পাঠক! অতি সুন্নী হাক্বীক্বতে ওহাবী ও মুশাব্বিহা ফিরক্বার গোলাম ‘জলীলকে’ নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোনই প্রয়োজন নেই। কারণ মাসিক আল বাইয়্যিনাতের মাধ্যমে আপনারা ভাল করেই জেনে গেছেন যে, সে একজন চরিত্রহীন, বেপর্দা ও বেহায়া। আর এ কলঙ্ক সে কোন দিনও মোচন করতে পারবেনা। যদিও অমিয়াপূরের মশহুর ঘটনাটির ব্যাপারে প্রায় এক বছর চুপটি মেরে থেকে নিজ গদী ছুটে যাওয়ার ভয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। সে এতদিন পর উক্ত ঘটনার সাক্ষী প্রমাণ তলব করেছে। সে কতজন সাক্ষী চায়? এলাকার আবাল-বৃদ্ধ, বণিতা সকলেইতো এ ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী। এঘটনা এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখেই। এলাকাবাসীর বক্তব্য ক্যাসেট করে, উক্ত ক্যাসেটসহ আমি লেখাটি আল বাইয়্যিনাত অফিসে পাঠিয়েছি। কাজেই ভন্ড জলীল যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চায় তবে তাকে প্রথমে এলাকা বাসীর নিকট প্রমাণ তলব করতে হবে।
পাঠক! উক্ত ঘটনা ছাড়াও তার বেপর্দা হওয়ার আরো প্রমাণ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে এসেছে। যেমন তার লিখিত-“সফরনামা আজমীর” বইয়ে সে একটি ছবি ছাপিয়েছে, যাতে তাকে বেগানা বেপর্দা মহিলার সাথে এক কাতারে দেখা গেছে। যা সে পরবর্তীতে নিজেও স্বীকার করেছে। আর তার ঘরে তো বিন্দু মাত্রও পর্দা নেই। সে যুবতী কাজের মেয়ের সাথে প্রকাশ্যে দেখা করে ও আগত মেহমানদের কাজের মেয়ে দ্বারা আপ্যায়ন করায় বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এগুলোও কি সে এখন অস্বীকার করবে? এগুলোকেও কি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিবে?
পাঠক! ভন্ড জলীলের পক্ষে এটা অসম্ভব নয়। কারণ সত্যকে মিথ্যা বানানো আর মিথ্যাকে সত্য বানানোই হচ্ছে তার প্রধান কাজ। সে তার অবৈধ বুলেটিনের পূর্ববর্তী একটি সংখ্যায় ‘লক্বব’ সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছিল। আমি মাসিক আল বাইয়্যিনাতের ৯৪তম সংখ্যায় তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেই।
ভন্ড জলীল কেন তার গুরু রেযা খাঁ সহ চৌদ্দগোষ্ঠী আসলেও আমার উক্ত বক্তব্য খন্ডন করতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ্। আর খন্ডন করতে পারবেনা বলেই সে সহজ পদ্ধতি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং আমার প্রতি মিথ্যা তোহমত দিয়ে লিখেছে, “ আমি নাকি ‘মাওলানা’ ‘হাফিয’ ও আ’লা হযরত” লক্ববধারীদেরকে ‘কাফির’ ফতওয়া দিয়েছি।” আর দলীল হিসেবে সে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৪ তম সংখ্যার ১৫৮ পৃষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছে।
সুপ্রিয় পাঠক! আপনাদের নিকট তো উক্ত সংখ্যাটি অবশ্যই রয়েছে। আপনারা একটু কষ্ট করে উক্ত পৃষ্ঠাটি বের করে দেখুন তো, উক্ত পৃষ্ঠার কোথাও আমার পক্ষ থেকে “রেযা খাঁ ও জলীলকে” কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে কিনা? মূলতঃ এ ধরণের কোন বক্তব্যই উক্ত পৃষ্ঠায় নেই। এবার আপনারাই বলুন, ভন্ড জলীল সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী?
পাঠক! আল বাইয়্যিনাত-এর উক্ত সংখ্যায় মূলতঃ আমি ভন্ড জলীলের মূর্খতাসূচক ও দলীলবিহীন বক্তব্যের জবাব দিয়েছি। ভন্ড জলীলের বক্তব্য হলো “রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দাজিল্লুহুল আলী নাকি নবী ও ওলীদের লক্ববগুলো নিজের নামে জুড়ে দিয়েছেন। তাই তিনি ……..।”
আমি তার উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে লিখেছিলাম, যদি ভন্ড জলীলের মতে কেউ নবী ও ওলীদের লক্বব ব্যবহার করলে দাজ্জাল, ভন্ড, কাজ্জাব ইত্যাদি হয়; তবে জলীলের মতেই স্বয়ং ভন্ড জলীল ও তার গুরু রেযা খাঁ ‘মাওলানা,’ ‘হাফিয,’ ও ‘আ’লা’ লক্বব ধারণ করার কারণে তারাও দাজ্জাল, কায্যাব, ভন্ড, প্রতারক, বেদ্বীন। কারণ তারা শুধু নবী ও ওলীদের নয় বরং স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর লক্বব ‘মাওলানা,’ ‘হাফিয’ ও আ’লা নিজের নামে জুড়ে দিয়েছে।
কাজেই ভন্ড জলীল যেহেতু মনে করে ও লিখে থাকে যে, “যারা নবী ও ওলীদের লক্বব ধারণ করে তারা দাজ্জাল, কায্যাব, ভন্ড, প্রতারক, বেদ্বীন তাই ভন্ড জলীলের এ ফতওয়া মুতাবিক তার সিলসিলার যারা আল্লাহ্ পাক, নবী ও ওলীদের লক্বব ব্যবহার করেছে তারাই উক্ত বিশেষণের যোগ্য।
পাঠক! ভন্ড জলীলের উক্ত বক্তব্যে একটি বিষয় ভালভাবেই ফুটে উঠেছে, ভন্ড জলীল নিজেই স্বীকার করেছে যে, সে ও তার গুরু রেযা খাঁ কাফির। কারণ আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৪ তম সংখ্যায় ১৫৮ পৃষ্ঠার কোথাও আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে কাফির বলা হয়নি। বরং সে নিজেই নিজেকে ও তার গুরু রেযা খাঁকে কাফির বলেছে। পরের ঘরের দরজা খুলতে গেলে প্রথমেই যে নিজের ঘরের দরজা খুলতে হয়, পরের জন্য কুয়া তৈরী করলে সে কুয়াতে নিজেকেই যে পড়তে হয়, এক আঙ্গুল অন্যের দিকে উত্তোলন করতে গেলে যে তিন আঙ্গুল নিজের দিকেই বাঁকা হয়ে ফিরে আসে এ কথাগুলো বিশ্ব বেহায়া, মহা কায্যাব, ভন্ড জলীলের মনে থাকবে তো?
আরো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি ঐ হাদীস শরীফ, যে হাদীস শরীফে রয়েছে, “কাউকে অন্যায়ভাবে কাফির ফতওয়া দিলে অবশেষে তা নিজের উপরই পতিত হয়।”
-মুহম্মদ আব্দুল ক্বাদির বাদল, মাদারটেক, ঢাকা।