অবশেষে শুকর দুইটির একটির লাথির আঘাতেই শিয়া ব্যক্তিটির মৃত্যু হইয়াছিল। আফজালুন্নাছ বা’দাল আম্বিয়া (হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালাম-এর পর শ্রেষ্ঠ মানুষ) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু এবং লিছানুল্লাহ্ (যার জবান মোবারকে মহান আল্লাহ্ পাক কথা বলেন) হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি সে গভীর বিদ্বেষ পোষণ করিত। এ বিদ্বেষের বশবর্তী হইয়াই সে শুকর দুইটি চড়াইত। উহাদের একটির নাম দিয়াছিল হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রদিয়াল্লাহু আনহু) এবং অপরটির নাম দিয়াছিল হযরত ওমর ফারুক (রদিয়াল্লাহু আনহু)। শিয়া মাযহাবের আক্বীদা অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদার প্রথম দুইজনের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের পন্থারূপেই সে এইভাবে উহাদের চড়াইত।
কিন্তু কিছুদিন যাইতে না যাইতেই যখন উহাদের একটির লাথির আঘাতে সে মরিয়া গেলো তখন উহার সংবাদ গিয়া পৌঁছাইল ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কাছেও। খোদায়ী দানের বেমেছাল প্রজ্ঞাহেতু তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করিলেন, যে শুকরটির নাম রাখা হইয়াছিল হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে উহার লাথির আঘাতেই শিয়া লোকটির মৃত্যু হইয়াছে। খোঁজ নিয়া দেখা গেল তাহাই হইয়াছে। ইহার ব্যাখ্যা জানিতে চাওয়া হইলে ইমামে আ’যম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলিলেন, যেহেতু হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন খুব জালালী তবিয়তের, কাফিরের প্রতি অতিশয় কঠোর। সেইহেতু তাঁহার নামে নাম রাখিবার কারণে সে তাছির হারাম প্রাণী হইলেও উহার উপর পড়িয়াছিল এবং সে কারণেই উক্ত শুকরটি কাফির শিয়া ব্যক্তির প্রতি মহাক্ষুব্ধ হইয়া এমন এক লাথির আঘাত হানে, যাহাতে তাহার প্রাণবায়ূ বাহির হইয়া যায়।
এই ঘটনার যাহা উপজীব্য বিষয় তাহা হইল, নামের তাছির। একটি নিকৃষ্ট প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও “আশিদ্দাউ আলাল কুফ্ফার” হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে নাম রাখার কারণে তাহার তাছির উহার উপর কি চরম মাত্রায় আছর করিয়াছিল তাহার প্রমাণ শিয়া কাফির ব্যক্তির প্রতি উহার তীব্র পদাঘাত।
আবার ইহার বিপরীতে মন্দ নাম ধারণ করিবার ফলে আপাত আশরাফুল মাখলুকাত যে কিরূপ “বালহুম আদল” তথা ‘চতুস্পদ প্রাণীর চাইতেও অধম’ হইতে পারে তাহার প্রমাণ ইতিহাসের অনেক নজীরের সাথে সাথে সম্প্রতি মৌলবাদী দাবীদার চরমোনাই গং এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে খুব ভালভাবে অবলোকন করা গিয়াছে।
“তরবারী নয় উদারতায়” এই আদর্শের মহিমায় ইসলামের প্রসার হইয়াছে,” ইহা স্বতঃসিদ্ধ কথা।
মসজিদে নববীতে একবার এক বেদুঈন আসিয়া পেশাব করিতে থাকিলে কেহ কেহ তাৎক্ষণিক বাধা প্রদাণে উদ্যত হইলে তাহাকে আঁড়াল করিয়া দাঁড়াইলেন স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলিলেন, “তাহাকে স্বাভাবিকভাবে পেশাব করিতে দাও। এই সময়ে তাহাকে বাধা প্রদাণ করিলে তাহাতে তাহার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হইবে।” (সুবহানাল্লাহ্) ইসলামের কি অনুপম আদর্শ!
