আখিরী যামানার উলামায়ে ‘ছূ’দের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “তাদের কথাগুলো হবে নবীদের মত কিন্তু আমলগুলো হবে ফিরাউনের মত।” মাসিক মুহীনুল ইসলামের রাজারবাগ শরীফের বিরোধীতা করতে গিয়ে, হক্কানী-রব্বানী পীর ছাহেবের ক্ষেত্রে যে আটটি নির্দশনের কথা উলেখ করেছে তাতে প্রতিভাত হয় যে, তারা বর্ণিত হাদীস শরীফের হুবহু মিছদাক। তারা বলেছে, পীর ছাহেবের সংস্পর্শে এলে দুনিয়ার ভালবাসা হ্রাস পেয়ে আখিরাত তথা আল্লাহ্ পাক উনার মুহব্বত বৃদ্ধি পাবে।
আমরা মনে করি আলোচ্য শর্তখানা খুবই ছহীহ্ যা নবীদের মত কথা বটে। কিন্তু এই কথার আলোকে তাদের আমলগুলো পর্যালোচনা করলে স্পষ্টতঃই ফিরাউনের মত মনে হয়। কারণ ফিরাউন যেমন আল্লাহ্ পাক উনার দ্বীনকে বাদ দিয়ে নিজেকে খোদা বলে দাবী করেছিল তেমনি তারাও রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দ্বীনকে বাদ দিয়ে তাঁর বর্ণিত শরীয়তকে বাদ দিয়ে নিজেদের নফ্সকে তাদের উপাস্য বানিয়ে তারই অনুসরণ করে চলছে।
এরাই কি সেসব লোক নয় যারা হাদীস শরীফে বর্ণিত “ক্বিয়ামতের ময়দানে ঐ ব্যক্তির সর্বাধিক শাস্তি হবে যে প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” “যে ঘরে ছবি বা কুকুর থাকে সে ঘরে রহমতের ফেরেশ্তা প্রবেশ করেনা”- ইত্যকার সরাসরি শত শত সর্তকবাণী থাকার পরও তারা দুনিয়াবী নাম-ধাম কামাইয়ের উদ্দেশ্যে, পেপার-পত্রিকার মাধ্যমে জনসমাজে পরিচিত হবার লক্ষ্যে, ভাড়া করা লোক দিয়ে জনসমাবেশ করে সেগুলোর ভিডিও বিদেশে পাঠিয়ে টাকা কামাবার কামনায় হরদম ছবি তুলে যাচ্ছে, ভিডিও করে যাচ্ছে। এরাই কি সেসব লোক নয় যারা রাজনীতির ময়দানে চমক দেখাবার উদ্দেশ্যে ইসলামী শরীয়ত সম্মত কর্মসূচী বাদ দিয়ে কট্টর কমুনিষ্ট মাওসেতুং এর লংমার্চ করেছে যা স্পষ্টতঃ হারাম।
এরাই কি সেসব লোক নয় যারা তথাকথিত রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য মুসলমানের জান-মাল- যার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্বে- হরতাল নামক গান্ধীর কর্মসূচী দ্বারা মুসলমানের সে জান-মালের উপর আঘাতের পর আঘাত হেনেছে, জীবনের পর জীবন নষ্ট করেছে, মালের পর মাল বিনষ্ট করেছে। এরাই কি সেসব লোক নয়, যারা ক্ষমতার মোহে দুনিয়াবী লোভ লালসার শিকার হয়ে, সারাজীবনের লালিত ও প্রচারিত আদর্শকে পরিত্যাগ করেছে, মেয়ে লোকের আঁচলে জোট বেধেছে। তার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। এক টেবিলে খাবার খেয়েছে। পাশাপাশি মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক উনার সরাসরি হুকুম, আল্লাহ্ পাক উনার রসূলের সাক্ষাত নির্দেশ শরীয়তী পর্দার চরম খিলাফ কাজ করে নিজেদের লালিত নফ্সরূপী খোদার উপাসনা করে চরম দুনিয়াদার তথা ফাসিকে পরিণত হয়েছে।
পক্ষান্তরে যারা রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহিব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সাক্ষাতে আসে তারা দাঁড়িবিহীন থাকলে দাঁড়িযুক্ত হয়, তাদের গায়ে বিদয়াতী পোশাক থাকলে তা পরিবর্তীত হয়ে সুন্নতী পোশাক উঠে, তারা টিভি, সিনেমা, ভি সি আর ইত্যাদি ছবি সংশ্লিষ্ট জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে ছবি তোলা, রাখা হারাম সেই বোধের সাথে চেতনামন্ডিত হয়। তারা ইসলামের নামে গণতন্ত্র করা হারাম এই ফতওয়ার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ভোটপ্রথা বর্জন করে। তারা দুনিয়াবী ধন বল, জন বল, তথা কৌশল এর প্রতি মোহতাজ না হয়ে সরাসরি আল্লাহ্মুখী হয়। তদুপরি তারা ক্বলবী যিকির জারী করে আল্লাহ্ ওয়ালাতে পরিণত হয়। যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান, “তোমাদের কোন চিন্তা নেই, ভয় নেই, তোমরাই কামিয়াব হবে যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক।”
পক্ষান্তরে দুনিয়াদার চরম ফাসিকদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, “হে নবী আপনি ঐ ব্যক্তির অনুসরণ করবেননা যার অন্তর আমার যিকির থেকে গাফিল। সে নফ্সের পায়রবী করে। আর তার কাজগুলো ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ।”
বলাবাহুল্য দুনিয়াদার মুহিনুল ইসলাম গং এই তবকারই অন্তর্ভূক্ত।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)