“ওসামা বিন লাদেন বর্তমান সময়ের এক চরম মুনাফিক” বিশ্বখ্যাত এই মিথ্যাবাদী কাজ করেছে সম্পূর্ণ সি.আই.এর চরম রূপে

সংখ্যা: ১০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে মাতামাতিটা সাদ্দামের চেয়ে কম হয়নি। পর্যবেক্ষক মহল, ওসামার ক্ষেত্রে বরং পরিমাণটা একটু বেশিই হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে তারা এ দুজনের প্রচারনা ও কর্মকান্ডের পেছনে একটি আশ্চর্য্য সাদৃশ্য খুঁজে পান।

সাদ্দামকে নিয়ে এদেশের মৌলভী ছাহেবরা, জুম্মায় জুম্মায় দোয়া করেছে, মৌলবাদী পত্রিকাগুলো “বাপের বেটা সাদ্দাম” বলে বাহবা দিয়েছে। কিন্তু অবশেষে তারা চপেটাঘাতের স্বীকার হয়েছে। সাদ্দামের পারিবারিক কীর্তি-কেলেঙ্কারী ফাঁস হয়েছে, শর্ট স্কার্ট পরিহিতা সাদ্দামের স্ত্রীর ছবি দেখে হুজুগে মাতালদের হুশ এসেছে। সচেতন মহল রাশিয়ার নাস্তিক্যবাদী বামপন্থী আদর্শের মানসপুত্র বলে সাদ্দামের পরিচয় পেয়েছে, বামপন্থী সংগঠন বার্থ পার্টির প্রবক্তারূপে সাদ্দামের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। অতঃপর সাধারণ মানুষের সাদ্দাম প্রীতিতে ধ্বস নেমেছে। কিন্তু এসব কিছু যতদিনে হয়েছে ততদিনে কীর্তিবাজদের কাজ পুরোটাই সফল হয়েছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, বামপন্থী রাশিয়ার ক্ষমতার শীর্ষ শিখরে সমাসীন হওয়ার পরও গর্ভাচভ ছিল মূলতঃ সি.আই.এর এজেন্ট। এবং ক্রমাগত সংস্কারের নামে অবশেষে গর্ভাচভের দ্বারা কমুনিজমের পতন ছিল সি,আই, এরই নকশা বাস্তবায়ন। তবে উপসাগরীয় যুদ্ধে যেটা হয়েছে সাদ্দামের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া উভয়েরই স্বার্থ হাছিল হয়েছে। সেটা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সমস্ত কাফিরের ধর্ম এক।” তাই খুব ঘটা করেই এ দু’ পরাশক্তি সাদ্দামকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে তথা মুসলিম বিশ্বের বড় অংশকে যুদ্ধের দামামায় আক্রান্ত করে তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করেছে এবং এখন হীন, নতজানু করে রেখেছে।

এদিকে রাশিয়ার পতনের পর সাম্রাজ্যবাদী মেরিকার নিউ অর্ডার ওয়ার্ল্ড গঠনের ইচ্ছাটা ক্রমশঃই তাজা হচ্ছে। মুসলিম দেশ পাকিস্তানের পারমানবিক চুর্ল্লী আমেরিকার বড়ই গাত্রদাহের কারণ। সেই ভারতেরটাও। অপরদিকে রাশিয়ার পরে চীন বানিজ্যিক ও রাজনৈতিক কারণে আমেরিকার বর্তমান পয়লা নম্বরের শত্রু। তদুপরি শুধু এসব বিষয়গুলোই নয় আরো রয়েছে, মধ্য এশিয়ায় তেল ও গ্যাস আহরণ ও বাজারজাত করনে বিষয়। সেই সাথে অস্ত্র-বাজার চাঙ্গা করার বিষয়টি ও ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এসব ছাপিয়ে ইহুদীদের দাপট ও তাদের প্রতিহিংমা বাস্তাবায়নের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে গোটা ব্যাপারটিকে জোদার বা তোলে। আর এই জোরদার ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপায়ন করার জন্য সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকার দরকার ছিলো দৃশ্যতঃ একটা মুসলিমক হিরো তৈরি করার, যে কিনা গর্ভাচভের মত, সাদ্দামের মত মার্কিনীদের নীল-নকশা বাস্তবায়নে সহায়াতা করবে সুকৌশলে।

লাদেনের চেয়ে উপযুক্ত মনে করেনি কাউকেই। আর আমেরিকার এ নির্যাতন যে তাদের জন্য ঠিক ছিল তার প্রমাণ দিয়েছে প্রজ্ঞাবিহীন, হুযুগে মাতাল মৌলভী সাহেবরা এবং তাদের পেছনে চলা আম জনতা। আফগান নিরীহ জনগণের জন্য নয়; দোয়া চাওয়া হয়েছে, করা হয়েছে ওসামার জন্য, নব জন্মগ্রহণকারী শিশুর নাম রাখা হয়েছে ওসামার নামে। বিশাল বিশাল ছবি, ক্যালেন্ডার পোষ্টার এমনকি মূর্তি তৈরি করেও ব্যাপক মাতামাতি হয়েছে। অর্থাৎ কিনা ওসামার প্রচারণাটা হয়েছিল হাজারো হারাম কাজের মধ্য দিয়ে। যা প্রমাণ করে একটা দুটো নয় বরং অসংখা আর ছোট-বড় নয় বরং অনেক বড় ইসলাম বিরোদী কাজ তথা অপরাধের হোতা সি, আই, এ-এর এজেন্ট ওসামা বিন-লাদেন। আর এ বিষয়টি এখন আর শুধু বিচার বিবেচনাজনিত অনুসন্ধিৎসার কাজ নয়, এটা এখন “উঠতি মুলা পতলে  চেনা যায়”- এর মত প্রবাদবাক্যের ন্যায় চিরন্তন সত্য। সাম্প্রতিককালের পত্র-পত্রিকার ঘটনা প্রবাহ তারই সাক্ষ্য বহণ করে।

মিথ্যাবাদী, মুনাফিক, প্রবঞ্চক, শঠ ও ধূর্ত ওসামা বিন লাদেন

হামলা হয় ১১ই সেপ্টেম্বর কিন্তু এক মাস পরেও ১১ই অক্টোবরও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, অভিযোগ অস্বীকার করে ওসামা দাবী করেছে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার জন্য সে দায়ী নয়

সৌদি নাগরিক ওসামা বিন লাদেন পুনরায় জোর দিয় বলেন, তিনি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী নন। তার একজন সহকারী আফগান ইসলামিক বার্তা সংস্থাকে একথা জানায়। ওসামা বিন লাদেনের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে তার রাজনৈতিক সহকারী জানায়, তিনি বলেছেন, “আমি আফগানিস্তানে অবস্থান করছি। আমি তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের নিকট আনুগত্যের যে অঙ্গিকার করেছি তাতে আফগানিস্তান থেকে এ ধরণের হামলা চালানোর কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, অতীতেও আমাদের দোষারোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এ ধরণের তৎপরতায় জড়িত ছিলাম না। আফগানিস্তানের গোপন স্থান থেকে প্রাপ্ত ফ্যাক্সের ভিত্তিতে এ আইপি একথা জানায়।

এদিকে সহকারীর কণ্ঠে বা মুখপাত্রের মাধ্যমে নয় ওসামা বিন লাদেন স্বয়ং নিজেও যে এ হামলা অস্বীকার করেছে তার আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিয়েছেন হামিদ মীর।

লাদেনের সাথে দেখা হয়েছে মাটির কুঁড়ে ঘরে

-হামিদ মীর

পাকিস্তানের উর্দূ “দৈনিক আওসাফ”-এর সম্পাদক হামিদ মীর দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের একটি শীতল মাটির কুঁড়ে ঘরে ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বলেন, চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে পাঁচ ঘণ্টার ড্রাইভে তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর এপি।

ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মীর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, মার্কিন বোমাবর্ষণের সংবাদ নিতে তিনি গত সপ্তাহ আফগানিস্তান যান। এ সময় ওসামা বিন লাদেন দু’জন সহযোগীর মাধ্যমে তাকে সাক্ষাৎকার দিতে চান বলে জানান।

বুধবার আরব মিলিশিয়ারা তাকে গাড়িতে করে ‘কাবুলের চেয়েও শীতল’ একটি জায়গায় নিয়ে যায়। বিন লাদেন এবং তার সহকারী আরমান এল জাওয়াহারি ডজনখানেক দেহরক্ষীসহ সেখানে আসেন।

সাক্ষাৎকারে বিন লাদেন ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেননি। তবে তিনি হামলার পক্ষ সমর্থন করে বলেন, ওয়াশিংটন ইসরাঈলকে সশস্ত্র করায় এবং ইরাক ও কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর স্বেচ্ছাচারী নিপীড়ন চালানোর কারণে এ হামলা ন্যায্য ছিলো।

মীর সম্পাদিত বহুল প্রচারিত উর্দূ দৈনিক আওসাফেও এই কাহিনী ছাপা হয়।

মন্তব্য: হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “পৃথিবীর এক প্রান্তে যদি কোন অন্যায় কাজ হয় অপর প্রান্ত থেকে যদি কেউ সমর্থন করে তবে সে সমান গুণাহগার হবে।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কোন মতেই ইসলামী বলা যায়না। কারণ ইসলাম কখনই নির্বিচারে এভাবে হত্যা সমর্থন করেনা। এমনকি মক্কা বিজয়ের পর, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলকে ক্ষমা করে দিয়ে ছিলেন। অথচ সেই কাফিররা তাকে সারাজীবন কষ্ট দিয়েছিলো। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল পরিপূর্ণ ইসলামী হুকুমাতেও বিধর্মীদের কেবল জীবনের নিরাপত্তাই দেননি, তাদের উপাসনালয়গুলো হিফাযতের ও নির্দেশ দিয়েছেন। তদুপরি বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করা ইসলামে নিষেধ।

আরো উল্লেখ্য, এ হামলার ব্যাপারে আমেরিকা ওসামাকে দায়ী করলে, ওসামা ও তালেবান বিচারের কথা তুলেছিলো। যেক্ষেত্রে তারা নিজেরাও বিচারের কথা তুললেন। সেক্ষেত্রে তারাই বিনা বিচারে সবাইকে হত্যা করলেন এটা কোন ইসলাম?

মূলতঃ এটা কোন মতেই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শ এবং ইসলামসম্মত কাজ নয়; বরং এটা সি.আই.এ তথা ইহুদী গোষ্ঠীর পছন্দের কাজ।

মূলতঃ একথা বলে ওসামা আমেরিকাকে আফগানিস্তানে আক্রমণে উপলক্ষ্য করে দিয়েছে। আর এরপর আফগানিস্তানে আমেরিকার বীভৎস আক্রমন যখন বিশ্বাব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে তখন সেটাকে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী প্রকাশ্যে মিথ্যাবাদী সাজিয়ে ওসামার দ্বারা ফের মন্তব্য করে বলিয়ে ছেড়েছে-

টুইন টাওয়ার ধ্বংস আমিই করেছি

-বিন লাদেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং পেণ্টাগনে হামলার কথা স্বীকার করেছেন ওসামা বিন লাদেন। এপিআই প্রথম তিনি হামলার দায়িত্ব স্বীকার করলেন। তিনি বলেছেন, আল-কায়দা গ্রুপ এ অভিযান চালিয়েছে।

পূর্বে অপ্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে বিন লাদেন বলেছেন, ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে যে আমরা সন্ত্রাসবাদী। হ্যাঁ, আমরা তাদের নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করেছি।” গত ১৪ দিন ধরে এই ভিডিও চিত্রটি লাদেন সমর্থকদের দেখানো হচ্ছে। এ ভিডিওতে আফগান পর্বতের পাদদেশে হাস্যেজ্জল বিন লাদেনকে দেখা যায়। অক্টোবরের শেষ দিকে ধারণকৃত এ ভিডিওতে তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ছিলো হামলার যথার্থ লক্ষ্য এবং প্রায় ৪ হাজার ৫’শ ৩৭ জন মানুষ হত্যাকে বৈধ, যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি করেন। ব্রিটেন ও আমেরিকার কাছে এই ভিডিও লাদেনের বিরুদ্ধে একটি প্রধান প্রমাণ হাজির করলো।

মন্তব্যঃ অভিজ্ঞমহল মনে করেন, একমাসেরও বেশি সময় হামলা অস্বীকার করে বিশ্ব প্রচার মাধ্যমে হামলা অস্বীকারের কথা জানিয়ে ফের বিশ্বখ্যাত মিথ্যাবাদী সাজার পিছনে রয়েছে মূলত: ঐ সি.আই.এ. র স্বার্থ।

কারণ এর দ্বারা তারা দেখাতে পারছে যে, মুসলিমরা যাকে হিরো হিসেবে মনে করে, সে কেমন করে সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে ডাহা মিথ্যা কথা বলতে পারে। আর এই বিশ্ব মিথ্যাবাদী ওসামার দ্বারা আমেরিকা আরো বলিয়ে ছেড়েছে যে, “মুসলমানরা নির্বিচারে অন্যায়ভাবে তাদের হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে।”

মূলত: যদিও আমেরিকার পোষ্যপুত্র ওসামার কথা আদৌ সঠিক নয় তবুও অনাগতকালে স্বার্থের প্রয়োজনে আফগানিস্তানের মত অন্য কোথাও আক্রমণ করার পিছনে যুক্তি দাঁড় করানোর সুযোগ করে রাখতে পারলো আমেরিকা তার চর ওসামার বক্তব্যের জন্যই।

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে