সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ২৭০তম সংখ্যা | বিভাগ:

আবূ আহমদ সাফওয়ান

পূর্ব গোড়ান, ঢাকা।

সুওয়াল: আপনারা সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠকালে ছলাত শরীফ বলার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক না বলে লক্বব মুবারক যথা রসূলিল্লাহ ও হাবীবিল্লাহ বলে থাকেন। আর অন্য যারা মীলাদ শরীফ পড়েন উনারা সরাসরি নাম মুবারক বলেন।

আবার সালাম পেশ করার সময় আপনারা আসসালামু আলাইকুম ইয়া রসূলাল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ইয়া নাবিয়্যাল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ইয়া হাবীবাল্লাহ বলেন। আর অন্যরা ইয়া নাবী সালামু আলাইকা, ইয়া রসূল সালামু আলাইকা, ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা বলে থাকেন।

সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠের উক্ত দুই নিয়মের মধ্যে কোন নিয়মটি উত্তম? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: রাজারবাগ শরীফ উনার যিনি সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন বর্তমান যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ এবং শ্রেষ্ঠ ইমাম ও সুমহান মুজাদ্দিদ। কাজেই উনার প্রদত্ব ফতওয়া, মাসয়ালা ও আমল মুবারকই সম্মানিত সুন্নত মুয়াফিক, দলীলসমৃদ্ধ, সর্বাধিক আদবপূর্ণ ও উত্তম। কাজেই, তিনি যেসব আমল করেন এবং যেভাবে করেন সেটাকেই অনুসরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আখিরী নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার আনুষ্ঠানিক সম্মানিত নুবুওওয়াতী ও সম্মানিত রিসালাতী শান মুবারক প্রকাশের পর অতীতের সম্মানিত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ওহী মুবারক দ্বারা নাযিলকৃত দ্বীনসমূহেরও হুকুম রহিত হয়ে গেছে। ফলে, আখিরী উম্মতের জন্য উক্ত দ্বীনসমূহের হুকুম অনুসরণ করা বা মান্য করা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। তবে অতীতের সম্মানিত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বীনসমূহের যেসমস্ত হুকুম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যেও বলবৎ রয়েছে বা একই রকম রয়েছে তা যথার্থভাবেই অনুসরণ ও পালন করতে হবে। আর তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করেই পালন করতে হবে। তিনি যেভাবে পালন করেছেন বা যেভাবে পালন করতে বলেছেন, তিনি যা করতে বলেছেন এবং যা করতে নিষেধ করেছেন, হুবহু অনুসরণ করতে হবে।

অতঃপর উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অনুসরণ করতে হবে। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্থলাভিষিক্ত খলীফা বা প্রতিনিধি হচ্ছেন খাছভাবে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা। উনাদেরকে অনুসরণ করার ব্যাপারে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِـىْ وَسُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْـمَهْدِيِّيـْنَ تَـمَسَّكُوْا بِـهَا وَعَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ.

অর্থ: আমার সুন্নত এবং সর্বাধিক সঠিকপথপ্রাপ্ত হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুন্নত পালন করা তোমাদের জন্য ফরয ওয়াজিব। উক্ত সুন্নতসমূহ তোমরা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরার মতো শক্ত করে আঁকড়ে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

আর আমভাবে সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা। উনাদেরকে অনুসরণ করার ব্যাপারে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

أَصْحَابـِىْ كُلُّهُمْ كَالنُّجُوْمِ فَبِاَيِّهِمْ اِقْتَدَيْتُمْ اِهْتَدَيْتُمْ.

অর্থ: আমার সম্মানিত ছাহাবীগণ উনারা প্রত্যেকে আসমানের নক্ষত্রসমূহের মতো। উনাদের যে কাউকে তোমরা অনুসরণ করবে, হিদায়েত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ)

অতঃপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ খলীফা বা প্রতিনিধি হচ্ছেন যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ আলাইহিমুস সালাম উনারা। আর আম প্রতিনিধি হচ্ছেন সকল উলামায়ে হক্কানী-রব্বানী, আউলিয়ায়ে কিরামগণ উনারা। যেমন খাছ খলীফা বা প্রতিনিধি উনাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِـهٰذِ الْاُمَّةِ عَلٰى رَأْسِ كُلِّ مِأَةِ سَنَةٍ مَنْ يُّـجَدِّدُ لَـهَا دِيْنَهَا

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের (হিদায়েতের) জন্য প্রত্যেক হিজরী শতকের মাথায় এমন একজন সুমহান ব্যক্তি উনাকে প্রেরণ করবেন যিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার তাজদীদ করবেন। অর্থাৎ তিনিই হচ্ছেন যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ। (আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

مَنْ لَّـمْ يَعْرِفْ اِمَامَ زَمَانِهٖ فَقَدْ مَاتَ مَيْتَةَ الْـجَاهِلِيَّةِ

অর্থ: যে ব্যক্তি যামানার যিনি সম্মানিত ইমাম উনাকে চিনলো না, সে জাহিলী যুগের মৃতদের ন্যায় মৃত্যুবরণ করবে। অর্থাৎ তার মৃত্যু হিদায়েতের উপর হবে না। নাউযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)

আর আম প্রতিনিধি উনাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ

অর্থ: নিশ্চয়ই আলিমগণ (হক্কানী-রব্বানী) হচ্ছেন হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের ওয়ারিছ বা উত্তরাধিকারী। (মিশকাত শরীফ)

কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নিজে পড়ে পড়ে আমল করলে, তা কখনই শুদ্ধ দহবে না। যদি হতো তাহলে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের প্রয়োজন ছিল না। মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি কিতাব নাযিল করে দিতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। বরং কিতাব বা হুকুম-আহকাম নাযিল করার আগেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। অতঃপর আখিরী নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে অতঃপর উনাদের পর পর্যায়ক্রমে হযরত তাবিয়ীনে কিরাম, হযরত তাবে তাবিয়ীনে কিরাম, ইমাম-মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে অনুসরণ অনুকরণ করতে হবে।

স্মরণীয় যে, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম  উনাদের যামানা বা যুগ থেকেই হযরত মুজাদ্দিদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারা শুরু। যিনি প্রথম মুজাদ্দিদ তিনি হচ্ছেন হানাফী মাযহাবের যিনি সম্মানিত ইমাম, যিনি ইমামে আ’যম হিসেবে সারাবিশ্বে মশহূর। তিনি সম্মানিত তাবিয়ী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সময়কাল হচ্ছে দ্বিতীয় শতাব্দী। আর বর্তমান সময়কাল হচ্ছে পঞ্চদশ শতাব্দী। এ শতাব্দীকালে সুমহান মুজাদ্দিদ হচ্ছেন পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। যিনি সম্মানিত আহলে বাইত ও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, হাল যামানার যিনি সম্মানিত মুজাদ্দিদ তিনি বিগত সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলায়েত ও মুজাদ্দিদিয়াত উনার সত্যায়নকারী এবং তিনি সমসাময়িক সকল হক্কানী-রব্বানী আলিম এবং আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মধ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাদানকারী।

উল্লেখ্য, সাধারণত মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোন ফতওয়া, কোন মাসয়ালা, কোন তাজদীদ, কোন আমল মুবারক অতীতের কোন সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফতওয়া, মাসয়ালা, আমল বা তাজদীদ মুবারক উনার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। তবে সম্মানিত মাযহাব ভেদে ব্যতিক্রম হতে পারে। কিন্তু একই মাযহাব হওয়া সত্ত্বে ব্যতিক্রম হলে বুঝতে হবে অতীতের সম্মানিত মুজাদ্দিদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফতওয়া, মাসয়ালা, আমল ও তাজদীদ মুবারকসমূহের চূড়ান্ত বা পূর্ণাঙ্গরূপ হচ্ছে বর্তমান যামানার সম্মানিত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ফতওয়া, মাসয়ালা, তাজদীদ ও আমল মুবারকসমূহ। সুবহানাল্লাহ!

উদাহরণস্বরূপ হানাফী মাযহাবের অতীতের অনেক সম্মানিত ইমাম ও মুজতাহিদ উনারা ফতওয়া দিয়েছেন যে, মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী।

কিন্তু মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত ফতওয়ার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করে ফতওয়া প্রকাশ করেছেন যে, মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাজরীমী; এটা হচ্ছে আম ফতওয়া। কিন্তু খাছ বা মূল ফতওয়া হচ্ছে, মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া কুফরী। কেননা, মহিলারা মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়ার  দ্বারা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত মতকে অমান্য করা হয়। অমান্য করা হয় হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার আদেশ মুবারককে এবং অনুসরণীয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ইজমায়ে আযীমতকে, যা প্রকাশ্য কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

তদ্রূপ আলোচ্য পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়ার মাসয়ালার ক্ষেত্রেও তাই।

প্রকাশ থাকে যে, সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয় সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান-শুয়ূনাত মুবারক বর্ণনা করা, ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া ইত্যাদির উদ্দেশ্যে।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেন-

وَتُعَزِّرُوْهُ وَتُوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّأَصِيْلًا

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক করো, তা’যীম-তাকরীম বা সম্মান মুবারক করো এবং সকাল-সন্ধ্যা তথা সদাসর্বদা উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করো। (পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৯)

কাজেই, সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠকালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনার উদ্দেশ্যে বসা অবস্থায় ছলাত শরীফ পাঠ করা হয়। উক্ত ছলাত শরীফ স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই উনার সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে নিয়ে অনবরত পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ! এবং তিনি আমাদেরকেও পাঠ করার জন্য আদেশ মুবারক করেন। অতঃপর উক্ত ছলাত শরীফ পাঠ করার পাশাপাশি তিনি আমাদেরকে যথাযথ সম্মানে সালাম মুবারক পেশ করার জন্যও আদেশ মুবারক করেন। যার কারণে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়া হয় বা পেশ করা হয়। সুবাহনাল্লাহ!

যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَه يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারকে ছলাত শরীফ পেশ করেন। হে ঈমানদারগণ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারকে আপনারাও ছলাত শরীফ পেশ করুন এবং উনার সুমহান শান মুবারকে যথাযথ সম্মানে সালাম মুবারক পেশ করুন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৫৬)

স্মরণীয় যে, কুল-মাখলূক্বাতের সম্মানিত নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে আদব ও সম্মান বজায় রাখা উম্মতের জন্য ফরয। এটা মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ মুবারক।

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَا تَجْعَلُوْا دُعَاءَ الرَّسُوْلِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا

অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো সেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৬৩)

অর্থাৎ মানুষেরা একজন আরেকজনকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকে বা ডেকে থাকে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে সম্বোধন করা জায়িয নেই।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখা, বলা বা উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে আদব ও সম্মান রক্ষা করার বিষয় রয়েছে। যদি উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখা, বলা বা উচ্চারণের ক্ষেত্রে আদব ও সম্মানের ত্রুটি বা খিলাফ হয়ে যায় তাহলে সেটা কুফরী হবে এবং ঈমান নষ্টের কারণ হবে। নাউযুবিল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখা, বলা বা উচ্চারণ করার ক্ষেত্রে আদব হলো, যেখানে উনার সম্মানিত নাম মুবারক না লিখে, না বলে বা উচ্চারণ না করে কেবল উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক লিখা, বলা বা উচ্চারণ করাই যথেষ্ট হয় সেক্ষেত্রে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক লেখা, বলাই বা উচ্চারণ করাই আদব।

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, যেই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা সম্মানিত ছলাত শরীফ পাঠের আদেশ মুবারক দেয়া হয়েছে, উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উল্লেখ না করে সম্মানিত লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার আলোকে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠকালে ছলাত শরীফ পড়ার সময় নাম মুবারক না বলে লক্বব মুবারক উচ্চারণ করার অনবদ্য তাজদীদ মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

উনার প্রকাশিত তাজদীদ মুবারক হচ্ছেন-

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى سَيِّدِنَا مَوْلَانَا رَسُوْلِ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ). وَعَلٰى اٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا حَبِيْبِ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

“আল্লাহুম্মা ছল্লি ‘আলা সাইয়্যিদিনা মাওলানা রসূলিল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ওয়া ‘আলা আলি সাইয়্যিদিনা মাওলানা হাবীবিল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)”

অর্থাৎ সম্মানিত নাম মুবারক উনার স্থানে প্রথমে রসূলিল্লাহ এবং পরে হাবীবিল্লাহ সম্মানিত লক্বব মুবারক দুখানা উল্লেখ করেছেন।

আরো উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ হচ্ছেন ওহীয়ে মাতলূ’ অর্থাৎ হুবহু তিলাওয়াত করতে হয়, আর পবিত্র হাদীছ শরীফ যদিও ওহী কিন্তু তা ওহীয়ে গইরে মাতলূ’ হওয়ার কারণে হুবহু তিলাওয়াত বা পাঠ করতে হয় না। কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উল্লেখ রয়েছে সেখানে নাম মুবারক বলা বা উচ্চারণ করা সম্মানিত শরীয়ত উনার মুবারক নির্দেশ। এছাড়া সম্মানিত আযান, ইক্বামত ও নামায উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করতে হয় এবং পবিত্র কালিমা শরীফ, পবিত্র খুতবাহ শরীফ এরূপ কতক নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত বাকী অন্যান্য সমস্ত ক্ষেত্রে সম্মানিত লক্বব মুবারক উচ্চারণ করাটাই সম্মান ও আদবের অন্তর্ভুক্ত।

এক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কায়িনাতের সবকিছুই দৃশ্যমান অর্থাৎ তিনি দেখে থাকেন। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّا اَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাক্ষ্যদানকারী বা প্রত্যক্ষকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابن عمر رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اِنَّ اللهَ عز وجل قَدْ رَفَعَ لِـىَ الدُّنْيَا فَأَنَا اَنْظُرُ إِلَيْهَا وَإِلٰـى مَا هُوَ كَائِنٌ فِيْهَا اِلٰـى يَوْمِ القِيَامَةِ كَاَنَّـمَا اَنْظُرُ اِلٰـى كَفِّىْ هٰذِهٖ

অর্থ: “ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক জাল্লা শানুহূ তিনি পৃথিবীকে আমার সামনে এরূপভাবে রেখেছেন যে, আমি এ সমগ্র পৃথিবীকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার মধ্যে যা কিছু সৃজিত বা সংঘটিত হবে তদসমূহকে ওইরূপভাবে দেখি যেরূপ আমার হাত মুবারকের তালু মুবারক দেখে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনকিছু দেখার জন্য, জানার জন্য বা শোনার জন্য কোথাও যাওয়ার মোটেই প্রয়োজন নেই। পবিত্র রওজা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করেই সারা কায়িনাতের সমস্ত সংবাদ নিতে পারেন ও নিয়েও থাকেন। এটা উনার সম্মানিত ইলিম ও সম্মানিত মু’জিযা শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। যেরূপ খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ইলিম ও সম্মানিত কুদরত মুবারকের মাধ্যমে সারা কায়িনাতের সমস্ত সংবাদ জেনে থাকেন ও নিয়ে থাকেন।

তাহলে আমরা যা করছি, যা পড়ছি তা যদি উপস্থিত ব্যক্তির মতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দেখেন তাহলে উনার নাম মুবারক কি করে উচ্চারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উনার লক্বব মুবারক উচ্চারণ করা ব্যতীত কোন উপায় আছে কি? পিতার উপস্থিতিতে কোন সন্তান পিতার নাম উচ্চারণ করে না। যদি তাই হয় তাহলে যিনি সমস্ত পিতারও সম্মানিত পিতা, সমস্ত কায়িনাতের যিনি সম্মানিত পিতা উনার উপস্থিতিতে কিভাবে উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করা যাবে? উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করলে আদব হবে কি, না চরম বেয়াদবী হবে? আর উনার সুমহান শানে বেয়াদবী হলে ঈমান থাকবে কি? কখনই ঈমান থাকবে না।

মোটকথা, যেসব স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করেছেন কেবল সেসব স্থানেই উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করা যাবে বা করতে হবে আর অন্যসব স্থানে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উচ্চারণ করতে হবে। এমনকি সম্মানিত নাম মুবারক উনার অর্থ ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সম্মানিত নাম মুবারক লেখা বা বলার কোনই প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে লক্বব মুবারক লেখা বা বলাই যথেষ্ট এবং সম্মান ও আদবের অন্তর্ভুক্ত।

বলার অপেক্ষা রাখে না, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান পরিচয় মুবারক এবং বুলন্দ শান মুবারক প্রকাশের জন্য যথাক্রমে

اَلنَّبِـىُّ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

বা

نَبـِىُّ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

رَسُوْلُ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

حَبِيْبُ اللهِ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

উক্ত সম্মানিত লক্বব মুবারকত্রয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

যার কারণে পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার মধ্যে উক্ত সম্মানিত তিনখানা লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্মানিত نَبِـىُّ اللهِ লক্বব মুবারক হতে অতি খাছ লক্বব মুবারক হচ্ছেন সম্মানিত رَسُوْلُ اللهِ লক্বব মুবারক। আর حَبِيْبُ اللهِ লক্বব মুবারক হচ্ছেন সর্বাধিক খাছ লক্বব মুবারক। উক্ত সম্মানিত হাবীবুল্লাহ লক্বব মুবারকখানি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

আর তাই পবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করার সময় ‘আলা শব্দ মুবারক উনার পর যথাক্রমে রসূলিল্লাহ এবং হাবীবিল্লাহ লক্বব মুবারকদ্বয় উল্লেখ করা হয়েছে। আর পবিত্র সালাম মুবারক পেশ করার সময় ইয়া শব্দ মুবারক উনার পর যথাক্রমে রসূলাল্লাহ, নাবিয়্যাল্লাহ ও হাবীবাল্লাহ লক্বব মুবারকত্রয় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি “রসূলুল্লাহ” লক্বব মুবারক উনার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ও ব্যাপক হওয়ায় ছলাত শরীফ ও সালাম মুবারক উভয় স্থানে প্রথমেই উক্ত রসূলুল্লাহ লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে।

আর সালাম মুবারক পেশ করার যে নিয়ম ও আদব তা হচ্ছে, প্রথমেই اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আসসালামু ‘আলাইকুম) বাক্য মুবারক বলতে হবে। তারপর সম্বোধনসূচক বাক্য মুবারক উল্লেখ করতে হবে। সেটাই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত। এমন বর্ণনা বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্তা মালিক শরীফ, বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাবসমূহে উল্লেখ রয়েছে।

বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের একটি দলের নিকট গিয়ে সালাম দেয়ার জন্য বললেন এবং আরো বলে পাঠালেন যে, আপনার সালামের জাওয়াবে উনারা কি বলেন তা শ্রবণ করুন। কেননা সেটাই হবে আপনার এবং আপনার সন্তানদের সালাম। তখন তিনি গিয়ে “আসসালামু আলাইকুম” বলে সালাম প্রদান করলেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ,  মিশকাত শরীফ)

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম পেশ করার ক্ষেত্রেও অবশ্যই সর্বোচ্চ আদব বজায়ে পেশ করতে হবে।

اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ না বলে  اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ বলে সালাম পেশ করা হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও সালাম পেশ করা হয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি একক হওয়া সত্বে উনার জন্য বহুবচন ক্রিয়া বা সর্বনাম ব্যবহার করা হয় সুমহান সম্মান-মর্যাদা বুঝানোর জন্য। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, নিম্নোক্ত তরতীবে সালাম মুবারক পেশ করতে হবে। যথা-

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا نَبِـىَّ اللهِ

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا حَبِيْبَ اللهِ

صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْكُمْ

স্মরণীয় যে, শুরুতেই সম্বোধন করে কাউকে সালাম দেয়া কখনোই সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আদব মুবারক উনারও অন্তর্ভুক্ত নয়।

কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلسَّلَامُ قَبْلَ الْكَلَامِ কথার আগেই সালাম পেশ করবে। (তিরমিযী শরীফ)

যার কারণে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠকালে সালাম পেশ করার পূর্বের নিয়ম পরিবর্তন করে বর্তমানে পঠিত নিয়ম মুবারক প্রবর্তন ও প্রচলন করেন। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠ করার ক্ষেত্রে যে তাজদীদ মুবারক করেছেন সেটাই উত্তম এবং সেটাই সকলের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে উক্ত সম্মানিত তাজদীদ মুবারক অনুযায়ী পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

মুহম্মদ সেলিম হুসাইন

নূরানীবাদ (নরসিংদী)

সুওয়াল: হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংখ্যা নিয়ে ইখতিলাফ বা মতবিরোধ দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে উনারা কতজন ছিলেন? এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য বা জাওয়াব জানালে উপকৃত হবো।

জাওয়াব: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার অনেক বিষয়ে ও অনেক মাসয়ালার ক্ষেত্রে ইখতিলাফ রয়েছে। এর বহুবিধ কারণও রয়েছে। একটি অন্যতম কারণ হচ্ছেন বর্ণনাকারী। যার কাছে যেভাবে বর্ণনা পৌঁছেছে তিনি সেভাবে বর্ণনা করেছেন। উনাদের মধ্যে কেউ কেউ কম তাহক্বীক্ব করেছেন আবার কেউ কেউ একটু বেশি তাহক্বীক্ব করেছেন, একাধিক বর্ণনার মধ্য থেকে যাছাই বাছাই করে বর্ণনা করার চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু তারপরও সঠিক বর্ণনা উপস্থাপনের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا أُوْتِيْتُمْ مِّنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيْلًا

অর্থ: তোমাদের অল্প ব্যতীত ইলিম দেয়া হয়নি। (পবিত্র ইসরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৫)

যার কারণে মানুষের বর্ণনা ও ব্যাখ্যার মধ্যে পরিপূর্ণ, চূড়ান্ত ও নির্ভুল বর্ণনা খুব অল্পই পরিলক্ষিত হয়েছে। তদ্রƒপ একটি বিষয় হচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংখ্যা মুবারক সংক্রান্ত বর্ণনা। বর্ণনাকারীগণ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সর্বাধিক সংখ্যা ১৯ জন পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর সর্বনিম্ন সংখ্যা বর্ণনা করেছেন ৯ জন। তবে বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংখ্যা ১৩ জন।

স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন মনোনীত তেমনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও মনোনীত।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেরূপ অন্য কোনো মানুষের মতো নন তদ্রূপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও অন্য কোনো মহিলা বা পুরুষ কারো মতো নন। উনাদের মেছাল উনারা নিজেই। যেমন এ প্রসঙ্গে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আযওয়াজে মুতহ্হারাত অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

النَّبِيُّ أَوْلٰى بِالْمُؤْمِنِيـْنَ مِنْ أَنفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُه أُمَّهَاتُهُمْ

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনদের জীবন অপেক্ষা প্রিয় আর উনার সম্মানিতা আযওয়াজে মুতহ্হারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন মু’মিনদের মা। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হয়েছে যে, খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত কায়িনাতবাসী সকলেরই মা হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ব্যতীত কায়িনাতবাসী সকলের পিতা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেরূপ মনোনীত তদ্রƒপ উনার সম্মানিতা ও পবিত্রা আযওয়াজ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও মনোনীত। ফলে উনাদের প্রকৃত সংখ্যা মুবারক কত বা উনারা কতজন সেটাও মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইলমি খাযীনায় এবং উনার মনোনীত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইলমি ভাণ্ডারে মওজুদ রয়েছে।

জানা আবশ্যক, মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলতে কিছু নেই। উনার নিকট অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব সমান। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

إِنَّـمَا الْعِلْمُ عِندَ اللّٰـهِ

অর্থ: নিশ্চয়ই সমস্ত ইলিম মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট। (পবিত্র সূরা আহক্বাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আবার সমস্ত প্রকার ইলিম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন উনার যিনি সম্মানিত হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। যেমন এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اُعْطِيْتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ

অর্থ: আমাকে সমস্ত ইলিম হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

অতএব, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যিনি যতখানি বা যত বেশি মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত হাছিল করতে সক্ষম হয়েছেন সেই অনুপাতে তিনি ততখানি বা তত বেশি ইলমে লাদুন্নী লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাইয়্যিদুল আউলিয়া ওয়াল মুজাদ্দিদীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলে বাইতে রসূল, নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের গভীর মুহব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত উনার বদৌলতে বেমেছাল ইলমে লাদুন্নী লাভে ধন্য হয়েছেন। যার কারণে শুধু হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংখ্যা মুবারকই নয় বরং উনারা কখন বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, উনারা কে কোন বংশের ছিলেন, উনারা কত বছর যমীনে অবস্থান মুবারক করেছেন, উনারা কে কখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনাদের কখন বা কোন তারিখ ও কোন দিনে নিসবতে আযীমাহ মুবারক সংঘটিত হয়েছে এবং উনারা কে কখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন ইত্যাদি সমস্ত বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

উদাহরণ স্বরূপ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বিষয়টি পেশ করা হলো। অর্থাৎ যিনি উম্মুল মু’মিনীন হিসেবে ১৩তম বা সর্বশেষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান খিদমত মুবারকে তাশরীফ নিয়েছেন তিনি হচ্ছেন হযরত মাইমূনা বিনতে হারিছ আলাইহাস সালাম। তিনি বনু হিলাল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিক সম্মানিত নুবুওওয়াত-রিসালাত মুবারক প্রকাশের ৩১ বছর পূর্বে তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। দিনটি ছিল পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের ৩ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার)।

হিজরী ৭ম সনে পবিত্র যিলক্বদ শরীফ মাসের ১৬ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন উনার নিসবতে আযীমাহ মুবারক সংঘটিত হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৫০ বছর ৪ মাস ১৩ দিন। সুবহানাল্লাহ! আর তিনি ৫১ হিজরী সনে ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ যখন বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন তখন উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৯৪ বছর ৫ মাস ১৬ দিন। সুবহানাল্লাহ!

এমনিভাবে প্রত্যেক হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম উনাদের বিলাদতী শান মুবারক, বিছালী শান মুবারক, নিসবতে আযীমাহ শান মুবারকের দিন, তারিখ, বছর ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়সমহূ সঠিকভাবে প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! যা কায়িনাতবাসীর জন্য অমূল্য নিয়ামত।

মোট কথা, আহলে বাইতে রসূল, নূরে মুকাররম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার উক্ত তাজদীদ মুবারকের ফলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সমস্ত প্রকার ইখতিলাফ বা মতবিরোধের অবসান ঘটেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কথিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন তখন নাকি ৯ জন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হায়াত মুবারকে ছিলেন। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভুল বর্ণনা। বরং বিশুদ্ধ বর্ণনা হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বেই ৩ জন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম  উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনারা হচ্ছেন যথাক্রমে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল খ¦ামিসাহ আলাইহাস সালাম এবং হযরত উম্মুল মু’মিনীন আততাসিআহ আলাইহাস সালাম।

অতএব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় ১০ জন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যমীনে অবস্থান মুবারক করেছিলেন। এটাই সঠিক বর্ণনা হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে। অন্যথায় এ বর্ণনার বিপরীত বলতে চাইলে তাকে স্পষ্ট করে সকল হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বিলাদতী শান মুবারক,  বিছালী শান মুবারকের দিন তারিখসহ বর্ণনা দিতে হবে। অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন, টাঙ্গাইল

সুওয়াল: জনৈক উলামায়ে সূর বক্তব্য হচ্ছে যে, বাদশাহ মুজাফফর তার সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল আয়োজন করতেন সেখানে গান-বাজনা ও খেলাধুলার আয়োজন করা হতো। নাউযুবিল্লাহ! এ ব্যাপারে সে ওয়াফিয়্যাতুল আ’ইয়ান কিতাবের তৃতীয় খ- ৫৩৭ পৃষ্ঠার বরাত উল্লেখ করেছে। তার উক্ত বক্তব্য কতটুকু সঠিক? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল সম্পর্কে জাহিল ও প্রতারক উলামায়ে ‘সূ’ উক্ত কিতাবে বর্ণিত বক্তব্যের মনগড়া অর্থ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। কারণ বাদশাহ মুজাফফরুদ্দীন উনার যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে তাতে তিনি কোন হারাম বিষয় কখনোই সমর্থন করতে পারেন না এবং তা আবার পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার মতো বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ, রহমতপূর্ণ মাহফিলে সংঘটিত হবে; তা কল্পনাও করা যায় না।

যেমন উনার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে উক্ত “ওয়াফিয়্যাতুল আ’ইয়ান” কিতাবের ৪র্থ খণ্ড ১১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وَكَانَ كَرِيْـمَ الْأَخْلَاقِ كَثِيْـرَ التَّوَاضُعِ حُسْنَ الْعَقِيْدَةِ سَالِـمَ البِطَانَةِ شَدِيْدَ الْـمَيْلِ إِلٰـى اَهْلِ السُّنَّةِ وَالْـجَمَاعَةِ.

অর্র্থ: “বাদশাহ হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রশংসনীয় বা উত্তম চরিত্রের অধিকারী, অত্যধিক বিনয়ী ছিলেন। উনার আক্বীদা ও বিশ্বাস ছিল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন অন্তর বিশিষ্ট এবং তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় অনুসারী ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

বিখ্যাত তাফসীরকারক ও ইতিহাসবেত্তা আল্লামা হযরত ইমাদুদ্দীন ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত গ্রন্থ “আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া”-এর ১৩তম খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠায় লিখেন-

اَلْـمَلِكُ الْـمُظَفَّرُ بْنُ زَيْنِ الدِّيْنِ أَبُوْ سَعِيْدٍ كَوْكَبَـرِىُّ أَحَدُ الْاَجْوَادِ وَالسَّادَاتِ الْكُبَـرَاءِ وَالْـمُلُوْكِ الْأَمْـجَادِ لَه اٰثَرُ حَسَنَةٍ.

অর্র্থ: “বাদশাহ হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন আবূ সাঈদ কাওকাবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যধিক দানশীল ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। একই সাথে তিনি সম্মানিত বাদশাহও ছিলেন। উনার বহু পুণ্যময় কাজের আলামত এখনও বিদ্যমান রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!

আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত বাদশাহ সম্বন্ধে উনার ‘হুসনুল মাক্বছিদ ফী আমালিল মাওলিদ’ কিতাবে সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিছ আল্লামা হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন যে-

كَانَ شَهْمًا شُجَاعًا بَطَلًا عَالِمًا عَادِلًا رَحِمَهُ اللهُ وَأَكْرَمَ مَثْوَاهُ.

অর্র্থ: ‘তিনি তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন, সাহসী, শৌর্যশালী, আলিম ও ন্যায় বিচারক ছিলেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার উপর রহম করুন এবং উনাকে সম্মানিত বাসস্থান দান করুন।’

অনুরূপভাবে উক্ত বাদশাহর ছানা-ছিফত ও প্রশংসার বিবরণ সীরাতে শামী, সীরাতে হালাবিয়াহ, সীরতে নববিয়াহ ও যুরকানী ইত্যদি কিতাবসহ আরো অনেক কিতাবেই বর্ণিত রয়েছে।

অতএব, পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার শান ও বাদশার বেশিষ্ট্য অনুযায়ী কিতাবে উল্লেখিত ইবারতের অর্থ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অভিধানে একই শব্দের একাধিক অর্থ উল্লেখ থাকে। ব্যক্তি ও ক্ষেত্র বিশেষে অর্থ গ্রহন করতে হয়। কাজেই, ‘ওয়াফিয়্যাতুল আ’ইয়ান’ কিতাবের যে ইবারতসমূহের বরাত দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে তা উল্লেখপূর্বক সঠিক অর্থ প্রদান করা হলো।

وَاَمَّا اِحْتِفَالُه بِـمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّ الْوَصْفَ يُقَصِّرُ عَنِ الْاِحَاطَةِ بِهٖ، لٰكِنْ نُذَكِّرُ طُرَفًا مِّنْهُ وَهُوَ اَنَّ أَهْلَ الْبِلَادِ كَانُوْا قَدْ سَمِعُوْا بِـحُسْنِ اِعْتِقَادِهٖ فِيْهِ فَكَانَ فِـىْ كُلِّ سَنَةٍ يَّصِلُ اِلَيْهُ مِنَ الْبِلَادِ الْقَرِيْبَةِ مِنْ إِرْبِلَ مِثْلَ بَغْدَادَ وَالْـمَوْصِلِ وَالْـجَزِيْرَةِ وَسِنْجَارَ وَنَصِيْبَيْنِ وَبِلَادٍ الْعَجْمِ وَتِلْكَ النَّوَاحِىِّ خَلْقٌ كَثِيْرٌ مِّنَ الْفُقَهَاءِ وَالصُّوْفِيَّةِ وَالْوُعَّاظِ وَالقُرَّاءِ وَالشُّعَرَاءِ، وَلَا يَزَالُوْنَ يَتَوَاصَلُوْنَ مِنَ الْـمُحَرَّمِ إِلٰـى أَوَائِلِ شَهْرِ رَبِيْعِ الْأَوَّلِ وَيَتَقَدَّمُ مُظَفَّرُ الدِّيْنِ بِنَصْبِ قِبَابٍ مِّنَ الْـخَشَبِ كُلَّ قُبَّةٍ أَرْبَعَ أَوْ خَمْسَ طَبَقَاتٍ وَيَعْمَلُ مِقْدَارَ عِشْرِيْنَ قُبَّةٍ وَأَكْثَرُ مِنْهَا قُبَّةٌ لَه وَالبَاقِيْ لِلْأُمَرَاءِ وَأَعْيَانِ دَوْلَتِهٖ لِكُلِّ وَاحِدِ قُبَّةٌ فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ صَفَرَ زَيَّنُوْا تِلْكَ الْقِبَابَ بِأَنْوَاعِ الزِّيْنَةِ الْفَاخِرَةِ الْـمُسْتَجْمِلَةِ وَقَعَدَ فِيْ كُلِّ قُبَّةٍ جَوْقٌ مِّنَ الْـمَغَانِـيِّ وَجَوْقٌ مِّنْ أَرْبَابِ الْـخَيَالِ وَمِنْ أَصْحَابِ الْـمَلَاهِيِّ وَلَـمْ يَتْـرُكُوْا طَبَقَةً مِّنْ تِلْكَ الطِّبَاقِ فِـيْ كُلِّ قُبَّةٍ حَتّٰى رَتَّبُوْا فِيْهَا جَوْقًا وَتُبْطِلُ مَعَايِشَ النَّاسِ فِـيْ تِلْكَ الْـمُدَّةِ.

অর্থ: “বাদশাহ মুজাফফরুদ্দীন উনার আয়োজিত পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা স্বল্প পরিসর ও বেষ্টনী বহির্ভুত ছিল অর্থাৎ বিশাল ও ব্যাপকভাবে পালিত হতো। আমরা উক্ত মাহফিলের একটা অংশ নিয়ে আলোচনা করবো। তা হচ্ছে, নিশ্চয়ই শহরবাসীরা সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে উন্নত বা উত্তম আক্বীদার বিষয় শুনতেন এবং সেখানে প্রতি বছর ইরবিলের নিকটবর্তী শহর থেকে লোকেরা আসতেন, যেমন বাগদাদ, মুছেল, জাযীরা, সাঞ্জার, নাছীবাইন ইত্যাদি শহর থেকে লোকেরা আসতেন এমনকি অনারব শহর এবং তার আশ পাশ থেকেও লোকেরা আসতেন। বহু ফুক্বাহে কিরাম, ছুফিয়ানে কিরাম, ওয়ায়িযিনে কিরাম, ক্বারী ছাহিবান, কবি ছাহিবান সকলে উপস্থিত হতেন। উনারা মুহররমুল হারাম শরীফ মাস থেকে সম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস শুরু হওয়া পর্যন্ত সমাগম হতেন। আর হযরত মুজাফফরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি আগেই যেতেন। সেখানে কাঠ দিয়ে অনেক তাবু তৈরি করা হতো। প্রত্যেক তাবুর চারটি অথবা পাঁচটি করে স্তর থাকতো। এরকম ২০টি অথবা তার চেয়ে অধিক তাবু তৈরি করা হতো। তন্মধ্যে একটি বাদশার জন্য তৈরি করা হতো। আর বাকীগুলো আমীর উমরাহদের জন্য এবং দেশের বিশিষ্টজনদের জন্য। প্রত্যেকের জন্যেই একটি করে তাবু থাকতো। যখন ছফর মাস শুরু হতো তখন ঐ সমস্ত তাবু সাজানো হতো সুন্দর মনোরম কারুকার্য দ্বারা। ঐ সমস্ত তাবুতে না’ত শরীফ পাঠকারীদের একটি দল অবস্থান করতেন এবং পরিকল্পনাকারীদের একটি দল অবস্থান করতেন এবং আনন্দকারীদের একটি দল অবস্থান করতেন। উনারা তাবুর স্তরসমূহের অবস্থান ছেড়ে চলে যেতেন না। অর্থাৎ প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্তর অনুযায়ী তাবুসমূহের মধ্যে তরতীব অনুযায়ী দলবদ্ধভাবে অবস্থান করতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মানুষ দুনিয়াবী জীবিকা নির্বাহ বর্জন করতেন।”

প্রতিভাত যে, বাদশাহ মুজাফফরুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুন্দর ও সঠিক আক্বীদা সম্পন্ন, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের একনিষ্ঠ অনুসারী এবং আলিম ছিলেন তাই উনার পক্ষে আয়োজিত পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিলে গান-বাজনা ও খেলাধুলার আয়োজন করা মোটেই শোভনীয় নয়। তাই

جَوْقٌ مِّنَ الْـمَغَانِـىِّ

বাক্যাংশের অর্থ না’ত শরীফ পাঠকারীদের দল গ্রহণ করতে হবে। যেমন এ সম্পর্কে মিশকাত শরীফ কিতাবের

بَابُ اِعْلَانِ النِّكَاحِ وَالْـخُطْبَةِ وَالشَّرْطِ

অর্থাৎ বিবাহের ঘোষণা, খুৎবা ও শর্ত অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلٰى قَرَظَةَ بْنِ كَعْبٍ وَأَبِـيْ مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ فِي عُرْسٍ وَاِذَا جَوَارٍ يُغَنِّيْـنَ

অর্থ: তাবিয়ী হযরত আমির ইবনে সা’দ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি এক বিবাহ মজলিসে যোগদান করে দেখি যে, হযরত ক্বারযা ইবনে কা’ব আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবূ মাসউদ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের উপস্থিতিতে কতক মেয়ে কবিতা বা ক্বাছীদা পাঠ করছেন।

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে يُغَنِّيْـنَ শব্দের গান অর্থ গ্রহণ না করে কবিতা বা ক্বাছীদা গ্রহণ করতে হবে।

একইভাবে ওয়াফিয়্যাতুল আ’ইয়ান কিতাবের উক্ত ইবারতে

جَوْقٌ مِّنَ الْـمَغَانِـىِّ

গান-বাজনাকারীদের দল গ্রহন না করে না’ত শরীফ পাঠকারীদের দল গ্রহণ করতে হবে।

আর اَلْـمَلَاهِىُّ শব্দটি একাধিক অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে একটি অর্থ আনন্দকারীও রয়েছে। উক্ত অর্থই এখানে গ্রহণ করতে হবে।

অতএব, বাদশাহ মুজাফফরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক আয়োজিত পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার মধ্যে গান-বাজনা ও খেলাধুলার আয়োজন করা হতো বলে জাহিল উলামায়ে সূ যে বক্তব্য প্রদান করেছে তা মোটেই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং চরম মিথ্যা, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর।

 

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুড়া।, ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

 

সুওয়াল: মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: (পূর্ব প্রকাশিতের পর- ৪৪)

‘আস সাফফাহ’ সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার একখানা অর্থ মুবারক হচ্ছেন ‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’:

মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি যে অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী তা বুঝার জন্য- তিনি যে সমস্ত কায়িনাতবাসীকে মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক সম্পর্কে সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম সম্মানিত বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন, তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার

প্রতি সম্মানিত বিশুদ্ধ আক্বীদাহ মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্বদীম (অনাদী) এবং আযালী (চিরন্তন)। তিনি হাদেছ (সৃষ্টি) নন। উনার যাবতীয় সম্মানিত ও পবিত্র ছিফত মুবারকও ক্বদীম ও আযালী। তাই তিনি নতুন কোনো কাজ শুরু করেন না। তিনি শুরুতে যা করেছেন, এখনও তাই করেন। তবে উনার ক্বদীমী (অনাদী) এবং আযালী (চিরন্তন) সম্মানিত শান মুবারক থেকে কোনো কোনো শান মুবারক, কখনও কখনও প্রকাশ পান। সুবহানাল্লাহ! যেমন- মাখলূক্বাত সৃষ্টি করা। এটা উনার একখানা সম্মানিত শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক। তিনি মাখলূক্ব সৃষ্টি করার পূর্বেই খালিক্ব ছিলেন। তবে মাখলূক্ব সৃষ্টি করার পর উনার খালিক্বী শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটেছেন। সুবহানাল্লাহ! তেমনিভাবে তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতিপালন করার পূর্বেই রব ছিলেন। তবে সৃষ্টি জগতকে প্রতিপালন করার ফলে উনার সম্মানিত রববী শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটেছেন। তিনি রিযিক্বদানের পূর্বেই রায্যাক্ব ছিলেন। তবে রিযিক্বদানের ফলে উনার সম্মানিত রায্যাক্বী শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটেছেন। তাই এ কথা বলা সুস্পষ্ট কুফরী যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি মাখলূক্ব সৃষ্টি করার কারণে খালিক্ব, সৃষ্টি জগতের প্রতিপালনের কারণে রব এবং রিযিক্বদানের কারণে রায্যাক্ব। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার অন্যান্য সম্মানিত ও পবিত্র ছিফত মুবারকসমূহ উনাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মানবীয় বা মাখলূকাতের কোনো ছিফত বা গুণ আরোপ করবে, সে নিঃসন্দেহে কাট্টা কাফির। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি মাখলূক্বাতের যাবতীয় বিষয় থেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ইলম মুবারক ও সম্মানিত কুদরত মুবারক দ্বারা সর্বত্র হাযির ও নাযির এবং সম্মানিত ও পবিত্র আসমা ও ছিফত মুবারক দ্বারা সর্বত্র যাহির। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র দীদার মুবারক লাভ করা অবশ্যই সম্ভব, যা নকলী দলীল দ্বারা সাব্যস্ত। সুবহানাল্লাহ! মু’মিনগণ আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্বচক্ষে প্রকাশ্যে স্পষ্টভাবে দেখবেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন- এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

وُجُوهٌ يَّوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ  اِلـٰى رَبِّـهَا نَاظِرَةٌ

অর্থ: “সেদিন অনেক মুখম-ল মুবারক উজ্জ্বল হবেন, উনারা উনাদের রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে তাকিয়ে থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ক্বিয়ামাহ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২২)

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

اِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عِيَانًا

অর্থ: “অচিরেই (পরকালে) আপনারা অবশ্যই আপনাদের যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্বচক্ষে প্রকাশ্যে দেখবেন।” সুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

اِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَا تُضَامُوْنَ فِـىْ رُؤْيَتِهٖ.

অর্থ: “অতিশীঘ্রই (পরকালে) আপনারা অবশ্যই আপনাদের যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখবেন, যেমনিভাবে পূর্ণচাঁদ বা জ্যো¯œার রাতে চাঁদকে দেখে থাকেন। উনার সম্মানিত ও পবিত্র দীদার মুবারক লাভে আপনারা কোনোরূপ বাধাপ্রাপ্ত হবেন না।” সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ও পবিত্র দীদার মুবারক হবে তিনি কোনো স্থানে অবস্থান না করা অবস্থায়, কোনো দিকে না থাকা অবস্থায় বা চোখের জ্যোতি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পৃক্ত না হওয়া আবস্থায় অথবা দর্শক ও মহান আল্লাহ পাক উনার মাঝে কোনো দূরত্ব না থাকা অবস্থায়। প্রকৃতকথা হলো, পরকালে মু’মিনগণ কিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখবেন, এর কাইফিয়্যাত বা ধরণ সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণনা করা হয়নি। কেননা বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে কুদরত মুবারক উনার অধীন। সুবহানাল্লাহ!

 

মীর মুহম্মদ ছাবের আলী

বায়তুল মোকাররম মার্কেট, ঢাকা

মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, সংসদ ভবন,ঢাকা

মুহম্মদ জুনাইদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

সুওয়াল: বর্তমানে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার ব্যাপারে তীব্র মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। আবার কেউ বলছে জায়িয। উভয়েই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহের কিতাব থেকে দলীল দিয়ে থাকে।

এখন আমরা কোনটা গ্রহণ করবো? বহুল প্রচারিত দলীলভিত্তিক মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলে সাধারণ মুসলমানগণ উপকৃত হতো।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে মসজিদের ভিতরে বা মসজিদের বাহিরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার সঠিক ফায়ছালা হচ্ছে, মসজিদের ভিতরে হোক অথবা মসজিদের বাহিরে হোক, দাঁড়াতে সক্ষম হোক  অথবা দাঁড়াতে অক্ষম হোক, প্রত্যেক অবস্থাতেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে বসে নামায আদায় করা কাট্টা হারাম, নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং নামায বাতিল হওয়ার কারণ। এ ফতওয়াটি ছহীহ, দলীলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য। এর খিলাফ কোন ফতওয়াই ছহীহ নয়, দলীলভিত্তিকও নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়।

আমরা ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত বিষয়ে দলীল-আদিল্লাহ পেশ করার পাশাপাশি যারা চেয়ার, টেবিল, টুল ও বেঞ্চে বসে নামায পড়াকে জায়িয বলে, তাদের সে সমস্ত বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা খণ্ডন করবো। ইন্শাআল্লাহ!

স্মর্তব্য যে, আমরা প্রথমত: প্রমাণ করেছি যে, মসজিদের ভিতরে, নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসন ইত্যাদি প্রবেশ করানোই বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ।

দ্বিতীয়ত: প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায পড়াও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ বা হারাম। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা, হযরত তাবি-তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা, হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কেউই অসুস্থ অবস্থাতে কখনো চেয়ারে বসে নামায পড়েছেন এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। তাই চেয়ারে বসে নামায পড়া সুস্পষ্ট বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ।

তৃতীয়ত: আমরা প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ ক্বিয়াম করার সামর্থ থাকা সত্বেও চেয়ারে বসে নামায আদায় করলে ফরয ক্বিয়াম তরক হয়। আর নামাযে ফরয তরক করলে নামায বাতিল  হয়।

চতুর্থত: আমরা প্রমাণ করেছি যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করলে অনেক সময় চেয়ারে টেক লাগানো হয়। আর সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে নামায অবস্থায় কোন কিছুর মধ্যে টেক দিয়ে, হেলান দিয়ে, ভর দিয়ে নামায আদায় করা মাকরূহ তাহরীমী। আর নামায মাকরূহ তাহরীমী হলে দোহরানো ওয়াজিব।

পঞ্চমত: আমরা প্রমাণ করবো যে, চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবি-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কারো যুগেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে নামায পড়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। বিধায় চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়।

বরং সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নামায পড়ার তিন ছুরত।  অর্থাৎ (১) সাধারণভাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে। (২) দাঁড়াতে না পারলে যমীনে বসে নামায আদায় করতে হবে। (৩) যমীনে বসে আদায় করতে না পারলে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে।

স্মরণীয় যে, নামাযে দাঁড়ানো বলতে কোন কিছুর মধ্যে ঠেস বা হেলান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানোকে বুঝানো হয়েছে। বসা বলতে নামাযে যেভাবে বসার নিয়ম; যমীনে বসা, অপরাগবশত চার জানু হয়েও বসতে পারে। একইভাবে শোয়া বলতে সাধারণভাবে শোয়াকে বুঝনো হয়েছে।

উল্লেখ্য, নামাযে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া এ তিন অবস্থা দ্বারা সরাসরি যমীনের উপর দাঁড়িয়ে যমীনের উপর বসে এবং যমীনের উপর শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। আর যমীন বলতে সরাসরি যমীন অথবা ঘরের মেঝে অথবা বিছানা হতে পারে। যেখানে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে নামায আদায় করা যায়।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

অর্থ: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করো দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

الَّذِينَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَعَلٰى جُنُوْبِهِمْ

অর্থ: খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করো দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়। (পবিত্র সূরা আলি ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯১)

বলার অপেক্ষা রাখে না, পবিত্র নামায হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত যিকিরের অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِىْ

অর্থ: পবিত্র নামায আদায় করো আমার যিকিরের উদ্দেশ্যে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ত্ব-হা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪)

কাজেই, নামায পড়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়ার যে তরতীব বা নিয়ম পবিত্র কুরআন শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে সেভাবে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। নি¤েœ উল্লেখযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ থেকে কিছু আলোচনা করা হলো-

قَوْلُه تَعَالٰـى: قِيَامًا… عَنْ حَضْرَتْ الضَّحَّاكِ قَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰـى عَنْهُ اِنَّ أُنَاسًا يَقُوْمُوْنَ بَعْدَ الْعِشَاءِ الْاٰخِرَةُ يَدْعُوْنَ قِيَامًا فَاٰتَاهُمْ فَقَالَ مَا هٰذَا؟ قَالُوْا سَـمِعْنَا اللهُ يَقُوْلُ: اُذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ. فَقَالَ: اِنَّـمَا ذَاكَ فِـى الصَّلَاةِ يُصَلِّي الرَّجُلُ قَائِمًا فَإِنْ لَـمْ يَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَـمْ يَسْتَطِعْ فَعَلٰى جُنُبِهٖ ثُمَّ نَـهَاهُمْ.

অর্থ: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

 “তোমরা যিকির করো মহান আল্লাহ পাক উনার দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে হযরত দ্বহ্হাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বর্ণনা করেন; হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন যে, কিছু সংখ্যক লোক ঈশার নামাযের পর দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ডাকছেন অর্থাৎ যিকির করছেন। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি উনাদের কাছে এসে বললেন, আপনারা ইহা কি করছেন? উনারা বললেন,আমরা শুনেছি, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

 “তোমরা যিকির করো  মহান আল্লাহ্ পাক উনার দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” উত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এই পবিত্র আয়াত শরীফ নামায সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, প্রথমত: মানুষ দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে বসে নামায আদায় করবে। আর যদি বসেও নামায পড়তে সক্ষম না হয়; তাহলে শুয়ে নামায পড়বে। অত:পর তিনি উনাদেরকে উক্ত কাজ করা থেকে নিষেধ করলেন।” (তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম- ইমাম হাফিয আবূ মুহম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবী হাতিম রাযী- ৪র্থ খ- ১০৫৬ পৃষ্ঠা  প্রকাশনা: দারুন নাশর মাকতাবাতুল আছরিয়া)

فَرُوِىَ اَنَّ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰـى عَنْهُ رَأَىَ النَّاسَ يَضُجُّوْنَ فِـي الْـمَسْجِدِ فَقَالَ: مَا هٰذِهِ الضَّجَّةُ؟ قَالُوْا: اَلَيْسَ اللّٰهُ تَعَالٰـى يَقُوْلُ {اُذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ} قَالَ اِنَّـمَا يَعْنِـيْ بِـهَذَا الصَّلَاةِ الْـمَكْتُوْبَةَ اِنْ لَـمْ تَسْتَطِعْ قَائِمًا فَقَاعِدًا وَاِنْ لَـمْ تَسْتَطِعْ فَصَلِّ عَلٰى جُنُبِكَ فَالْـمُرَادُ نَفْسُ الصَّلَاةِ لِأَنَّ الصَّلَاةَ ذِكْرَ اللّٰهِ تَعَالٰـى.

অর্থ: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

 “তোমরা যিকির করো মহান আল্লাহ্ পাক উনার দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।”  (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি দেখলেন, লোকজন মসজিদের মধ্যে  উচ্চ আওয়াজে যিকির  করছেন। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বললেন, ইহা  কিসের শোরগোল? কিসের উচ্চ আওয়াজ?  উনারা বললেন, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্ পাক তিনি কি ইরশাদ মুবারক করেন নাই ?

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

 “তোমরা যিকির করো মহান আল্লাহ্ পাক উনার দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” উত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ফরয নামাযকে বুঝানো হয়েছে। কেউ যদি ফরয নামায দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে বসে নামায আদায় করবে। আর যদি বসেও নামায পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে শুয়ে নামায পড়বে। কাজেই উক্ত আয়াত শরীফ উনার উদ্দেশ্য খোদ নামায । কেননা পবিত্র নামাযই মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির।

(তাফসীরে কুরতুবী, আল-জামিয়ু লি আহকামিল কুরআন, মুছান্নিফ আবূ আবদিল্লাহ্ মুহম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবী বকর ইবনে ফারহুল আনছারী আল খাযরাজী শামসুদ্দিন আল-কুরতুবী, ওফাত: ৬৭১ হিজরী- ৫ম খণ্ড ৩৭৪ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ)

قَوْلُه تَعَالٰـى: (فَاِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَقُعُودًا) وَاَعْلَمْ اَنَّ اللّٰهَ تَعَالٰـى ذَكَرَ لَفْظَ الذِّكْرِ فِـيْ غَيْرِ هَذَا الْـمَوْضَعِ, وَأَرَادَ بِهٖ الصَّلَاةُ فِـيْ قَوْلُه تَعَالٰـى (الَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوبِكُمْ) فَرُوِىَ اَنَّ عَبْدَ اللهِ بنَ مَسْعُودٍ رَأَىَ النَّاسَ يَضُجُّوْنَ فِي الْـمَسْجِدِ فَقَالَ: مَا هٰذِهِ الضَّجَّةُ قَالُوْا أَلَيْسَ اللّٰهُ تَعَالٰـى يَقُوْلُ اُذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ قَالَ إِنَّـمَا يَعْنِى بِـهٰذِهِ الصَّلَاةِ الْـمَكْتُوْبَةِ اِنْ لَـمْ تَسْتَطِعْ قَائِمًا فَقَاعِدًا وَاِلَّا فَعَلٰى جُنُبِكَ.

অর্থ: “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلاةَ فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

 “যখন তোমরা নামায শেষ করো তখন মহান আল্লাহ্ পাক উনার তোমরা যিকির করো দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

জেনে রাখ, নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ তিনি এই আয়াত শরীফ ব্যতীত অন্যান্য আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে যেখানেই যিকির শব্দ মুবারক উল্লেখ করেছেন, তা দ্বারা তিনি নামাযকেই উদ্দেশ্য করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ১৯১নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন:

الَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি দেখলেন, লোকজন মসজিদের মধ্যে উচ্চ আওয়াজে যিকির  করছেন। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ্্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বললেন, ইহা  কিসের শোরগোল?  কিসের উচ্চ আওয়াজ? উনারা বললেন, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কি ইরশাদ মুবারক করেন নাই”?

فَاذْكُرُوا اللهَ قِيَامًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ

“তোমরা যিকির করো মহান আল্লাহ্ পাক উনার দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।”

উত্তরে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা ফরয নামাযকে বুঝানো হয়েছে। কেউ যদি ফরয নামায দাঁড়িয়ে পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে বসে নামায আদায় করবে। আর যদি বসেও নামায পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে শুয়ে নামায পড়বে।”

(তাফসীরে আহকামুল কুরআন, (আল- কায়াহেরাসী) মুছান্নিফ আল-কায়াহেরাসী আবূল হাসান আলী ইবনে মুহম্মদ (আল-মা’রুফ বিল কায়াহেরাসী) ২য় খ- ৪৯৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুব ইলমিয়া, বইরূত)

وَقَالَ الْـحَسَنُ فِـىْ قَوْلُه تَعَالٰـى: (اَلَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ). هٰذِهِ رُخْصَةٌ مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰـى لِلْمَرِيْضِ اَنْ يُصَلِّىْ قَاعِدًا فَإِنْ لَـمْ يَسْتَطِعْ فَعَلٰى جُنُبِهٖ. وَالْـمُرَادُ نَفْسُ الصَّلَاةِ لِأَنَّ الصَّلَاةَ ذِكْرُ اللّٰهِ تَعَالٰـى

অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

اَلَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُوْدًا وَّعَلٰى جُنُوْبِكُمْ.

“যারা মহান আল্লাহ্ পাক উনার যিকির করেন দাঁড়ানো অবস্থায়, বসা অবস্থায় ও শোয়া অবস্থায়।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯১)

এই আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রুখছত দিয়েছেন  (অর্থাৎ দাঁড়াতে সক্ষম না হলে)  সে বসে নামায পড়বে। আর যদি বসে নামায পড়তে সক্ষম না হয়, তাহলে সে শুয়ে নামায পড়বে। আর উক্ত আয়াত শরীফ উনার উদ্দেশ্য খোদ নামায । কেননা পবিত্র নামাযই মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির।” (তাফসীরে আহকামুল কুরআন, (আল- কায়াহেরাসী) মুছান্নিফ আল-কায়াহেরাসী আবূল হাসান আলী ইবনে মুহম্মদ (আল-মা’রুফ বিল কায়াহেরাসী) ২য় খ- ৪৯৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুব ইলমিয়া, বইরূত)

উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে নামায পড়ার তিন ছুরত। অর্থাৎ (১) সাধারণভাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে হবে। (২) দাঁড়াতে না পারলে বসে নামায আদায় করতে হবে। (৩) বসে আদায় করতে না পারলে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। উক্ত তিন ছূরত ব্যতীত নামাযের চতুর্থ কোন ছূরত নেই। সুতরাং চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। কারণ চেয়ারে বসে নামায আদায় করা নামাযের কোন ছুরত নয়।

অতএব আমাদেরকে নামায পড়তে হলে উক্ত তিন  ছূরতের যে-কোন একটি ছূরতে নামায পড়তে হবে। এই তিন ছূরতই সম্মানিত শরীয়ত তথা সম্মানিত ইসলাম উনার ছূরত। এই তিন ছূরতের বাইরে  অন্য কোন ছূরতে যেমন, চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে নামায পড়া জায়িয হবে না। এই তিন ছূরতের বাইরে অন্য কোন ছূরত বা নিয়মনীতি তালাশ করা যাবে না। কেননা খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ্্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْاٰخِرَةِ مِنَ الْـخَاسِرِيْنَ

অর্থ: “সম্মানিত ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহন করতে চাইলে তা কখনও কবুল করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।”

 

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব