“মাসিক আল বাইয়্যিনাত শততম সংখ্যায় পদার্পনে” রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে জানাই লক্ষ-কোটি সালাম মাসিক আল বাইয়্যিনাত পাঠে আমার একান্ত উপলব্ধি!

সংখ্যা: ১০০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সত্যের ঝান্ডা বুলন্দকারী, অসত্যের মুখোশ উন্মোচনকারী, হক্বের দিক নির্দেশনা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের রাহবার মাসিক আল বাইয়্যিনাত শততম সংখ্যায় পদার্পনে-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক ইমামুল আইম্মা, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে জানাই লক্ষ-কোটি সালাম এবং সেই সাথে আন্তরিক মুবারকবাদ এবং অকৃত্রিম ভালবাসা রইলো মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর মর্দে মু’মিন অনুতোভয় কলমী মুজাহিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি।

আজ আমাদের সমাজে, দেশে নৈতিক অবক্ষয়, অস্থিরতা, অন্যায়, অত্যাচার ও অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষ আজ আখিরাত ও আমল বিমুখ। কুরআন শরীফ, সুন্নাহ উনার হাক্বীক্বী জ্ঞান থেকে বহু দূরে।

আলহামদুলিল্লাহ! মুসলমানদের এই দুর্দিনে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মাসিক আল বাইয়্যিনাত কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সেই সাথে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে প্রকাশিত এমন একটি পত্রিকা যার মধ্যে ইসলামের সবদিকেরই কমবেশি আলোচনা থাকে। সাথে সাথে গ্রহণযোগ্য যৌক্তিক চিন্তাধারাকেও উপেক্ষা করা হয়না। এই পত্রিকা পাঠের মাধ্যমে আমল ও আত্মার খোরাক বৃদ্ধি পায়, চিন্তা ও গবেষণার রুদ্ধ কপাট উন্মুক্ত হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার মারিফাত হাছিল ও বিশুদ্ধ আমলে জজবা পয়দা হয়। ঈমান মজবুত ও আক্বীদা দুরস্তের ক্ষেত্রে এ পত্রিকা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সত্য-মিথ্যার পার্থক্য এবং বাতিল ফিরক্বার মুখোশ উন্মোচনে এই পত্রিকার গুরুত্ব সীমাহীন। সর্বোপরি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর যুক্তিনিষ্ঠ আপোষহীন বক্তব্য, দলীল-আদীল্লাহ ভিত্তিক জবাব দান এবং অসংখ্য, অগণিত কিতাবের রেফারেন্স, উদ্ধৃতির ব্যাপারটি আমার কাছে আকর্ষণীয় ও বিস্ময়কর বলে মনে হয়। আজ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর প্রচার-প্রসার দেশ হতে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। হিদায়েতের আকাশে আল বাইয়্যিনাত এখন দিগন্ত বিস্তৃত এক উজ্জল নক্ষত্র। তাইতো মাসিক আল বাইয়্যিনাত আমার নিকট একান্ত পছন্দের পত্রিকা। আমি এই পত্রিকাটি খুবই ভালবাসি এবং মনোযোগের সাথে পাঠ করি। বিশেষত রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ, ফতওয়া বিভাগ, সুওয়াল-জাওয়াব, কাদিয়ানী রদ, মাসের ফযীলত, ফিক্বহুস সুনান, ফিক্বহুস হাদীছ ওয়াল আছার এবং আখবারুল আখইয়ারসহ প্রতিটি বিভাগই আমার নিকট খুব ভাল লাগে। মূলতঃ এ ভাল লাগা শুধু আমার নয় বরং প্রতিটি পাঠকের।

মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এ যামানার মুজাদ্দিদ। উনার বেমেছাল বুযুর্গী ও সুন্নতের দৃঢ় পাবন্দি প্রমাণ করে যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে প্রতি এ যামানার জন্য রহমত স্বরূপ। উনার পবিত্র দর্শণ ও ছোহবত মানুষের জন্য কিমিয়া সদৃশ।

আমি উনার সম্পর্কে ছহীহ আক্বীদা পোষণ করি এবং তার প্রতি বিশুদ্ধ ও খালিছ মুহব্বত রাখি। রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বহু ওয়াজ মাহফিলে আমি অংশগ্রহণ করেছি। স্বয়ং নিকটে ও দূরে থেকে উনাকে দেখেছি। এমনকি উনার সুন্নতি মসজিদে এবং খানকা শরীফ উনার মধ্যে উনার মুরীদান ছূফীয়ায়ে কিরামদের মজলিসেও অংশগ্রহণ করেছি। উনার প্রতিটি মজলিস আমার কাছে মনে হয়েছে রহমতে খাছ ও রব্বানী ফুয়ুজাতে ভরপুর। উনার ইলমী বয়ান ও হাক্বীক্বতের বর্ননা শ্রবণ করে কখনো কখনো আমার অন্তরে উদয় হয়েছে, সম্ভবত আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খুলাফায়ে রাশেদীনগণ উনারা বুঝি এইভাবে বয়ান করতেন।

বর্তমান যামানায় এক শ্রেণীর আলিম সমাজ ভুলে নিপতিত এবং অসত্যের উপর ইস্তিকামত রয়েছে। তারা ভেবেছেন, মাদরাসার সিলেবাসভিত্তিক কাশশাফ, উসূলে বাযদুভী, শরহে মাওয়াকিয, কুদুরী, হিদায়া প্রভৃতি গ্রন্থ পাঠ করে নিশ্চিন্তে পুলসিরাত পার হয়ে দীদারে মাওলায় বা জান্নাতে চলে যাবে। অথচ এটা তাদের নিছক ধারণা মাত্র। অবশ্য মহান আল্লাহ পাক যাকে ক্ষমা করেন তার কথা ভিন্ন যদিও তারা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফই পড়েছেন তথাপি প্রকৃত হিদায়েত থেকে মাহরূম রয়েছেন।

কাজেই হাল যামানার দ্বিধাগ্রস্থ এবং ভুলে নিমজ্জিত আলিমদের স্বীয় অস্তিত্ব বিলীন করে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তরীক্বায় দাখিল হয়ে স্বীয় পরকাল বা আখিরাতের পাথের সংগ্রহ করা উচিত। কেননা যে ব্যক্তি কোন ওলী উনার বিরুদ্ধাচরণ করতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে জিহাদে লিপ্ত হওয়ার মানসিকতা পোষণ করে তবে তার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কে?

পরিশেষে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ উনার মধ্যে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর অসামান্য মকবুলিয়াত ও এর ব্যাপক প্রচার-প্রচার কামনা করি।

মুহম্মদ শামছুদ্দীন, নোয়াখালী।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)