-ডা: মুহম্মদ মুশাররফ হুসাইন, (বিএসসি) ডিএইচএমএস
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার সৃষ্টি কৌশল অত্যন্ত রহস্যময়। তিনি কাউকে শ্রমের বিনিময়ে খাদ্য দিচ্ছেন। আবার কাউকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াচ্ছেন। এ নজীর অতিক্ষুদ্র ও সাধারণ জীবের মধ্যেও বিদ্যমান। তার এই সৃষ্টি৬ রহস্যের উপর পর্যালোচনা করার অধিকাংশ সময়েই আমাদের বিদ্যাবুদ্ধি ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে Parasitology নামে একটি শাখা আছে, যার বিষয়বস্তু parasite বা পরজীবী। যে সকল জীব অন্য জীবের উপর নির্ভর করে জীবন ধারন করে তাদেরকে পরজীবী বলে। সাধারণত: এ ক্ষেত্রে যার উপর নিভর করে সে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, আর নির্ভরশীল জীব উপকৃত হয়।
স্পষ্টত: মানুষের পেটে যে ক্রিমি জন্মে তা এ ধরনেরই একটি জীব। এর বৈজ্ঞানিক নাম Helmirthsis পেটের ক্রিমি চার প্রকার-
১। সুতার মত সরু ক্রিমি (Thread Worms)
২। কেঁচোর মত লম্বা, গোল ক্রিমি (Round Worms)
৩। অতি ক্ষুদ্র ক্রিমি (Hook Worms)
৪। খুব লম্বা ফিতার মত গাঢ়যুক্ত ক্রিমি (Taps Worms)
বর্ণনা : সুতার মত ক্রিমি- এ ক্রিমি, দলবদ্ধভাবে ঈধষধস এ থাকে ও ডিম পাড়ার জন্য মলদ্বারে যায়। সেইজন্য মলদ্বার চুলকাতে থাকে। এই ক্রিমি লম্বায় আধা ইঞ্চি হতে এক ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। এদের রং সাদা।
কেঁচোর মত ক্রিমি- এগুলো অনেক বেশি লম্বা হয় সাধারনত: ৪ ইঞ্চি হতে ১২ ইঞ্চি অবধি লম্বা ও কেঁচোর মত দেখতে হয়। এদের রং সাদা। অনেক সময় এ ক্রিমি দু’একটা বমির সঙ্গে মুখ দিয়েও বের হয়ে আসে।
ফিতা ক্রিমি- এগুলি বিরাট লম্বা ও ফিতার মত চ্যাপটা হয়। এদের দেহে গাট থাকে। এরা ৪-৫ ফুট থেকে ২০-২৫ ফুট লম্বা হয়। শুকরের গোশত ভোজন করলে সাধারনত: এই ক্রিমি হয়ে থাকে। এ ক্রিমি হলে শরীর রক্ত শুন্য হয়ে যায়। তাই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
লক্ষণ
(১) ছোটদের রাত্রে দাঁত কিড় মিড় করা, নাক চুলকানো, পেট ব্যথা, গুহ্যদ্বার চুলকানো ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
(২) বড়দের ক্ষেত্রে ঘন ঘন থু থু ফেলা, নাকচুলকানো ইত্যাদি।
(৩) পায়খানা পরীক্ষা করলে তাতে ক্রিমি বা তার পুং পাওয়া যায়।
(৪) অনেক সময় মলের সাথে গোটা ক্রিমিও বের হয়ে পড়ে।
জটিল উপসর্গ
(১) ছোট ছেলে-মেয়েদের ক্রিমি হলে তারা অতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে তাদের রক্ত শুন্যতাও দেখা দিতে পারে।
(২) অনেক সময় ক্রিমি পেট থেকে Oesophagus দিয়ে উপরে উঠে গলকক্ষে প্রবেশ করতে পারে এবং তা শ্বাস নালীতে প্রবেশ করে দমবন্ধ করলে শিমুর পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
(৩) বড়দের পক্ষেও পেটে ক্রিমি থাকলে দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, গা গরম, বমিকরা, কার্যে অনিচ্ছা, অপুষ্টি প্রভৃতি লক্ষন প্রকাশ পেতে পারে।
(৪) বড়দের পক্ষেও পেটে ফিতা ক্রিমি হলে, তারা এত রক্তপাত করে যে তার ফলে তাদের অতি দুর্বলতা এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা
(১) কখনো যেন শিশু মাটি থেকে কিছু খুঁটে না খায় তা দেখতে হবে।
(২) পেপের আঠা অনেকটা নিয়ে তা চর্বির তেলের সঙ্গে (castoroil) লেবুর রসসহ ৩-৪ দিন খেলে এই রোগ উপকার হয়।
(৩) রোজ ভোরে কালমেঘের পাতার রস খাওয়া ভাল।
(৪) আনারসের কচি পাতার রস কয়েক ফোটা খেলে তা খুব বাল ফল দেয়।
(৫) সোমরাজ বীট লবনে ঘসে তা সকালে খালি পেটে রোজ খাওয়ানো ভাল।
পথ্য:
পুরানো চালের ভাত, মাছের হালকা সুরুয়া, পটল, মোচা, নালতেপাতা, নিমপাতা হচ্ছে ভাল পথ্য। মিষ্টি না খাওয়া উচিত। সর্বোপরি আমাদের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে ভাল জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। পচা নোংরা খাদ্য পরিহার করে খোলামেলা জায়গায় বাস করা উচিত।
ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান
জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)
ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান
সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