মাহিউদ্দীনের দেয়া মদনপাল আর প্রিন্সিপালের উপমা কাফিরদেরই উপমার মত ওরা আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত নয়, আশরাফ আলী থানভীর উম্মত হতে চায়

সংখ্যা: ৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(জাহিল মাহিউদ্দীনের মদীনা পত্রিকার এপ্রিল/২০০০ঈঃ সংখ্যার প্রলাপের জবাব) আল্লাহ পাক কোন মশার উপমা দিতেও কুক্তাবোধ করেননা। সত্য উপমা দেয়া মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত। পক্ষান্তরে মিথ্যা উপমা দেয়া কাফিরদের খাছলত। সত্যকে মিথ্যা প্রতিপাদন করাও ওদের প্রবৃত্তি।

          আল্লাহ্ পাক স্বয়ং যে কুরআন সম্পর্কে বলেছেন, “এতে কোন সন্দেহ নেই।” সে কুরআন সম্পর্কেই কাফিররা বলেছে, “এগুলোতো কল্পলোকের গল্পকথা।” সিদ্দীকে আকবর হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু যেখানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যথার্থ কারণে মূল্যায়ণ করেছেন সৃষ্টির সর্বাপেক্ষা সুন্দর হিসেবে; সেখানে নিকৃষ্ট কাফির আবু জাহেল তার কদর্যময় মানসিকতার জন্য হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মন্তব্য করেছিল ঠিক তার উল্টোভাবে।

          মূলতঃ প্রত্যেকে তার আক্বল, আমল, আদত অনুযায়ীই কথা বলে থাকে। এজন্য বলা হয়, “পাত্রে আছে যা, ঢাললে পড়বে তা।”

          মাসিক মদীনা পত্রিকার সম্পাদক রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী-এর প্রতি বিষোদগার ঢালতে গিয়ে গাঁজাখোরের অমূলক উদাহরণ টেনেছে।

          মাহিউদ্দীনের গাঁজার নৌকা পাহাড় বেয়ে চলতে পারে, গাঁজা খোরদের নিকটই তার দেয়া গাঁজাখোর মদন পালের উদাহরণ চটুল রস তৈরী করতে পারে কিন্তু সমঝদার “সত্যানুসন্ধানীদের” কাছে তার কোন মূল্য আছে কি?

          হাকীমুল হাদীস হযরত ইমাম আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে যখন “তিনি একটি হাদীসও জানেন না” এ অপবাদ তাঁর জীবদ্দশায়ই জোরালোভাবে দেয়া হত তখন একই ধারাবাহিকতায়, জামেউল উলূম, মুজাদ্দিদুয্যামান, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী সম্পর্কেও যে মাহিউদ্দীন গংরা ছড়াবে, “তিনি কলেমা শরীফও শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে জানেন না” তা মোটেও বিচিত্র নয়। বরং চিরন্তন ওলামায়ে ‘ছু’দের স্বভাবজাত প্রক্রিয়ায় এটা খুবই স্বাভাবিক।       আহকামুল কুরআন লি জাফর আহমদ ওসমানী, মোকাদ্দিমায়ে এলাউসসুনান, এমদাদুল আহকাম, তাবলীগে দ্বীন, বজলুল মজহুদ শরহে আবু দাউদ, এমদাদুল ফতওয়া ১ম জিঃ, আত-তামবিহুত ত্ববারী ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত আশরাফ আলী থানভী সাহেবের জ্বাজ্বল্যমান ৬২টি লক্বব রয়েছে। যার অনেকগুলো তার জীবদ্দশাতেই ব্যবহৃত হত এমনকি তার স্বরচিত কিতাবেও লিপিবব্ধ ছিল। তার পরেও যদি মাহিউদ্দীন পেঁচার ন্যায় চোখ বুঁজে স্পষ্ট প্রকাশ্য সূর্যালোককে অস্বীকার করার দৃষ্টান্ত তৈরী করে তবে তা সত্যিই করুণার বিষয়।

          করুণার বিষয় এই যে, মাহিউদ্দীন নিজেকে আশরাফ আলীর আশেক জাহির করতে চাইলেও আসলে সে আশরাফ আলী থানভী সাহেব সম্পর্কে পুরোই অজ্ঞ। মাহিউদ্দীন আশরাফ আলী থানভী সাহেব “মাওলানা” লক্বব ব্যবহার করতনা বলে লক্বব ব্যবহার করার প্রতি থানভী সাহেবের নিরাসক্তি প্রমাণ করতে চেয়েছে। অথচ লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত। কাজেই যদি মাহিউদ্দীনের কথাই বিশ্বাস করা যায় তাহলে  দুটো অবস্থার অবতারণা হয়। প্রথমত হয় আশরাফ আলী থানভী “মাওলানা” লক্ববেরই যোগ্য নয় তা প্রতিপাদন করা অথবা লক্বব ব্যবহারের সুন্নত-এর প্রতি তার অনাগ্রহ থাকা। মূলতঃ সার্বিক সুন্নত পালনের ক্ষেত্রে মাওলানা থানভী সাহেবের বরাবরই বিশেষ ঘাটতি ছিল। ‘এ কারণে যিনি যত বেশী সুন্নত পালন করেন তিনি তত বড় ওলী আল্লাহ’ এ মাপকাঠিতে আশরাফ আলী থানভী সাহেবের অবস্থান নিম্নমুখী। কেবল যারা সুন্নতের প্রতি সর্বোতই বেখেয়াল এবং সুন্নত কি জিনিস এটাই যারা জানেনা তাদের কাছেই আশরাফ আলী থানবী সাহেব বিরাট কিছু হতে পারে।

