বিশেষ কলাম আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করতে ‘স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত নির্দেশ মুবারক এবং সম্মানিত গাইবী মদদ মুবারক’ (১)

সংখ্যা: ২৮৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

যিনি খ¦লিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِّنَ الْمُجْرِمِيْنَ

অর্থ: “আর অনুরূপভাবে যারা পাপীষ্ঠ, তারাই যুগে যুগে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধীতা করেছে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)

যিনি খ¦লিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

وَكَذٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِيْنَ الْإِنْسِ وَالْـجِنِّ

অর্থ: “আর অনুরূপভাবে মানুষ এবং জিন জাতির মধ্যে যারা শয়তান প্রকৃতির, তারাই যুগে যুগে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধীতা করেছে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আন‘আম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১২)

কাজেই, জিন-ইনসানের মধ্যে যারা শয়তান প্রকৃতির ও পাপীষ্ঠ তারাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধীতা অতীতে করেছে, বর্তমানে করছে এবং ভাবিষ্যতেও করবে। না‘ঊযুবিল্লাহ!

বর্তমানে কিছু বদ আক্বীদাধারী লোকেরা বলে থাকে যে, “মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রচারের জন্যই উনি নাকি আমাকে মাহফিল মুবারক-এ আলোচনা করতে দিয়ে থাকেন এবং উনার প্রচারের জন্য আমি নাকি উনার ছানা ছিফত বা প্রশংসা করি।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

এ সম্পর্কে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৫শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল আরবিয়া শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কেউ কেউ বলে থাকে, আমার প্রচারের জন্যই তোমাকে আমি আলোচনা দেই এবং বলে, আমার প্রচারের জন্য তুমি আমার ছানা ছিফত বা প্রশংসা করো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

এটা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি কঠিন একটা অপবাদ। না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি কখনও আমাকে উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতে বলেননি; বরং স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা আমাকে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিশেষ ইল্ম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন, গাইবী মদদ মুবারক করেছেন এবং সবসময় গাইবী মদদ মুবারক করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

এ বিষয়ে একখানা ঘটনা মুবারক- ১৪২৯ হিজরী শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মাস উনার কথা। তখন আমি দরবার শরীফস্থ ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা’ উনার ফাযিল ১ম বর্ষের ছাত্র। আমি যখন আলিম শ্রেণীতে পড়ি, তখন আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুস সালাম মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জবান মুবারক-এ) শুনেছিলাম, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বোচ্চ পন্থায় খিলাফত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এরূপ সর্বোচ্চ পন্থায় ইতিপূর্বে আর কাউকে খিলাফত দেয়া হয়নি এবং উনার উছীলায় অবশ্যই দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে।’ সুবহানাল্লাহ! আমার খুব ইচ্ছা ছিলো উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার এবং উনার উছীলায় যে অবশ্যই দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে’ এ বিষয়ে লেখালেখি করার। যার কারণে এ বিষয়ে তথ্য ও দলীল সংগ্রহের জন্য অনেকের সাথে আলাপ করি। দুই-একজন জেনারেল শিক্ষিত লোক ছাড়া; অধিকাংশরাই বলেন যে, ‘কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের কোথাও নেই যে, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পূর্বে সম্মানিত খিলাফত মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তখন আমার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে কোনো দলীল-আদিল্লাহ মওজূদ ছিলো না। তাই আমি চিন্তিত ছিলাম, তাহলে আমি কিভাবে লিখবো। দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা প্রমাণ করতে না পারলে তো, যারা দুষ্ট প্রকৃতির লোক, তারা অস্বীকার করবে এবং নানা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে। ফলে আমি খুব চিন্তায় পরে যাই। ১৪২৯ হিজরী শরীফ উনার ১৪ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ সকাল ৯টা-১০টার কথা। তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক ছিলেন ৪র্থ তলায়। বর্তমানে ৫ম তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ গ্লাসের ভিতরে প্রথম যে জানালাটি রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে ৪র্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারকেও উক্ত স্থানে গ্লাসের ভিতরে একটি জানালা ছিলো। আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ সেই জানালার পাশে বসে জানালার আলোতে একাকি পড়া-শোনা করতে ছিলাম। কিভাবে দলীল পাওয়া যাবে, কোথায় দলীল পাওয়া যাবে, এ বিষয়টি চিন্তা করতে করতে আমার বুক বরাবর বেঞ্চ রেখে দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে বালিশ ছাড়া খালি মাথায় ঘুমিয়ে যাই। বেঞ্চের উপর কিতাব রাখা ছিলো। ঘুমের মধ্যে আমি সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং  মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে দেখতে পেলাম। উনারা আছেন। উনাদের নিকট আমিও আছি। তবে উনাদের থেকে আমি প্রায় ২ হাত দূরে দাঁড়িয়ে আছি। উনারা যা যা বলতেছিলেন, আমি স্পষ্টভাবে শুনতেছিলাম। আমি দেখলাম, এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে অনেকগুলো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দিয়ে বললেন যে, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ। তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার দিকে ইঙ্গিত করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন যে, আপনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো তাকে দিবেন। দিয়ে বলবেন, সে যেন তার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করে এবং উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক বিষয়ে আলোচনা করে, লেখালেখি করে। তারপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার দুই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) ভরে আমাকে অনেকগুলো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক দিলেন। আমি আমার দুই হাত কোশ করে, মুনাজাত শরীফ উনার সময় যেভাবে হাত তোলা হয়, সেভাবে হাত পেতে অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারকগুলো নিলাম। যখন তিনি আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো দিচ্ছিলেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো নূরের মত জ্বল জ্বল করতে ছিলেন এবং আমার হাতে আসার পরেও অনুরূপভাবে জ্বল জ্বল করতেছিলেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো দিয়ে বললেন যে, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো তোমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ। এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দিয়েছেন এবং বলেছেন, তুমি যেন তোমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করো এবং উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বিষয়ে আলোচনা করো, লেখালেখি করো। তারপর উনারা আমাকে বিদায় দিয়ে দেন। আমি অত্যন্ত খুশি, মুহব্বত ও আদবের সাথে, যেভাবে কোশ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো নিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খেদমত মুবারক-এ আসলাম। এসে দেখলাম, উনি এক জায়গায় বসা আছেন আর উনার সামনে সুন্নতী লেবাস পরা অসংখ্য-অগণিত লোক। যতদূর দৃষ্টি যাচ্ছে- শুধু লোক আর লোক। উনার সামনে একখানা টুল মুবারক ছিলেন, সম্মানিত ছোহবত মুবারক উনার সময় যে রকম থাকে। আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ডান পাশ মুবারক-এ গিয়ে অত্যন্ত খুশি, মুহব্বত ও আদবের সাথে, যেভাবে কোশ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো নিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবে কোশ করা অবস্থায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো দেখিয়ে বললাম, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা আমাকে দিয়েছেন এবং বলেছেন এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো আপনার শান মুবারক-এ। উনারা আরো বলেছেন, আমি যেন আপনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করি এবং আপনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার বিষয়ে আলোচনা করি, লেখালেখি করি। মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমর্থন মুবারক করলেন অর্থাৎ দয়া করে সম্মানিত অনুমতি মুবারক দান করলেন। তারপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। যেহেতু আমি আমার বুক বরাবর বেঞ্চ ও তার উপর কিতাব রেখে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। আমি ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে কিতাবখানা খুললাম। খোলার সাথে সাথেই মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ ৩ খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ পাই। যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো আমি কখনও কিতাবে পড়িনি এবং কারো কাছ থেকে শুনিওনি। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তারপর ধাপে ধাপে বাকি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফগুলো পাই।’ সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

কাজেই, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনও আমাকে উনার ছানা-ছিফত মুবারক করতে বলেননি; বরং স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা আমাকে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার জন্য নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

মূলত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যারা মিথ্যা তোহ্মত ও অপবাদ দিয়েছে, তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্যই আমার এই লেখার অবতারণা। আর এই উদ্দেশ্যেই আমি উপরোক্ত ঘটনা মুবারকখানা ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার শেষের দিকে আলোচনা করি। এরপর আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত তারিখ মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ নছীহত মুবারককালে এ অধমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুমি শেষে যে ঘটনাটা বলেছো, ঐটা লিখো। লিখে একটা আর্টিকেল করো। তারপর আল ইহ্সান শরীফ-এ দেও, আল বাইয়্যিনাত শরীফেও দেও। দরকার আছে। পরে মাঝে মাঝে এ ওয়াকেয়াটা বলবে। বলা প্রয়োজন আছে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এর পরের দিনি অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার শুরুতে উক্ত ঘটনার বিষয়ে এক সুওয়ালের জবাবে ইরশাদ মুবারক করেন, “স্বপ্ন বলা তো ঠিকই আছে। এটা ভুল হবে কেনো? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি স্বপ্নে বলেছেন, এটা বিশ্বাস করা তো ফরয। এটা যে অবিশ্বাস করবে, সে তো কাফের হয়ে যাবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেছেন। এটা বলার সাথে সাথে বিশ্বাস করতে হবে। কারণ, শয়তান তো উনার ছূরত মুবারক ধারণ করতে পারে না। যে বলছে, সঠিকই বলেছে। ভুল বলবে কেনো? এটা ঠিকই আছে। কেউ যদি সুসংবাদ দেখে, বলতে পারে। বলবে না কেনো? মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ

অর্থাৎ “তোমরা নেয়ামত মুবারক প্রকাশ করো।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা দ্বুহা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)

এখন এটা যে দেখেছে, তার জন্য ফরয। তাকে বলা হয়েছে, তার জন্য এটা ফরয হয়ে গেছে। আর এই ফরযগুলো যারা শুনলো, তাদের জন্যও ফরয। এটা ঠিকই বলেছে। এবং ছানা-ছিফত করাও তার জন্য ফরয, যারা শুনেছে তাদের জন্যও ফরয।” (সুবহানা মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!)

-মুহম্মদ আল আমীন।

পৃথিবীর ইতিহাসে নজীরবিহীন অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল চলছে