বিষয়গুলো মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় হচ্ছেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মু’জিযা শরীফ। মু’জিযা শরীফ ব্যতীত তো সৃষ্টি জগৎ অক্ষম। আর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিষয়গুলি ‘পবিত্র ই’জায শরীফ’।
হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দয়া দান ইহসান মুবারক অর্থাৎ উনাদের মহাপবিত্র ‘ই’জায শরীফ’ উনার মাধ্যমেই আসমান-যমীন নিরাপত্তা লাভ করছে, রহমত-বরকত-সাকীনা লাভ করছে। মহাপবিত্র ই’জায শরীফ’ ব্যতীত এক মুহুর্তও কায়িনাত স্থায়ী হবে না।
মহাসম্মানিত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম। উনারই আখাছছুল খাছ বিশেষ শান মুবারক সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। ইনশাআল্লাহ।
(১৯) কুমিল্লার এক পীর ভাইয়ের বড় মেয়ে বাসা পরিবর্তন করার সময় ভারী জিনিসপত্র গুছাতে গিয়ে হাতে খুব আঘাত পেলেন। ব্যথা লাগল হাতের কাঁধ ও বাহুর সংযোগস্থলে। ব্যথা পাওয়ার সময় ভিতরে একটা মটমট শব্দ হল। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার ফুঁ মুবারক দেয়া পড়া তেল আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে মালিশ করলেন। দুই দিন পর্যন্ত কিছুই হল না। এরপরেই অনুভূত হল প্রচন্ড ব্যথা। ব্যথার কারণে হাত ঠিকমত নাড়াচাড়া করাও সম্ভব হচ্ছে না। ব্যথার কথা উম্মুল উমাম হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে জানানো হলে তিনি বলেন, বেশি বেশি পড়া তেল মালিশ করার জন্য। তিনি পড়া তেল লাগাতে থাকলেন। যখন পড়া তেল লাগানো হত তখন ব্যথা ভাল হয়ে যেত। কিন্তু উক্ত পীর বোন গাফলতীর কারণে পড়া তেল ঠিকমত লাগাতেন না। ফলে উনার ব্যথা দিন দিন বেড়েই চলল। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যথা ভাল হচ্ছিল না। তাই উনার বাবা উনাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠালেন। চিকিৎসক কিছু ব্যথার ঔষধ দিল এবং বলল যে, “ব্যথা ভাল না হলে অবশ্যই এক্স-রে করতে হবে।” ডাক্তার হাত নাড়িয়ে বলল, “হাড়ের জোড়া ছুটে যাওয়া বা গাঁট সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” এদিকে ঔষধ সেবনও শেষ; কিন্তু ব্যথা ভাল হচ্ছে না। পীর বোন তিনি সরাসরি হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কাছে যান এবং পড়া তেল লাগানোর ক্ষেত্রে উনার গাফলতীর কথা জানান। সেই সাথে ব্যথা ভাল না হওয়ার বিষয়টিও জানান। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীর বোনকে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে পড়া তেল লাগিয়ে ব্যায়াম করার নির্দেশ দেন। তিনি দেখিয়ে দেন কিভাবে ব্যায়ামটা করতে হবে। ব্যায়ামটা নিজে করা সম্ভব নয়। আরেকজনকে করিয়ে দিতে হবে। সেই সময় তিনি উক্ত পীর বোনকে সন্তানের ন্যায় কাছে ডেকে অত্যন্ত আদর-মুহব্বতের সাথে উনার মুবারক নুরুল মাগফিরাত (হাত মুবারক) দ্বারা ব্যায়াম করিয়ে দেন এবং পীর বোনকে দেখানো নিয়মে ব্যায়াম করতে বলেন। তখন উক্ত পীর বোন এত বেশি খুশি হলেন যে, তিনি বললেন, “ইয়া আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম! আপনার হাত মুবারক উনাদের স্পর্শ পেয়ে আমার হাত আল্লাহ পাক আজকেই ইনশাআল্লাহ ভাল করে দিবেন। আমার যেন ব্যায়াম করারও প্রয়োজন না হয়।” আশ্চর্যের বিষয় এই যে, উক্ত পীর বোনের মনে হল ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ব্যথা যেন গায়েব! যেহেতু, হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যায়াম করতে বলেছেন: তাই উক্ত পীর বোন বাসায় ফিরে সেই রাতে মাত্র একবার ব্যায়ামটি করেন। যদিও ব্যথা বিকাল থেকেই নেই। পরবর্তী সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে, হাতের ব্যথা আর নেই। সম্পূর্ণ ভাল হয়ে গিয়েছে। আর ব্যায়ামেরও প্রয়োজন হয়নি। সাইয়্যিদাতুনা আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার নুরুল মাগফিরাত উনার পরশ পেয়ে হাতের ব্যথা থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!