আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে

সংখ্যা: ৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

 খিলাফত লাভ

নিয়ামতের নির্যাস ধারণ ও বহণের পরিপূর্ণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমুল্লাহি আলাইহি-এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। মূলতঃ প্রধান খলীফা মনোনীত হবার বিষয়টি তাঁর অজ্ঞাত ছিল। এই পরম নিয়ামতে অভিষিক্ত হওয়া সম্পর্কে মুরীদ অনবহিত থাকারই কথা এবং এটাই নিয়ম। মুরীদের পক্ষেতো বটেই, এমনকি নিয়ামত সোপর্দকারী মুর্শিদেরও জানা থাকে না, কাকে নিয়ামত দান করতে হবে। এ নিগূঢ় বিষয়টি একান্তভাবে আল্লাহ্ পাক-এর এখতিয়ারে। আরিফগণের পৃথক পৃথক জীবন সাধনা, কৃচ্ছতা, অনুসন্ধান, অনুভব ও  অনুশীলনের বিচিত্র প্রেক্ষিত রচিত হয় তাঁদের আপন আপন অবস্থানে। অবশ্য তাঁদের মহিমাময় কামালত ও পরিপূর্ণতা লাভ ঘটে মহামিলনের একই মন্জিলে, যদিও গন্তব্যস্থল এক হওয়া সত্ত্বেও সকলের মন্জিলের সোপান এক নয়। কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস অনুসরণে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি অর্জনই একজন মু’মীনের অভিষ্ট লক্ষ্য। এ লক্ষ্য হাছিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পথ পরিক্রমার স্তর অতিক্রমণে ওলী আল্লাহ্গণের অনুসৃত রীতি ও নীতি “ত্বরীকত” অভিধায় অভিহিত। মুহব্বত ও মা’রিফাত চর্চায় মানুষকে দীক্ষিত ও অভ্যস্ত করে তোলার জন্য আল্লাহ্ পাক তাঁর মনোনীত ওলী আল্লাহ্গণকে প্রদত্ত নিয়ামত, তাঁদের মাধ্যমে অন্যজনে হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দুনিয়ায় ত্বরীকত তথা ইসলাম ধর্মের আবাদ করেন। ওলী আল্লাহ্গণকে নিয়ামত সম্ভারে পরিপূর্ণতা দান এবং সমৃদ্ধ করে তোলা যেমন মহান আল্লাহ্ পাক-এর সদয় মর্জি, ঠিক তেমনি প্রদত্ত নিয়ামত হস্তান্তর করণে ব্যক্তি নির্বাচন ও মনোনয়ন দানও আল্লাহ্ পাক-এরই সদয় এখতিয়ার। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুর্শিদের ভূমিকা এক্ষেত্রে প্রাধান্যে এলেও আল্লাহ্ পাক-এর ইচ্ছাই চূড়ান্ত। আল্লাহ্ পাক অনুগ্রহ করে না জানালে মুর্শিদের জানাই থাকে না, নিয়ামত ধারণ ও বহণে তাঁর কোন মুরীদ যোগ্যতম। খিলাফত কোন পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয়। এর জন্য যোগ্যতা প্রয়োজন। তবে যোগ্যতা ও নিয়ামত যুগপৎ আল্লাহ্ পাক-এরই মহান দান। মুরীদের যোগ্যতার পরিধি এবং নিয়ামতের ব্যাপ্তি ও গভীরতা সম্পর্কে মুর্শিদের অবহিতি থাকলেও এর গূঢ় রহস্য ও পরিণত স্তর অজ্ঞাত থাকায় তিনি আল্লাহ্ পাক-এর আদেশের অপেক্ষায় থাকেন। অবশেষে আল্লাহ্ পাক-এর তরফ থেকে সময়োচিত আদেশ প্রাপ্তিতে তিনি তাঁর জীবনের সঞ্চিত মহামূল্যবান নিয়ামত দান করার লক্ষ্যে তৎপর হয়ে উঠেন। আল্লাহ্ পাক-এর মহান ওলী হযরত শেখ বোরহানুদ্দিন ফরাজীকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ্ পাক-এর এমন আদেশ পেয়ে তাঁর লব্ধ নিয়ামত সোপর্দ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন।

 নিয়ামত সোর্পদ করার দিন আজ সমাগত। হযরত শেখ বোরহানুদ্দিন ফরাজীকান্দি  রহমতুল্লাহি আলাইহি অনেক মুরীদ ও খলীফা পরিবেষ্টিত হয়ে খানকা শরীফে বসে আছেন। আজকের এই বরকতময় মাহ্ফিলের বিশেষ মেহমান আল্লাহ্ পাক-এর লক্ষ্যস্থল, মাদারজাদ ওলী, কুতুবুজ্জামান, আরিফবিল্লাহ্, আওলাদে রাসূল, হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি তাঁর প্রাণের আঁকা মুর্শিদের দিকে মুতাওয়াজ্জেহ হয়ে আপন মনে বসে রয়েছেন। সকলেই নিশ্চুপ, নির্বাক। মুর্শিদ তাঁকে কাছে ডাকলেন। মুর্শিদ ক্বিবলার মমতামাখা আহবানে তিনি সাড়া দিলেন। একান্ত নিকটবর্তী হয়ে তিনি মুর্শিদের কদম মোবারকে নিজেকে নিবেদন করলেন। এখন আর বাধা-বিপত্তির কোন পর্দা নেই। শুধুই দু’জনে দু’জনার। পর্দার নিরাবরণে মুর্শিদ সন্নিধানে মুরীদ আজ ধন্য। নিয়ামত ধারণ ও বহণের যোগ্য মুরীদ পেয়ে মুর্শিদও এত্মিনান। সকলের অলক্ষ্যে জীবনের অর্জিত নিয়ামতের পরম নির্যাস আল্লাহ্ পাক-এর আদেশে হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলেছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সোপর্দ করে হযরত শেখ বোরহানুদ্দিন ফরাজীকান্দি  রহমতুল্লাহি আলাইহি আজ নির্ভার হলেন এবং তাঁকে প্রধান খলীফা মনোনীত করলেন।

পীর সাহেব ক্বিবলার ইন্তিকাল

হযরত শেখ বোরহানুদ্দিন ফরাজীকান্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি জীবনব্যাপী নিজেকে ইসলাম ধর্মের খিদমতে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাঁর সক্রিয় ব্যবস্থাধীনে পরিচালিত হয়েছে। এসবের পাশাপাশি তিনি একান্ত অরাজনৈতিক জনসেবামূলক একটি সংস্থা “নেদায়ে ইসলাম” গঠন করেন। তাঁর জীবাদ্দশাতেই এই সংস্থাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং জনহিতকর কাজে অত্যুজ্জ্বল ভূমিকা রাখে। মুরীদের দেখাশুনা, প্রতিষ্ঠিত সকল প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান এবং অপরিমেয় আধ্যাত্মিক শ্রমের ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে। এমন অবস্থায় ১৯৬৪ সালের ৯ মে তিনি মহান আল্লাহ্ পাক-এর দিদারে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তাঁর সহধর্মিণী হযরত মোসাম্মত জামিলা খাতুন মুদ্দাজিল্লুহাল আলিয়া ৭৭ বছর বয়স মুবারকে ৮জুন/২০০০ সালে ইন্তিকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) (অসমাপ্ত)

আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৫

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯১ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৯৫

ক্বায়িম মাক্বামে আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখ্দূমুল কায়িনাত, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মহাসম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-৪৫