পবিত্র ঈদ-ই-মীলাদুননবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লাহাবী উৎসব বলা যে মারাত্মক অন্যায় ও কুফরী; সে বিষয়ে এ কলামে এ যাবত যা কিছু লিখা হয়েছে আকলমন্দের জন্য তাই যথেষ্ট।
আবূ লাহাব যে রসূল হিসেবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনে খুুশি হয়নি, উৎসব করেনি বরং করেছিল স্বীয় গোত্রে নতুন শিশু তথা ভাতিজার আগমনে তা এ কলামে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনে মহান আল্লাহ পাকই যে প্রথম খুশি প্রকাশ করেছেন; খুশির নিদর্শন স্বরূপ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে আগমন মুহূর্তে বহু বহু কুদরতী ও অভূতপূর্ব অভ্যর্থনার সমাহার ঘটিয়েছেন তা তুলে ধরা হয়েছে।
পাশাপাশি যমীনে সত্য ধর্মের উপরে পরিচালিত, পৌত্তলিকতা বিমূখ হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনারই যে প্রথম খুমি প্রকাশ করেছিলেন এমনকি এই খুশি হেতু কাবা শরীফ তাওয়াফ করে শুকরিয়া পালন করেছেন, পশু কুরবানী করে কুরাঈশদের দাওয়াত করে খাইয়েছেন তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ কিনা লাহাবী ঈদের পরিবর্তে এটা সে খোদায়ী ঈদ বা মুত্তালিবী ঈদ বলে সম্পৃক্ত করার মতো তা পরিস্কারভাবে প্রতিভাত হয়েছে।
এরপরে দু-ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নেই এ অসার বক্তব্যটিও একেবারে বেঠিক প্রমানিত হয়েছে। আরাফার দিনকে ঈদ স্বরূপ বলা হয়েছে যা হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন। এছাড়া সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইন্তিকালের দিনটিকে যে শোক দিবস হিসেবে পালন করতে হবে তাও একান্ত বাল্যসূলভ বক্তব্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ ইসলামে স্বামীর জন্য স্ত্রী ব্যতিরেকে অন্য সবার জন্য শোকের মুদ্দত তিনি দিন ধরা হয়েছে। তদুপরি এখানে বিশেষভাবে স্মর্তব্য যে, ইন্তিকালের দিনটি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য বেদনা-বিধুর কোন বিষয় নয়। বরং এটি উনার প্রেমাসম্পদ বারী তায়ালা উনার সাথে মিলনের এক চরম সন্ধিক্ষণ পরম আনন্দবহ ঘটনা। আখিরী রসূল হিসেবে, রিছালতের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হিসেবে সম্মাণের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থেকে খোদায়ী সংবর্ধনায় খোদা পাক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন তিনি অনবদ্য আনন্দঘন আবহে।
আর এদিনে বিদয়াতী, বে-পর্দা ও বেশরাভাবে নামধারী সুন্নীরা খুশি প্রকাশ করে বলে শরীয়তসম্মত খুশি প্রকাশও যে নাজায়েয হয়ে যাবে তাও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, শুধু আরাফার দিনই নয় ইবনে মাযাহ, ইমাম মুয়াত্তা মালিক ও মিশকাত শরীফ উনার বরাতে জুমুয়ার দিনকেও ঈদ স্বরূপ বলা হয়েছে। এমনকি তা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা থেকেও শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত বলে বন্তব্য করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি, যমীনে আগমন ও ইন্তিকাল হয়েছে।
যদি তাই হয়ে- থাকে তাহলে যিনি সব নবী-রসূল উনাদের সর্দার, যাকে সৃষ্টি না করলে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিসহ কায়েনাতের কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতনা তিনি যেদিন যমীনে তাশরীফ নেন তথা আগমন করেন ও বিদায় গ্রহণ করেন সেই দিনটি যে সব ঈদেরও শ্রেষ্ঠ ঈদ ও ফযীলতযুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
পরিশেষে বলতে হয় যে, যারা “ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে” বাদ দিয়ে “সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” করতে চান তারা মূলতঃ জন্মকে অস্বীকার করে ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ণ করতে চান। কিন্তু ব্যক্তিত্বের পর্যালোচনায় জন্ম-বৃত্তান্তের মূল্যায়ণ অবশ্যই অপরিহার্য। সাধারণ কৃতিত্বের দাবীদার ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ণেও তার জন্মবৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র “সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” সঙ্গতকারণেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পক্ষান্তরে “ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” পালনে জন্ম-বৃত্তান্ত, সীরাত সব বিষয়ই …. চলে আসে। কাজেই “ঈদ-ই-মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে” অস্বীকার করা নিতান্তই গর্হিত কাজ। পক্ষান্তরে তা পালনেই জন্ম-বৃত্তান্ত তথা শরীয়তসহ সবদিকই সর্বোতভাবে সফল ও সুন্দর।
-মুহম্মদ মাছূমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)