মূলতঃ মসজিদ আল্লাহ্ পাক-এর ঘর। এই ঘরের নিরাপত্তা দিয়াছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক। এই ঘরের পবিত্রতা, ভাবগাম্ভীর্য, আদব-লেহাজের দাবী তাই অন্য সবকিছুর তুলনায় অনেক বেশী। মসজিদে বেচা-কেনা হারাম, হৈ-হট্টগোল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও শক্ত গুণাহ্। এমনকি আলাপ-চারিতার ব্যাপারেও রহিয়াছে বিধি-নিষেধ। হাদীস শরীফে এই ব্যাপারে সতর্কতা আরোপ করিয়া বলা হইয়াছে, “মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলিলে চল্লিশ বৎসরের আমল নষ্ট হইয়া যায়।”
কথা বলিলেই যদি চল্লিশ বৎসরের আমল নষ্ট হইয়া যায় তাহা হইলে সেইখানে কেবল কথাই নহে, হৈ-হট্টগোলই নহে, বিধর্মীকে নহে, খোদ মুসলমান মুছল্লীকেই যদি নির্মমভাবে পিটানো হয়, রক্তাক্ত করা হয়, করজোরে ক্ষমা চাওয়ার পরও তাহাকে আল্লাহ্ পাক-এর ঘরের দেওয়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করিয়া প্রহারের পর প্রহার করিয়া মৃত প্রায় করিয়া দেওয়া হয়; তাহা ইহলে সেই জঘণ্য কাজের হোতাদের এই চরম অনৈসলামিক কাজ কি সুস্থ বিবেকে চিন্তা করা যায়? কিভাবে গ্রহণ করা যায় যে, পাগড়ী পরিধান করিয়া, লম্বা কোর্তা পড়িয়া, গজারির লাঠি হাতে নিয়া চরমোনাই মৌলবাদী গং জঘণ্য কায়দায়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মুছল্লীর উপর ষ্টিম রোলার চালাইবে? (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, জনকক্ত, দিনকাল ১০জুন/২০০০)
মূলতঃ ইহার উত্তর এই লেখার প্রথমেই বর্ণিত হইয়াছে।
হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নামে নাম করণ হওয়ার কারণে যেমন একটি শুকরের মাঝেও “আশিদ্দাউ আলাল কুফ্ফার” হাল গালেব হইয়াছিল। তেমনি বাহ্যতঃ লম্বা কোর্তা, পাগড়ী পরিধান করিবার পরও তথাকথিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের দাবীদার চরমোনাই গং মৌলবাদী নাম ধারণ করিবার ফলে উহার অন্তর্নিহিত তাছির তাহাদিগকে এইভাবে বেসামাল করিয়া চরম বেশরা ও ফাসেকী তথা কুফরী কাজে লিপ্ত করিয়াছে।
ইতিহাসের চিরাচরিত নিয়মে মৌলবাদীরা যেমন স্বাভাবিক এবং সঠিক পথ ছাড়িয়া বর্বরোচিত কায়দায় হামলা, অরাজকতা এবং হানাহানি করিয়া ভিন্ন মতাবলম্বীকে নিঃশেষ করিয়া দিতে চাহে, সমাজের সুস্থ ধারাকে খান খান করিয়া ভাঙ্গিয়া সর্বত্র ফিৎনা-ফাসাদ আর ধর্মের নামে অধর্ম করিয়া বেড়ায়, ঠিক তেমনি মৌলবাদী চরমোনাই গংও সেই একই কর্মকান্ড করিয়া মৌলবাদী হিসাবে উহাদের স্থায়ী আসন করিয়া নিয়া মূলতঃ মুসলমানিত্বের অবস্থান হইতে নিজেদের বহু দূরে সরাইয়া লইয়াছে। কারণ “মুসলমানতো সেই ব্যক্তিই, যাহার জবান ও হাত হইতে আরেক জন মুসলমান নিরাপদ।”
কিন্তু মৌলবাদী চরমোনাই গং যাহা করিয়াছে তাহারা মুসলমান দাবী করিয়া মুসলমানকে জখম করাই কেবল নহে তাহারা খোদার ঘর মসজিদকে রক্তাক্ত করিয়াছে।
গত সাড়ে সাত মাসে তাহারা হত্যাকান্ড ঘটাইয়াছে প্রায় ডজন খানেক, আহত করিয়াছে সহস্রাধিক এবং সম্পদ বিনষ্ট করিয়াছে অর্ধ শত কোটি টাকারও বেশী। ইহা ছাড়া অনাকাঙ্খিত যানজট, অনভিপ্রেত আশঙ্কা জনিত অবস্থা তথা ত্রাস ইত্যাদি দিনের পর দিন তৈরী করিয়া তাহারা জনজীবনে চরম দূর্ভোগ সৃষ্টি করিয়াছে।
তাহারা ধর্মের নামে অধর্ম করিয়াছে বিস্তর। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলির পাতা উল্টাইলেও তাহার প্রমাণ মিলে।
“মসজিদের ভিতর পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্বেও নামাজ পড়ার নাম করে তারা রাস্তার উপর চট বিছিয়ে অবস্থান নেয় এবং অহেতুক যানজট করে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে। নামাজ শেষ হওয়ার পরও তারা রাস্তার উপর বসে থাকে। পুলিশ এ সময় তাদেরকে রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানায় কিন্তু সে অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা মুছুল্লীদের বেরিয়ে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করে।” (দৈনিক প্রথম আলো)
“ … তারা এক পর্যায়ে নামাজের অজুহাতে রাস্তায় চট বিছিয়ে বসে পড়ে। যদিও মসজিদের ভিতরে অনেক জায়গা ছিল…। দুপুর সোয়া দু’টায় নামাজ শেষে সাধারণ মুছুল্লীরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে চরমোনাইর অনুসারীরা বাধা দেয়।” (দৈনিক জনকক্ত -২৪ জুন/২০০০)
“নামাজ শেষে চরমোনাই সমর্থকরা রাস্তা দখল করে বসে থাকলে পুলিশ তাদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু তারা তখন সেখানেই যিকির শুরু করে। এ সময় সাধারণ মুছুল্লীরা তাদের নামাজ শেষে চলে যেতে উদ্যত হলে চরমোনাই সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়।”(দৈনিক ভোরের কাগজ- ২৪ জুন/২০০০)
পাঠক! উপরোক্ত রিপোর্টসমূহের ভিত্তিতে বোঝা গেল জঙ্গী চরমোনাই মৌলবাদী গোষ্ঠী কেবল মসজিদেই রক্তপাত ঘটাইয়া ক্ষান্ত হয় নাই তাহারা মসজিদে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও জুমার নামাজের নামে অন্যায়ভাবে রাস্তা দখল করিয়াছে, নামাজ শেষ হওয়ার পরও রাস্তা ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য বলিলে রাস্তা দখলে রাখিবার জন্য যিকির শুরু করিয়াছে এবং সর্বোপরি নিজেদের জঙ্গী মৌলবাদী কর্মকান্ডে জোর করিয়া সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সাধারণ মুছল্লীদের উপর চড়াও হইয়াছে।
এই মৌলবাদী চরমোনাই গং স্মরণকালের ইতিহাসে মসজিদের পবিত্রতাকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করিয়াছে। কারণ ইহুদী, খ্রীষ্টান কর্তৃক মসজিদের ভিতর মুছল্লীদের উপর আক্রমণের অভিযোগ রহিয়াছে কিন্তু সূফী লেবাসের মুখোশ পড়িয়া মসজিদের ভিতর হইতে মুসলমানদের উপর আক্রমণের নজীর আমাদের জানা নাই।
সূত্র মতে- “দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক’শ চরমোনাই সমর্থক ডি.আই.টি মসজিদের ভিতর থেকে লাঠি, ককটেল, পাথর, ছুরি ইত্যাদি নিয়ে নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার ধ্বনিসহ পুলিশের উপর হামলা চালায়।” (দৈনিক ভোরের কাগজ-২৪জুন/২০০০)
