সন্তান সম্ভবা নারীর পালনীয়
কতিপয় সুন্নত মুবারক (৩)
৩। হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। হারামের বদ তাছীর থেকে আগত সন্তানকে মুক্ত রাখতে সন্তান সম্ভাবা মা-কে হারাম ও সন্দেহযুক্ত খাওয়া ও পরা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান পেতে ইহা অতীব প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, একজন বুযুর্গ ব্যক্তির কয়েকজন সন্তান ছিলেন। সবাই আল্লাহওয়ালা ও আল্লাহওয়ালী ছিলেন। তবে একজন ছেলে সন্তান ছিলেন ব্যতিক্রম। সে বদ নেশায় অভ্যস্ত ছিলো। তার কারণে সেই বুযুর্গ ব্যক্তি যেমন লজ্জিত হতেন, তেমনি মুরীদ-মুরীদাগণও লজ্জা পেতেন। একদিন সেই বুযুর্গ ব্যক্তি তিনি উনার মুরীদগণের উদ্দেশ্যে বললেন, আমার এ সন্তানের জন্য আমি খুবই অনুতপ্ত। কারণ একদিন আমি এক বাদশার দাওয়াতে হাজির হলাম। এমন খাবার খাওয়ানো হলো- যা ছিলো সন্দেহযুক্ত। বাদশাহর সন্দেহযুক্ত খাবারের বদ তাছীর তার উপর ক্রিয়া করেছে। ফলে সে এলোমেলো চলাফেরায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। নাউযুবিল্লাহ!
তিনি আরো বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالْبَـلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَـبَاتُهٗ بِإِذْنِ رَبِّهٖ ۖ وَالَّذِيْ خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا ۚ كَذٰلِكَ نُصَرِّفُ الْاٰيَاتِ لِقَوْمٍ يَّشْكُرُوْنَ
অর্থ: আর যে যমীন উৎকৃষ্ট অর্থাৎ যারা পরহেযগার মুত্তাক্বী মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকে সেখান থেকে ভালো ফসল অর্থাৎ তাঁদের থেকে নেককার আল্লাহওয়ালা সন্তান পয়দা হয়। আর যে যমীন মন্দ অর্থাৎ যারা পরহেযগার নয় সেখান থেকে মন্দ ছাড়া অন্য কিছুর আশা করা যায় না। এমনিভাবে আমি আমার নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, যাতে তারা শোকরগোযার হতে পারে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)
৪। সন্তান সম্ভবা মায়ের গোনাহ থেকে বিরত থাকা জরুরী। সন্তান সম্ভবা মা নফল বা অতিরিক্ত আমল করার চেয়ে গোনাহ থেকে বেচেঁ থাকাই উত্তম। কারণ মায়ের বদ আমলের বদ তা’ছীর সন্তানের উপর কুপ্রভাব বিস্তার করে। সন্তানকে এই বদ তা’ছীরের কুপ্রভাব সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে সেই কুপ্রভাব দূর করা সম্ভবই হয়না। সেই কুপ্রভাবের বদ তা’ছীর নিয়েই কবরে যেতে হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা ছিলেন। যার সন্তান চুরির সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। সেই মহিলা চিন্তা করতে লাগলেন যে, আমার সন্তান চুরিতে অভ্যস্ত হলো কেন? অনেক চিন্তা-ফিকির করতে লাগলেন। অনেক তাহক্বীক্ব তথা যাচাই-বাচাই করতে থাকলেন। একপর্যায়ে তার অন্তরে উদয় হলো যে, এই সন্তান রেহেমে থাকাকালীন সময় প্রতিবেশীকে না জানিয়ে একদিন তার লবণ খেয়েছিলেন। এটাকে তুচ্ছ মনে করে কোন গুরুত্ব দেননি। সেই বদ তা’ছীর সন্তানের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। নাঊযুবিল্লাহ্!
গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে আপনার ভেতরে বেড়ে ওঠা সন্তানের জন্যই। কাজেই গান-বাজনা, নাটক-চলচ্চিত্রপ্রীতি বর্জন করতে হবে, কণ্ঠস্বরকে সংযত করতে হবে, ছবি ভিডিও থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন দেখা না দিলে ঘর হতে বের হওয়া যাবে না। সবসময় খাছ পর্দার সাথে থাকতে হবে। তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পক্ষ থেকে সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন।