দেশে আবেদনকৃত ৮৭টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পায়না অথচ ৬১ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় অবাধে চালাচ্ছে সনদ বাণিজ্য বিদেশি সার্টিফিকেট প্রবণতার নামে হীনম্মন্যতা ও চেতনার দীনতা থেকে উত্তরণ লাভ করতে হবে।

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

ঢাকা শহরে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রদানের নাম করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন না নিয়ে বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টাডি সেন্টার, কোচিং সেন্টার ও টিউশন প্রোভাইডিং সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৮টিরই কোন অনুমোদন নেই। ৫টি শুধু বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ৭টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অপর একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির কোন অনুমোদন নেই। ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের বিভিন্ন ব্যাংক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইডিবি বৃত্তি সংক্রান্ত কম্পিউটার, ইংরেজি ও আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এ লেভেল, ও লেভেল, আইএলটিসি, সিএটি, এসিসিএ কোর্স পরিচালনায় লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয় বিভিন্ন পত্রিকায়। কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড ও ঠিকানা ব্যবহারকারী ৬১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টির কোন অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হয়ে ডিপ্লোমা কোর্স এবং এলএলবি অনার্স কোর্স পরিচালনা করছে। বিদেশি এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, নিজ দেশেও যাদের ঠিকমতো অনুমোদন নেই। তারা এ দেশে আসতে চায় শিক্ষা বাণিজ্য করার জন্য। সার্টিফিকেট বিক্রি করে তারা দেশের টাকা বাইরে নিয়ে যেতে চায়।

জানা গেছে, গত বছর প্রণীত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০’-এর ৩৯ ধারায় এ দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা প্রতিষ্ঠার সুযোগ রাখা হয়। এই ধারার ২ উপ-ধারার ক্ষমতাবলে এখন নীতিমালা প্রণয়ন করে শাখা প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত এ নীতিমালা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার জন্য তৈরি করা হলেও তাতে এখন ট্রেনিং ও কোচিং সেন্টারের সুযোগও রাখা হচ্ছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়, শাখা ক্যাম্পাস, ট্রেনিং ও কোচিং সেন্টার বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তা সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত না করায় এখানে বড় ধরনের অনিয়মের সুযোগ থেকে যাচ্ছে। দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১ একর অখ- জমিতে ক্যাম্পাস নির্মাণের দুরূহ বিধান রাখা হয়েছে। অথচ নবাগত স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার ও তার শাখা সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ৩ হাজার বর্গফুটের ভাড়া বাড়িতেই চলবে বলে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। দেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায় যদি এক একর অখ- স্থায়ী ক্যাম্পাস মান নির্ণয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে, তাহলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই গুরুদায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে কার স্বার্থে?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগদান কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিলেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও তার শাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোন শর্তারোপ করা হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে দূরশিক্ষণ, দূর ক্যাম্পাসের সুযোগ রাখা হলেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এ ধরনের কোন নিয়ম নেই। এ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ সহজ করা হচ্ছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রকৃতির বিশ্ববিদ্যালয়। তারপরও প্রচলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অন্যান্য শর্তের সঙ্গে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালাটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। দেশি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত রিজার্ভ ফান্ডের টাকা ৫ কোটিতে নির্ধারণ বলা হলেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ছাড় দিয়ে ৩ কোটি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, এটা সম্পূর্ণ অনুচিত। বরং দেশের স্বার্থে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে নিম্নমানের কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেন বাংলাদেশে শিক্ষাবাণিজ্য করতে না পারে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ সুযোগে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার নামে অর্থ পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার প্রয়োজন নেই। এটি দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি বৈষম্যমূলক এবং দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। পাশের দেশ ভারত এখনও কোন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। তারা কিছু ‘নন-ডিগ্রি শর্ট কোর্স’ পরিচালনার অনুমতি তাদের দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ই মার্চ সরকার আরও ৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি দিয়েছে।

নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ৯৫টি আবেদন এক বছরের বেশি সময় ধরে পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিল। এর আগে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৫৬টি। আর এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা হলো ৬৪টি।

বলাবাহুল্য, দেশেই যেখানে আরও ৮৭টি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে মূলত তাদেরকে অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা সেখানে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১টি ক্যাম্পাস এদেশে চলে কীভাবে? অপরদিকে লেখাপড়ার এখন স্বদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক এগিয়ে। তাহলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি এত অতি আগ্রহী মনোভাব কেন?

মূলত এটা এ জাতির গভীর দীনতা, চরম হীনম্মন্যতা। এ হীনম্মন্যতা না দূর করালে একদিকে যেমন এদেশবাসীর চেতনাগত দীনতা থেকে যাবে তেমনি এদেশ থেকে প্রভূত অর্থও চলে যাবে। পাশাপাশি এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চরম বৈষ্যম্যের শিকার হবে। সব মিলিয়ে পরিণতি হবে দুঃখজনক।

মূলত কাঙ্খিত ও বাঞ্ছিত ইসলামী অনুভূতি ও ইলমের অভাবই আমাদেরকে দায়িত্বহীন ও অবিবেচক করে তোলে। এর থেকে উত্তরণ পেতে হলে চাই নেক ছোহবত, রূহানী কুয়ত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ- মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য