মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاجْتَنِـبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْاَوْثَانِ
অর্থ: “তোমরা মূর্তি-ছবির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: ৩০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
بُعِـثْتُ لِكَسْرِ الْمَزَامِيْـرِ وَالْاَصْنَامِ
অর্থ: “আমি বাঁশি, গান-সূর, বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য ধ্বংস করার জন্য, ভেঙ্গে ফেলার জন্য প্রেরিত হয়েছি।” (তাফসীরে আযীযী)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
اَمَرَنِــىْ رَبِّـىْ عَزَّ وَجَلَّ بِـمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِـيْـرِ وَالْاَوْثَانِ وَالصُّلُبِ وَاَمْرِ الْـجَاهِلِـيَّةِ
অর্থ: “আমার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে মহাসম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন বাদ্যযন্ত্র, গান, বাঁশি, সূর, মূর্তি, ক্রুশ ও জাহিলী কাজসমূহ ধ্বংস করার জন্য।” (মুসনাদে আহমাদ ৩৬/৫৫১, মুসনাদুল হারিছ ২/৭৭০, মিশকাত শরীফ, মিরক্বাত শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজে মূর্তি ধ্বংস করেছেন:
‘বুখারী শরীফে’ এসেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسلَّم مَكَّةَ يَـوْمَ الْفَتْحِ وَحَوْلَ الْـبَـيْتِ سِتُّـوْنَ وَثَـلٰثَمِائَةِ نُصُبٍ فَجَعَلَ يَطْعَـنُـهَا بِعُوْدٍ فِـىْ يَدِهٖ وَيَـقُوْلُ {جَآءَ الْـحَقُّ وَزَهَقَ الـبَاطِلُ } {جَآءَ الْـحَقُّ وَمَا يُـبْدِئُ الـبَاطِلُ وَمَا يُعِـيْدُ}
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করলেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার চারপাশে তিনশত ষাটটি (৩৬০টি) মূর্তি ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) উনার মহাসম্মানিত লাঠি মুবারক দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত (করে ধ্বংস) করতে থাকেন আর ইরশাদ মুবারক করতে থাকেন- ‘হক্ব এসেছেন এবং বাত্বিল বিলুপ্ত হয়েছে’। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইসরা’ শরী : ৮১) ‘হক্ব এসেছেন, বাত্বিলের আর উদ্ভব ও পুনরুদ্ভব ঘটবে না’।” সুবহানাল্লাহ! {(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা সাবা’ শরীফ: ৪৯) বুখারী শরীফ}
অন্য বর্ণনায় এসেছেন,
فَكَانَ لَا يُشِيْـرُ اِلـٰى صَنَمٍ اِلَّا وَيَسْقُطُ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত লাঠি মুবারক দিয়ে মূর্তিগুলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আমীন মুবারক (ইশারা মুবারক) করা মাত্রই সেগুলি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।” সুবহানাল্লাহ! (বাইহাক্বী শরীফ, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/৩৪৫)
মুবারক নির্দেশে ইয়ামানের কথিত কা’বা ‘যুল খালাছাহ্’ মন্দির ধ্বংস:
বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ ইত্যাদি কিতাবে এসেছে, হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন,
اَلَا تُرِيـْحُنِـىْ مِنْ ذِى الْـخَلَصَةِ
‘আপনি কি ‘যুল খালাছাহ্’ মন্দিরটি ধ্বংস করে আমাকে ইতমিনান করবেন না? সান্ত্বনা মুবারক দিবেন না?’
এই ঘরটি খাস‘আম গোত্রের একটি মন্দির। যাকে ইয়ামানের কা’বা বলা হতো। এরপর আমি ‘আহ্মাস’ গোত্রের দেড় শত (১৫০) জন লোক নিয়ে রওয়ানা দিলাম। উনারা সবাই অত্যন্ত দক্ষ ঘোড়সাওয়ারী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আমি আরযী পেশ করলাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার বুক মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) দ্বারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাবার্রুক মুবারক (স্পর্শ মুবারক) করলেন। এমনকি আমি আমার বুক মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শক্ব মুবারক (আঙ্গুল মুবারক মুবারক) উনার ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য মহাসম্মানিত দো‘আ মুবারক করলেন, ‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! দয়া করে আপনি উনাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখুন এবং উনাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।’ (বর্ণনাকারী বলেন,)
فَانْطَـلَقَ اِلَـيْـهَا فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَـهَا
‘অতঃপর হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সেখানে গিয়ে ঐ মন্দিরটি ভেঙ্গে ফেললেন এবং আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিলেন’।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ ৬/৩৯৭, মুসনাদে আহমাদ ৩১/৫২৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/৩৭০ ইত্যাদি)
মুবারক নির্দেশে উয্যা মূর্তি ধ্বংস
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে ৩০ জনের একটি সৈন্যদলসহ নাখলায় অবিস্থিত (اَلْعُزّٰى) উয্যা নামক মূর্তি ধ্বংস করার জন্য প্রেরণ করেন। হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মূর্তিটি ভেঙ্গে আসেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন,
هَلْ رَاَيْتَ شَيْـئًا
‘আপনি কিছু দেখেছেন কি?’
হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, না; কোনো কিছু দেখিনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
فَاِنَّكَ لَـمْ تَـهْدِمْهَا فَارْجِعْ فَاهْدِمْهَا
‘তাহলে আপনি সেটা ভাঙ্গেননি। আবার যান, ঐ মূর্তিটি ভেঙ্গে আসুন’। তখন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উন্মুক্ত তরবারী নিয়ে সেখানে গেলেন। তিনি সেখানে পেঁৗছা মাত্রই কুৎসিত কালো, বস্ত্রহীন ও বিক্ষিপ্ত চুল বিশিষ্ট এক মহিলাকে উনাদের দিকে বেরিয়ে আসতে দেখেন। তাকে দেখে মন্দির প্রহরী চিৎকার দিয়ে উঠলো।
فَاَقْـبَلَ عَلَـيْـهَا حَضْرَتْ خَالِدُ بْنُ الْوَلِـيْدِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ ضَرْبًا بِالسَّيْفِ فَجَدَلَـهَا بِـاِثْـنَـتَـيْـنِ
‘তখন হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার সামনে অগ্রসর হয়ে তরবারী দ্বারা এক কোপ দিয়ে তাকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেললেন।’ সুবহানাল্লাহ!
তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ এসে ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বললেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
نَـعَمْ تِلْكَ الْعُزّٰى وَقَدْ اَيِسَتْ اَنْ تُـعْبَدَ فِـىْ بِلَادِكُمْ اَبَدًا
‘হ্যাঁ এটাই হচ্ছে উয্যা। আপনাদের ভূমিতে পূজা পাওয়ার ব্যাপারে সে এখন চিরকালের জন্য নিরাশ হয়ে গেল।’ সুবহানাল্লাহ! (যাদুল মা‘আদ, আস সুনানুল কুবরা লিন সানায়ী, উয়ূনুল আছার, ইবনে সা’দ, তাফসীরে কাশ্শাফ ইত্যাদি)
মুবারক নির্দেশে সুওয়া’ মূর্তি ধ্বংস
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একদল সৈন্যসহ হুযায়েল গোত্রের (سُوَاع) সুওয়া’ নামক বড় মূর্তিটি ধ্বংস করার জন্য প্রেরণ করেন।
فَـهَدَمَهٗ
‘অতঃপর হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঐ মূর্তিটাকে ধ্বংস করে দেন, ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন।’ সুবহানাল্লাহ! (তারীখ ত্বাবারী ৩/৬৬, যাদুল মা‘আদ ৩/৩৬৫, ইবনে সা‘দ, ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ২/১৪৬ ইত্যাদি)
মুবারক নির্দেশে মানাত মূর্তি ধ্বংস
(مَنَاة) মানাত নামক আরেকটি প্রসিদ্ধ মূর্তিটি ছিলো কুদাইদের নিকটবর্তী মুশাল্লাল নামক স্থানে। বিশেষ করে আউস, খাযরাজ, গাসসান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা এটার পূজা করতো। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে (مَنَاة) মানাত নামক মূর্তিকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তখন তিনি ২০ জন ঘোরসওয়ারী সৈন্য নিয়ে এই উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। উনারা সেখানে যান। অতঃপর হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মূর্তিটির দিকে অগ্রসর হওয়া মাত্রই বস্ত্রহীন, কুৎসিত কালো ও বিক্ষিপ্ত চুল বিশিষ্ট একটি মহিলাকে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বের হয়ে আসতে দেখেন। এই সময় সে কেবল হায় হায় করছিলো।
فَضَرَبَـهَا حَضْرَتْ سَعْدُ بْنُ زَيْدٍ اَلْاَشْهَلِـىُّ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَـقَتَـلَهَا وَهَدَمَ مَـحَلَّهَا
‘তখন হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তরবারির এক আঘাতে তাকে ধ্বংস করে দিলেন। অতঃপর মন্দিরটিও ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)
মুবারক নির্দেশে লাত মূর্তি ধ্বংস করা
اَرْسَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُمُ حَضْرَتْ اَلْمُغِـيْـرَةَ بْنَ شُعْـبَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ اَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ لِـيَهْدِمَا الطَّاغِـيَةَ (اَللَّاتُ) فَـتَـقَدَّمَ حَضْرَتْ اَلْمُغِـيْـرَةُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ فَـهَدَمَهَا
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সাথে হযরত মুগীরাহ্ ইবনে শু’বাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে এবং হযরত আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে ‘লাত’ নামক মূর্তিটি ভাঙ্গার জন্য প্রেরণ করেন। হযরত মুগীরাহ্ ইবনে শু’বাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অগ্রসর হয়ে মূর্তিটি ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল কামিল ফিত তারীখ, শারহুয যারক্বানী, আর রওদ্বুল উনফ, তারীখুত ত্ববারী ইত্যাদি)
উপরোক্ত দলীলের মাধ্যমে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত মূর্তি ও মূর্তির সংশ্লিষ্ট সবকিছু ধ্বংস করেছেন এবং ধ্বংস করার জন্য শক্ত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাছাড়াও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর সমস্ত মূর্তিগুলো ভেঙ্গে ফেলেছেন, ভেঙ্গে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আদেশ মুবারকও করেছেন এবং উনার নির্দেশ মুবারকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা মন্দিরসমূহ ভেঙ্গেছেন। কাজেই, মূর্তি ও মন্দির ভেঙ্গে ফেলা খাছ সুন্নত মুবারক এবং ক্ষেত্র বিশেষ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
বিশিষ্ট তাবেয়ী ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
مِنَ السُّنَّةِ اَنْ تُـهْدَمَ الْكَـنَائِسُ الَّتِـىْ فِـى الْاَمْصَارِ الْقَدِيْـمَةِ وَالْـحَدِيْـثَةِ
অর্থ: “নতুন শহরসমূহে এবং পুরাতন শহরসূহে যে সমস্ত গির্যা, মন্দির, প্যাগোডা রয়েছে, সেগুলি ভেঙ্গে ফেলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তভুর্ক্ত।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক্ব ১০/৩১৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সমস্ত মুসলমান আমাদের সবাইকে এই খাছ সুন্নত মুবারক পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! -আল্লামা মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ছিদ্দীকুর রহমান।