একটি চ্যালেঞ্জ

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ ইউসুফ

সাপ্তাহিক বিচিত্রিয়া (বর্ষ-৪, সংখ্যা-১৭, ৩১শে মে-৯১, পৃষ্ঠা-২০) প্রকাশিত তথাকথিত বিশিষ্ট ধর্মীয় চিন্তাবিদ, আজমীর শরীফের একনিষ্ট আশেক এবং আজমীর শরীফ থেকে শেরই-খাজা উপাধিপ্রাপ্ত জনাব আনোয়ারুল হক চৌধুরীর সাক্ষাতকারটি আমি সযত্নে পড়েছি। তার কিছু কিছু বক্তব্য ইসলাম বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর। তার এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আমার এ প্রতিবেদন। পাঠকের বুঝবার সুবিধার জন্য তার মূল বক্তব্যের উদ্ধৃতিসহ প্রকাশিত বক্তব্যের সমালোচনা নিম্নে তুলে ধরা হলো-

 চৌধুরী: “আমি কোনো পীর নই, একজন সাধারণ মানুষ। আমার এখানে তাবিজ-কবজ, পানিপড়া বেসাতি কিংবা নগদ নজরানা নেয়ার কোন ব্যাপার নেই। আগেই বলেছি, আমি আজমীরে খাজা বাবার একজন নগন্য আশেক। কোনো তথাকথিত পীর-ফকির নই। কোনো অলৌকিক ক্ষমতা কিংবা তুক-তাকের কোনো কালো শিল্পের চর্চাও আমি করিনা।”

সমালোচনা:  কোনো লোকের পীর হওয়ার জন্যে এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার জন্যে একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে অনেক সাধনারও। জনাব চৌধুরীর তা না থাকাই স্বাভাবিক। তাই বলে যে, সব পীর-দরবেশরা ফকির হবে এবং তাদের অলৌকিক ক্ষমতাইবা কালো শিল্পের চর্চা হবে তা চৌধুরী কিভাবে আবিস্কার করছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। জনাব চৌধুরী পীর নন, কিন্তু খাজা বাবার একজন আশিক। চৌধুরীর জানা প্রয়োজন যে, হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন উঁচু মর্যাদার পীর ছাহেব ছিলেন এবং তিনি ছিলেন চিশতীয়া তরীক্বা উনার ইমাম। উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে তৎকালীন এ উপমহাদেশে প্রায় এক কোটি ঈমানহারা লোক ঈমান ফিরে পেয়েছিলেন। আর তিনি তা সম্ভব করেছিলেন উনার অলৌকিক ক্ষমতা বা আধ্যাত্মিক শক্তি বলেই।

‘পীর’ ফারসী শব্দ। অর্থ হলো ‘জ্ঞানবৃদ্ধ’। আরবীতে পীর ছাহেব উনাকে শায়েখ বলা হয়। বাংলায় যার সহজ অর্থ হলো ধর্মীয় শিক্ষক (ফিক্বাহ এবং মারেফাত), পথ প্রদর্শক বা ইমাম। যিনি পীর ছাহেব হবেন তিনি অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হবেন। ওলী আল্লাহ আবার দুই প্রকার। ১. ওলীয়ে কামিল এবং ২. ওলীয়ে মোকাম্মেল। ওলীয়ে কামিল তিনি- যিনি নিজে পরিপূর্ণ (পরিশুদ্ধ) কিন্তু অন্যকে পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারেন না। কাজেই কামিল পীর হওয়ার যোগ্যতা তার নেই। আর যিনি ওলীয়ে মোকাম্মেল, তিনি নিজে পরিপূর্ণ এবং অন্যকেও পূর্ণতায় পৌছাতে পারেন।

কাজেই ওলীয়ে মোকাম্মেল যিনি, একমাত্র তিনিই পীর ছাহেব হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আর সে যোগ্যতা সম্পন্ন পীর-দরবেশগণ উনারা ‘ফকির’ই হয় তবে বলতে হবে হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও একজন ফকির ছিলেন।

আর চৌধুরী কোনো পীর বা ওলীর আশেক নন, বরং সে একজন ফকিরের আশেক।

আবার যিনি ওলী বা পীর ছাহেব হবেন, তিনি অবশ্যই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হবেন। কারণ, আকাইদের কিতাবে বলা হয়েছে, ‘কারামাতে আউলিয়ায়ে হাক্কুন’। অর্থাৎ ওলীগণ উনাদের কারামত বা অলৌকিক ক্ষমতা সত্যি। এটা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত। তবে সব সময় অলৌকিক ক্ষমতা প্রকাশ করা কোনো ওলীগণ উনাদের জন্যে শর্ত নয়। আবার ক্ষেত্র বিশেষে ওলীগণ উনারা কারামত প্রকাশ করার জন্যে আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে আদিষ্ট হন। তাই বিভিন্ন ওলীগণ উনাদের জীবনীতে দেখা যায়, ক্ষেত্র বিশেষে ওলীগণ মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় উনাদের কারামত সাধারণ মানুষের নিকট প্রকাশ করেছেন।

চৌধুরী হয়তো জানে না যে, তিনি যার আশেক, তিনিও অসংখ্য কারামত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি উনার অলৌকিক ক্ষমতা বা রূহানী শক্তি বলেই তৎকালীন উনার রূহানিয়তের বদৌলতে এক কোটি  বিধর্মী ঈমান লাভ করেছিলেন। অসংখ্য শত্রুদের মিত্র করেছিলেন এবং মুসলমান করেছিলেন।

জনাব চৌধুরীর মতে কোনো পীর ছাহেব উনার অলৌকিক ক্ষমতা যদি কালো শিল্পের চর্চাই হয়, তবে বলতে হবে খাজা বাবা তিনিও একজন কালো শিল্পের চর্চাকারী ছিলেন। নাউযুবিল্লাহহি মিন যালিক!

আর জনাব চৌধুরী যেহেতু খাজা বাবা উনার একনিষ্ট আশেক সেহেতু তিনিও একজন কালো শিল্পের চর্চাকারী বলতে হবে।

এখানে আরো একটা কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কোনো ঔষুধ যদি রোগীর রোগ সারাতে পারে, তবে একটা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পানি পড়া বা তাবিজে রোগ সারাতে পারে না কেন? কোনো মানুষ যদি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের চর্চা করে এবং আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু হতে পারে, আর সে ওলী যদি এক দৃষ্টিতে একজন চোর বা বদমায়েশের বদমায়েশী ছাড়াতে পারেন, তবে কেন সেই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ দিয়ে একজন ওলী তিনি রোগীদের রোগ সারাতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন। তার অসংখ্য প্রমাণ রয়ে গেছে। উদাহারণ স্বরূপ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যখন যাদু করা হয় তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যখন তিনি জানতে পারলেন, তখন পবিত্র সূরা ফালাক্ব শরীফ ও পবিত্র সূরা নাস শরীফ উনার ১১টি পবিত্র আয়াত শরীফ পড়ে ‘ফু’ দিয়ে যাদুকৃত ১১টি গিট খোলার পর তিনি ভালো হয়ে যান।

এরকম হাজারো প্রমাণ উত্থাপন করা যায়। মুসলমান মাত্রেই একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, রোগ ভাল করার ক্ষমতা কোনো ঔষুধ বা তাবিজের নেই। ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার। মহান আল্লাহ পাক তিনিই রোগ ভালো করেন। তবে কোনো একটা উছীলার মাধ্যমে। কেননা উছীলা ছাড়া খুব কম জিনিসই মহান আল্লাহ পাক প্রদান করে থাকেন। আমরা জানি যে, ফু’কে ঐ বিজ্ঞান ‘ফু’ দিয়ে উড়িয়ে দিবে- যে বিজ্ঞান অপূর্ণ। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন পবিত্র কুরআন শরীফ একটি পরিপূর্ণ বিজ্ঞান। পবিত্র কুরআন শরীফ বিজ্ঞান কিনা তা সহজেই বুঝবার জন্যে মেহেরবানী করে ফরাসী বিজ্ঞান ড: মরিস বুকাইলির লিখা ‘বাইবেল, পবিত্র কুরআন শরীফ ও বিজ্ঞান’ বইখানা পড়ে দেখা যেতে পারে। পবিত্র কুরআন শরীফ একটি পরিপূর্ণ বিজ্ঞান, কিন্তু মানুষের তৈরির বিজ্ঞান এখনও পূর্ণতায় পৌঁছেনি। আর তা কোনদিন সম্ভবও হবে না।

 চৌধুরী : “— আমি ভবিষ্যদ্বানী করে থাকি বিষয় বস্তুর প্রতি আমার একাগ্র মনোযোগের নির্যাস থেকে।”

সমালোচনা : জনাব চৌধুরী একজন ইসলামিক চিন্তাবিদ। আর তিনি ভবিষ্যদ্বানী করেন নিজস্ব মনোযোগ থেকে। চৌধুরীর জেনে রাখা দরকার যে, ‘ফু’কে যেমন অপূর্ণ বিজ্ঞান ‘ফু’ দিয়ে উড়িয়ে দেয় তেমনি কোনো সৃষ্টির ভবিষ্যদ্বানীকেও পবিত্র ইসলাম ‘ফু’দিয়ে উড়িয়ে দেয়। কারণ, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, ‘ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একমাত্র  মহান আল্লাহ পাক তিনিই অবগত, কোনো সৃষ্টি অবগত নন। তবে জরুরত বশত: মহান আল্লাহ পাক তিনিই নিজ অনুগ্রহে কোনো পরহেযগার লোককে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানিয়ে দিতে পারেন। তবে কোনো শয়তানকে নয়। অথচ জনাব চৌধুরী ভবিষ্যদ্বানী করেন মনোযোগ থেকে। ভ-ামীপূর্ণ কথাই বটে, তবে ভন্ডামীর একটা সীমা থাকা উচিত।

চৌধুরী : “আমার রসূল মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতদের জন্যে কোনো পীর, ফকির-দরবেশ দরকার নেই।”

সমালোচনা: জনাব চৌধুরী জানেনা যে তিনি যার আশেক সেই খাজা হযরত মুইনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ উপমহাদেশে সবচেয়ে একজন বড় মর্যাদাবান পীর ছাহেব ছিলেন। খাজা বাবা উনার পীর ছিলেন হযরত উছমান হারুনী রহমতুল্লাহি। খাজা মুইনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেবের ছোহবতে সর্বমোট ২০ বছর ৬ মাস থাকার পর উক্ত যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। অথচ জনাব চৌধুরী পীর-দরবেশ উনাদের গুরুত্বকে একেবারে অস্বীকারই করে ফেললেন। ইতিহাস থেকে প্রমাণিত যে, হযরত নবী-রসূল  আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পরে এ উপমহাদেশে তথা সারাবিশ্বে যুগে যুগে পীর-দরবেশগণ উনারাই পবিত্র ইসলাম প্রচার করেছেন। উনাদের উছীলায় আজকে আমরা মুসলমান হতে পেরেছি।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “প্রত্যেক যামানায় ৭০ জন করে কুতুব (দরবেশ) থাকবেন। আর উনারাই এই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করবেন। পৃথিবীর কোনো ইতিহাস নেই যে, একজন পীরের ছোহবত ছাড়া কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মারেফাত হাছিল করতে পেরেছেন। এমন একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবেনা। হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠা ইমামে আ’যম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম হযরত শাফিয়ী রহমতুল্লাহি তিনি বলেছেন, “ইলমের দিক থেকে পৃথিবীর সমস্ত ইমামেরা হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট সন্তানতুল্য।” অথচ হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এক কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, এত ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা করেও যদি আমি দু’টা বছর পীর ছাহেব উনার ছোহবতে না যেতাম তবে আমি ধ্বংস হয়ে যেতাম।”

পীর ছাহেব উনার গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমাকে পাওয়ার জন্যে উছীলা তালাশ করো।” আর একজন পীর ছাহেব তিনিই হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত, মারিফাত হাছিল করার একমাত্র মাধ্যম বা উছীলা।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং নেককারগণ উনাদের সাথী হও।”

‘কাউল’ কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, “যার পীর ছাহেব নেই তার পীর হলো শয়তান।” এরকম পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অসংখ্য দলীল রয়ে গেছে। কাজেই মুসলমানের জন্যে একজন কামিল পীর ছহেব গ্রহণ করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকে বলে থাকেন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় কোনো পীর প্রথা ছিলো না। কিন্তু একটু ফিকির করলেই দেখা যায়, বর্তমান বিশিষ্ট চারটি মশহুর তরীক্বা দুই জন বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আলী কাররামুল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নিকট থেকে পর্যায়ক্রমে এ পর্যন্ত এসেছে। আর উনাদের মূল ছিলেন, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে কলেমা তৈয়বা শরীফ উনার যিকিরের তা’লীম দিতেন।

তবে যাচাই-বাছাই না করে কোনো পীর ছাহেব গ্রহণ করা যাবে না। এখন জানা প্রয়োজন একজন কামিল পীর ছাহেব উনার যোগ্যতা কী রকম হবে। পবিত্র শরীয়ত উনার যে কোনো মাসয়ালা, সমকালীন সমাজের যে কোনো ধরনের ফিতনা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভিত্তিতে ফয়সালা করার মত যথেষ্ট শরীয়তী জ্ঞান একজন কামিল পীর ছাহেব উনার থাকতে হবে এবং তিনি ইমাম হওয়ার যোগ্যতা রাখবেন। শুধু ইলম থাকলে হবে না, পবিত্র শরীয়ত উনার পরিপূর্ণ আমল এবং ইখলাছ থাকতে হবে। আর একজন পীর ছাহেব হবেন পা থেকে মাথা পর্যন্ত পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ।

উপরোক্ত যোগ্যতা ছাড়াও যিনি পীর ছাহেব হবেন উনাকে অবশ্যই অন্য কোনো যোগ্য বা কামিল জীবিত পীর ছাহেব উনার হাতে হাত রেখে বাইয়াত গ্রহণ করে পীর ছাহেব উনার নিকট থেকে শরীয়তের (ফিক্বাহ ও মারেফাত) তত্ত্বগত এবং ব্যবহারিক ইলম বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এবং সেই অনুযায়ী আমল করে নিজের জাহিরী এবং বাতিনী পরিপূর্ণভাবে পরিশুদ্ধতার মাধ্যমে স্বীয় পীর ছাহেব উনার নিকট থেকে খেলাফত পেতে হবে। অর্থাৎ আমলের দিত থেকে একজন পীর ছাহেব উনার যোগ্যতা হবে  পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সেই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বর্ণনা মত। যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “জীবন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছে উনারাই যারা আত্মশুদ্ধি করেছে, নফসের ইসলাহ করেছে, মহান আল্লাহ পাক উনার নাম অন্তরের অন্তস্থল থেকে স্মরণ করেছে। ক্বলব ও যবানের দ্বারা আল্লাহ যিকির করেছে এবং তারপর মহান আল্লাহ পাক উনাকে স্মরণ করে নামায পড়েছে।”

এই গেলো সংক্ষেপে একজন কামিল পীর ছাহেব উনার যোগ্যতা। এখন জানা প্রয়োজন, একজন কামিল পীর ছাহেব উনাকে কিভাবে চিনা যাবে।

পীর ছাহেব উনাকে চেনার সহজ উপায় হলো-

(১)  যিনি পীর ছাহেব তিনি ফরয-ওয়াজিব এবং পবিত্র সুন্নত মুবারক কখনো ছাড়বেনই না, যদি দেখা যায় যে, ঘন ঘন মোস্তাহাব কাজ ছেড়ে দেন, তবে তাকেও পীর ছাহেব হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

(২) যদি দেখা যায় যে, পীর ছাহেব উনার নিকট যে সমস্ত লোক আসা-যাওয়া করে তাদের মদ্যে বেশিরভাগ লোক সৎ, ধর্মভীরু এবং আল্লাহওয়ালা তবে বুঝতে হবে উক্ত পীর ছাহেব তিনি হক।

(৩) কোন পীর ছাহেব উনার নিকট কিছুদিন যাওয়া-আসার পর যদি নিজের ভিতর মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় উদিত হয় এবং সমস্ত লোভ, লালসা, পাপ কাজ বা ধর্মের নিষিদ্ধ কাজ ছেড়ে দিয়ে পরকালের আমল করতে ইচ্ছে হয়, তবে বুঝতে হবে উক্ত পীর ছাহেব তিনি হক।

(৪) যদি দেখা যায় যে, অপরিচিত কোন লোক পীর ছাহেব উনাকে কোনো প্রকার হাদিয়া বা উপহার সামগ্রী দিতে এলে হারাম-হালাল যাচাই-বাছাই না করে সহজে গ্রহণ করে না সবার সাথে সমান ব্যবহার করে বা সবার প্রতি সমান মনোযোগ দেয় তবে বুঝতে হবে পীর ছাহেব তিনি হক এবং আল্লাহওয়ালা। উনাকে পীর ছাহেব হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। অন্যথায় গ্রহণ করা যাবে না। (চলবে)

ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান

জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)

ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান

সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রসার