ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ মাহবুব আলম

জাম্বুরা বাংলাদেশের একটি পরিচিত ফল। একে বাতাবী লেবুও বলা হয়। বাংলাদেশের সব জায়গায়ই এ ফল পাওয়া যায়। স্বাদগত কারণে এবং পুষ্টিমান বিচারে জাম্বুরা কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

          আকৃতির দিক দিয়ে জাম্বুরা অনেকটা গোলাকৃতি অথবা বেলের মত হয়। প্রধানতঃ এ ফল তিন কিসিমের হয়। কোন কোনটার রোয়া বা কোষ লাল টকটকে। কোন কোনটা গোলাপী রংয়ের, কোন কোনটা নিরেট সাদা। এর স্বাদও তিন রকমের। মিষ্টি, টক ও তেতো। স্বভাবতঃই লাল টকটকে রংয়েরটাই মিষ্টি স্বাদযুক্ত। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। এর মধ্যে টক ও তেতো স্বাদেরও আছে। অনুরূপ সাদার মাঝেও মিষ্টি, টক ও তেতো আছে। তদ্রুপ গোলাপী রংয়ের মাঝেও আছে। স্বাদেরগুলোই সবার প্রিয়। টকগুলো যে অপ্রিয় এমন কথাও বলা যায়না। টকগুলোও অনেকে কাঁচামরিচ ও লবন সহযোগে সালাত করে খেতে ভালবাসে। বরিশালে ও উত্তরবঙ্গে তুলনামূলকভাবে জাম্বুরা ফলের বাগান বেশীরূপে দেখা যায়। পল্লীগ্রামে অনেক বাড়ীতেও এ ফলের গাছ দেখা যায়। বাড়ীর ফাকা জায়গায় অন্য পাঁচটা ফল গাছের সাথে সার করে এ গাছ লাগান যায়। শহরেও কোন কোন বাড়ীতে এ ফলের গাছ চোখে পড়ে।

          এমন এক সময় ছিল যখন জাম্বুরাকে অর্থকরী ফসল হিসেবে গণ্য করা হতনা। গাছে প্রচুর ফল ঝুলে থাকত। আজকাল অবশ্য আগের চেয়ে অনেক বেশীরূপে বাজারজাত হচ্ছে। হালে দামও ভাল দিচ্ছে। আগে যার দাম ছিল চার আনা এখন তার দাম চার টাকা বা তদুর্ধে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম জাম্বুরাতে রয়েছে ৩৮ কি. ক্যালোরী খাদ্যশক্তি, ০.৫ গ্রাম আমিষ, ০.৩ গ্রাম চর্বি, ৮.৫ গ্রাম শর্করা, ০.২ গ্রাম লৌহ, ১২৩ মাইক্রোগ্রাম কেরোসিন, ০.০৬ মি. গ্রাম ভিটামিন বি-১ এবং ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন বি-২। এছাড়া অন্যান্য ভিটামিনের সাথে সাথে জাম্বুরাতে ভিটামিন সি এর আধিক্য বেশী। যার কারণে জাম্বুরা খেলে ভিটামিন সি এর যাবতীয় ফায়দা যেমন সুস্থ সবল হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি এবং মুখ বা ক্ষত সারানো ইত্যাদি খুব সহজেই পাওয়া যায়।

          জাম্বুরার ঔষধিগুণও উল্লেখযোগ্য। কোষ্ঠ কাঠিন্য রোগে প্রত্যহ ভোরে খালি পেটে জাম্বুরা খেলে এ রোগ সেরে যায়। পুরাতন আমাশয় রোগেও জাম্বুরা উপশম হিসেবে কাজ করে। জাম্বুরার সবচেয়ে উপকারী দিকটি হল বহুমুত্র রোগের জন্য। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকেই বহুমুত্র বা ডায়োবেটিক রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। জাম্বুরাকে তাদের জন্য মহান আল্লাহ্ পাক উনার এক রহমত বা নিয়ামত বলতে হবে। শর্করাযুক্ত হোক বা শর্করাবিহীনই হোক নিত্য ভোরে এ ফলের রস খেলে প্রস্রাবের ধারণ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। প্রস্রাবের মাত্রা অনেক কমে যায়। অর্থাৎ প্রস্রাব কমাবার বিশেষ উপাদান জাম্বুরাতে রয়েছে। “প্রস্রাব যদি কমাতে চান, বেশী করে জাম্বুরা খান।” তাই সুলভ হিসেবে আর অবহেলা নয়। রবং স্বাস্থ্যগত কারণেই আমাদের চাহিদামত জাম্বুরা খাওয়া উচিত।

ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান

জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)

সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রসার

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কৃষি