“আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রুরূপে ইহুদী ও মুশরিকদের পাবেন।” সূরা আল মায়িদাহ্র ৮২ নং এই আয়াত শরীফই কেবল নয় পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফের আরো অনেক স্থানে মহান আল্লাহ্ পাক ইহুদীদের কুটিলতা, হিংস্রতা, শত্রুতা ও ঔদ্ধত্য সম্পর্কে বলেছেন, ইহুদীরা খোদ আল্লাহ্ পাক সম্পর্কে বিষোদগার করেছে, চরম স্পর্ধাজনিত মন্তব্য করেছে। কালামুল্লাহ্ শরীফে বিষয়টি ইরশাদ হয়েছে এভাবে, “আর ইহুদীরা বলে, আল্লাহ্ পাক উনার হাত সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদেরই হাত হোক সংকীর্ণ একথা বলার জন্য তাদের প্রতি অভিসম্পাত। বরং উনার উভয় হাত উম্মুক্ত। তিনি যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন। আপনার প্রতি পালনকর্তার পক্ষ থেকে যে কালাম অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরী পরিবর্ধিত হবে। আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত শক্রতা ও চিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিয়েছি। তারা যখনই যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করে, আল্লাহ্ পাক তা নির্ধাপিত করে দেন। তারা দেশে দেশে অশান্তি উৎপাদন করে বেড়ায়। আল্লাহ্ পাক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেননা।”(সূরা মায়িদাহ্/৬৪)
প্রদত্ত আয়াত শরীফে বিশেষভাবে উল্লেখ যে, ইহুদীদের প্রতি আল্লাহ্ পাক-এর লা’নত বা অভিসম্পাত। অতঃপর বলেছেন, এরা উদ্ধত জাতি। আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীর দ্বারা ফায়দা লাভের বিপরীতে তাদের কুফরী ও নিফাকী আরো বেড়ে যায়। মহান আল্লাহ্ পাক মুসলমানদেরকে তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য তাদের দলের মধ্যে মতানৈক্য তৈরী করে দেন।
প্রদত্ত আয়াত শরীফে ইহুদীরা যে দেশে দেশে গোপন চক্রান্তের মাধ্যমে অশান্তি, যুদ্ধ-ধ্বংস ও বিভীষিকা তৈরী করে বেড়ায় সে ব্যাপারেও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে মার্কিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার অভিযোগ যদিও আপাতভাবে মুসলিম দাবীদার সন্ত্রাসীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে কিন্তু অভিজ্ঞমহল মনে করেন এর পেছনে মূলতঃ গোটাটাই রয়েছে ইহুদীদের হাত। ইহুদীরাই এর দ্বারা তাদের নীল নকশানুযায়ী গোটা মুসলিম বিশ্বকে ক্ষত-বিক্ষত করার একটা মওকা তৈরী করেছে। ওসামা আর ওমরের উসীলা তৈরীতে নেপথ্যে রয়েছে ওই ইহুদীরাই।
কারণ ইহুদীদের চিরন্তন বদ অভ্যাসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে, তারা মিথ্যা ও ভ্রান্ত কথাবার্তা শুানাতে অভ্যস্ত। কালামুল্লাহ্ শরীফে এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন, “যারা ইহুদী- মিথ্যা বলার জন্য তারা গুপ্তচরবৃত্তি করে। তারা অন্যদলের গুপ্তচর, যারা আপনার কাছে আসেনি। তারা বাক্যকে স্থান থেকে পরিবর্তন করে।” (সূরা মায়িদাহ্/৪০)
প্রসঙ্গতঃ প্রদত্ত আয়াত শরীফের আলোকে এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমগুলো ইহুদীদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে।
আর এ সুবাদে তারা গোটা মুসলিম স্বার্থবিরোধী, ইসলামী চেতনা পরিপন্থী খবরই কেবল ব্যাপকভাবে প্রচার করে তা নয় বরং আরো গুরুত্বাবহ তথা ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে যে তারা তাদের প্রচারণা কৌশল দ্বারা মুসলিম বিশ্বে, সাধারণ মুসলমানের কাছে, কিছু নামধারী মুসলিম ব্যক্তিত্বকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলে, তাদের সম্পর্কে এমন সব তথ্য প্রচার করে যাতে সাধারণ মুসলমান মনে করে যে, ঐসব ব্যক্তিবর্গ বুঝি মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের জন্য আল্লাহ্ পাক-এর এক খাছ দান, এক প্রবাদ পুরুষ, এক অকুতোভয় মর্দে মুজাহিদ।
সাধারণ মুসলমান ইহুদী প্রচার মাধ্যমের বদৌলতে এসব মর্দে মুজাহিদদের নিজেদের সরল অন্তরে একান্ত শ্রদ্ধাভরে লালন করে, অবাক্ষ শশ্রু কান্নায় ভিজিয়ে আকুলভাবে তাদের জন্য দোয়া করে, তাদেরকে নিজেদের ত্রানকর্তা বলে মনে করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে ব্যর্থ হয় যে, কথিত ঐ ব্যক্তিবর্গের এ চিত্র মূলতঃ ইহুদীদেরই নীল নকশার অঙ্গ। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করেই, তাকে উসীলা করেই তখন ইহুদী-খ্রীষ্টান গোষ্ঠী শুরু করে একের পর এক মুসলিম বিধ্বংসী প্রক্রিয়া। ওসামা আর মোল্লা ওমরের ক্ষেত্রে এ কথা পুরোটাই প্রযোজ্য বটে।
( ইনশাআল্লাহ্ চলবে)
– সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলমগীর, ঢাকা।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)