মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম
বাংলা একটি ভাষার নাম। এ ভাষার নাম অনুসারে আমাদের দেশের নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশ। সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন লোকের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটির মত। তার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশে ১১ কোটি এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গে আছে বাকী প্রায় নয় কোটি। ভূ-গোল বলতে আমরা বুঝি গোলাকার পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান। কিন্তু বাংলাদেশ তো আর গোল নয়। তবে এর আবার ভৌগলিক বিবরণ কিসের? এ প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আমাদের মনে পড়ে বাংলা ব্যাকরণের একটি কথা। ভাবসম্প্রসারণে আমরা পড়েছিলাম, “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালিকনা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল।” তেমনিভাবে সারাটা পৃথিবী ছোট বড় প্রায় ১৬৮টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। তার মধ্যে নাওরুর মত সোয়া আট বর্গমাইল আয়তন হতে শুরু করে রাশিয়ার মত ৮৬ লক্ষ বর্গমাইলের আয়তনের দেশও রয়েছে। কাজেই এ রকম প্রত্যেকটি দেশেরই একটা ভৌগলিক বিবরণ আছে। এ ভৌগলিক বিবরণ দিতে গেলে ভূগোল শাস্ত্রকে আবার কয়েক ভাগে ভাগ করতে হয়।
বর্ণনার সুবিধার্থে ভূ-গোল শাস্ত্রকে মোটামুটি চার ভাগে ভাগ করা যায়অ যথা- (১) প্রাকৃতিক ভূ-গোল (Physical Geography), (২) অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক ভূ-গোল (Economical and Commercial Geogra-phy), (৩) গানিতিক ভূ-গোল (Mathematical Ge-ography) এবং (৪) রাজনৈতিক ভূ-গোল (Political Geography).
প্রাকৃতিক ভূ-গোলের আলোচনার বিষয় হল পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, বায়ু মন্ডল। অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক ভূ-গোলের আলোচনার বিষয় হলো মানুষের অর্থনৈতিক জীবন যাত্রার সাথে পার্থিব পরিবেশের সম্পর্ক। গানিতিক ভূগোলের আলোচনার বিষয় হলো সৌর জগৎ, পৃথিবীর আকার, আয়তন ও গতি, অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ, ঋতু পরিবর্তন দিবা-রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি প্রভৃতি। আর রাজনৈতির ভূ-গোলের আলোচনার বিষয় হলো পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, লোক বসতি, সরকার ও শাসন পদ্ধতি।
বাংলাদেশের সীমা : বাংলাদেশের মোট সীমারেখা ২৯২০ মাইল। এর দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বার্মা ও ভারত, উত্তরে ভারত এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিম বঙ্গ।
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান: সারা পৃথিবীকে সাতটি মহাদেশে এবং পাঁচটি মহাসাগরে ভাগ করা হয়েছে। মহাদেশগুলো হলো- এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিন আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া ও এন্টার্কটিকা। আর পাঁচটি মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর ও দক্ষিণ মহাসাগর। বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিন পূর্বাংশে অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচাইতে কাছে যে মহাসাগরটি তার নাম ভারত মহাসাগর। উহা বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রায় ২০০ ৩র্ বিশ ডিগ্রী ৩ মিনিট) উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৬০ ৩৮র্ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮০ ০১র্ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯২০ ৪১র্ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
অক্ষাংশঃ পৃথিবীর উত্তর প্রান্ত বিন্দুকে বলা হয় সুমেরু এর দক্ষিন প্রান্ত বিন্দুকে বলা হয় কুমেরু। সুমেরু ও কুমেরু হতে সমান দুরে রেখে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে বেষ্টন করে একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে, ইহাকে বিষুব রেখা বলে। বিষুব রেখা হতে উত্তরে বা দক্ষিনে কোন স্থানের কৌনিক দূরত্বকে সে স্থানের অক্ষাংশ বলে। অক্ষাংশ ডিগ্রী, মিনিট ও সেকেন্ডে বিভক্ত। ১০=৬০র্ আবার ১র্ =৩০র্ কৌনিক দূরত্ব: পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু হতে বিষুব রেখা পর্যন্ত একটি রেখা এবং সুমেরু বা কুমেরু পর্যন্ত অপর একটি রেখা টানলে পৃথিবীর কেন্দ্রে ৯০ ডিগ্রী মানের একটি সমকোন উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ বিষুব রেখা হতে সুমেরু বা কুমেরুর কৌনিক দূরত্ব ৯০ ডিগ্রী। ৯০ ডিগ্রী এই হিসাবে যে, বিষুব রেখা হতে সুমেরু বা কুমেরু পর্যন্ত অঞ্চলকে ৯০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তার প্রতিভাগকে বলে ১ ডিগ্রী। ১ ডিগ্রী অক্ষাংশের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠে স্থানের ব্যবধান ৬৯ মাইল।
প্রাশাসনিক বিভাগ: বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি প্রশাসনিক বিভাগ আছে। যথা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা। চারটি বিভাগে আবার ৬৪টি জেলা রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫টি, রাজশাহী বিভাগে ১৬টি এবং খুলনা বিভাগে ১৬টি জেলা আছে। তাছাড়া ৪৬০টি উপজেলার ৩৫টি থানা, ৪৪৭২টি ইউনিয়ন, ৬০২১৫টি মৌজা, ৮৫৬৫০টি গ্রাম এবং ৮০টি পৌরসভা রয়েছে।
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি (Physical Features of Bangladesh) : বাংলাদেশ পৃথিবীর এক বৃহত্তম বদ্বীপ। এর উপর দিয়ে অসংখ্য নদী বয়ে গেছে। তার মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, শীতলক্ষা, কর্ণফুলী প্রভৃতি প্রধান। বাংলাদেশের ভূখ- উত্তর হতে দক্ষিনে ক্রমশঃ ঢালু হয়ে অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাংশে ও দক্ষিন পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশই এ সকল নদ॥নদীর পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
ভূমির অবস্থা এবং গঠনের সময়ানুক্রমিক দিক হতে বাংলাদেশের ভূ॥প্রকৃতিকে তিনটি বিভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা- (১) টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহ (২) প্রায়োষ্টোসিন যুগের উচ্চ ভূমি ও (৩) সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমি।
(১) টারশিয়ারী যুগের পাহাড় সমূহঃ রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলবী বাজার ও হবিগঞ্জের পাহাড়ী এলাকাগুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬০০ মিটার। তবে ইহা দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ের হিসাব। দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন একটি চূড়া অবস্থিত যার নাম ফেওফারাড়ং। এর উচ্চতা ১২২৯ মিটার। সিলেট এলাকার পাহারগুলোর গড় উচ্চতা ৬০-৯০ মিটারের মধ্যে। পাহাড়গুলোর গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃক্ষরাজির বন এবং অসংখ্য ঝোপ জঙ্গল রয়েছে।
(২) প্লাইস্টোসিন যুগের উচুঁ ভূমি: বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাংশের সুবিশাল বরেন্দ্রভূমি। মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই উচুঁ ভুমি এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের মাটি লাল ও ধূসর। বরেন্দ্রভূমি এলাকার ভূমি অসমতল। মাটি লাল ও কাকরময়। এ বরেন্দ্রভূমি প্লাবন সমভূমি হতে ৬ মিটার থেকে ১৩ মিটার উপরে অবস্থিত। গভীর খাত বিশিষ্ট আঁকা॥বাঁকা কয়েকটি স্রোতস্বীনি এ অঞ্চলে রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষি কাজের জন্য বিশেষ উপযোগী। ধান এখানকার প্রধান কৃষিজ ফসল। এ ছাড়া পাট, ভূট্টা, পান প্রভৃতিও কিছু কিছু উৎপন্ন হয়। লালমাই পাহাড় কুমিল্লা শহরের ৮ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। ইহার আয়তন ৩৪ বর্গ কি.মি.। ইহার গড় উচ্চতা ২১ মিটার। তবে সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪৬ মিঃ।
(৩) সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমি : টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লায়োস্টোসিন যুগের উচুঁ ভূমি ব্যতীত সারা বাংলাদেশ প্রায় সমতল। এই সমতল ভূমির মাটি উর্বর এবং বর্ষার পানি প্লাবিত করে। এই সমতল ভূমিতে ধান, গম, আখ প্রভৃতি ফসল ফলে থাকে।
[ দ্রাঘিমাংশ : পৃথিবীর উত্তর মেরু হতে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত সমস্ত বিষুব রেখার উপর দিয়ে ৩৬০টি অর্ধ বৃত্তাকার সংযোগ রেখা কল্পনা করা হয়েছে। ইহার প্রতিটি রেখা ১ ডিগ্রী অন্তর অন্তর কল্পনা করা হয়েছে। এই রেখাগুলোকে মধ্য রেখা বলে। তার মধ্যে একটি মধ্য রেখাকে আবার মূল মধ্যরেখা হিসাবে স্থির করা হয়েছে। যা গ্রীনিচ উপকূল দিয়ে গেছে। গ্রীনিচ উপকূল দিয়ে চলে যাওয়া মধ্যরেখাকে শূন্য ডিগ্রী ধরে উহার পূর্বে বা পশ্চিমে কোন স্থানের কৌনিক দূরত্বকে সে স্থানের দ্রাঘিমাংশ বলে। ]
ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান
ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান
সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