ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক

সংখ্যা: ৩০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৯ জন ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট

বিশেষ ঘটনা মুবারক:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৭ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ১৬ই জুমাদাল ঊলা শরীফ মোতাবেক ৯ই সাদিস ১৩৯৩ শামসী লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “একটা বিষয় দেখলাম। এটা এখানেই (৫ম তলা পবিত্র খানকা শরীফ) হবে। হঠাৎ দেখলাম- এখানে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৯ জন ইমাম উনারা এসেছেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে ৯ জন। ৯ জন এসেছেন উনারা। এসেছেন খুব ভালো। কি ব্যাপার? উনাদের বক্তব্য হলো যে, উনাদের নিরাপত্তার সমস্যা হচ্ছে। নিরাপত্তা দিতে হবে। এখন উনারা বসেছেন, নিরাপত্তা দিতে হবে। চিন্তার বিষয়। উনারা যে বসলেন- প্রথম কাতারে ছিলেন হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা ৪ জন। পিছনে বাকী ৫ জন। উনাদের মধ্যে একজন আমাকে বলতেছেন, ‘আসলে উনাদের মধ্যে হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি বেশি যুলুম করা হয়েছে।’ আবার এদিকে হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনি আমাকে বলতেছেন যে, ‘আমার প্রতি বেশি যুলুম করা হচ্ছে।’ বলে উনি সামনে থেকে পিছনে চলে গেলেন। আচ্ছা; ঠিক আছে। আবার উনাদের ঐ পাশে দেখা যায় একটা পর্দা। পর্দার আড়ালে কেউ আছেন। প্রথমে কিছু বুঝা যায়নি সেটা। আমি বললাম- ‘তাহলে উনারা এসেছেন, মেহমানদারী করা দরকার।’ তারপর আমাদের এই পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রে যে গোল রুটি এবং লম্বা রুটি আছে, ওগুলি আনায়ে দিলাম। মানে আমার যারা লোক আছে, তাদেরকে বলেছি এনে দেয়ার জন্য। দেওয়া হলো। উনারা গ্রহণ করলেন, খাইলেন। শেষে দেখি- ডান দিকে যাত্রাবাড়ির হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনিও আছেন। উনিও খেয়েছেন। খাওয়া-দাওয়া করার পর বলতেছেন যে, ‘খাওয়া-দাওয়া তো হলো, তাহলে আমাদেরকে চা খাওয়াইতে হবে।’ উনি নিজ থেকেই বলতেছেন যে, ‘আমরা ৩ প্রকার চা পছন্দ করি। কোন্ ৩ প্রকার? একটা হলো- দুধ চা, একটা রং চা, আরেকটা কি ঐটা বলেননি অর্থাৎ ৩ প্রকার চা পছন্দ করি।’ আচ্ছা ঠিক আছে। আমাদের লোকজন যারা আছে, আমি বললাম- ‘তাহলে চায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।’ তারপর ব্যবস্থা করা হলো।

এখন উনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তখন আমি বললাম, এটা তো কুদরতী বিষয় ছাড়া সম্ভব না। এখন ঐ পর্দার আড়ালে একজন আছেন। পরে আমি বুঝলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আছেন ওখানে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনি ওখান থেকে আমাকে রূহানীভাবে মদদ করতেছেন। যাতে, আমার দ্বারা এই নিরাপত্তার ব্যবস্থাটা হয়ে যায়। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) পরে উনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলো। হওয়ার পরে, খাওয়া-দাওয়া হলো, সব হলো। এরপর শেষ হলো।

হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারা যেখানে ছিলেন তার বাম পাশে কালো একটা পর্দা ছিলো। ঐ পর্দার আড়ালে ছিলেন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। এখন আমি নিরাপত্তা দিবো কি করে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ঐ পর্দার আড়াল থেকে রূহানীভাবে আমাকে মদদ করতেছেন। যাতে, আমি উনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাটা সঠিকভাবে করি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) পরে উনাদের যাহিরী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলো, বাতিনী নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হলো। তারপর খাওয়া-দাওয়া হলো, সবই হলো। পরে অনুষ্ঠান শেষ হলো।

আমার বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা যে, আসলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত মুবারক ছাড়া কোন নেক কাজ করা কখনই সম্ভব না। যখন সব শেষ হয়ে গেলো, তখন আমার স্মরণ হলো- ইমাম তো ১১ জন। তাহলে আর ২ জন কোথায়? ৯ জন এসেছেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে ৯ জন।

তাহলে উনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে কিভাবে করা হবে? উনাদের যাহিরী-বাতিনী নিরাপত্তা কিভাবে দেওয়া হবে? সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি পর্দার আড়ালে থেকে আমাকে মদদ করতেছেন। উনার রহমত মুবারক উনার কারণে সেই কাজটা করা হয়েছে।

এটা আমার বলার উদ্দেশ্য হলো- আসলে ওই নিসবত মুবারক ওখান থেকে হতে হবে। ওখান থেকে নিসবত মুবারক না হলে তো হবে না। এই জন্য যত কিছুই হোক, মূলে হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে হবে। তখন কুদরতী ফায়ছালা হবে। উনাদের এই বিষয়টা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে কুদরতী ফায়ছালা হলো। এখন তাহলে আক্বীদাহ্ কত শুদ্ধ করতে হবে? হুসনে যন কতটুকু পোষণ করতে হবে? এখন এটা তো অনেক বড় বিষয়! এটা তোমরা কতটুকু বুঝেছো জানি না। এটার মধ্যে অনেক হাক্বীক্বত আছে। সব তো আর বর্ণনা করা সম্ভব না। এতটুকু বর্ণনা করলাম। কঠিন; অনেক কঠিন বিষয়।

৯ জন এসেছেন। এখন উনারা বসলেন। আমি দেখলাম, বিষয়টা তো কঠিন। এখন উনারা প্রকাশ্যে এসে বললেন, অর্থাৎ ঐ অবস্থায় বললেন যে, যুলুম করা হচ্ছে। এখন উনারা বললেন যে, ‘হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি বেশি যুলুম করা হচ্ছে বা হয়েছে।’ হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনি দাঁড়িয়ে বললেন যে, ‘না; আমার প্রতি বেশি যুলুম করা হচ্ছে।’ এর মধ্যে একটা হাক্বীকত আছে। উনার প্রতি যে যুলুম করা হয়েছে তা প্রকাশ্যে বুঝার জন্য অনেকগুলি ছূরত রয়েছে। তার মধ্যে একটা ছূরত হলো- পারস্যের রাজকন্যা যিনি ছিলেন, উনাকে তো গ্রহণ করেছেন হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনি। কিন্তু ঐ কাফিরগুলি বলতে চায়- হযরত ইমামুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনি বাদীর সন্তান। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এইভাবে উনাকে যুলুম করা হয়। এটা একটা ছূরত। আরো কিছু আছে। এটা উনি বললেন, বলে আস্তে করে উনি পিছনের সারিতে চলে গেলেন। সামনের সারিতে উনারা ৩ জন থাকলেন। পরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলো।

আমার এটা বলার এখানে মূল উদ্দেশ্যই হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কিন্তু বিষয়টা করালেন। উনার নিসবত মুবারক ছাড়া তো এটা হবে না। এখন এটা মানুষ কি বুঝবে? অনেকের আক্বীদাহ্ শুদ্ধ থাকতে পারে, অনেকের অশুদ্ধ হতে পারে। এটা কঠিন বিষয়। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইমাম তো ১১ জন। ওখানে ৯ জন ছিলেন। হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার থেকে হযরত ইমামুত তাসি’ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

