের মসজিদে ছানী আযান যদিও ভিতরেই দেয়া হয়। কিন্তু ভ- জলীল প্রচার করে থাকে যে, ছানী আযান মসজিদের বাইরে দেয়াই সুন্নত। আর এ ব্যাপারে তার দলীল হলো তার গুরু রেযা খার ফতওয়া, কারণ রেযা খা ফতওয়া দিয়েছে, “ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ।” (ফতওয়ায়ে রেযভিয়া, আহকামে শরীয়ত)
পাঠক! ভ- জলীল যদি “বাহাসে” রেযা খার উক্ত ফতওয়াকে দলীল হিসেবে পেশ করে, তবে ভ- জলীল তো ধরা খাবেই সাথে সাথে তার গুরুও পাকড়াও হবে। কারণ রেযা খা ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ প্রমাণ করতে গিয়ে ফিক্বাহের যেসকল কিতাবসমূহের নাম খ- ও পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ করেছে, সেসকল কিতাবের উক্ত খ- ও পৃষ্ঠায় ছানী আযানের কথা মোটেও উল্লেখ নাই। বরং সেখানে মতলক্ব আযান অর্থাৎ জুময়ার প্রথম আযানসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আযান মসজিদের ভিতরে দেয়াকে মাকরূহে তানযীহি বলা হয়েছে।
শুধু তাই নয় রেযা খা যে সকল কিতাবের বরাত দিয়েছে যেমন, “মারাকিউল ফালাহ, ফতহুল ক্বাদীর আলমগীরী” ইত্যাদি। এ সকল কিতাবের “জুমুয়ার অধ্যায়ে” স্পষ্টভাবেই একথা উল্লেখ আছে যে,
اذا ان الثانى عند المنير.
অর্থাৎ “ছানী আযান যা মিম্বরের নিকটে দেয়া হয়।”
অনুরূপ আরো অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবেই ছানী আযান মিম্বরের নিকটে ইমামের সম্মুখে দেয়ার কথাই ব্যক্ত হয়েছে।
পক্ষান্তরে ভ- জলীল নির্ভর যোগ্য এরূপ একখানা কিতাবের নামও বলতে পারবেনা যে কিতাবে লেখা আছে যে, “ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়া মাকরূহ।” এই যদি হয় অবস্থা তবে ভ- জলীল বাহাসে আসবে কোন সাহসে? সে তো ভাল করেই জানে যে, ছানী আযান সম্পর্কিত তার গুরুর ফতওয়া সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নয় বরং ভুল ও দলীল বিহীন, এরূপ ভুল ও দলীলবিহীন বক্তব্যকে সে কি করে বাহাসে দলীল হিসেবে পেশ করবে? তাই বাহাস থেকে দূরে থাকাই তার জন্মে শ্রেয়।
“প্রসঙ্গ : ছবি”
ভ- জলীলের আরেকটি বদ আমল হলো- সে অহরহ, হর-হামেশা ছবি উঠায়। তাকে যদি বাহাসে প্রশ্ন করা হয়, আপনি যে ছবি উঠান তা কোন দলীলের ভিত্তিতে? অবশ্য তখন সে বাচাঁর জন্যে বলবে-মাজুর অবস্থায়তো ছবি তোলা যায়; যেমন হজ্জ করতে ছবি তুলতে হয়। কিন্তু এই অজুহাতে সে বাহাসে পরাজয় এড়াতে পারবেনা। কারণ তাকে যদি মা’জূরের সংজ্ঞা জিজ্ঞাসা করা হয় তখনই তো সে আটকে যাবে। কেননা হজ্জের জন্য ছবি তোলা মা’জূর হতে পারে। কিন্তু আমিয়াপুর মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বালেগা ছাত্রীদের সাথে ছবি তোলা, আজমীর সফরে গিয়ে হনুমানের সাথে, মেয়ে লোকের সাথে এবং ওয়াজ মাহফিল ও মিছিল-মিটিং এ ছবি তোলা তো আর মা’জূর নয়।
উল্লিখিত ক্ষেত্রে ছবি তুলতে তো কেউ তাকে বাধ্য করে নাই। কাজেই “মা’জূর” বললেই যে সে বেঁচে যাবে এরূপ আশা দুরাশা বৈ কিছুই নয়। কাজেই এক্ষেত্রেও ভ- জলীলের পরাজয় সুনিশ্চিত। এমতাবস্থায় সে বাহাসে আসবে কোন সাহসে?
“প্রসঙ্গ : বে-পর্দা হওয়া”
পাঠক! ভ- জলীলের আমলনামার মধ্যে “বে-পর্দা হওয়া” বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। আপনারা মাসিক আল বাইয়্যিনাত উনার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছেন যে, ভ- জলীল এক বিধবা বেগানা মহিলার সাথে একই ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছে, মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বালেগা ছাত্রীদেরকে তার পাশেই বসিয়ে রেখেছে, বেপর্দা বেগানা মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে সফর করেছে। অথচ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, “পর্দা করা ফরযে আইন।”
ভণ্ড জলীলকে যদি “বাহাসে” প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি আলিম দাবীদার হয়ে “ফরযে আইন” লংঘন করে বেপর্দা হন কোন দলীলের ভিত্তিতে? এক্ষেত্রে ভণ্ড জলীলের জবাব দেয়ার কিছু আছে কি? এক্ষেত্রেও তার পরাজয় নিশ্চিত নয় কি? সুতরাং ভণ্ড গোমরাহ, বেপর্দা জলীল বাহাসে আসবে কোন সাহসে? (চলবে)
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
মাথা কাটা ফযলু : আবুল কাশেম মুহম্মদ ফযলুল হক। “আপনার তলোয়ারে গেল মোর মাথা” সত্যিই নিজ তলোয়ারেই তার মাথা কাটা গেল, তাই তো সে এখন মাথা কাটা “ফযলুল হক?” কিছুদিন চট্টগ্রাম জামেয়া সুন্নিয়া বেয়াদবিয়া ইন্ডাষ্ট্রি থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বর্তমানে ঢাকা তৈয়্যবিয়া বেয়াদবিয়া ইন্ডাষ্ট্রিতে বেয়াদব তৈরিতে মশগুল।
মূলতঃ ফযলুর গুরু রেযা খাই বেয়াদব তৈরির ইন্ডাষ্ট্রির সফল উদ্ভাবক। কারণ, সেই প্রথম তের শতকের মুজাদ্দিদ আওলাদে রসূল, শহীদে আযম, আমীরুল মু’মিনীন, ইমামুজ্জামান, সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ভ-, ওহাবী, কাফির ইত্যাদি আপত্তিকর ভাষায় গালী ও অপবাদ দিয়ে বেয়াদবির সিলসিলা চালু করে গেছে। সেই বেয়াদবি সিলসিলার যোগ্য ধারক ও বাহক হচ্ছে নিজ তলোয়ারে মাথা কাটা ফযলুল হক।
গালীর গোলাম ফযলু : এই বেয়াদব নিজেকে রেযাখার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তাদের “ভ-ামী মূখপত্রের” বিগত কয়েকটি সংখ্যায় বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, গাউছুল আ’যম, আওলাদে রসূল রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার শানে যে সকল আপত্তিকর গালী ও মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে তা একজন সাধারণ ভদ্র লোকও মুখে উচ্চারণ করতে লজ্জাবোধ করবে।
অথচ এই গালীবাজ বেয়াদব ফযলুই আবার লিখেছে যে, আল বাইয়্যিনাতে নাকি শুধুই গালা-গালী করা হয়। তার এই বক্তব্য যে সম্পূর্ণই মিথ্যা তা আর বলার অপেক্ষাই রাখেনা। কারণ আল বাইয়্যিনাতে মূলত: উলামায়ে ‘সূ’দের সত্যিকার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়। সেই স্বেরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে তার সত্যিকার দোষ-ত্রুটি গুলো উল্লেখ করা যদি গালী হয়; তবে বলতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিও কুরআন শরীফ উনার মধ্যে গালাগালী করেছেন। নাউযুবিল্লাহ!
কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামে পাকে ওলীদ বিন মুগীরার ১০টি দোষ উল্লেখ করেছেন। অনুরূপ আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “আবুল হিকামকে” “আবূ জাহিল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রেযাখানীদের মতে তবে কি মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব গালী দিয়েছেন? নাউযুবিল্লাহ!
যদি এটা গালী না হয় তবে আল বাইয়্যিনাতেরটা গালী হবে কেন? আল বাইয়্যিনাত কি কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে? অথব যে দোষ তার মধ্যে নেই সেই দোষ উল্লেখ করেছে? করেনি। সুতরাং আল বাইয়্যিনাত গালী গালাজ করে ফযলুর এ বক্তব্য সম্পূর্ণই মিথ্যা।
বস্তুত: ফযলুল হকই যামানার মুজাদ্দিদ ও আওলাদে রসূল উনাকে গালী গালাজ করে ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিজেকে খাছ বেয়াদব বা বেয়াদব বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাব্যস্থ করেছে। অর্থাৎ সত্যিকার গালীর গোলাম হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বেয়াদবের দালালীতে ফযলু : পাঠক! আমি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৪তম সংখ্যায় যখন প্রমাণ করে দিলাম যে, ফযলু আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্মাণিত লিখকগণের প্রতি যে অপবাদ দিয়েছে তা সম্পূর্ণরূপেই মিথ্যা। তার কতিপয় প্রমাণও উক্ত সংখ্যায় এবং পরবর্তী সংখ্যায় পেশ করা হয়েছে। জাহিল ফযলু আমার উক্ত বক্তব্যের খন্ডনমূলক জবাব না দিয়ে শুধু উপন্যাস রচনা করে গেছে। আর কিছু অবান্তর ও আজগুবী প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাথে সাথে বেয়াদব জলীলের বেয়াদবির পক্ষে সেই পুরনো সাফাই গেয়ে গেছে।
আসলে তার মধ্যে সামান্যতম আদব ও অনুভূতিও যদি থাকতো তবে সে আব্দুল জলীলের উক্ত বেয়াদবিপূর্ণ বক্তব্যের দালালী করে বলতোনা যে, “…. আব্দুল জলীলেরটা বেয়াদবি …. এটা … কোন কিতাবে আছে।”
মূলতঃ আক্বায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কোটা আদব আর কোনটা বেয়াদবি তার সবই কিতাবে উল্লেখ থাকা শর্ত নয়। যেগুলো উল্লেখ নাই সেগুলো আক্বলের দ্বারা বুঝে নিতে হয়। একই বক্তব্য বা লিখা ক্ষেত্র বিশেষে বেয়াদবি বলে গণ্য হয় আবার ক্ষেত্র বিশেষে বেয়াদবি বলে গণ্য হয়না। যেমন ধরুন কেউ আক্বায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকসহ কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তির নাম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করলো, আর সেখানে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করার সময় লক্বব উল্লেখ করলোনা অথচ অন্যান্যদের বেলায় লক্বব দিয়ে উল্লেখ করলো এটাকে একটি মূর্খ লোকও বেয়াদবি বলে মনে করবে।
আবার দেখুন অনেকে আক্বায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক লিখে উক্ত কিতাব বা প্রবন্ধের নাম দিলো- রহমতুল্লাহি আলামীন, শানে হাবীবুর রহমান, নূরে মুহম্মদী ইত্যাদি। কিতাবের উক্ত নামের ঠিক নীচে লেখকের নাম উল্লেখ করলো লক্ববসহ, কারো দৃষ্টিতেই এটা কস্মিনকালেও বেয়াদবি বলে গণ্য হবেনা।
কাজেই কিতাবে উল্লেখ থাকলেই যে বেয়াদবি হবে আর কিতাবে উল্লেখ না থাকলে যে বেয়াদবি হবেনা জাহিল ফযলু এ দলীল পেল কোথায়?
দালাল ফযলুর নিকট জবাব চাই : পাঠক! আদবের বিষয়টি যে অনেক ক্ষেত্রেই আক্বল ও অনুভূতির সাথে সম্পৃক্ত তা ইমামে আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একটি ফতওয়া থেকেও প্রমাণিত হয়।
ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফতওয়া দিলেন- “নামাযের প্রথম বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পাঠ করার পর কেউ যদি ‘দরূদ শরীফ’ আল্লাহুমা ছাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা মুহম্মদ” পর্যন্ত পাঠ করে তবে তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে।
বর্ণিত আছে যে, এরপর ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আক্বায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত লাভ করলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি! নামাযে আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করলে সাহু সিজদা দিতে হবে কেন?” জবাবে ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নামাযের প্রথমে বৈঠকে দরূদ শরীফ পাঠ করার অনুমতি নেই এরপরও যারা পাট করে তারা মূলতঃ বেখেয়ালে ও অন্যমনস্ক হয়েই পাঠ করে যা বেয়াদবি অন্তর্ভুক্ত। তাই বেয়াদবির শাস্তি স্বরূপ আমি সাহু সিজদা ওয়াজিব করে দিয়েছি।” জবাব শুনে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশি হয়ে গেলেন।
ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো ফতওয়া দিলেন যে, মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ উনার মধ্যে সর্বদা অবস্থান করা মাকরূহ। কারণ সর্বদা অবস্থান করার কারণে আদব বজায় রাখা যায়না।
সূফীগণ ফতওয়া দিয়েছেন, স্বীয় পীর ছাহেব যেদিকে অবস্থান করেন সে দিকে পা দেয়া বেয়াদবি।
এখন দালাল ফযলুর নিকট আমি জবাব চাই যে- (১) নামাযের প্রথম বৈঠকে ‘দরূদ শরীফ’ পাঠ করলে সাহু সিজদা দিতে হবে এটা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও আছে কি?
(২) পবিত্র মক্কা শরীপ ও মদীনা শরীফ উনাদের সর্বদা অবস্থান করা মাকরূহ এটা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায় উল্লেখ আছে?
(৩) স্বীয় পীর ছাহেবের অবস্থানস্থলের দিকে পা দেয়া বেয়াদবি এটা কুরআন শরীফ-হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায়ও দেখানো সম্ভব হবে কি?
উল্লিখিত বিষয়গুলো কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ নেই বলে কি দালাল ফযলু তা অস্বীকার করবে? কাজেই ফযলু যদি আমার বক্তব্যের দলীল চায় তবে তাকেও দলীল দিতে হবে যে, “কোন কিতাবে আছে, আব্দুল জলীলের উক্ত বক্তব্য বেয়াদবি নয়।”
আমার পাল্টা প্রশ্ন : পাঠক! ফযলু আমাকে প্রশ্ন করেছে, আব্দুল জলীলের ন্যায় পাশাপাশি বা উপরে নীচে লিখলে কুফরী হবে একথা তখন না বলে এখন বলছি কেন?
আমার পাল্টা প্রশ্ন হলো, ফযলু এখন কেন বলছে যে, আল বাইয়্যিনাতের লিখকরা ক্ষেত্র বিশেষে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে অন্যদের জন্য বেশি লক্বব ব্যবহার করছে?
অর্থাৎ তখন কেন “ক্ষেত্র বিশেষে” একথাটি উল্লেখ না করে আমভাবে লক্বব কমবেশি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ফযলুর জন্য যদি আমকে খাছ করা জায়েয হয় তবে অপরের জন্য নাজায়েয হবে কেন?
চ্যালেঞ্জ গ্রহণেও প্রতারণা :
পাঠক! আমি আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৪তম সংখ্যায় লিখেছি যে, ……… রেযাখানীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ, তারা যদি আল বাইয়্যিনাতের কোন একটি সংখ্যায়ও দেখাতে পারে যে, ঠিক অনুরূপভাবে কোথাও আক্বায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক ও রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক অথবা অন্য কোন আলিম বা লিখকের নাম লিখা আছে এবং তাতে লক্বব কম বেশি করা হয়েছে তবে তাদেরকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। ……”
জাহিল ফযলু আমার সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে বলে মিথ্যা প্রচারণা করেছে ঠিকই কিন্তু তার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মধ্যেও রয়েছে প্রতারণার গন্ধ। অর্থাৎ সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে পাঠকদেরকে প্রতারিত করেছে। সে যদি সত্যি সত্যিই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতো তবে উক্ত সংখ্যাতেই তা প্রমাণ করলোনা কেন? চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়েছে পত্রিকায় চ্যালেঞ্জের জবাবও পত্রিকার মাধ্যমেই আসবে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই আব্দুল জলীলের অনুরূপ আল বাইয়্যিনাতে উল্লেখ আছে এরূপ কোন প্রমাণ যদি থেকে থাকে তবে পত্রিকায় প্রকাশ করুক। পত্রিকায় প্রকাশ না করে অন্যভাবে দেখাবে বলার অর্থই হলো পাঠকের সাথে চরমভাবে প্রতারণা করা। (চলবে)
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ উনার ইতিহাস : যুদ্ধ শেষ হইবার তিন দিন পর শিখ সৈন্যগণ বালাকোট ত্যাগ করিলেও নাহাঙ্গ, উপসম্প্রদায়ভূক্ত কয়েকজন শিখ সেইখানে থাকিয়া যায়। ইতিপূর্বে ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ তাহাদের সেনাপতি ফুলা সিং আকালী, নওশাহরা যুদ্ধে আফগানদের হাতে নিহত হইয়াছিল। সেই সময়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উত্তর-পশ্চিম সীমান্তপ্রদেশে পৌঁছিয়াও ছিলেন না। অথচ নাহাঙ্গ শিখগণের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, ফুলা সিং সাইয়্যিদ আহমাদের সঙ্গি মুজাহিদগণেরই হাতে নিহত হইয়াছেন। তাই তাহারা প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লাশ কবর হইতে তুলিয়া উহাকে নিকটবর্তী নদীতে নিক্ষেপ করিল। নদীতে নিক্ষিপ্ত হইবার পর লাশের মস্তক ও ধড় পরস্পর হইতে পৃথক হইয়া গেল। মস্তক কিয়ৎ পরিমাণ দ্রুত গতিতে ভাসিয়া গিয়া দশ মাইল ভাটিতে অবস্থিত গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খান গ্রামের সেতুর সহিত আটকাইয়া গেল। সংবাদ পাইয়া গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খান গ্রামের নেতা উহা তুলিয়া আনাইয়া নিকটেই নদী তীরে দাফন করাইয়া দিলেন। অতপঃপর উহার উপর ক্ষুদ্র একটি কবর প্রস্তুত হইয়া গেল। উহাকে দেখিয়া মানুষের লাশের শুধু মস্তকাংশের কবর বলিয়াই মনে হইত। জনৈক ব্যক্তি কবরের খাদেম হিসাবে সেইখানে অবস্থান করিতে থাকিলেন। তিনি উহার চতুস্পার্শ্বে একটি ক্ষুদ্র বেষ্টনী নির্মাণ করিলেন। উনার ইনতিকালের পর উনাকেও সেইখানে দাফন করা হইল। অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি খাদেম হিসাবে সেইখানে অবস্থান করিতে থাকিলেন। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্য কয়েকটি কবরসহ হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত মাযার শরীফ সেতু হইবার পরই বাম দিকে একটি বেষ্টনীর মধ্যে দেখা যাইত। গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খান গ্রামের যেই সকল অধিবাসী প্রাতঃকালে নদী তীরে আগমন করিতেন, উনারা সাধারণত এইখানে ফাতিহাঃ পাঠ করিতেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হইবার পর উক্ত ক্ষুদ্র কবরকে প্রবৃদ্ধ করিয়া উহাকে একটি পূর্ণ কবরের রূপ দান করা হইয়াছে। উহাইে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ বলিয়া বর্ণিত হইয়া আসিতেছে।
হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বড় নদীর ¯্রােতে ধীর গতিতে ভাটির দিকে ভাসিয়া যাইতেছিল। গাঢ়ী হাবীবুল্লাহ খান গ্রাম হইতে আনুমানিক তিন মাইল উত্তরে নদীর পূর্ব তীরে তালহাট্টা নামীয় একটি গ্রাম রহিয়াছে। উক্ত গ্রামের কয়েকজন লোক হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ধড়কে নদীতে ভাসিয়া যাইতে দেখিয়া উনাকে উঠাইয়া আনিয়া নিকটবর্তী কবরস্থানে দাফন করে। শিখগণ যাহাতে উক্ত লাশের অবমাননা করিতে না পারে, সম্ভবত তদুদ্দেশ্যে তাহারা উহার দাফন স্থানকে চিহৃহীন করিয়া রাখিল। বর্তমানে এমনকি তালহাট্টা গ্রামের কোনও অধিবাসীও উহার দাফন স্থান কোথায় ছিল তাহা জানে না।
বালাকোটে অবস্থিত হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবর অচিরেই চিহ্ন- পরিচয়হীন হইয়া গেল। টোংকের শাসনকর্তা নওয়াব ওয়াযীরুল-মুলক-এর শাসনামলে (১৮৩৪-১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ) হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবিত বন্ধু ও সহকর্মীদিগকে একত্র করিয়া তৎসম্পর্কিত সকল ইতিহাসকে রিওয়ায়াতের আকারে সংকলিত করা হয়। সেই সময়ে (ভারতের উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত বসতী জিলার অধিন মাঝওয়া মীর গ্রামের অধিবাসী) সাইয়্যিদ জাফর আলী নাকাবতী যিনি হযরত সাইয়্যি আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী মুবারক বর্ণনায ফারসী ভাষায় একখানা বৃহৎ কলেবর গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। উক্ত গ্রন্থখানার রচনাসন নির্দেশক নাম ছিল তারীখ-ই আহমাদিয়াÑ (تاريخ احمديت) উক্ত শব্দদ্বয়ের অন্তড়র্ত বর্ণসমূহের সাংকেতিক সংখ্যা ১২৭৯=১২ হি. সন) এবং উত্তার প্রকৃত নাম ছিল মানু’রাতু’স দু‘আদা’ ফী আহ’ ওয়ালি-গু’যালি ওয়া’শ-শুহাদা’। গ্রন্থখানার রচনাকার্য, যেমন উহার পূর্বোক্তনাম দ্বারা জানা যায়, ১২৭৯/১৮৬৮ সনে সমাপ্ত হইয়াছিল। গ্রন্থকার উহাতে লিখিয়াছেন যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ উনার কোনও পরিচয় চিহ্ন বর্তমানে বিদ্যমান নাই। তাহার শাহাদাত লাভের ন্যূনাধিক বাষট্টি বৎসর পর যুবদা-র খানগণের মধ্য হইতে আজাব খান, মানসাহরার খান নিযুক্ত হন। উক্ত খানগোষ্ঠী হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাবান ছিল। সেই কারণে খান আজাব খান বালাকোট ও উহার চতুস্পার্শ্বস্থ এলাকা বয়োবৃদ্ধ লোকদিগকে একত্র করিয়া তাহাদের দ্বারা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাযার শরীফসমূহকে চিহ্নিত করাইয়া ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ উহাদের স্থানে নতুন করিয়া পরিচয় চিহ্ন স্থাপন করেন।
-মুহম্মদ নূরুল আলম, ঢাকা।
গেল লেখায় হরতাল প্রসঙ্গে মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই গংদের মুনাফিকী ও জিহালতীর বিষয় বর্ণিত হয়েছিল। কিন্তু এরা যে শুধু মুনাফিক আর জাহিল নয় বরং চরম প্রতারক, ধোকাবাজ আর বাটপার তাও তাদের লেখার বিষয়বস্তুতে প্রতিপন্ন হয়।
“ধরি মাছ না ছুঁই পানির” উদাহরণ এখানে পর্যাপ্ত নয়। কারণ পানি না ছুঁয়ে মাছ ধরা শরীয়তে হারাম নয় কিন্তু হারাম জিনিসকে লোক লজ্জা আর ইসলামী অনুশাসনের ভয়ে ভীত হয়ে হারাম বলে পুনরায় ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে মিথ্যা, অলীক আর খোঁড়া যুক্তি দিয়ে সেটাকে হালাল করার প্রচেষ্টা হারামকে হালাল করার অপরাধ সাপেক্ষে মুরতাদ হওয়ার মত হারাম।
পাঠক! এই প্রতারকদের পত্রিকা রাহমানী পয়গামে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, হরতাল এমনিতে হারাম ঠিকই আছে কিন্তু যদি এমন হয় যে, মানুষ নিজেদের থেকেই দোকান খুললোনা, গাড়ী চালালো না, অফিসে-কারখানায় গেলোনা, হাসপাতালে ডাক্তার-নার্স গেলোনা, স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় ওস্তাদ-ছাত্র গেলোনা। এভাবে যদি কারো চাপে নয় বরং মানুষ নিজেদের ইচ্ছে থেকেই রাষ্ট্রীয়, সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে সব কাজ বন্ধ রাখে তবে সে হরতাল জায়েয।
আর মুনাফিক, জাহিল মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই গং এমনভাব দেখিয়েছে যে, তারা এ যাবত মহিলা নেত্রীদ্বয়ের আচলে জোটে বেধে যত হরতাল করেছে তার সবই ছিল তাদের বর্ণিত পর্যায়েরই হরতাল। নাউযুবিল্লাহ!
পাঠক! বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, হদস, মাহিউদ্দীন, চরমোনাই ফজলু গংদের এহেন বক্তব্যকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিথ্যা হিসেবেই আখ্যা দিতে হয় এবং প্রখর বাস্তবতাকে সবচেয়ে বড় অস্বীকারকারী, স্মরণকালের প্রকান্ড পেঁচার দল বলে অভিহিত করতে হয়।
এদেশের দারিদ্র পীড়িত মানুষ, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী, ছাত্র সকল স্তরের পেশাজীবী শ্রমিক তথা আবাল-বৃদ্ধ-বনিত্য সকলেই যে প্রচন্ড রকমের হরতাল বিমূখ, হরতালের কষ্টে তাদের সবারই যে নাভিশ্বাস উঠেছে তা কেবল মুনাফিক, জাহিল, প্রতারক প্রকান্ড পেঁচার দল মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই ফজলু গংই অস্বীকার করতে পারে।
আর জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে কাজ-বাজ বন্ধ করলেই কি তা জায়েয হয়ে যাবে? সেক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আইন, সেটা পেঁচার দল মুনাফিক, প্রতারক, মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই ফাজিল গং না দেখলেও মুসলমানদের যে তা অবশ্য অবশ্যই দেখতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যখন ছলাত (নামায) শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ফজল (রিযিক) তালাশ কর।”
সুতরাং পেঁচার দল মহান আল্লাহ পাক উনার এ হুকুমের প্রতি দৃষ্টি না দিলেও মুসলমানদের যে দিতে হবে। কারণ এটা মহান আল্লাহ পাক পাক উনার আদেশ, ফরয। সে ফরয অস্বীকার করে তারা কোন মতেই রাষ্ট্রীয়, সমাজ জীবনের কোন স্তরেই কাজ-কাম বন্ধ করে থাকতে পারেনা। সুতরাং মুসলমানদের দেশে কোনক্রমেই মুসলমানদের জন্য স্বতঃস্ফুর্ত হরতাল সম্ভব নয়। সেটা হদস, মাহিউদ্দীন, ফজলু গং এর মুরুব্বী তথা নবী গান্ধীর দেশে সম্ভব হতে পারে। মুসলমানদের দেশে নয়।
তদুপরি হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেকেই রক্ষক। তাকে তার রক্ষিত বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” এই হাদীছ শরীফ উনার আলোকে ইসলামী আদর্শ মুতাবিক গোটা সমাজ ব্যবস্থাই এক সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ। মালিক-শ্রমিক, ওস্তাদ-ছাত্র, চালক-যাত্রী, দোকানদার-কেতা ডাক্তার-রোগী ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই পরস্পর পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধ। শ্রমিক চাকুরে ইচ্ছে করলেই অফিস কামাই করতে পারেনা, সব দোকানদারই যে ইচ্ছে করলে দোকান বন্ধ রাখতে পারেনা, গাড়ীর চালকও গাড়ী বন্ধ রাখতে পারেনা, কারণ এসব করে শুধু অর্থ কামাই নয় বরং বান্দার, সমাজের দায়িত্ব পালনও ইসলামী আদর্শ মুতাবিক তাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
সুতরাং হক্কুল ইবাদ সম্পৃক্ত এ দায়িত্ব ও কর্তব্যকে অস্বীকার করা পেঁচার দল মাহিউদ্দীন, হদস, চরমোনাই ফাজিল গং গান্ধী প্রবর্তিত হরতাল প্রচলন করে যারা গান্ধীর উম্মত সেজেছে তাদের পক্ষেই সম্ভব, মুসলমানদের পক্ষে নয়।
তদুপরি পেঁচার দলের কথিত স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পেঁচাদের মানসজগতে প্রতিপালিত হলেও মুসলমানদের পক্ষে তা অনুসরণ করা সম্ভব নয়।
-মুহম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।
অজপাড়া গাযের বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামান ক্ষেপে উঠেছে। সারাজীবন নিজ গ্রামের গন্ডীর বাইরে তার যাওয়া হয়নি। ছেলের পুনঃপুনঃ আমন্ত্রণে অবশেষে তাকে শহরে যেতে হয়েছিল। সেখানে জনৈক আলিমের ওয়াজে শোনা ক্ষমা করা মহান আল্লাহ পাক উনার সুন্নত, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের সুন্নত এই বক্তব্য বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানকে রীতিমত ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। শহরে এটে উঠতে না পেরে স্বগ্রামে গিয়ে সে রীতিমত হট্টগোল পাকিয়ে তুলেছে। “হেই মিঞারা বুঝলেননি, শহরের আলিমরা আলিম না। হেরা গোমরাহ, হেরা বেদাতী, কুফুরী আরম্ভ করিচ্ছে। সারাজীবন আমরা হুনলাম সুন্নত, সুন্নত মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত। আর হেরা এখন নতুন বেদাতী শুরু করিচ্ছে। বলিচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সুন্নত, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের সুন্নত, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের সুন্নত।
তয় মিয়ারা, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মত মানুষ, যে মহান আল্লাহ পাক উনার আবার সুন্নত অইব? আর ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল? যে তাগোর আবার সুন্নত অইব?
বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামান অভিজ্ঞতার সূরে মজলিসকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে ফের ফরমায়, “সারাজীবন হুনলাম মহান আল্লাহ পাক উনার সুন্নত। অহন নতুন সুন্নত। ওই মিয়ারা আপনারা সাবধান হয়া যান। এগুলো গোমরাহ আলিম। সুন্নত শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত। আর নতুন কোন সুন্নত বলা কুফরী, বেদাতী।”
পাঠক! অজপাড়া গায়ের মূর্খ বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানের এই বক্তব্য বেঠিক হলেও তার জন্য বেমানান নয়। অজপাড়া গায়ে থেকে নিম মোল্লার কাছে সে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের কথা শুনেছে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার সুন্নতের কথা, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের সুন্নতের কথা উক্ত নিম মোল্লার জ্ঞানের পরিধিতেও ছিলনা তার ওয়াজের প্রসঙ্গেও আনেনি। আর উক্ত নিম মোল্লার ছোহবতে সারাজীবন কাটিয়ে বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানেরও তাই বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে, সুন্নত বলতে কেবল রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতই বুঝায় অন্য কারো সুন্নত যে বিদয়াতী নয় বরং এটি তার নিজেরই জিহালতি তা সে আদৌ ঠাওর করতে পারেনি।
কিন্তু পাঠক! দুঃখজনক কথা হলো, অজপাড়াগায়ের মূর্খ বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানের মত নয়, ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দীদের মুরুব্বী তথাকথিত শাইখুল হাদীছ গং-এর মুখপত্রে যখন মন্তব্য করা হয় ইসলামের ইতিহাসে এই দু’ঈদ (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা) ব্যতীত তৃতীয় কোন ঈদ বা ঈদ-ই- মীলাদুন্নবী নামে কোন উৎসবের অস্তিত্ব পূর্বে কখনো ছিলনা বর্তমানেও সংযোজনের সুযোগ নেই।”
তখন মন্তব্য করতে হয়, অজপাড়া গায়ের মূর্খ হাবীবুজ্জামানের “মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত ছাড়া অন্য কোন সুন্নত নেই এ মুর্খতা মূলক মন্তব্যের চেয়েও তাদের বক্তব্য অনেক বেশি জিহালতী সূচক ও হঠকারীতামূলক, প্রতারণাযুক্ত।
কারণ এরা চল্লিশ বছর ধরে বুখারী শরীফ পড়ানোর দাবীদার। অথচ এই বুখারী শরীফ উনারই কি উল্লেখ নেই হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একদা এক ইহুদী এসে উনাকে বলেছিল, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনাদের কুরআন শরীফ উনার মধ্যে একটি আয়াত শরীফ আছে, যদি তা আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো তবে আমরা তা নাযিল হওয়ার দিনকে ঈদ স্বরূপ পালন করতাম।” তিনি বললেন, “তা কোন আয়াত?” সে বললো,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
অর্থ: “তোমাদের জন্য আজ তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের দ্বীন ইসলামকে পছন্দ করলাম।”
হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, “যে দিনে এবং যে স্থানে এ আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছিল তা আমি জানি। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জুমুয়ার দিনে আরাফার ময়দানে দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় এ আয়াত শরীফ নাযিল হয়।”
“খইরুল জারী শরহে বুখারী” কিতাবে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছিলেন যে, আমরাও সে দিনকে ঈদ স্বরূপ গ্রহণ করে থাকি।” হযরত ইমাম নব্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অনুরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। এটা হতে কোন বিশেষ আনন্দ উৎসবের দিনকে স্থায়ী ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার বিধান পাওয়া যায়।
অতএব, বলতে হয় দু’ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নেই এ কথা বলে মূলতঃ খারিজী, ওহাবীব তথা শাইখুল হদস গং জাহিল বৃদ্ধ হাবীবুজ্জামানের জিহালতির কাতারে নয় বরং তাদের জিহালতির পিতা আবু জাহিলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আর আবু জাহিলের ত্ববকায় সমাসীন বলেই তাদের অন্তরে আবু লাহাবের মুহব্বত টইটুম্বর।
সে কারণেই খোদায়ী ঈদ, মুত্তালিবী ঈদ, সকল ঈদের ঈদকে তারা লাহাবী ঈদ বলে নিজেদের শয়তানের দোসর হিসেবে প্রতীয়মান করেছে। নাউযুবিল্লাহ!
-মুহম্মদ মাছূমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।
দেশে হাজার হাজার মাদরাসা রয়েছে। দাবীদার লাখ লাখ আলিম রয়েছে। ইসলামী হুকুমাত কায়েমের দাবীতে ডজন ডজন ইসলামী দলও কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রচারণা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের নামে হরতালের মত জুলুমবাজিও করা হয়েছে। মসজিদ থেকে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ হয়েছে। মসজিদের মেহরাবে মাদরাসার ওস্তাদ-ছাত্রসহযোগে পুলিশ হত্যার অভিযোগও রয়েছে। অর্থাৎ দেশে দাবীদার ইসলামের সৈনিক তথা মুজাহিদের এবং তাদের পুরোধা নেতৃবর্গের কোনই কমতি নেই বা তাদের পছন্দমাফিক কর্মকান্ডের ঘাটতি নেই। কিন্তু তারপরেও যা হচ্ছে কথিত এন.জি.ও গুলো দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ক্রমাগত শিকড় বিস্তার করছে।
সঙ্গতকারণেই তাই এ প্রশ্ন ঘণীভূত হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে, এত ইসলামী মারকাজ, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দাবীদার, লাখ লাখ ইসলামী সৈনিক, প্রচারিত নিঃস্বার্থ নেতৃবর্গ এবং তাদের দাবীকৃত সক্রিয় কর্মকা- থাকার পরও এন.জি.ও দের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কি করে?
অভিজ্ঞ মহল এর পিছনে কিছু কারণ ব্যক্ত করেছেন বটে। তারা নির্দেশিত করেছেন দেশের অধিকাংশ মসজিদের কমিটির দন্ড-মুন্ডের কর্তা হয়ে বসে আছেন, সাবেক ঘুষখোর, কর্মকর্তা বা সুদখোর বাড়ীওয়ালা, প্রভাবশালী স্থানীয় সরদার অথবা বিত্তশালী ব্যবসায়ী, আমলহীন হাজী ছাহেব। দেখা গেছে, মসজিদ কমিটির এসব কর্তা ব্যক্তিদের কারোরই বাসায় পর্দা নেই। তবে বিগত জীবনের কালো টাকার কাফফারা আদায় করতে অথবা হাজী ছাহেব হিসেবে সমাজে একটু নাম কামাই করতে অথবা মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে কালো-সাদা বাছ-বিচার না করে মসজিদ উন্নয়নের নামে কিছু অর্থ ঢালতে তাদের প্রবৃত্তি কিছুটা উৎসাহী। এ প্রেক্ষিতে পর্দার ওয়াজ করলে মসজিদ কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারির মুখটা যেমন জুমুয়ার মজলিশে কালো হয়ে যায় তেমনি অপরদিকে ইসলামী রাজনীতির সৈনিক দাবীদার, বেচারা ইমামও বিশেষ বেকায়দায় পড়ে। মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী ছাহেবের যুবতী মেয়ে মহা আপত্তিকর বে-পর্দায় চলাফেরা করে এ বিষয়টা পর্দার ওয়াজে হাজী ছাহেবকে বিব্রত করে ঠিকই; কিন্তু ইমাম ছাহেব যে নিজেই খোলামেলাভাবে মহিলঅর সাথে সাক্ষাত করে, বাড়িতে বোন, ভাবী বানিয়ে তাদের সাথে অন্তরঙ্গ সংখ্যতা গড়ে তোলে, চলাফেরার সময়ও তার অসংযত চাহনি বিরাজ করে, এসব বিষয় তখন মুছল্লীদের পক্ষ থেকে খোদ ইমাম ছাহেবের দিকেই প্রশ্নবানে নিক্ষেপিত হয়।
ইসলামী আন্দোলনের নামে মসজিদের মেহরাবে ইমাম ছাহেবের পক্ষে পুলিশ হত্যা করা সহজ বটে কিন্তু মসজিদের বাইরে খাহেশাতে নফসের বিরুদ্ধে বে-পর্দা থেকে হিফাযত হয়ে শরীয়তি পর্দা পালন ইমাম ছাহেবের পক্ষে খুবই কঠিন। এদিকে দানের ওয়াজে উভয়বিধ সুবিধা। ইমাম ছাহেবের হাদিয়াও বাড়ে আবার হাজী ছাহেবের সুনামও বিস্তার লাভ করে। ইসলামী আন্দোলনের দাবীদার অধিকাংশ ইমামদের থেকে তাই দান, কুরবানী, নামাযের ওয়াজ শোনা গেলেও সুদ বা পর্দা সম্পর্কে ওয়াজ শোনা যায় না আদৌ।
মূলতঃ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এ অবস্থা। কাজেই দিন দিন মানুষ শরীয়তি পর্দা সম্পর্কে বে-খবর হচ্ছে। সুদের খারাবী ও পরিণতি সম্পর্কে গাফিল হচ্ছে। আর আম জনতার এই উদাসীন মানসিকতার সুযোগই লুফে নিচ্ছে এন.জি.ও গুলো। মূলতঃ নামধারী ইসলামিক দলগুলোর ব্যর্থতাই এন.জি.ও গুলোর হাতকে শক্তিশালী করেছে।
তদুপরি মানুষ এখন অনেক সচেতন। ধর্ম ব্যবসায়ী তথা ফায়দালোভী ফতওয়াবাজদের খোলশ সম্পর্কে তারা অনেক অবগত। দারিদ্রপীড়িত সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে, এদেশের ইসলামী নামধারী দলগুলোর নেতা শাইখুল হদস আজিজুল হক, মাহিউদ্দীন, মুফতে আমিনী তথা কমিনি, ফজলু ইত্যাদি নেতারা ঠিকই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। এদেশে ইসলামী দলের নেতার ভাবমূর্তি দেখিযে তারা বিদেশ থেকে কোটি কোটি ডলার চাঁদা বাগিয়ে আনছে। আর সেই সব ডলার ব্যয় করছে ইসলামী রাজনীতির নামে গাড়ী-বাড়ি, ক্যাডার, অস্ত্র সংগ্রহ আর মিছিল-মিটিং-এর নামে লোক জড়ো করার কাজে। পক্ষান্তরে ইসলামের যে মোহময়ী আদর্শ, “যে পেট পুরে খায় আর তার প্রতিবেশি না খেয়ে ঘুমায় সে প্রকৃত ঈমানদার নয়।” কোন কাজ সবচেয়ে উত্তম? “ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়া,” ইত্যকার হাদীছ শরীফ উনার আমল। তথা হক্কুল ইবাদ আদায়ের কোন প্রবণতা ইসলামের নামধারী রাজনীতিকাদের নেই। দারিদ্র পীড়িত সাধারণ মানুষ ভালভাবে উপলব্ধি করেছে যে, ইসলামী রাজনীতিকরা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এন.জি.ওরা যে অবাঞ্ছিত নগদ লাভ দিচ্ছে শুধুমাত্র সদিচ্ছা আর মানবতাবোধের অভাবে তারা তাও দিচ্ছেনা। দারিদ্র-পীড়িত সাধারণ মানুষ তাই মাজুর হিসেবে এন.জি.ওদের সাহায্য নিচ্ছে আর ধর্মব্যবসায়ীদের, ফায়দালোভী ফতওয়াবাজদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। কথা আর কাজের সাথে মিল না থাকায় ফায়দালোভী ফতওয়াবাজদের এন.জি.ও বিরোধী তৎপরতা তাই কিছুতেই সফল হচ্ছে না।
আর বিশেষতঃ এন.জি.ও রা মহিলাদের বে-পর্দা করে ফেলছে, ঘরের বউ-ঝিদের মাঠে, রাস্তায় বের করে মহা অধর্ম করে ফেলছে এসব কথায় সাধারণ মানুষ আর অনুপ্রাণিত হচ্ছেনা। কারণ তারা দেখছে, এসব কথা যারা বলছে, লিখছে, তাদের নিজেদের জীবনেই তারা মহা বে-পর্দা, বদ চরিত্র।
হাটহাজারীর মুখপত্র মাসিক মঈনুল ইসলামের জুলাই/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় এন.জি.ও রা বেশ্যাবৃত্তির প্রসার ঘটাচ্ছে বলে মায়াকান্না করেছে যে আব্দুল খালেক জোয়ারদার। সে নিজেই বিগত জীবন পরিচালনা করেছে রংপুরে রেলগেটের পার্শ্বে বেশ্যালয়ে এবং সেখানেই কেঁটেছে তার পুরো যৌবন কাল। এবং বর্তমানে তার স্ত্রী, শাশুড়ী বলে পরিচিত মহিলাও সেই বেশ্যালয় থেকেই আসা। এখন যৌবন হারিয়ে বুড়ো বয়সে দাড়ি রেখে সে বক ধার্মিক সেজেছে।
ইতোপূর্বে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে যখন ধারাবাহিকভাবে-জিনাখোর জোয়ারদারের হাক্বীকত তুলে ধরা হয়েছিল, তখন সে লা-জাওয়াব হয়ে বলেছিল, “আল বাইয়্যিনাত সম্পর্কে আর কিছু লিখবনা।” কিন্তু বদ-চরিত্রের বদ খাছলত কি বদলায়? এন.জি.ও দের বিরুদ্ধে মায়াকান্না দেখিয়ে সে এক জায়গায় ছোট করে রাজারবাগকে মুরতাদ ঘোষণা করেছে। পক্ষান্তরে শাইখুল হদসকে বলেছে, ইসলামের আজীবন খাদিম, এন.জি.ও বিরোধী পুরুষ।
বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, সত্যিকার অর্থে তারা যে মুরতাদ আর এন.জি.ও দের দোসর তা সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে ভালভাবে হৃদয়ঙ্গম করেছে।
কারণ বুখারী শরীফ উনার অনুবাদ, “আল কুরআন শরীফ উনার দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” ইত্যাদি কিতাব এবং অনেক লেখা লেখিতে পুরো শরীয়তী পর্দার বয়ান করে, অন্ধ হলেও তার সাথে দেখা করা যাবেনা এই উদ্ধৃতি দিয়ে, দেবর-ভাবীর সাথে সাক্ষাৎ মৃত্যু সদৃশ্য এই হাদীছ শরীফ উনার বয়ান করে শাইখুল হাদীসরা এন.জি.ও দের বে-পর্দার কথা তুলে ধরতে চায়, তারাই যখন একই মঞ্চে মহিলাদের সাথে কথা বলে একই টেবিলে খাবার খায়, ছবিতে মহিলা নেত্রীর বুকের মাজে নিজের স্থান করে নেয়, সভা শেষে একই গাড়ীতে মহিলা নেত্রীর পাশাপাশি বসে ঘরে ফিরে তখন তারা কি মহান আল্লাহ পাক উনার সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইসলামের প্রতিনিধিত্ব কতে পারে? যে ইসলামে অন্ধ হলেও বিপরীত লিঙ্গের সামনাসামনি হওয়া হারাম, যে ইসলামে দেবর-ভাবীর সাক্ষাৎ মৃত্যু সদৃশ্য হারাম, যে ইসলামে ছবি তোলা লা’নত ও শিরকী কাজ সে ইসলামের নেতা হতে পারে না বরং তাদের দেয়া ফতওয়া অনুযায়ীই তারা মুরতাদরূপে চিহ্নিত হতে পারে।
মূলতঃ এন.জি.ও বিরোধী প্রচারণা এদের মায়া কান্নাই কেবল নয় বরং এটি ওদের ইসলামী রাজনীতির নামে ভোট কামনার শ্লোগান মাত্র। আর এ কথা আজ পরিস্কার যে, ধর্ম ব্যবসায়ী রাজাকার গংই সারাক্ষণ অনৈসলামিক কাজ করে, সন্ত্রাস চালায়, মুনাফিকী করে। আর মুখে প্রচার করে যমীন মহান আল্লাহ পাক উনার, হুকুমও মহান আল্লাহ পাক উনার।
আজ বহুদিন পর জিনাখোর জোয়ারদারও তার বদ আমলের বিপরীতে মুখে মুখে চিহ্নিত জামাতের শ্লোগান ধরায় পরিস্কার হয়ে গেছে যে ইসলামের নামধারী চিহ্নিত দেশদ্রোহী ধর্মব্যবসায়ী জামাতটিরই মুখপত্র রূপে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে নিছক প্রচারণার স্বার্থেই তাদের পক্ষে নেমেছে। মাহিউদ্দীন, হদস, ফজলু গংদের এন.জি.ও বিরোধী ভাবমূর্তি গড়তে চাচ্ছে। সরলপ্রাণ মুসলমানদের কাছে ইসলাম দরদী সেজে তাদের ভোট বাগাতে চাচ্ছে। পাশাপাশি এই প্রতীয়মান হয়েছে, স্বার্থন্বেষী কারণে আদর্শিক দ্বন্দ্বের প্রেক্ষিতে চিরকালীন বর্জনীয়, চিহ্নিত জামাতকে আদরে বরণ করে, তাদের মুখপাত্র যিনাখোর জোয়ারদারকে নিজেদের পত্রিকায় লিখার সুযোগ করে দেওবন্দী হাটহাজারীরা তাদের দাবীকৃত আদর্শকে ন্যাক্কারজনকভাবে বিসর্জন দিয়েছে।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা।
“তাহের শাহ আর হোসনে আরা” ছি! লজ্জা, ছি! লজ্জা, ছি! লজ্জা!
“হোসনে আরা।” আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্রবিদের দরকার নেই। সাধারণ মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারছেন, এ নামধারী ব্যক্তি একজন মহিলা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ মহিলা কোন পর্দানশীল মহিলা নয়। বরং খোলামেলা আধুনিক শিক্ষিত মহিলা। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার। তার অবারিত বদনমণ্ডল অফিসের কর্তা-কর্মচারী সকলেরই খাহেশাতে নফসকে তুষ্ট করে। নাউযুবিল্লাহ!
আর এ খোলামেলা মহিলাকেই প্রকাশ্য ময়দানে পাশে বসিয়ে তার সঙ্গ উপভোগ করেন- বর্তমান নামধারী সুন্নীদের কথিত পীর তাহের শাহ। শুধু হোসনে আরাই নয়, প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া মহিলা মাদরাসার তাবৎ যুবতী মহিলারই তাহের শাহর বেগানা মহিলা দর্শন আকাঙ্খাকে পরিতৃপ্ত করেছে। এদের মাঝে অনেকের কদমবুছি গ্রহণ এবং তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে দেবার অনুভূতি তাহের শাহর খাহেশাতে নফসকে আরো উল্লসিত করেছে।
পাঠক! এই হচ্ছে বর্তমানে দাবীকৃত সুন্নীদের তথাকথিত পীরে তরীক্বতের হাল হাক্বীক্বত। উল্লেখ্য, হোসনে আরা আর যুবতী মাদরাসা ছাত্রীদের সঙ্গ ও দর্শন কেবল তাহের শাহ একাই উপভোগ করেনি বরং তাহের শাহর উৎসাহে আরো যারা আগ্রহভরে বেগানা মহিলা দর্শন ও তাদের সঙ্গ লাভে প্রবৃত্ত হয় তাদের মাঝে জুলাই/২০০১ ঈসায়ী রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের সূত্রানুযায়ী রেযাখানী মাযহাবের সম্পাদক অধ্যক্ষ জালালুদ্দীন আল ক্বাদরীও রয়েছে।
পাঠক! মাসিক আল বাইয়্যিনাতে বহুদিন ধরেই তথাকথিত সুন্নী ও তাদের পীরে তরীক্বত তাহের শাহর মহা আপত্তিকর প্রকাশ্য বে-পর্দা সম্পর্কে বলা হলেও মিথ্যাবাদী, নামধারী সুন্নীরা তা বারবার অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু কিছুটা রাখঢাক করে পত্রস্থ করার পরও রেযাখানী মাযহাবের মুখপাত্র ২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় যা ছাপা হয়েছে তাতে সমঝদার পাঠকের আর কিছুই বুঝতে বাকী থাকেনা। এতে বলা হয়েছে, “ষোল শহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া মহিলা মাদরাসায় পবিত্র ঈদ-এ-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ তাহের শাহ মুদ্দাজিল্লুহুল আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার হোসনে আরা বেগম।”
পাঠক! সংক্ষিপ্ত এ সংবাদ পাঠের পর উক্ত মাহফিলের ঘটনা বিবরণী যা এ লেখায় পত্রস্থ হয়েছে তা সেখানে উপস্থিত না থাকলেও সমঝদার পাঠকের বুঝতে কিছু বাকী থাকেনা। তাহের শাহ একাই নয় বরং জালালুদ্দীন আল ক্বাদেরীসহ তার পুরো সাঙ্গপাঙ্গরাই প্রকাশ্য ময়দানে শরীয়তি পর্দার খিলাফ করে, হোসনে আরাসহ, কথিত জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসার যুবতী ছাত্রীদের দর্শন ও সঙ্গ উপভোগ করেছে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) এর পাশাপাশি সঙ্গতকারণেই কেউ একটু সরস মন্তব্য করেছেন যে, “হোসনে আরাই কি তবে তাহের শাহর পরে তথাকথিত সুন্নীদের গদ্দীনশীন?
বেশরা তাহের শাহর পক্ষে বে-পর্দা হোসনে আরাকে স্থলাভিষিক্ত করা বিচিত্র কিছু নয় বৈকি।
-মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মা’ছূম, ঢাকা।
তথ্যটি অবশ্য রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র গংই প্রকাশ করেছে। ১৯৯৭ সালে তাদের ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংখ্যার ১১৫ পৃষ্ঠায় তারা উদ্বৃত করেছে, “ইমাম আহমদ রেযা খা তার বেছাল প্রাপ্তির ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট আগে (২৫ শে সফর ১৩৪০ হিজরী/১৯২১ সন) অসিয়ত করেছিলেন যে, তার বেছাল প্রাপ্তির স্থান বারান্দা হতে সকল ছবি সম্বলিত কার্ড, মুদ্রা ও খাম অপসারণ করতে হবে” (হাসনাইন রেযা খান প্রণীত ওয়াসায়া শরীফ, লাহোর, পৃষ্ঠা-৮) ছবি সম্বলিত চিঠির খাম, কার্ড ও মুদ্রা ইমাম ছাহেব সহ্যই করতে পারতেন না। তার অসিয়তনামার লেখক মওলান হাসনাইন রেযা লিখেছেন :
“যখন দু’টো বাজার চার মিনিট বাকী, তখন সে সময় কত হয়েছে তা জিজ্ঞেস করে। সে দেওয়াল ঘড়ি তার সামনে খোলা রাখতে বলে। অতঃপর হঠাৎ সে বলে ‘ছবি সরিয়ে ফেলো’! সে কার্ড, খাম, টাকা-পয়সাগুলো নিজের কাছে রাখতে চায়নি।” (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা-৮)
মহান আল্লাহ পাক উনার কী মহিমা! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইমাম সাহেবের অছিয়ত দ্বারা তার অনুসারীদেরকে তারই ইচ্ছা মান্য করতে বাধ্য করেছে।
পাঠক! এই আলোচনা দ্বারা কি এই সাব্যস্ত হয়না যে রেযা খা যদি আও বেঁচে থাকতো তাহলে একইভাবে সে ছবি সম্বলিত সব কিছু ঘৃণা ভরে ছুঁড়ে ফেলতো।
আফসুস! ইহুদীরা যেমন তাদের নবীদের নাম নিলেও, নবীর প্রতি আলাদা দরদ দেখালেও কার্যত নবীর বিরোধীতা করে, রেযা খানীরা তথা তাহের শাহ গং দৃশ্যত রেযা খার মুহব্বত দেখালেও কার্যতঃ ছবি তুলে, ছাপিয়ে, ভিডিও করে রেযা খার অসিয়তের বাইরে চলে নিজেদেরকে রেযা খার অনুসারীর বাইরে প্রমাণ করে।
পাঠক! রেযা খার অসিয়তের প্রেক্ষিতে আমরা বলতে বাধ্য হই যে, আল বাইয়্যিনাত-এর বিরুদ্ধে যে ক’টি সংখ্যায়ই রেযা খানী মাযহাবের মুখপত্র তরজুমান-এ লিখা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করত রেযা খা। কারণ তার প্রত্যেকটিতেই রয়েছে প্রাণীর ছবি। নি¤েœ তার সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি দেয়া গেলো-
* রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র জুন/২০০১ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা ৮২, বনানী কেমিক্যাল ওয়ার্ক্স এর বিজ্ঞাপণে উৎপাদিত সামগ্রীর গায়ে সিংহ ও মহিলার ছবি রয়েছে।
* জুন/২০০১ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা ১৫৬, মেসার্স শাহ আমানত ফ্লাওয়ার মিলস (প্রাঃ) লিঃ, মেসার্স কাশেম ফ্লাওয়ার মিলস এর বিজ্ঞাপন। ডলফিন মার্কা ১নং উন্নতমানের ময়দা-ডলফিন-এর ছবি।
* জুন/২০০১ ঈসায়ী পৃষ্ঠা-১৯৬, মুন ষ্টার পেইণ্টস এর বিজ্ঞাপন। সৌজন্যে- মেসার্স আমির এন্ড ব্রাদার্স। পুরুষের ছবি।
* পৃষ্ঠা- ১৯৮, কে, এস, এ অয়েল রিফাইনারী লিঃ এস এ, গ্রুপ। মাছের ছবি।
* আগস্ট ২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৬২, আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদরাসার নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের নিচে দাঁড়ানো দু’জন লোকের ছবি।
* পৃষ্ঠা-১৬০, জেব্রা ফুড এন্ড মসল্লা প্রোডাক্টস। পরিবেশকঃ লাকী স্টোর। জেব্রা-এর ছবি। এছাড়াও নিম্নলিখিথ সংখ্যাগুলোতেও একই ছবি ছাপা হয়। যেমন-
* আগস্ট/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৭১,
সেপ্টেম্বর/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-১৮,
অক্টোবর/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৭০,
নভেম্বর/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৫৬,
ডিসেম্বর/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৬১,
জানুয়ারী/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-২১,
ফেব্রুয়ারী/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-৭২,
মার্চ/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-১৮,
এপ্রিল/২০০০ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-২৭,
মে/২০০১ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-১৭,
জুন/২০০১ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-১৬০।
* জুন/২০০১ ঈসায়ী, পৃষ্ঠা-১৯৮, সয়াবিন তেলের বিজ্ঞাপনে গোল্ড ফিসের ছবি।
সুতরাং পাঠক! দেখা যাচ্ছে যে, যখন থেকে রেযাখানীরা তাদের মুখপত্র তরজুমানে আল বাইয়্যিনাতের বিরুদ্ধে লেখা-লেখি শুরু করেছে তার প্রত্যেকটিতে সংখ্যায়ই প্রাণীর ছবি ছাপা হয়েছে।
আর সে সংখ্যাগুলো কি-না তাদের ইমাম আহমদ রেযা খার ওসীয়ত অনুযায়ী ছুঁড়ে ফেলার বস্তু। আর বলার অপেক্ষা রাখেনা, কেবল ছবি ছাপা নয় বরং সাক্ষাত ভিডিও করার কারণে তাহের শাহ রেযা খার ত্যাজা বংশবদ; আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য।
-মুহম্মদ সালাহ উদ্দীন শিকদার সোহেল, ঢাকা।
বিশিষ্ট গবেষক, কলম স¤্রাট, ঐতিহাসিক, গোলাম আহমদ মোর্তজা, মেমারী, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ-এর বিশ্ববিখ্যাত গবেষণামূলক ঐতিহাসিক গ্রন্থ “চেপে রাখা ইতিহাস” এ উল্লেখ আছে, “দিল্লীর হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন সে যুগের ভারতের শ্রেষ্ঠতম আলিম। ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে উনার জন্ম। তিনিই প্রথম চিন্তানায়ক; আলিম যিনি ইংরেজকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়া জরুরী মনে করে সংগঠনের বীজ ফেলে গেছেন। উনার পুত্র, ছাত্র ও শিষ্যগণ উনার ঐ সুপরিকল্পিত সংগঠনের সভ্য ছিলেন।
সৈয়দ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উপরোক্ত ঐ সংগঠনেরই সভ্য ছিলেন। ইংরেজ বিতাড়ন পরিকল্পনা উনার মাথায় এমন গাঢ় হয়ে বসে গেল যে, তিনি বিখ্যাত আলিম হওয়ার সময় আর পেলেননা। তবে চরিত্র মাধুর্য ও আধ্যাত্মিকতার উন্নতির চরম সীমায় পৌঁছেছিলেন। দৈহিক ক্ষমতাও উনার সাধারণ মানুষের থেকে বেশি ছিল। তিনি বাচ্চাবেলা থেকেই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা করতেন। যুবক হওয়ার পরেও মনের অঙ্কুরিত ইচ্ছা যেন ফুলে-ফলে বড় হয়ে উঠলো। তাই তিনি যোগ দিলেন এক ক্ষুদ্র সামন্ত প্রভুর সেনাবাহিনীতে, শিখলেন সামরিক কলাকৌশল। এর সঙ্গে অন্যদের সাহায্য করার বিনিময়ে শিখলেন প্রশাসনিক কাজকর্ম। কিন্তু ঐ মুসলমান সামন্ত প্রভু ইংরেজদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করলো। সঙ্গে সঙ্গে ঘৃণাভরে চাকরি খতম করে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন বাড়িতে। তারপর শিষ্য সংখ্যা বাড়াতে লাগলেন ও সারা ভারত ঘুরে ফেললেন। পরে তিনি হজ্জ যাত্রা করলেন। ইংরেজের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের সঙ্গে মুসলমানদের সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামও করতে চাইলেন। তাই সর্বভারতীয় প্রচারে জানিয়ে দিলেন যে, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ বিরোধী কাজ মুসলমানদের করা চলবেনা। অবশ্যই অনেকাংশে সফল হয়েছিলেন। পরে বিরাট একটি দল নিয়ে ভারত পরিক্রমাসহ মক্কা শরীফ থেকে হজ্জ করে ফিরলেন, তখন দেখা গেল ঐ ভ্রমনে উনার দু’বছর দশ মাস পার হয়ে গেছে। সেই বিপুল সংখ্যক লোকের খাওয়া দাওয়া ও খরচার সব অর্থটুকু উনার ভক্তদের কাছ থেকে উপহার হিসেবেই তিনি পেয়েছিলেন। জানা যায়, শুধু হজ্জ যাত্রীদের টিকিট কিনতেই লেগেছিল তখনকার ১৩,৮৬০ টাকা। আর হজ্জ যাত্রার প্রাক্কালে রেশনের মাল কিনেছিলেন ৩,৩৯১ টাকা।
আলিগড়ের সৈয়দ আহমদ ও বেরেলীর সৈয়দ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা দু’জনেই ইতিহাস প্রসিদ্ধ মানুষ। তবে আলিগড়ী ছাহেব পেয়েছেন ইংরেজের পক্ষ থেকে “স্যার” উপাধি, প্রচুর সম্মান, চাকরির পদোন্নতি প্রভৃতি। আর বেরেলীর সৈয়দ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইংরেজেরে পক্ষ থেকে পেয়েছেন অত্যাচার ও আহত হওয়ার উপহার। আর সব শেষে শত্রুদের চরম আঘাতে উনাকে শহীদ হতে হয়েছে। ভারতবাসীকে শেষ উপহার হিসেবে দিয়ে গেছেন তিনি উনার রক্তমাখা কাঁচা কাটা মাথা।
“ইন্ডিয়ান মুসলমানস” পুস্তকে ডাকাত, ভন্ড ও লুণ্ঠনকারী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। উনার চাপা পড়া ইতিহাসকে আজ কিন্তু বাস্তববাদী ঐতিহাসিকগণ প্রকাশ করার জন্য নতুন সাধনায় নিয়োজিত হয়েছেন। ঐতিহাসিক রতন লাহিড়ী উনাদের মধ্যে অন্যতম। উনার লেখা অন্তত এটা প্রমাণ করে যে, সত্য তথ্য প্রকাশে তিনি স্পষ্টবাদী। তাই উনার লেখা “ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস” থেকে সৈয়দ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্বন্ধে কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি- “যার জীবনস্মৃতি প্রেরণা জুগিয়েছিলো যুগে যুগে এই দেশের মহাবিপ্লবীদের। যাঁর জীবনাদর্শ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আওতার বাইরে থেকে ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদকে আক্রমণ করা, স্বাধীন সরকার গঠন করা, আবার সেই সঙ্গে দেশের মধ্যে থেকেও সাম্রাজ্যবাদকে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করার পথ দেখিয়েছিল পরবর্তীকালের মহেন্দ্রপ্রতাপ, বরকতুল্লা, এম এন রায়, রাসবিহারী এমনকি নেতাজীকেও। কে এই মহাবিপ্লবী, যাঁর আদর্শে উদ্বোধিত হয়ে সহস্র সহস্র মানুষ প্রাণ দিয়েছিলো ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহে- শত সহস্র মানুষ বরণ করেছিল দ্বীপান্তর, সশ্রম কারাদ-, কঠোর যন্ত্রণামায় মৃত্যু। কে ইনি? ….. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ আর তার দালালদের লেখা ইতিহাসে এর নামোল্লেখ থাকলেও এর সম্বন্ধে বিশেষ কিছু লেখা থাকা স্বাভাবিক নয়। আর আজও স্কুল-কলেজে যে ইতিহাস পড়ানো হয় সে সব ঐ সাম্রাজ্যবাদীদের প্রাচীন গলিত বিকৃত ইতিহাসের আধুনিক সংস্করণ মাত্র। তাই কি করে জানবে এই মহা পুরুষের নাম? এই মহান মহাবিপ্লবী, মহাবিদ্রোহীর নাম হযরত মাওলানা সৈয়দ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি।”
রতন লাহিড়ী আরও বলেন, “বিপ্লবীরা না পিছিয়ে মরণপণ সংগ্রাম করতে লাগলো। তারপর যুদ্ধ হলো শেষ। বিপ্লবী বাহিনী হলো ধ্বংস। ….. উনাকে সকলে দেখেছিলো বীরের মত লড়াই করতে, একটার পর একটা শত্রু সৈন্য কচুকাটা করতে।” যদিও নিজেরা একে মৃত বলে কবর দেবার ব্যবস্থা করল কিন্তু কেউ এর শেষ পরিণতি দেখেনি।” (চলবে)
-মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
পলাশীর আ¤্রকাননে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। এরপর শতাব্দীব্যাপী স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ১৭৫৭-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই আন্দোলন ছিল মূলতঃ ফকীর ও সন্নাসীদের নেতৃত্বে পরিচালিত। ফকীর নেতা মজনু শাহ এসব বিদ্রোহের কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা এসব আন্দোলনে উৎসাহ যোগায়। হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৭৪৬-১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ) উনার ভারতকে ‘দারুল-হারব’ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে এই আন্দোলন চাংগা হয়। .. পরবর্তীকালে ১৮৩১ সনে শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেতৃত্বে বালাকোটের জিহাদে এর চুড়ান্ত রূপ দৃশ্যমান হয়। এই জিহাদী আন্দোলনে নোয়াখালীর মাওলানা ইমামুদ্দীন ও চট্টগ্রামের সূফী নূর মুহম্মদ বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। উনারা সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে সম্পৃক্ত করেন।
মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি (১৮০০-১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ) দিনাজপুর অঞ্চলে জিহাদী আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেন বলে ডিষ্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে বর্ণিত আছে।
সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অপর খলীফা হযরত গুলযার শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও নির্লিপ্ত থাকেননি। তিনি মুশরীখোলার শাহ আহছানউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৮০৮-১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ) উনার দাদা পীর ছিলেন। আহছান উল্লাহ হযরত কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও মাওলানা ইমামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাহচর্য লাভ করেন।
প্রখ্যাত লেখক সত্যেন সেন বলে, “বস্তুতপক্ষে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের আগে থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়ে গিয়েছিলো। বর্তমান উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলীর সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেতৃত্বে মুজাহিদ বাহিনী ১৮২৬ সাল থেকেই অর্ধ শতাব্দী ধরে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যে জিহাদ চালিয়ে আসছিলেন তাকে অবশ্যই স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা বলতে হবে।”
অধ্যাপক এম.এ খান বলেন, Muslims of Bengal played a pioneering role in this revolution just keeping with the dedicated part in the famous Zihad Movement of Syed Ahmed Shahid (Dr. M.A Khan, The Great Revolt of 1857)
নরহরি কবিরাজ বলেন, “মীর কাশেমের সময় থেকে একশ বছর ধরে একটানা জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের চরম পর্যায় ১৮৫৭ এর অভ্যুত্থান।”
একশথ বৎসর পূর্ণ হলেই বিদেশী রাজত্ব খতম হয়ে যাবে বলে একটি ভবিষ্যদ্বাণী তৎকালে দেশের সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। কে এই ভবিষ্যত বক্তা তা সত্যেন সেন বলতে পারে। তবে ‘মুসলিম বাংলার অভ্যুদয়’ গ্রন্থের লেখক মাহবুবুর রহমান বলেন, “মুসলমান সিপাহীরা বিশ্বাস করতো যে, এ দেশের কোম্পানীর শাসন এক শত বছর কালের বেশি সময় হবেনা। এরপর ভারতে আবার মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।” এ প্রসঙ্গে ডঃ এম.এ খান শাহ নিয়ামত উল্লাহর বাণীর কথা উল্লেক করেছেন। প্রকৃতপক্ষে কিছুকালের জন্য হলেও দিল্লীসহ উত্তর ভারতে ব্রিটিশ রাজ খতম হয়ে গিয়েছিল এবং ঢাকায়ও কিছুদিনের জন্য হলেও তা হত। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে অযোধ্যা প্রদেশে ইংরেজ শাসন সামান্য চিহ্নও না রেখে স্বপ্নের মত মিলে যায়। ‘ঢাকা প্রকাশে’র ৩০ আগস্ট, ১৮৯৬ সালের উদ্বৃতি দিয়ে ডঃ মুহম্মদ আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, “স্থানীয় রাজপুরুষগণ যদি সাধ্যানুসারে অপ্রস্তুত সিপাহীদেরকে অসময়ে আক্রমণপূর্বক পরাস্ত না করতেন তবে অপ্লকালের মধ্যেই তাদের হাতে অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও ইংরেজ রাজত্বের অবসান ঘটত।”
বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট প্রভৃতি অঞ্চলে রক্তাক্ত সিপাহী বিপ্লবের ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকায় সিপাহী জনতার এই বিপ্লবে মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেতৃত্বের কথা ঐতিহাসিক সূত্রে প্রমাণিত। তিনি মূলতঃ সংস্কারবাদী (শিরক-বিদয়াতের বিরুদ্ধে) আলিম হলেও শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ও সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জিহাদী মন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন।” (চলবে)
-মুহম্মদ শামসুদ্দীন, ভৈরব।
ইলমে তাছাউফের পরিভাষায় কুতুবুল ইরশাদ হচ্ছেন ইমামের স্থলাভিষিক্ত। অর্থাৎ ইমামের অবর্তমানে যিনি কার্য পরিচালনা করে থাকেন। কুতুবুল ইরশাদ এমন এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী যিনি মানুষের ধ্বংস থেকে রক্ষাকারী স্বরূপ। কেননা, উনার প্রতি মুহব্বত রাখলে, উনাকে সমর্থন দিলে মানুষ যেমন নাযাত প্রাপ্ত হয় তেমনি তার বিপরীত তথা অস্বীকার করলে, কষ্ট দিলে কিংবা তিনি যদি কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হন তাহলে সে ব্যক্তি যত মর্যাদা-মর্তবার অধিকারীই হোক না কেন, ইবাদত-বন্দেগী করুন না কেন, তার ধ্বংস অনিবার্য।
আফজালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যাঁর সম্পর্কে বলেন, এমন কুতুবুল ইরশাদ খুব কমই পাওয়া যায়, যিনি ফরদিয়াত এ কামালাতের অধিকারী। বহুকাল কিংবা বহু শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পরেই এ ধরণের কোন মুক্তা সদৃশ ওলী জন্ম গ্রহণ করেন। এই অন্ধকার দুনিয়া তার বিকাশের নূরে আলোকিত হয় এবং ইরশাদ ও হিদায়েতের নূর সমস্ত পৃথিবীকে বেষ্টন করে। আরশ থেকে ফরশ পর্যন্ত যে কেউ রুশদ, হিদায়েত, ঈমান এবং মারিফত লাভ করুক না কেন, উনারই বদৌলতে হাছীল করে থাকে এবং উনার দ্বারাই উপকৃত হয়। উনার মধ্যস্থতা ব্যতীত কেউই এই সম্পদ লাভ করতে পারে না।
সুতরাং যে ব্যক্তি এই বুযুর্গকে অস্বীকার করবে, কিংবা উক্ত বুযুর্গ যার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন; এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির-ফিকিরে যতই মশগুল থাকুক না কেন, সে অবশ্যই হিদায়েত হতে বঞ্চিত হবে। কারণ উক্ত কুতুবুল ইরশাদকে অস্বীকার করার ফলেই তার ফয়েজ প্রাপ্তির রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে সে যা কিছু হাছিল করবে তা হবে হিদায়েতের বাহ্যিক রূপ মাত্র। আর হাক্বীক্বত ব্যতীত কেবল বাহ্যিক রূপ, মানুষের খুব কমই উপকারে আসে। (মাবদা ওয়া মা’য়াদ/১৮)
কুতুবুল ইরশাদের এমন মর্যাদা হলে ইমামুজ জামানের মর্যাদা-মর্তবা কত উর্ধ্বে তা জ্ঞানী মাত্রই অবগত। সুতরাং যে ইমামুজ জামানকে কষ্ট দিলো, উনার বিরোধীতা করলো কিংবা তিনি যদি কারো প্রতি নারাজ হন তাহলে তার কিরূপ অবস্থা হতে পারে রেযা খার কলঙ্কময় জীবনের দিকে তাকালে তার যথার্থ মিল খুজে পাওয়া যায়। যে ইমামুজ্জামান, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ পেয়ে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মা’রিফাত-মুহব্বতের অমীয় সুধা পান করে উপমহাদেশসহ আরব ও আজমের অসংখ্য মানুষ ধন্য হয়েছেন। পৃথিবীর আলিম সমাজ ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ পেয়ে হক্কানী-রব্বানী আলিমে দ্বীনে পরিণত হয়েছেন। যাঁর সম্পর্কে আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী উনার বিশ্ব বিখ্যাত কিতাব “যব ঈমান কী বাহার আঈ”তে উল্লেখ করেছেন যে, “দিল্লীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ স্তরের মানুষ, উলামায়ে কিরাম ও মাশায়েখ উনাদের ¯্রতো এমনভাবে উনার দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে যা ছিল কল্পনাতীত। বিভিন্ন এলাকার শত শত খান্দান এবং ব্যক্তি বর্গ বাইয়াত গ্রহণ করে শিরক ও বিদয়াত থেকে তওবা করে এবং উলামায়ে কিরাম ও মাশায়েখগণ উনার মুরীদ ও দলভুক্ত হন। সাহারানপুরের হাজী আব্দুর রহিম ছাহেব যিনি সে যুগের অন্যতম বড় বুযুর্গ ছিলেন এবং হাজার হাজার লোক ছিল উনার মুরীদ অবশেষে তিনি নিজেও ইমামুজ্জামান উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং স্বীয় মুরীদদেরকে বাইয়াত করান। আর রেযা খা উনার বিরোধীতা করে নিজেই নিজের ধ্বংসের পথ রচনা করেছে।”
তাজুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুশ শুয়ারা, ইমামুর রাসিখীন, হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন কোন ব্যক্তিকে লজ্জিত ও অপমানিত করতে চান তখন প্রথমতঃ তার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয় বান্দাদের (ওলীগণ উনাদের) নিন্দাবাদ করিয়ে থাকেন।”
বলাবাহুল্য, ইমামুজ্জামান, আমিরুল মু’মিনীন, মর্দে মুজাহিদ সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে নিন্দাবাদ করে রেযা খা সে তবক্বাই পড়েছে।
-মাওলানা মুফতী মুহম্মদ আব্দুল হালীম তাহেরী রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।