“এ সময় চরমোনাই পীরের সমর্থকরা মসজিদের ভিতর থেকে লাঠি নিয়ে …. মসজিদের ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে কোমল পানীয়ের খালি বোতল, ইট-পাটকেল ও হাত বোমা ছোড়া হয়। এক পর্যায়ে পুরো ডি.আই.টি মার্কেট চত্ত্বর, মন্ডলপাড়া … দেওভোগ প্রভৃতি এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেক পথচারী হামলার শিকার হন এবং শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।” (দৈনিক প্রথম আলো-২৪ জুন/২০০০)
“এ সময় চরমোনাই অনুসারীরা মসজিদের ভিতর হইতে গজারী লাঠি হাতে বাহির হইয়া আসে।….. অগ্রবর্তী পুলিশের উপর চরমোনাই অনুসারীরা সাড়াশী আক্রমণ চালায়। তাহারা মসজিদের ভিতর হইতে কাঁেচর বোতল, ইট-পাটকেল, হাত বোমা ছোড়ে। মসজিদের ভিতর হইতে মাইকে পুলিশের উপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানীমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।” (দৈনিক ইত্তেফাক-২৪ জুন/২০০০)
“দুপুর আড়াইটায় ডি.আই.টি মসজিদের ভেতর হতে কয়েকশত চরমোনাই সমর্থক নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবার ধ্বনি তুলে লাঠি, ককটেল, পাথর ও পেপসির বোতল নিয়ে অতর্কিতে পুলিশের উপর হামলা চালায়। … এ সময় শত শত পথচারী চরমোনাই সমর্থকদের হামলার শিকার হয়।” (দৈনিক ভোরের কাগজ-২৪ জুন/২০০০)
পাঠক! বর্ণিত রিপোর্টে একটি কথাই বিশেষভাবে ফুটিয়া উঠিয়াছে। তাহা হইলো মৌলবাদী চরমোনাই গংরা মসজিদকে জিকিরের পরিবর্তে, ইবাদত-বন্দেগীর পরিবর্তে ব্যবহার করিয়াছে উহাদের সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহৃত অস্ত্রের গুদাম ঘর হিসাবে।
উহারা মসজিদের ভিতর হইতে আযানের ধ্বনি ছড়ায় নাই বরং ছুড়িয়া দিয়াছে হাত বোমা, ককটেল, পেপসির বোতল, গজারির লাঠি।
মূলতঃ খোদার ঘর মসজিদকে এইভাবে অস্ত্র নিক্ষেপের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করিয়া উহারা মৌলবাদী নাম ধারণ করার মত যথার্থ হিংস্রতা, বর্বরতা এবং ধর্মের নামে চরম অধর্ম করার প্রবৃত্তি ফুটাইয়া তুলিয়াছে।
চরমোনাই গং এই সমস্ত মৌলবাদীরা যেন নারায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবর এবং জিহাদ জিহাদ এই মহামূল্যবান বাণীগুলিকে নিজেদের বাপ-দাদার পৈত্রিক সম্পত্তিরূপে গ্রহণ করিয়া লইয়াছে।
২৪ জুনের দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়, “চরমোনাই সমর্থকরা পুলিশকে প্রতিরোধ এবং জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য পথচারীদের প্রতি আহবান জানাইতে থাকে।”
পাঠক! মসজিদে জায়গা থাকা সত্ত্বেও জোর করিয়া রাস্তা দখল, মুছল্লীদেরকে জোর করিয়া নিজেদের মৌলবাদী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করিতে চেষ্টা, মসজিদ হইতে হাত বোমা, ককটেল, পেপসির বোতল, গজারীর লাঠি ছুড়িবার পর যখন অনন্যপায় হইয়া উহাদের আক্রমণ হইতে নিজেদের রক্ষার্থে লাঠিচার্জ করা শুরু করিল তখন শ্মশ্রুমন্ডিত পুলিশগুলিও উহাদের ভাষায় কাফির হইয়া গেল। তাই তাহারা তাহাদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হইলো এবং মসজিদের মাইক হইতে কথিত জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য সবাইকে আহবান করিতে লাগিলো। অথচ কুরআনে কারীমায় বলা হইয়াছে যে, “মুসলমানদিগকে হত্যা করা কুফরী।”
মূলতঃ সহজাতভাবে মৌলবাদীরা যেমন ধর্মের নামে নিজের মনগড়া মত প্রতিষ্ঠার জন্য রক্তের হোলি খেলায় মাতিয়া উঠে তেমনি মৌলবাদী নাম ধারণ করিয়া চরমোনাই গং মৌলবাদীরাও একইভাবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে, যিকিরের নামে, নামাজের নামে, জিহাদের নামে সম্পূর্ণ স্বার্থগত কারণে মুসলমানদের উপর নির্মম আক্রমণ চালাইয়া মৌলবাদী হিসাবে উহাদের যথার্থ পরিচয়ই দিয়াছে।
উহাদের সমর্থিত পত্রিকাতেও ইহার সত্যতা স্বীকার করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, “গতকাল বাদ জুমা শহরের ডি.আই.টি চত্ত্বরে বি.ডি.আর পুলিশ ও চরমোনাই পীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক, ডি.আই.টি মার্কেট ও ২নং রেলগেট একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।” (দৈনিক ইনকিলাব-২৪ জুন/২০০০)
মূলতঃ কেবল নারায়ণগঞ্জের বর্ণিত এলাকায়ই নহে বরং সমগ্র দেশ তথা তামাম মুসলিম বিশ্বেই এইভাবে নিজেদের মধ্যে হানা-হানি, মারামারি তথা লুটতরাজের রণক্ষেত্র তৈরী করাই মৌলবাদী তথা চরমোনাই গং এর মূল মকছুদ।
উহারা এখন ব্যবহৃত হইতেছে ইবলিশের ফালানো এক ফোটা রস হিসাবে।
বর্ণিত রহিয়াছে, ইবলিশ দুই বাড়ীর সীমানায় শুধু এক ফোটা মিঠাইর রস ফালাইয়াছে। কিছুক্ষণ পরে তাহাতে জড় হইয়াছে অনেক পিপীলিকা, তাহার পরে পোকা-মাকড়, তাহার পরে ইদুঁর, তাহার পরে এক বাড়ীর বিড়াল। এদিকে ইহার প্রতি পাশ্ববর্তী বাড়ীওয়ালা পূর্ব হইতেই রুষ্ট ছিল। ঘটনাক্রমে ইহাকে কাছে পাইয়া মাথায় লাগাইয়া দেয় এক আঘাত। সেই আঘাতে উহা মারা গেলে এই নিয়া দুই প্রতিবেশী এবং তাহাদের লোকজনদের মাঝে লাগে তুমুল মারামারি। অথচ ইহার মূলে ছিল শুধু ইবলিশের ফালানো এক ফোটা রস।
ঠিক সেই ইবলিশী রসেরই খোরাক দিতেছে চরমোনাই মৌলবাদী গংরা। আল্লাহ্ পাক-এর দেওয়া নাম “মুসলমান” বাদ দিয়া, পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম-এর সম্বোধন “মুসলমান” নাম বাদ দিয়া, ধর্মের নামে স্বার্থান্বেষী, মূর্খতামূলক প্রচারণা, উত্তাল উম্মাদনা, মারা-মারি, হানাহানি করার প্রবৃত্তি সম্বলিত মানসিকতা মৌলবাদ গ্রহণ করিবার ফলে উহারা কার্যত মৌলবাদী কর্মকান্ডেরই বাস্তবায়ন ঘটাইয়াছে।
তাই আমাদের মসজিদ, ধর্মীয়-অনুষঙ্গ, মুসলমানদের জান-মাল এইসব জঙ্গী মৌলবাদী চরমোনাই গং এর হাতে মোটেই নিরাপদ নহে। তাই সমগ্র দেশবাসী আজ কায়মনোবাক্যে মৌলবাদী চরমোনাই গং এর নিকট হইতে নাযাত চাহে। আল্লাহ্ পাক সবাইকে হিফাযত করুন। (আমীন)
মুহম্মদ ওয়ালী উল্লাহ্
বাসাবো, ঢাকা।
************************************
সংশোধনী (১)
গত ৮২তম সংখ্যা অর্থাৎ বিশেষ সংখ্যায় ১৭০ নং পৃষ্ঠার ১ম কলামের ২৭ লাইন থেকে শেষ পর্যন্ত এবং
২য় কলামের ১ম ২ লাইন বাদ দিয়ে পড়তে হবে।
সংশোধনী (২)
১৭৭ নং পৃষ্ঠার ২য় কলামের ৩য় প্যারায় ৩য় লাইনে “আমরা প্রথম পক্ষের” পরিবর্তে “দ্বিতীয় পক্ষ” হবে।
বিজ্ঞপ্তি
অনিবার্য কারণ বশতঃ এ সংখ্যায় ধারাবাহিক
কয়েকটি মতামত পত্রস্থ হলনা।
“নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বার স্বরূপ উন্মোচন” সুন্নীবার্তা না কুফরীবার্তা?