মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে রসূল (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বলুন, সত্য এসে গেছে। মিথ্যা দূরীভূত হয়েছে। আর মিথ্যা দূরীভূত হওয়ারই যোগ্য।”
সম্মানিত পাঠকবর্গ! ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ ইসলামের বীর সিপাহসালার মর্দে মুজাহিদ, আমিরুল মু’মিনীন, মুযাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “তরীক্বায়ে আওর মুহম্মদীয়া” এবং উনার জিহাদী আন্দোলনকে এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী ব্রিটিশ মদদপুষ্ট ইংরেজ ঐতিহাসিক ও কিছু দেশিয় হীনমনা স্বার্থান্বেষী ব-অক্ষর নিম মোল্লা শ্রেণীর ইংরেজ পদলেহী মৌলভীরা জনসম্মুখে খাঁটো করে দেখানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ! মহান রব্বুল আলামীন সত্যের ঝান্ডা বুলন্দকারী, বাতিলের মুখোশ উন্মোচনকারী, “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের আড়ালে দীর্ঘ সময়ের চেপে থাকা সত্যিকার ইতিহাস উদঘাটন করে দিয়েছেন।
পাঠক! আমার এ লিখা স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের লিখার দাঁতভাঙ্গা জবাব ও তার যুক্তিখ-ন নিয়ে। রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র মার্চ/২০০১ ঈসায়ী থেকে এ নব্য জাহিল অধ্যক্ষ তথা অদক্ষের আঁড়ালে বহুরূপে সজ্জিত ছদ্মবেশি লোকটির আবির্ভাব।
“মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর ৮২তম সংখ্যার জবাবকে কেন্দ্র করে তিনটি সংখ্যার প্রথমেই সে যে প্রশ্নটি বাইয়্যিনাত-এর নিকট উত্থাপন করতে চায় তাহলো, আহমদ রেযা খান তার কোন কিতাবের কত পৃষ্ঠায় আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কাফির ফতওয়া দিয়েছে? এবং কিতাবের হুবহু ইবারত কেন মাসিক আল বাইয়্যিনাতে তুলে দেয়া হয়নি?”
এর জবাবে বলতে হয়, মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৮২তম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর তার সমগোত্রীয় ইদ্রিস রেযভী, বদিউল আলম রেযভী, ইউসুফ জিলানীও একই কথা বলেছিলো।
আফসুস! এই সব নাদান, জাহিল, মূর্খের জন্য! সম্ভবত তারা তাদের মাযহাবের মাসিক মুখপত্রের বিভিন্ন সংখ্যাগুলো পর্যন্তও পড়েনা। তাদের তথাকথিত খা ছাহেবের এই নাপাক মস্তিস্ক বিকৃত উক্তি মাসিক আল বাইয়্যিনাতে তুলে ধরার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করিনা। এই ছদ্মবেশি, জাহিল, বেওকুফ নাদানদের বলি, তারা যেন রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র ৯৭ সনের সেপ্টেম্বর সংখ্যা ৪৬, ৪৭ পৃষ্ঠা খুলে পড়ে। আর তাতে খা ছাহেবের মালফুজাতের ১ম খ-ের ১২৪ পৃষ্ঠা মূল উর্দূ ইবারতে আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে খা ছাহেব কাফির বলেছেন কিনা তা দেখে নেয়।
দ্বিতীয়তঃ তার লিখা একান্ত ভাবনার মার্চ/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের ৪৪ পৃষ্ঠায় আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে সে লিখেছে, “সৈয়দ আহমদ বেরেলভী ও আলা হযরত রেযা খান বেরেলভী দু’জনই সৈনিক। প্রথম জন অসির দ্বিতীয় জন মসির। দু’জনের যুদ্ধ পদ্ধতিই ভিন্ন। ইতিহাসই তাদের জীবন্ত সাক্ষী।”
অথচ জুন/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় ১২১ পৃষ্ঠায় সে লিখেছে, “সৈয়দ ছাহেব ইংরেজদের নির্ভরযোগ্য দালাল এবং শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একটি সাজানো নাটক।”
পাঠক বর্গ! লক্ষ্য করুন তার লিখার ভিন্নতা দেখে। সে যে চরম পর্যায়ের মুনাফিক তা তার লিখার মাধ্যমেই প্রকাশ করে দিয়েছে। এই ছদ্মবেশীর আরো বক্তব্য হলো মাসিক আল বাইয়্যিনাত, ৮২ তম সংখ্যা কেন আহমদ রেযা খান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য তুলে দেয়া হলো?
এর জবাব হলো, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুওয়ালকারীরাই আমাদের মাসিক পত্রিকায় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লহি আলাইহি সম্পর্কে খাঁ ছাহেবের কুফরীমূলক বক্তব্যের ইবারত তুলে দিয়ে আমাদের পত্রিকায় পাঠিয়ে দিয়েছে এবং জানতে চেয়েছে খাঁ ছাহেবের এই ফতওয়া সঠিক কিনা? ফলে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে সুওয়ালকারীদের চাহিদা মুতাবিক জবাব দিতে হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ের উপর আমাদের সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগে একটি স্বতন্ত্র ফাইল পর্যন্ত তৈরী করতে হয়েছে। বিশ্বাস যদি না হয় তবে রেযাখানী সম্প্রদায় ভক্ত পাঠকরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় সরেজমিনে এসে এর সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারে। যার কারণে ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায়ই হোক সুওয়ালকারীদের সুওয়ালের জবাবে খাঁ ছাহেব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বক্তব্যও আল বাইয়্যিনাতে এসে গেছে। কেননা কোন সন্তানের সামনে যদি তার পিতাকে কাফির বলা হয় আর সে যদি তা নির্দ্বিধায় মেনে নেয় এবং চুপ থাকে তাহলে সে সন্তানেরই উপযুক্ত নয়। বুদ্ধিমানের জন্য ইশারা-ইঙ্গিতই যথেষ্ট। কিন্তু বহুরূপে সজ্জিত স, আ, ত, ম আলাউদ্দীন কি বলতে পারবে শ্রদ্ধেয় রাজারবাগের পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ৮২তম সংখ্যা হতে এই ৯৮তম সংখ্যা পর্যন্ত কোন একটি সংখ্যায় আহমদ রেযা খাঁ ছাহেবকে “সরাসরি কাফির বলেছেন অথবা খাঁ ছাহেবের মত তাকে যারা কাফির না জানবে তবে সেও কাফির” এই ধরণের কুফরী মূলক বাক্য উচ্চারণ করেছেন? এতে কি প্রমাণিত হয়না রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিস্তৃত ও সুগভীর ইল্ম-আক্বলের তুলনায় আহমদ রেযা খানের ইল্ম-আক্বল মেছালেই আসতে পারেনা। কেননা রেযা খাঁ ছিল নিতান্তই কম আক্বল ও বোধসম্পন্ন স্থূল বুদ্ধির অধিকারী।
পাঠক সমাজ! রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের জুন সংখ্যার ১২২ পৃষ্ঠায় এই ছদ্ম নামধারী লিখেছে, “শুধু তাই নয় তিনি নাকি (হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ) কামালতে নুবুওয়াতের মাকামও হাছিল করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ্)”
আমরা আশ্চর্য না হয়ে পারিনা, রেযভীদের তরীক্বতের জ্ঞান শুন্যতা দেখে! সত্যিই আমাদের করুনা হয় বটে! কারণ যখনই তাছাউফের মাকাম, হাল, কাশ্ফ, কারামত নিয়ে আলোচনা করা হয় তখনই তারা এগুলো নিয়ে হাসি, ঠাট্টা, বিদ্রুপ ও বিরুপ মন্তব্য করে বসে। কাজেই তাদের সাথে এ ব্যাপারে বচসা না করে বরং এ বিষয়ে তাদেরকে মূর্খ ও জাহিলরূপে জানাই সঙ্গত এবং “হে বালক এ গৃহ রঙ্গীন আর তুমি নাবালক।” সূফীদের প্রচলিত এ বাক্যটি তাদের উপর নিক্ষেপ করে তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া ব্যতীত গতান্তর নেই।
রেযাখানীদের জানা দরকার যে, আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি কেবলমাত্র একাই কামালতে নুবুওওয়াত-এর মাকাম হাছিল করেননি বরং তার পূর্বেও শত শত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম কামালতে নুবুওওয়াতের মাকাম হাছিল করেছেন। এর পরেও অনেকে তা হাছিল করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত করবেন।
সম্মানিত পাঠক সমাজ! সর্বশেষে এই ছদ্মবেশী স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের মার্চ, জুন ও আগষ্ট/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার “একান্ত ভাবনা” লিখাটি মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮২তম সংখ্যাকে কেন্দ্র করে লিখা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের তোড়জোড় আস্ফালন আর হাঁকডাঁক এখনও পর্যন্ত ৮২তম সংখ্যাকে অতিক্রম করে যেতে পারেনি। অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর এখন ৯৮তম সংখ্যা চলছে। আর দু’সংখ্যা পরেই সে শতকের ঘরে পৌঁছে যাবে বা শত সংখ্যা পূর্ণ করবে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর হিদায়েতের নূর আজ দিগন্ত বিস্তৃত সারা বিশ্ব ব্যাপী। মাসিক আল বাইয়্যিনাত আজ হেদায়েতের পথে কোয়াসার গতিতে অতি দ্রুত সম্মুখপানে ধাবমান। পশ্চাতে আসতে চাচ্ছে ফেউ তথা ধূর্ত, প্রতারক রেযাখানী সম্প্রদায়। কাজেই রেযাখানী সম্প্রদায় যদি লক্ষ কোটি বৎসর হায়াতে যিন্দিগীও পায় তবুও তার পক্ষে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর নাগালের সীমানায় আসা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না ইনশাআল্লাহ্।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)
তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)
মিযানরূপী ভন্ড জলীল নিজেই প্রচার করলো সে ও তার গুরু রেযা খাঁ কাফির