সততা ও আমানতদারীতা বা বিশ্বস্ততা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ছিফত মুবারক। তিনি সত্যবাদী ও আমানতদার হিসেবে কাফিরদের কাছেও বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। কাফির মুনাফিক সবাই উনাকে সর্বাধিক সত্যবাদী ও আমানতদার বলে বিশ্বাস করতো, মানতো। কেউ কখনো বিপরীত কিছু বলতে পারেনি।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় সত্য বলতেন। মূলতঃ সততা ও বিশ্বস্ততা এই ছিফত বা গুণদ্বয়ও উনার মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে কখনো মিথ্যা বলেননি। তিনি কীভাবেই বা মিথ্যা বলতে পারেন? তিনি তো সততা ও বিশ্বস্ততা নিয়েই ধরাপৃষ্ঠে তাশরীফি শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِي جَآءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهٖ ۙ أُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّـقُونَ
অর্থ: যিনি সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং সত্যকে সত্য বলে অভিহিত করেছেন। উনারাই তো মুত্তাকী বা পরহেযগার। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা যুমার শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু নিজে সত্যবাদী ছিলেন, তা নয়; বরং তিনি উনার সকল উম্মতকে সত্য বলার ও আমানতদার হওয়ার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সত্যবাদী ও আমানতদার বা বিশ্বস্ত হওয়াকে ফরয বা অপরিহার্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ফকীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى البِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْـجَنَّةِ وَمَا يَـزَالُ الرَّجُلُ يُصَدِّقُ ،وَيَـتَحَرَّى الصِّدْقَ حتّٰى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيْـقًا
অর্থঃ সত্যকে ধারণ করা তোমাদের জন্য একান্ত কর্তব্য-ফরয। কেননা, সততা নেক কাজের রাস্তা খুলে দেয়। আর নেক কাজ জান্নাতের পথ প্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলায় ইস্তিকামাত বা অবিচল থাকলে, এক পর্যায়ে তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ছিদ্দীক বা চরম সত্যবাদী রূপে পরিগণিত হন।’ সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ- ৬৫৩৩)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاۤ أَيُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّـقُوا اللهَ وَقُـوْلُوا قَـوْلًا سَدِيْدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَـغْفِرْ لَكُمْ ذُنُـوْبَكُمْ ۗ وَمَنْ يُّطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَـقَدْ فَازَ فَـوْزًا عَظِيْمًا
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। আর সবসময় সত্যকথা বলো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আমলগুলোকে পরিশুদ্ধ করবেন। তোমাদের গুনাহ্খাতা ক্ষমা করে দিবেন। আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত করে তারা বিরাট সফলতা লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৭০-৭১)
পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে
পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৩) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৭)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৩)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৪)