          কিন্তু সুন্নতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আদর্শে সমুজ্জ্বল, মুজাদ্দিদুয্যামান রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সূক্ষ্ম তাজদীদের কাছে নাকেছ থানভী সাহেবের ভুলগুলো বড়ই খোলাসা হয়ে ধরা পড়ে।

          থানভী সাহেব “রোজাবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হয়না” বলে যে ফতওয়া দিয়েছে তা মুজাদ্দিদুয্যামান রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী-এর তাজদীদের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। “রোজাবস্থায় ইনজেকশন নিলে তা মগজে ও পাকস্থলীতে পৌছেনা” থানভী সাহেবের এ বক্তব্য আজ চিকিৎসকদের নিকটও চরম ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

          কিন্তু এরপরও যা উদঘাটিত হয়েছে তা আরও গুরুতর। আশরাফ আলী থানভী সাহেব তাহ্ক্বীক্বের অভাবে তার বেহেস্তী জেওরে বিত্রের পর দু’রাকায়াত নফল নামাজকে অন্যান্য নফল নামাজের সাথে মিলিয়ে ফেলেছে, যার জন্য বেহেস্তী জেওরের ফতওয়া ভুল হয়েছে।

          আর “ইমদাদুল ফতওয়াতেও” আশরাফ আলী থানভী সাহেব হাদীসের প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে না পারার কারণে এলোমেলো ব্যাখ্যা দিয়েছে। উক্ত “ইমদাদুল ফতওয়াতে” আশরাফ আলী থানভী সাহেব শুধুমাত্র একটা হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছে “ইবনে মাযাহ্ শরীফ” থেকে। তাও প্রথম হাদীস শরীফখানা নয় বরং তা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় হাদীস শরীফখানা বর্ণনা করেছে। অথচ ইবনে মাযাহ্ শরীফে বর্ণিত প্রথম হাদীস শরীফে রয়েছে যে, “আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিত্রের পর দু’রাকায়াত নফল নামাজ বসে আদায় করেছেন।” আর আশরাফ আলী থানভী সাহেব যে হাদীস শরীফটি বর্ণনা করেছে, তাতেও দাঁড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ নেই, শুধুমাত্র রুকু করার সময় দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ রয়েছে। আশ্চর্যজনক কথা যে, হাদীস শরীফে বসে পড়ার কথা ব্যক্ত থাকলেও আশরাফ আলী থানভী সাহেব কি করে উক্ত হাদীস শরীফ কারচুপি করলো এবং নিজের মনমত ফতওয়া ছাবেত করার জন্য দ্বিতীয় হাদীস শরীফ থেকে ক্বিয়ামকে ছাবেত করার অপচেষ্টা করলো? অথচ দ্বিতীয় হাদীস শরীফ দ্বারাও বসে পড়াটাই ছাবেত হয়। কেননা যদি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত নামাজে ক্বিয়ামকে প্রাধান্য দিতেন, তাহলে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করে তারপরে বসে যেতেন এবং তাতেই ক্বিয়ামের প্রাধান্য প্রমাণিত হতো। মূলতঃ হাদীস শরীফে বসার পক্ষেই বর্ণনা রয়েছে।

          আরো আশ্চর্যজনক কথা যে, আশরাফ আলী থানভী সাহেব কি করে রুকুকে ক্বিয়ামের সাথে মিলিয়ে দিল! কারণ নামাজের মধ্যে ক্বিয়াম ও রুকু আলাদা দু’টি ফরজ। উল্লেখ্য, প্রত্যেক নাামাজেই রুকু করা ফরজ তা দাঁড়িয়ে পড়ুক বা বসে পড়ুক। আর ক্বিয়াম প্রত্যেক নামাজে ফরজ নয়, নামাজের হুকুম অনুসারে ক্বিয়ামের হুকুম হবে। যেমন- ফরজ নামাজে ক্বিয়াম ফরজ, নফল নামাজে ক্বিয়াম নফল।

          উল্লেখ্য, মাহিউদ্দীন গংদের এখন প্রমাণের সময়ে এসেছে যে, তারা আশরাফ আলী থানভীকে প্রাধান্য দিবে না আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশী প্রাধান্য দিবে?

          যদি ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুহিয়্যূস্ সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয্যামান, আওলাদে রাসূল, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী-এর বেমেছাল ইলম, রূহানীয়ত এবং অভূতপূর্ব তাজদীদের প্রেক্ষিতে, আশরাফ আলী থানভী সাহেবের হাদীস কারচুপীর প্রমাণ থাকা এবং ইনজেকশনের ভুল মাসয়ালা প্রদাণের পরও তারা আশরাফ আলী থানভীকে প্রাধান্য দিতে চায় তবে তারা মূলতঃ আল্লাহ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালতের চেয়ে থানভীর সিলসিলাকেই বেশী মূল্যায়ণ করাকে প্রতীয়মান করে এবং তখন আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নয় বরং থানভী সাহেব এর উম্মত বলেই তারা নিজেদের প্রতিভাত করে।

          কারণ হক্ব মত পথ গ্রহণ করাই রিসালতের হিস্সা। পক্ষান্তরে মুরুব্বীর অন্ধ অনুসরণ করা হচ্ছে মুরুব্বীর পূঁজা। এসব অন্ধ মুরুব্বী পূঁজারীরা মনে করে যে, আশরাফ আলী থানভী সাহেব পর্যন্তই আল্লাহ্ পাক-এর ক্ষমতা শেষ। এর পরে আল্লাহ্ পাক আর কাউকে তার চেয়ে বড় অলী আল্লাহ্ বানাতে পারেননা। অথচ আল্লাহ্ পাক বলেন, “রিসালত কোথায় রাখতে হবে তা আল্লাহ্ পাক জানেন।” তেমনি কাকে বেলায়েতের তাকমীলে পৌছাতে হবে তাও আল্লাহ্ পাক-এর একান্ত ইচ্ছা। আল্লাহ্ পাক কাউকেই পরওয়া করেননা।

          কাজেই কাউকে যদি আল্লাহ্ পাক জামানার লক্ষ্যস্থল হিসেবে কবুল করেন এবং তাঁর দ্বারা বেমেছাল ইল্মী, সুন্নতী তথা তাজদীদী খিদমত নেন তবে উচিত তাঁর অহেতুক বিরোধীতা না করে তাঁকে মেনে নেয়া।

          কিন্তু জাহেল অথবা কাফির-মুশরিকরা যেমন বণী ইসরাঈলে আগত নবী, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রিসালতকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি, উল্টো হিংসা করেছে, তেমনি আশরাফ আলী থানভীর সিলসিলার বাইরে তার চেয়েও বড় ওলীআল্লাহ্ যে আসতে পারে এটা তার অজ্ঞ ভক্তরা কোনভাবেই বরদাশ্ত করতে পারছেনা।

          আর না পেরেই তারা রাজারবাগ শরীফের প্রতি করছে হিংসা, ছড়াচ্ছে অপবাদ। আল্লাহ্ পাক এসব অপবাদ রটনাকারীদের মিথ্যা বর্ণনা হতে আমাদের সকলকে রক্ষা করুন।  (আমীন)

 মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মা’সুম

 গোড়ান, ঢাকা।

“নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বার স্বরূপ উন্মোচন” সুন্নীবার্তা না কুফরীবার্তা?

মৌলবাদী নাম ধারণই কেবল নয়, ধর্মের নামে চরম অধর্ম আর মসজিদে বর্বরোচিত হামলা করিয়া উহারা যথাযথই নিজেদের মৌলবাদীরূপে প্রতীয়মান করিয়াছে

এ বৎসরের শুরুতে ভারতের কাশ্মীরে মসজিদগুলোতে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য চেয়ে ফর্ম বিলি পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ। ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ভারতে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন নয়। অব্যাহত এবং ভয়াবহ কাশ্মীরে স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতারাম’- চাপানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ কাশ্মীরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হুমকি ভারতে কাশ্মীরি ছাত্রকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন

মতামত ইরান ফিলিস্তিনে ইসরাইলী হামলার জন্য বিশেষভাবে দায়ী সালাফী-লা মাযহাবী ওহাবী মালানারা কারণ তারাই সৌদি ইহুদী শাসকদের প্রশংসা করে, পৃষ্ঠপোষকতা করে তাদের দোষ-ত্রুটি এবং মুসলমান বিদ্বেষী ও ইসলাম বিরোধী কাজ চুপিয়ে রাখে বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে তাদের কুফরী আক্বীদা প্রচার করে অথচ সৌদি তথা আরব শাসকরাই ট্রাম্পকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। আর তা দিয়েই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণী দেশ- আমেরিকা নিজে বাঁচে কুখ্যাত ট্রাম্প মুসলমানদের শহীদ করার অস্ত্র নিজে বানায় আর ইসরাইলকেও দেয় বিশ্ব মুসলমানের তাই শুধু কুখ্যাত ট্রাম্প আর নিয়াহুর বিদ্বেষী হলেই হবে না পাশাপাশি সৌদি তথা আরবের ইহুদী শাসক সহ সালাফী লা মাযহাবী, ওহাবী মালানাদেরও মূলোৎপাটন করতে হবে ইনশাআল্লাহ!

তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত পাঠে উপলব্ধি- (১)