মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৬৫তম পর্ব)

সংখ্যা: ৩০৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)

 “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্বপ্রকাশিতের পর)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ৮খানা

 মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ১১খানা

৮) খ. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৯শে জুমাদাল উখরা শরীফ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবচেয়ে বড় পরিচয় মুবারক হচ্ছেন তিনি হচ্ছেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তভুর্ক্ত এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ১২ ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন ইমামুল ‘আশির অর্থাৎ দশম ইমাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! আর উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

নিম্নে এক নজরে উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আলী আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল হাসান আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: আন নাক্বী, আল হাদী, আন নাছিহ্, আল আমীন, আন নাজীব, আল মুরতাদ্বা, আল মু’মিন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুল জান্নাহ্, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল কায়িনাত ইত্যাদি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ লক্বব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ আল জাওয়াদ আলাইহিস সালাম)। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত সুমানাহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: ২১০ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ১৫ই যিলহজ্জ শরীফ জুমু‘আহ্ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম: মোট ৯ জন। মহাসম্মানিত ৩ ভাই আলাইহিমুস সালাম এবং মহাসম্মানিতা ৬ বোন আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! কেউ কেউ কম-বেশিও বলেছেন।

মহাসম্মানিতা যাওজাতুম মুকার্রমাহ্ আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওসান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ইমামত মুবারক উনার তরতীব মুবারক অনুযায়ী উনার মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক: ১০ম। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ইমামতী শান মুবারক প্রকাশ: ২২০ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই যিলহজ্জ শরীফ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার), উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ইমামতী শান মুবারক প্রকাশের সময় উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক: ৯ বছর ১১ মাস ২১ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ইমামতী মুবারক উনার মুদ্দত মুবারক: ২২০ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৬ই যিলহজ্জ শরীফ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) থেকে ২৫৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৯শে জুমাদাল উখরা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) পর্যন্ত মোট ৩৩ বছর ৬ মাস ২৩ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম এবং আলাইহিন্নাস সালাম: ৬ জন। ৫ জন মহাসম্মানিত হযরত আবনা’ (ছেলে) আলাইহিমুস সালাম এবং ১ জন মহাসম্মানিতা হযরত বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনারা হচ্ছেন-

১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম),

২. সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম,

৩. সাইয়্যিদুনা হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম,

৪. সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম,

৫. সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর আলাইহিস সালাম এবং

৬. সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আলিয়াহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

 কেউ কেউ ব্যতিক্রমও বলেছেন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ: ২৫৪ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৯শে জুমাদাল উখরা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার)। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত স্থান মুবারক: ইরাক। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের কারণ: উনাকে যালিম শাসক মু’তায্য লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে শহীদ করে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

উনার সময়কার যালিম শাসক: (১) যালিম শাসক মু’তাছিম লা’নাতুল্লাহি আলাইহি, (২) যালিম শাসক ওয়াছিক্ব লা’নাতুল্লাহি আলাইহি, (৩) যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল লা’নাতুল্লাহি আলাইহি, (৪) যালিম শাসক মুন্তাছির লা’নাতুল্লাহি আলাইহি, (৫) যালিম শাসক মুস্তাঈন লা’নাতুল্লাহি আলাইহি, (৬) যালিম শাসক মু’তায্য লা’নাতুল্লাহি আলাইহি।

দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক: ৪৩ বছর ৬ মাস ১৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: ইরাকের সামেরায়। সুবহানাল্লাহ!

উনার কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ:

উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাকে কুদরত মুবারক বলা হয়। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাকে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসংখ্য-অগণিত মহাসম্মানিত ই’জায শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে কয়েকখানা মহাসম্মানিত ই’জায শরীফ উনাদের বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

১ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র

ই’জায শরীফ

বিশিষ্ট ঐতিহাসিক হযরত ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী আল মাস‘ঊদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, “একদা যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল তার দরবারে তিনটি হিংস্র পশু নিয়ে আসে। তারপর সে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করে। অতঃপর যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিলের দরবারে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল তার দরবারের দরজা বন্ধ করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, হিংস্র পশুগুলো অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করে উনার চারপাশে ঘুরতে থাকে। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত ও পবিত্র কোর্তা মুবারক উনার আস্তিন মুবারক দিয়ে তাদের মাথায় সম্মানিত ও পবিত্র হাত মুবারক বুলিয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ!

তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপরে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়ে যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিলের সঙ্গে কথা বলে আবার নিচে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুতাওয়াক্কিলের দরবার থেকে বের হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত হিংস্র পশুগুলো উনাকে সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করে অত্যন্ত বিনয় ও আদবের সাথে উনার চারপাশে ঘুরতে থাকে। সুবহানাল্লাহ!

পরবর্তীতে যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অনেক সম্মানিত হাদিয়া-তোহফা মুবারক প্রেরণ করে। তখন সভাসদরা যালিম শাসক মুতাওক্কিলকে বলে, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পশুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন, তাতো দেখলে। এবার তুমিও ঐ একই কাজ করো।’ যালিম শাসক মুতাওক্কিল বলে, ‘তোমরা কি আমাকে মারতে চাও!’ সে আরো বলে, ‘তোমরা এ ঘটনা অন্য কাউকে বলবে না।’

২ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র

ই’জায শরীফ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক পাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে এবং উনার প্রতি মুহব্বত, সম্মান প্রদর্শন ও ইতায়াতের কথা বলে যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল ইরাকের সামেরা শহরে আসার জন্য উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরযী পেশ করে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিলের মতলব বোঝা সত্ত্বেও সামেরায় মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার জন্য সম্মানিত সিদ্ধান্ত মুবারক নেন। সামেরার সফর মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খাদিম ছিলেন হযরত ইয়াহইয়া ইবনে হারসামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সামেরার উপকণ্ঠে মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর উনার মানহানী করার জন্য যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল উনাকে শহরে প্রবেশ করতে না দিয়ে ‘খানুস সায়ালিক’ নামের এক অনুপযুক্ত স্থানে মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক করার জন্য বলে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এখানে থাকত ভিক্ষুকরা। না‘ঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য পরের দিন এখানে একটি আলাদা ঘর বরাদ্দ করে যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল। হযরত সালেহ ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি নামের এক ব্যক্তি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক করার জন্য সেখানে আসেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আরযী পেশ করেন যে, যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল সব ক্ষেত্রে আপনার সম্মানিত ও পবিত্র নূর মুবারক নিভিয়ে দিতে চায় এবং সে আপনার যে বেমেছাল সম্মানিত মর্যাদা-মর্তবা মুবারক তা অস্বীকার করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর এজন্যই সে আপনাকে নিম্ন মানের এই সরাইখানায় উঠিয়েছে (যেখানে ফকিররা থাকে)। না‘ঊযুবিল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদিকে ইশারা করে বলেন, হে হযরত ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি! ঐ দিকে দেখুন। হযরত ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, একটি সুসজ্জিত বাগান, যা ছিলো নানা রকম ফুলে-ফলে ভরপুর, ছিলো প্রবাহিত নহর বা ঝর্ণাধারা, বেহেশতী হুর ও গিলমান। সুবহানাল্লাহ! এই অপূর্ব বেমেছাল দৃশ্য মুবারক দেখে আমি বিস্ময়ে দিশেহারা হয়ে যাই। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানেই থাকি এগুলো আমাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ নিয়োজিত থাকে। সুবহানাল্লাহ! হে হযরত ইবনে সাঈদ রহমতুল্লাহি আলাইহি! আমরা খানুস সায়ালিক-এ থাকি না।’ সুবহানাল্লাহ!

৩ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র

ই’জায শরীফ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ প্রকাশিত হয়েছেন। উনার আরেকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ই’জায শরীফ হচ্ছেন- একদিন যালিম শাসক মুতাওক্কিলের কয়েকজন জল্লাদ ও ভৃত্য তার নির্দেশে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আকস্মিকভাবে শহীদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন তারা দেখতে পায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চারদিকে রয়েছেন একশ জনেরও অধিক সশস্ত্র দেহরক্ষী। সুবহানাল্লাহ! এতে তারা অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পালিয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

৪ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র

ই’জায শরীফ

আরেকবারের ঘটনা। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য উনার সামনে যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল ৯০ হাজার সৈন্যের সশস্ত্র মহড়ার উদ্যোগ নেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিলকে আকাশ ও যমীনের দিকে তাকিয়ে দেখার জন্য মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক করেন। যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল সেদিকে তাকিয়ে দেখতে পায় যে, আকাশ আর যমীন অসংখ্য সশস্ত্র হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা পরিপূর্ণ এবং উনারা জিহাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা দেখে যালিম শাসক মুতাওক্কিল ভীত-সন্তস্ত্র হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সুবহানাল্লাহ!

৫ নং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র

ই’জায শরীফ

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করার জন্য একবার এই যালিম শাসক মুতাওয়াক্কিল উনাকে দাওয়াত দেয়। সে এক মজলিসের ব্যবস্থা করে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত মজলিসে উপস্থিত হলেন। তখন সে উনার সামনে খাবার পরিবেশন করে। তিনি খাবারে হাত দেয়া মাত্রই যালিম শাসক মুতাওক্কিলের নিয়োজিত এক জাদুকর জাদুর মাধ্যমে ঐ খাবার উধাও করে ফেলে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এটা দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হাসি-ঠাট্টা করতে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! যাদুকরের পাশে একটি বালিশে সিংহের ছবি অঙ্কিত ছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাদুকরের পাশে থাকা বালিশে অঙ্কিত সিংহের ছবিকে জীবিত হওয়ার জন্য মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক করেন। সাথে সাথে সিংহটি জীবিত হয়ে ঐ জাদুকরকে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। সুবহানাল্লাহ!

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৪

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯০ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৯৪

ক্বায়িম মাক্বামে আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখ্দূমুল কায়িনাত, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মহাসম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৪

আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে একজন কুতুবুজ্জামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান