কুফরী কি একটি জীবাণু থেকেও
বেশি ক্ষতিকর নয়?
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৫২ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَقَدْ جِئْـنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلٰى عِلْمٍ هُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُـؤْمِنُـوْنَ
অবশ্যই আমি তাদের নিকট কিতাব নিয়ে এসেছি, যার মধ্যে মু’মিন উনাদের জন্য ইলম, হিদায়েত ও রহমতের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।
আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَهٰذَا كِتَابٌ أَنْـزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّـقُوْا لَعَلَّكُمْ تُـرْحَمُوْنَ
এটি একটি বরকতময় কিতাব যা আমি নাযিল করেছি সুতরাং তোমরা উনার অনুসরণ করো এবং তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করো, অবশ্যই রহমত প্রাপ্ত হবে।
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْـهُمَا قَالَ مَنْ تَـعَلَّمَ كِتَابَ اللهِ ثُمَّ اتَّـبَعَ مَا فِيْهِ هَدَاهُ اللهُ مِنَ الضَّلَالَةِ فَفِي الدُّنْـيَـا وَوَقَاهُ يَـوْمَ الْقِيَامَةِ سُوءَ الْحِسَابِ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ مَنِ اقْـتَدَى بِكِتَابِ اللهِ لَا يَضِلُّ فِي الدُّنْـيَا وَ لَا يَشْقَى فِي الْاٰخِرَةِ ثُمَّ تَلَا هٰذِهِ الْاٰيَةَ فَمَنِ اتَّبـَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব (পবিত্র কুরআন শরীফ) শিক্ষা করল অতঃপর এর মধ্যে বর্ণিত বিষয়গুলোর অনুসরণ করল, মহান আল্লাহ পাক তাকে দুনিয়াতে গোমরাহী থেকে হিদায়েত দান করবেন এবং ক্বিয়ামতের দিন কঠিন (সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম) হিসাব থেকে রক্ষা করবেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবের অনুসরণ করল, সে দুনিয়াতে গোমরাহ হবে না এবং পরকালে হতভাগ্যও হবে না। তারপর (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন, যে ব্যক্তি হিদায়েতের অনুসরণ করবে, সে গোমরাহ হবে না এবং হতভাগ্যও হবে না। সুবহানাল্লাহ! (রযীন শরীফ)
অতএব, দুনিয়াতে গোমরাহী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং ক্বিয়ামতের দিন কঠিন হিসাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব শিক্ষা করতে হবে এবং কিতাব উনার মধ্যে বর্ণিত বিষয়ের অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় দুনিয়াতে গোমরাহীর মধ্যে নিপতিত হতে হবে এবং পরকালে হতভাগ্য হতে হবে। হতভাগ্য বলতে বোঝানো হয়েছে, তার জন্য কোনো নাজাত থাকবে না। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, বান্দা-বান্দী যদি হিদায়েত লাভ করতে ও রহমতপ্রাপ্ত হতে চায় তাহলে তাদের উচিৎ হবে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত বিষয়গুলোর অনুসরণ করা এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
মুয়াত্তা শরীফে উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مُرْسَلًا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَـرَكْتُ فِيْكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوْا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ رَسُوْلِهِ
হযরত মালিক ইবনে আনাস রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তোমাদের কাছে দু’টি বিষয় রেখে যাচ্ছি। এই বিষয় দু’টি আঁকড়ে ধরে থাকলে কখনোই গোমরাহ হবে না। ১. মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক ২. পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ উনার ৭ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا اٰتَاكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوهُ وَمَا نَـهَاكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوا وَاتَّـقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করো বা আঁকড়ে ধরো এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। আর (এ ব্যাপারে) মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফে যা কিছু ইরশাদ মুবারক করেছেন তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
আর বুখারী শরীফে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قَالَ عَفَّانُ حَدَّثَـنَا سَلِيْمُ بْنُ حَيَّانَ حَدَّثَـنَا سَعِيدُ بْنُ مِيْـنَاءَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْـرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَـقُوْلُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا عَدْوَى وَلَا طِيَـرَةَ وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ
হযরত আফফান রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের নিকট পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সালীম ইবনে হাইয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আমাদের নিকট পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আমি শুনেছি হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, কোন রোগই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয়, কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, পেঁচার মধ্যে খারাপ কিছু নেই এবং সফর মাসও অশুভ নয়।
এ পবিত্র হাদীছ শরীফে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্পষ্টভাবেই বলেছেন, لَاعَدْوَى কোনো রোগই ছোঁয়াচে না। উনার এই নিষেধাজ্ঞা মানা উম্মতের জন্য ফরয ওয়াজিব। এই নিষেধাজ্ঞা যারা অমান্য করবে তারা কুফরী করবে আর কুফরী করে মারা গেলে তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
যারা কুফরী করে মারা যাবে তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৩৬নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْـلَهُ مَعَهُ لِيَـفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَـوْمِ الْقِيَامَةِ مَا تُـقْبِلَ مِنْـهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে, দুনিয়াতে যা আছে, সমস্ত সম্পদ যদি তাদের হয় এবং এর সাথে তার অনুরূপ আরেক দুনিয়ার সমস্ত সম্পদও যদি তাদের হয়, তারা সেগুলো ক্বিয়ামতের দিন আযাবের বিনিময় হিসেবে দিতে চায়, তাদের থেকে সেটা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। নাউযুবিল্লাহ! (অসমাপ্ত)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নছীহত শরীফ (২৩)