সাইয়্যিদুনা হয়রত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার
মহামূল্যবান নছীহত মুবারক (২)
২. সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, স্বীয় শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার মুখ মুবারক থেকে যে কথাই বের হোক না কেন তা খুবই মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং তদানুযায়ী আমল করবেন। মূলতঃ তারাই নছীহত গ্রহণ করতে পারেন যারা গভীর ধ্যান ও খেয়ালের সাথে মনোযোগ সহকারে নিজের শায়েখের নছীহত মুবারক শুনেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ فِي ذٰلِكَ لَذِكْرٰى لِمَنْ كَانَ لَهٗ قَـلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيْدٌ
অর্থ: নিশ্চয়ই এর মধ্যে এমন ব্যক্তির জন্য নছীহত মুবারক রয়েছে, যাদের ক্বলবে সালীম (বিশুদ্ধ অন্তর) আছে। আর যারা গভীর মনোযোগ সহকারে শুনেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ক্বাফ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)
৩. তিনি আরো বলেন, শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে থেকে উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিবেন। যদি একাধারে থাকা সম্ভব না হয় তাহলে যথাসাধ্য বেশী সময় খিদমত মুবারক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা-কোশেশ করবেন।
৪. খবরদার! শায়েখ উনার আদেশ মুবারকের এক তিল পরিমাণও বরখেলাফ করবেন না। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, যিকির-ফিকির, দুরূদ শরীফ ও ওযীফা শরীফ সম্পর্কে তিনি যখন এবং যেভাবে আদেশ মুবারক করবেন তা মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং সেভাবে পালন করার কোশেশ করবেন। শায়েখ উনার আদেশ নির্দেশ মুবারকের উপর নিজের নফস্কে এবং ব্যক্তিগত কাজকে কখনোই প্রাধান্য দিবেন না। কারণ, হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা সবসময় মুরীদের ইছলাহ্ বা সংশোধন কামনা করে থাকেন। একান্ত আন্তরিকতার সাথে ও হিত কামনায় তা’লীম তরবিয়ত মুবারক দিয়ে থাকেন।
৫. নিজ শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনি যে আদেশ-নির্দেশ মুবারক করবেন তা বিনা দিধায় পালন করবেন। মনে রাখবেন উনি যা আদেশ-নিষেধ করেন তা মুরীদের ইছলাহ বা সংশোধনের জন্য করেন। মুরীদকে মা’রিফাত-মুহব্বতের উন্নত তবকা বা স্তরে পৌছানোই উনার কাম্য।
সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন বুযুর্গ ব্যক্তির একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। একজন দরবেশ ছিলেন। যিনি প্রায় ১০০ বছর হায়াত মুবারক পেয়েছিলেন। ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির, রিয়াদ্বত-মাশাক্কাতের মধ্য দিয়েই উনার পুরো জিন্দিগী অতিবাহিত করেছেন। উনার ইন্তিকালের পর জনৈক বুযুর্গ ব্যক্তি উনাকে খাবে (স্বপ্নে) দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন’?
উত্তরে বুযূর্গ ব্যক্তি বললেন, আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার বেশুমার শুকরিয়া। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে তা আমার ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকির, রিয়াদ্বত-মাশাক্কাতের জন্য নয়। বরং আমি যে আমার শায়েখ ও মুর্শিদ ক্বিবলা উনার খিদমত মুবারকে নিবিড় ও গভীরভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলাম তার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি খুশি হয়ে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল আউলিয়া, আনীসুল আরওয়াহ, খাজা মুঈনুদ্দীন চীশতীর জীবন ও কর্ম-৪৪)
আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে
আমাদের সম্মানিত দাদা হুজুর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে