বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশের বার্তা জাতীয় স্বার্থকে বাদ দিয়ে জনগণকে অন্ধকারে রেখে জনগণের অসম্মতিতে হচ্ছে চরম গোলামীর ও আত্মঘাতী টিফার আদলে টিআইসিএফ চুক্তি জনস্বার্থে জনগণের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

বহুল আলোচিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের (টিফা) বদলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইন-ভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম (টিআইসিএফ) চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এ সুযোগ পাচ্ছে। ফলে জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিভিন্ন আনুষঙ্গিক অনুমোদন ছাড়াই এর পেটেন্ট ব্যবহার করতে পারছে। ডব্লিউটিও’র বিধান অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ সুযোগ ভোগ করবে বাংলাদেশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমমানের বাধাটি হচ্ছে কোন কারণে যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বাংলাদেশের শ্রমমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নয়; তবে তারা শুল্কমুক্ত পণ্য সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারবে। এর ফলে দেশের রপ্তানি শিল্প হুমকিতে পড়বে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থই নয়, সেই সাথে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণেও বাংলাদেশের সাথে টিফা স্বাক্ষরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। বাস্তবে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে স্বল্পোন্নত দেশগুলো জোট বাঁধতে থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে তার স্বার্থ হাসিল করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এখনকার লক্ষ্য হলো বহুপাক্ষিক ফোরামে তার স্বার্থ বিরোধী তৎপরতা বন্ধ ও দুর্বল দেশগুলোর সাথে আলাদা আলাদা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে একদিকে অধিকতর বাণিজ্য সুবিধা আদায় অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে প্রাধান্যবিস্তার। এই প্রেক্ষিতে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে, এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যতগুলো দেশের সাথে টিফা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তার কোনটির সাথেই কিন্তু তার সম্পর্ক স্রেফ বাণিজ্য কেন্দ্রিক নয়। সবচেয়ে বাণিজ্যিক লেনদেন যেসব দেশের সাথে যেমন: কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত ইত্যাদির সাথে কিন্তু আমেরিকার কোন টিফা নেই।

টিফা আছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের সাথে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপিনস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের সাথে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আলজেরিয়া, বাহরাইন, মিসর, জর্জিয়া, আইসল্যান্ড, ইরাক, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সউদী আরব তিউনিশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেনের সাথে, আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে ক্যারীবিয়ান দেশগুলো ও উরুগুয়ের সাথে এবং আফ্রিকা অঞ্চলের মধ্যে অ্যাঙ্গোলা, ঘানা, লাইবেরিয়া, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ইত্যাদি দেশের সাথে।

দেশগুলোর তালিকা একটু খেয়াল করলেই বোঝা কঠিন নয় টিফা নামের এই বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে যতটা না বাণিজ্য বিষয়ক তার চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বের দেশে দেশে আমেরিকার রাজনৈতিক-সামরিক স্ট্রাটেজি বা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিগুলোকে ব্যবহার করে তার দুর্বল পার্টনারদের কাছ থেকে বিবিধ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা হাসিল করে নেয়। ইরাক আগ্রাসন কিংবা ”সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ইত্যাদি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান কিংবা মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোকে ব্যবহার করার কাজে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে কাজে লাগানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সাথে ২০০২ সালে টিফা চুক্তির সময় আমেরিকা গার্মেন্টস পণ্যের কোটা মুক্ত সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে তা না দেয়ার জন্য নানান শর্ত চাপিয়ে দেয়- যেমন রুলস অব অরিজিনের এমন শর্ত যে শ্রীলঙ্কার উৎপাদিত গার্মেন্টস পণ্য তৈরি হতে হবে আমেরিকান ফ্যাব্রিক্স ব্যবহার করে, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস বাস্তবায়ন ইত্যাদি।

২০০৩ সালে পার্লামেন্ট এ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস সম্পর্কিত আইন পাস করতে গেলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয় এবং এক পর্যায়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয় এবং আদালত মামলাকারীর পক্ষেই রায় দেয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে ৭ম টিফা বৈঠকে আমেরিকা আবার ট্রিপস বাস্তবায়নের ব্যাপারে শ্রীলংকাকে চাপ দেয় এবং সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেনিটিক্যালী মডিফাইড ফুড আমদানির উপর শ্রীলংকার যে নিষেধাজ্ঞা আছে সেটাও তুলে নেয়ার ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করে।

এ রকম উদাহরণের শেষ নেই, যেখানেই টিফা স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, অবিলম্বে প্রতিরোধ করা না গেলে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোন কারণ দেখা যাচ্ছেনা।

প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, বাংলাদেশের সংবিধানে ১৪৫ (ক) ধারায় আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।’ ‘টিকফা’ চুক্তির ধারাসমূহ নিয়ে গোপনীয়তা ও রাখঢাক করার যে চেষ্টা চলছে তা কি সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারার স্পিরিট ও মর্মকথার বরখেলাপ নয়?

উদারীকরণ, মুক্তবাজার, ব্যক্তি খাতের অবাধ আন্তর্জাতিক প্রবাহ, পুঁজি বিনিয়োগ ও মুনাফা স্থানান্তরের নির্বিঘœ গ্যারান্টি, বাজার সংরক্ষণ নীতি পরিহার ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশকে অঙ্গীকারবদ্ধ করে ‘টিফা’ চুক্তিতে এদেশের অর্থনীতিকে ‘পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের’ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলার ব্যবস্থাপত্র হাজির করা হয়েছে। অথচ পুঁজিবাদী মুক্তবাজার ব্যবস্থা, নয়া উদারবাদী পথ, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, দেশকে নয়া-উপনিবেশবাদের শিকারে পরিণত হতে দেয়া ইত্যাদি ব্যবস্থাগুলো সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৮, ১৩, ১৪, ১৫, ১৯, ২০ ইত্যাদি ধারাসমূহে উল্লেখিত নির্দেশনাগুলোর সুস্পষ্ট বরখেলাপ। সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও তার বিধি-বিধান, দিক-নির্দেশনা লংঘন করে ‘টিফা’ বা একই ধরনের ‘টিকফা’ চুক্তি স্বাক্ষর করলে তা হবে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি কাজ।

‘টিফা’ চুক্তিতে ১৫, ১৬ ও ১৭নং প্রস্তাবনায় মেধাস্বত্ব অধিকার (ওহঃবষষবপঃঁধষ চৎড়ঢ়বৎঃু জরমযঃং)-ঞজওচঝ, আন্তর্জাতিক শ্রম মান সংরক্ষণ, পরিবেশ ও বাণিজ্য স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘টিফা’ চুক্তির ফলে মেধাস্বত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা পেলে তা আমাদের দেশকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন করবে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতেই দেশকে সফটওয়্যার লাইসেন্স ফি বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা (৬০ কোটি ডলার) ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ওষুধ শিল্পকে পেটেন্ট আইনের অধীনে মাশুল দিতে হবে এবং তার ফলে তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তৈরি পোশাক শিল্পকেও ব্র্যান্ড নামে ব্যবহৃত এদেশের তৈরি এ্যাকসেসরিজের জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিকে নজরানা দিতে হবে। বাসমতি চাল, চিরতার রস, নিমের দাঁতন ইত্যাদি হেন বস্তু নেই যা আগেভাগেই মার্কিনীসহ বিদেশি কোম্পানিরা পেটেন্ট করে রাখেনি। মেধাস্বত্ব অধিকারের ধারা প্রয়োগ করে তারা এসবকিছুর জন্য রয়েলটি প্রদানে বাংলাদেশকে বাধ্য করার জন্য ‘টিফা’ চুক্তি স্বাক্ষর করতে এভাবে চাপাচাপি করছে।

জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে রচিত ‘টিফা’ চুক্তির সব বিষয়বস্তুকে অপরিবর্তিত রেখেই ‘টিকফা’র মোড়কে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে তা সুখবর। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য তা আরেকটি সর্বনাশের বার্তা। তাই দেশের গলায় আরেকটি গোলামীর ফাঁস পরানোর এই পাঁয়তারা যেকোনো রুখতে হবে।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য