আরো দুইখানা বিশেষ ঘটনা মুবারক:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ২৪শে শাওওয়াল শরীফ ১৪৪৭ হিজরী শরীফ লাইলাতুস সাবত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “একখানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ আমরা বলি সব সময়, সেটা হলেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ইবলীসকে বললেন,

فَاخْرُجْ مِنْـهَا فَاِنَّكَ رَجِيْمٌ. وَاِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَـتِــىْ اِلـٰى يَـوْمِ الدِّيْنِ

‘তুই এখান থেকে বের হয়ে যা। নিশ্চয়ই তুই বিতাড়িত। আর নিশ্চয়ই অনন্তকালের জন্য আমার লা’নত তোর প্রতি।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ছদ শরীফ: ৭৭-৭৮)

 ইবলীস যখন বের হয়ে যাচ্ছিলো, তখন সে বলেছিলো যে, মহান আল্লাহ পাক! ইবলীস তো হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জন্য বিতাড়িত হলো, মাল‘ঊন হলো, লা’নতগ্রস্ত হলো, তাই সে কিন্তু হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আওলাদদেরকে, সমস্ত বান্দাদেরকে ছাড়বে না।

قَالَ فَبِعِـزَّتِكَ لَاُغْوِيَـنَّـهُمْ اَجْـمَعِـيْـنَ. اِلَّا عِبَادَكَ مِنْـهُمُ الْمُخْلَصِـيْـنَ

‘সে (ইবলীস) বলেছিলো যে, আপনার সম্মানিত ইয্যত মুবারক উনার ক্বসম! অবশ্যই অবশ্যই আমি তাদের (আপনার সমস্ত বান্দাদের) সবাইকে গোমরাহ্ করে ফেলবো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তবে, আপনার বান্দাদের মধ্যে যাঁরা মুখলাছ রয়েছেন, উনারা ব্যতীত।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ছদ শরীফ: ৮২-৮৩)

ইবলীস কিন্তু এটা ক্বসম করেছে। সেজন্য সে কাজ করে যাচ্ছে। তার কাজ বন্ধ নেই। সে সব সময় সেটা করে থাকে।

আজকে কয়েকটা কথা আমি তোমাদেরকে বলবো। তোমরা যে, যিকির-ফিকির করো না। অনেকে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করো না, পালিয়ে থাকো। ছোহবত মুবারক-এ আসলে, আসার আগে যাওয়ার চিন্তা করো। আবার কিছু লোক কিছু দিন থাকে। তারপর কিছু গোমরাহ্ হয়ে যায়, কিছু ফেরারী হয়, কিছু পালিয়ে যায়, কিছু মুনাফিক্ব হয়ে যায়। এখন যাদের নছীবে হিদায়াত আছে, তারা ফিরে আসে। আর হিদায়াত না থাকলে ফিরে আসে না। তাছাউফের একটা উছূল হলো- কোনো হক্ব সিলসিলাতে কোনো বদবখত ব্যক্তি ইস্তিক্বামত থাকতে পারে না। সে আসলেও কিছু দিন থাকে, পরে সে চলে যায়।

এখানে আরেকটা বিষয় আছে, সেটা হলো- এই যে  ইবলীস মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্বসম করেছে যে, সে সমস্ত বান্দাদেরকে গোমরাহ্ করে ফেলবে; একমাত্র যাঁরা মুখলাছ উনারা ছাড়া। এরকম একটা ঘটনা আছে, যেটা আমি তোমাদেরকে কখনো বলিনি। সেটা হলো- আজকে থেকে ৫০-৫২ বছর আগে হবে। আমি যখন অনেক বেশি যিকির-ফিকির ও রিয়াজত-মাশাক্কাত করতাম, ঐ সময়ের ঘটনা। ইবলীস অনেক দিন এসেছে আমার কাছে। অনেক রকম এলোমেলো কিছু করার জন্য। সে পারেনি। তাই, সে গোস্বা করে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার ইবলীস শয়তান নিয়ে আসতো আমার সাথে যুদ্ধ করার জন্য। প্রতিদিন আমি সবগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অনেক দিন হলো এরকম। পরে একদিন ইবলীস গোস্বা করে ঘোষণা দিলো যে, সে আমার সাথে যুদ্ধ করার জন্য ১ লক্ষ বড় বড় শয়তান নিয়ে আসবে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমার ক্ষতি করা। আমি বলেছি, ঠিক আছে। সত্যিই সে একদিন ১ লক্ষ বড় বড় শয়তান নিয়ে আসলো আমার সাথে যুদ্ধ করার জন্য। আমি আস্তে আস্তে ১ লক্ষ বড় বড় শয়তান প্রায় সবগুলিকে মেরে ফেললাম। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কিছু পালিয়ে গেছে। বাকি সবগুলি মারা গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো  ইবলীসকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত হায়াত দিয়েছেন। সে তো মরবে না।  পরে ইবলীস শেষ পর্যন্ত গোস্বা করে আমার পবিত্র বাম নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) উনার মধ্যমা পবিত্র নূরুশ শক্ব মুবারক-এ (পবিত্র আঙ্গুল মুবারক-এ) কামড় দিয়েছিলো। কামড়ে অবশ্য পবিত্র নূরুশ শক্ব মুবারকখানা (পবিত্র আঙ্গুল মুবারকখানা) কিছুটা কেটে গিয়েছিলো এখানে। কিছু রক্ত বের হয়েছে। যাই হোক; পরে ঠিক হয়ে গেছে। ইবলীস তখন যাওয়ার সময় বলেছে, ‘আমি তো পারলাম না আপনার সাথে। তাই, আপনার কাছে যারা আসবে, এদেরকে কিন্তু আমি গোমরাহ্ করে ফেলবো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! এটা বলে সে পালিয়ে গেলো। অনেক দিন সে আর আমার কাছে আসেনি। যদিও আমি তাকে দেখতাম আশেপাশে; কিন্তু সে আমাকে দেখলে পালিয়ে যেতো।

শেষে আমি একটা ঘটনা মুবারক বলেছিলাম কয়েক বছর আগে- ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ২৯শে যিলক্বদ শরীফ লাইলাতুল খ¦মীস শরীফ (বৃহস্পতিবার রাত)। আমি মহাসম্মানিত ৮ই যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল খ¦মীস শরীফ দেখলাম- ইবলীস আর ইবলীসের সাথে তার একটা শাগরেদ, চেলা আসলো। ওরা আসলে লাঠি নিয়ে মারামারি করতে এসেছে। আমিও একটা বড় বাঁশ নিয়েছি। যা হোক; আমি পরে কিভাবে যেন এদেরকে ধরে ফেলেছি। এরপর আমার পাশে ছিলেন হযরত শাহ্নাওয়াসা-শাহ্নাওয়াসী আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সবাই। যখন ধরে ফেলেছি, তখন হযরত শাহ্নাওয়াসা-শাহ্নাওয়াসী আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনারা আমাকে বললেন যে, ‘নানা! আমাদেরকে ছোট শয়তানটাকে দিয়ে দিন।’ (মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এই সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাক্বরীর মুবারক অর্থাৎ তাবাস্সুমী শান মুবারক প্রকাশ করে অর্থাৎ মুচকী হাসি মুবারক দিয়ে বলেন-) ঠিক আছে। আমি দিয়ে দিলাম। উনারা ছোট শয়তানটাকে শাস্তি দিতে দিতে ওটাকে একবারে শেষ করে ফেলেছেন। আর বড়টাকে আমি ধরেছি। আমি এটাকে ধরে মাটিতে ফেলে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক (পা মুবারক) দিয়ে এটার মাথায় পারা দিয়ে ধরে রেখেছি। এটা উপুর হয়ে পড়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে আমাকে সিজদাহ্ দিচ্ছে। আমি বললাম- ‘তোকে শেষ করে দিবো।’ ইবলীস তখন বলতেছে যে, ‘ইবলিসকে তো কেউ মারতে পারবে না।’ কেনো? সে বললো- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ইবলীসকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত হায়াত দিয়েছেন।’ আচ্ছা ঠিক আছে; তাহলে তওবা কর। সে বললো- ‘ইবলীস তো তওবা করতে পারবে না।’ আমি বললাম- ‘কেন?’ সে বললো- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যে তাকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত লা’নত দিয়ে দিয়েছেন, এজন্য ইবলীস তওবা করতে পারবে না।’ আমি বললাম- ‘তাহলে কি করতে হবে?’ সে বললো- ‘ইবলীসকে শাস্তি দেয়া যাবে; কিন্তু ইবলীস মরবেও না, তওবাও করতে পারবে না।’ তাকে পারা দিয়ে রেখেছি। অনেকক্ষণ পরে দেখি- ইবলীস রক্ত বমি করা শুরু করেছে, রক্ত বমি। রক্ত বমি করতেছে। পরে আমি দেখলাম যে, তাহলে তো এটা মরবেও না, এটা তওবাও করবে না। তখন আমি তাকে বললাম- তোকে ছেড়ে দিবো। তবে, তুই আর জীবনে কখনো এখানে আসবি না। সে বললো- আচ্ছা; ঠিক আছে। তখন এটাকে শাস্তি দিয়ে আমি বললাম- তাহলে ঠিক আছে; তাড়াতাড়ি যা এখান থেকে। ভাগ এখান থেকে। পালা। বলার সাথে সাথে চোখের পলকে এটা পালিয়ে গেছে, গায়েব হয়ে গেছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

এটা বলার আমার উদ্দেশ্য হলো, এই যে তোমরা যারা যিকির-আযকার করো না, ইবলীস কিন্তু তোমাদেরকে ওসওয়াসা দেয়। সে ঐযে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে যে ক্বসম করে এসেছে; সে কিন্তু আমার কাছেও সেই কথাটা বলেছে- ‘আপনার সাথে তো পারা গেলো না; তবে যারা আপনার কাছে আসা-যাওয়া করে বা যারা আশেপাশে থাকে, এদেরকে ওসওয়াসা দিয়ে গোমরাহ্ করে ফেলবো।’  না‘ঊযুবিল্লাহ!

এই জন্য দেখবে- অনেক লোক গোমরাহ্ হয়ে যায়। সে তার অজান্তেই গোমরাহ্ হয়। কারণ, সে তো যিকির-আযকার করে না। যিকির-আযকার না করলে, ইবলীস অবশ্যই ওসওয়াসা দিবে। এই যিকির-আযকারের অভাবের কারণে ইবলীসের তার ওসওয়াসা দেওয়াটা সহজ হয়। এটা কিন্তু কঠিন বিষয়। যিকির-আযকার না করলে শয়তান তো পালাবে না। এজন্য অনেক যিকির করতে হবে। অনেক যিকির-আযকার করতে থাকলে, একেবারে মাথার তালু থেকে, অর্থাৎ চুল থেকে শুরু করে পায়ের তলা পর্যন্ত যিকির যখন জারী হবে, সমস্ত কলিজা, গুর্দা, মগজ যা আছে, তখন শয়তানটা বের হয়ে যাবে। ওটা হলো ফরযে আইন।”

তাহলে যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সাথে ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মহাবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী ছহীহ্ সমঝ, বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও হুসনে যন মুবারক দান করুন। আমীন!

-আল্লামা মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।

আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাব নিয়ে আব্দুল মালেক ও হেমায়েতের মিথ্যাচারিতা ও জালিয়াতির দাঁতভাঙ্গা জবাব

সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে দস্তরখানায় খাবার খাওয়ার বেমেছাল গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক

কুকুর নিধনে শরঈ ফতওয়া

মূর্তি ও মন্দির ভেঙ্গে ফেলা খাছ সুন্নত মুবারক

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে