একটা ঘৃণিত, কলঙ্কময় চরিত্র, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। অনেকে এ নাম উচ্চারণে কিছুটা ইতস্ততাবোধ, বিদ্ধেষ বৈরীভাব পোষণ করে থাকেন। কেননা এ লোলুপ হায়েনা এক কালে সামান্য স্বার্থের নিমিত্তে লক্ষাধিক নিরীহ জনসাধারণের শিরচ্ছেদ করতেও সামান্যতম কুন্ঠাবোধ করেনি। তাই তাকে দুধর্ষ মানুষ হালাকু খাঁর সাথে তুলনা করলেও অত্যুক্তি হবে না।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিল মূলতঃ হেজাজ প্রদেশের অর্ন্তগত তায়েফের অধিবাসী। তায়েফের একটি বিদ্যালয়ে সে কিছুদিন চাকুরী করে। সমকালীন যুগে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিল পবিত্র কুরআন শরীফ উনার হাফিয। তীক্ষ্ম বুদ্ধি, বাগ্নী ও দূরদর্শীতার দরুন সে তৎকালীরন খলীফা আব্দুল মালিকের শুভ দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়। আব্দুল মালিক হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে তার সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। কিন্তু এই পাষাণ প্রাণ হৃদয় কিছুতেই জনগণের দুঃখ দুর্দশা, অভাব অভিযোগের কথায় কর্ণপাত করতো না। বরং পান থেকে সামান্য চুন খসলে মৃত্যুদন্ডই ছিল তার কাছে একমাত্র বিচার। জিম্মি নাগরিক, দরিদ্র কৃষকশ্রেণী ও সাধারণ মুসলমানের উপর সে করের বোঝা চাপিয়ে অহেতুক হয়রানি করে ছাড়তো। যেখান দিয়ে একবার তার পদধ্বনির আওয়াজ পাওয়া যেতো সে অঞ্চল বা এলাকা মাঘের শীতে বাঘের আক্রমণ বলে নিশ্চল স্থবীর হয়ে থর থর করে কাঁপতে থাকতো। সে এতটা পাষাণ, বর্বর ও স্বাপদশংকী ছিল যে, সে পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ উনার চারপার্শ্বে রক্ত প্রবাহিত করে; বড় বড় সন্মানীত ও জলিলুল কদর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ পর্যন্ত তার জুলুমের কারণে স্থম্ভিত হয়ে যেতেন। সে স্বনামধন্য বুযুর্গ হযরত ছাহাবী হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে কঠোর উক্তি করে বসে। সে যাতুর নিকা আসমা বিনতে আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি [যে নাকি কঠিন মুসীবতের সময় ছাওর গুহায় রসুলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনাদের জন্যে খাদ্যের আঞ্জাম দিয়েছিলেন] উনাকে বৃদ্ধ বয়সে অশ্লীল গালি-গালাজ করে। হযরত আবদুল্লাহ্ বিন যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সে শহীদ করে এবং চল্লিশ দিন পর্যন্ত উনার পবিত্র লাশকে ঝুলিয়ে রাখে। অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সন্তানদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে ফেলে। এমনকি এই জালিম শাসকের আগমন সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হযরত রসুলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যদ্বাণীও রয়েছে।
কিন্তু এতদসত্ত্বেও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মত নিষ্ঠুর রক্তলোলুপ, ইস্পাত সমতুল্য কঠিন হৃদয়ে একটি স্নিগ্ধ, শান্ত, সহজ-সরল, অনাবিল, কুরআনিক মমত্ববোধের ফল্গুধারা উঁকি দিচ্ছিলো। সে হচ্ছে আরবী লিপি ও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কেননা সর্ব প্রথম হাজ্জাজ বিন ইউসুফই অনারবীয়দের জন্য পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ সহজীকরণের জন্য নোকতা ও হরকতের প্রচলন করে।
আজকে মুসলিম বিশ্বে আমরা যারা সহজ শুদ্ধভাবে নোকতা ও হরকতসহ পবিত্র কুরআন শরীফ পড়ি, আমাদের এই পঠনের পশ্চাতে রয়েছে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সুগভীর চিন্তাশক্তি। তাইতো গুহার সিংহ হয়েও হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বনের অবলা হরিণ।
জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)
ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান
সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