তাসাউফ: প্রসঙ্গ: ইখলাছ ও আউলিায়ে কিরমাগণ

সংখ্যা: ০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম

আওলিয়াকুল শিরোমনী, তারেকে দুনিয়া খোদা প্রেমিক হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, ইসলামের জগতে ইখলাছের সাথে ইবাদত করলে মহান আল্লাহ পাক উনার কতটুকু সন্তুষ্টি লাভ করা যায় তার একটি উজ্জল নিদর্শন। এ ব্যতীত হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনে আমরা নিম্নলিখিত পবিত্র কুরআন পাক উনার মধ্যে পবিত্র আয়াতে করীমাদ্বয়ের প্রতিফলন দেখতে পাই। “সাবধান! কেবলমাত্র অবিমিশ্রিত খাঁটি ধর্ম-কর্মই মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য।” (পারা ২৩, সূরা যুমার) তিনি আরো বলেছেন- “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি ভিন্ন যাদিগকে তোমরা (সাহার্যার্থে) ডাকছ বা উপাসনা করছ তারা তোমাদের ন্যায় (অক্ষম) দাস।” (পারা-৯, সূরা আরাফ, রুকু-২৪)

হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দামেশক নগরীর একজন ধনী অধিবাসী ছিলেন। তিনি হযরত মোয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নির্মিত দামেশক জামে মসজিদে এক বৎসরকাল এ উদ্দেশ্যে এতেকাফ করেছিলেন যে, যদি তিনি সেখানে ইবাদতে মশগুল থাকেন তবে সকলে বিশ্বাস করে উনাকে সে মসজিদ সংলগ্ন সম্পত্তির মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করবেন। এ আশায় বশীভূত হয়ে তিনি সর্বক্ষণ নামাজে ও ইবাদতে মশগুল থাকতেন। অথচ মনে মনে নিজকে মোনাফেক এবং কপট বলেই জানতেন। এরূপে এক বৎসরকাল অতিবাহিত হয়। একদা রাত্রে তিনি মসজিদ হতে বের হয়ে শুনতে পেলেন, যেন কেহ বলছেন- “ওহে মালেক! তুমি কেন তওবা করছ না?” হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইহা শুনে বিচলিত হলেন ও ভাবতে লাগলেন এক বৎসরকাল কপটভাবে ইবাদত করেছি। ভক্তি ও ইখলাছের সাথে কিছুই করলাম না, এ অনুতাপ করতে করতে সে রাত্রি হতে পবিত্র ও সরল অন্তুকরণে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে মশগুল হলেন। পরদিন প্রাতে মুসল্লিগণ মসজিদে এসে পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, মসজিদে বড়ই বিশৃঙ্খলা ঘটছে। একজন উপযুক্ত মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করা হলে মসজিদের কাজ সুচারূপে সম্পন্ন হবে। মালেক ব্যতীত আমরা অন্য কাকেও এ কাজের উপযুক্ত পাত্র মনে করি না। অতঃপর সকলে একমত হয়ে হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খেদমতে উপস্থিত হলো এবং মোতাওয়াল্লীর পদ গ্রহণ করতে উনাকে অনুরোধ করলো। হযরত মালেক দীনার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন- হে খোদা তাআলা! এক বৎসরকাল মোনাফেকের মত ইবাদত করেছি, কিন্তু কাকেও আমার প্রতি একবার দৃষ্টিপাত পর্যন্তু করতে দেখিনি। আর একটি মাত্র রাত্র সরল মনে (ইখলাছের সাথে) ইবাদতে মশগুল ছিলাম বলে তুমি মোতাওয়াল্লীর পদ প্রদানের জন্য কতিপয় ব্যক্তিকে আমার নিকট পাঠিয়েছ। আমি তোমার রহমতের কসম (শপথ) করে বলছি, এখন আমার সে আকাঙ্খা আর নেই। এ বলে তৎক্ষনাৎ তিনি মসজিদ হতে বের হয়ে পড়লেন এবং মোতাওয়াল্লীর পদ গ্রহণে অসম্মত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন।  পীরানে পীর ও মারেফাতের বাদশাহ হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং কামরুস সুফীয়া (সুফী) সম্প্রদায়ের চাঁদ) হযরত আবুল হাসান নূরী বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম ইতিহাসে ইখলাছের এক উজ্জল নক্ষত্রস্বরূপ। এই যুগশ্রেষ্ট মহাত্ত্বদ্বয় সমসাময়িক ছিলেন এই মহা পুরুষদ্বয়ের জীবনে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার নিম্নলিখিত আয়াতে কারীমার প্রতিফলন দেখা যায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন মজিদে ইরশাদ করেন- “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হচ্ছে সবচেয়ে বড়।” (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)

তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন- “আর ঐ সমস্ত লোকেরা ব্যয়িত মালের অবস্থা যারা নিজেদের মাল ব্যয় করে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের এবং স্বীয় আত্মাসমূহের দৃঢ়তা সাধনের উদ্দেশ্যে (তাদের) দৃষ্টান্তু এমন বাগানের ন্যায় যা কোন টিলার উপর অবস্থিত যাতে প্রবল বৃষ্টিপাত হলো, ফলে ঐ বাগান দ্বিগুণ ফল-শস্য উৎপন্ন করল। আর যদি প্রবল বৃষ্টিপাত না হয়তবে হালকা বৃষ্টিও এর জন্য যথেষ্ট।” (টিকা : প্রবল বৃষ্টি বলতে প্রচুর দান এবং হালকা বৃষ্টি বলতে সামান্য দান বুঝান হয়েছে) ফলকথা জমি উর্বর হলে যেমন কোন অবস্থাতেই শস্য নষ্ট হয়না, তদরূপ ইখলাছ থাকলে অর্থাৎ লোক দেখানো উদ্দেশ্য না থাকলে দান নষ্ট হয় না। কোন এক ব্যক্তি বলেছেন- আমি হযরত আবুল হাসান নুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রকাশ্য সড়কের উপর দু’হাত বিস্তার পূর্বক প্রার্থনা করতে দেখে বিস্ময়াম্বিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ বিষয়টি হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমীপে জ্ঞাপন করলে তিনি বলেছিলেন- তুমি কখনই মনে করো না যে, হযরত নুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মানুষের নিকট কিছু ভিক্ষা প্রার্থনা করছেন; বরং তিনি মানুষের মঙ্গলের জন্য এবং পরলোকে তাদের সওয়াব প্রাপ্তির জন্য হস্ত সম্প্রসারন পূর্বক আল্লাহ পাকের নিকটে প্রার্থনা করে থাকবেন। যাতে ইহলোক এবং পরলোকে মানুষের মঙ্গল হয় এবং কোন প্রকার ক্ষতি তাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে। একথা বলে হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাকে একখানি নিক্তি আনতে আদেশ দিলেন।

আমি নিক্তি এনে হাজির করলে তিনি তা দ্বারা স্বহস্তে একশত দেরহাম রৌপ্য মুদ্রা ওজন করে একটি পাত্রে রেখে দিলেন। অতঃপর এর সাথে বিনা ওজনে ও বিনা গণনায় কিছু সংখ্যক মুদ্রা মিশিয়ে আমার হস্তে প্রদান পূর্বক বললেন- এ মুদ্রাগুলো হযরত নুরী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে দিয়ে আস। আমি ভেবে বিস্মিত হলাম, পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য লোকে নিক্তি দ্বারা ওজন করে থাকে, ইনি একশত দেরহাম ওজন করার পরে বিনা ওজনে তৎসঙ্গে এক মুষ্টি মুদ্রা মিশিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ মুদ্রাগুলোর পরিমাণ অগর্নিত করে ফেললেন কেন? যা হোক আমি মুদ্রাগুলো হযরত নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট নিয়ে হাজির করলাম। তিনি আমাকে একখানি নিক্তি আনবার জন্য আদেশ করলেন। নিক্তি হাজির করা হলে তিনি তা দ্বারা একশত দেরহাম মুদ্রা ওজন করতঃ আমার হস্তে প্রদান করে বললেন- এ একশত দেরহাম হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে ফেরত দিও। অবশিষ্ট মুদ্রাগুলো তিনি নিজের জন্য রেখে দিয়ে বললেন- বাস্তবিক হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি একজন মহা চতুর লোক, তিনি উভয় পার্শ্বে রশি জড়িয়ে রেখেছেন।

আমি হযরত নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এ উক্তি শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম। হযরত নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি যে একশত মুদ্রা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্য উনাকে ফেরত দেয়ার জন্য আমার হস্তে প্রদান করলেন আমি তা নিয়ে হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে প্রদান পূর্বক সমস্ত বিষয় আদ্যপান্তু বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ পাকের দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করছি, যে পরিমাণ দেরহাম উনার জন্য ছির তাই তিনি গ্রহণ করেছেন। আর যা আমার জন্য ছির তা তিনি ফেরত দিয়েছেন।

আমি উভয় মহোদয়ের কাজ ও উক্তির কোন তাৎপর্য হৃদয়ঙ্গম করতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম- হযরত ইহার অর্থ কি? তিনি বললেন আমার প্রেরিত সমস্ত মুদ্রাগুলোর মধ্য হতে এই একশত মুদ্রার সওয়াব আমি পরকালে পাওয়ার আশায় পাঠিয়েছিলাম আর অবশিষ্ট মুদ্রাগুলো কোন ব্যক্তিগত স্বার্থের উদ্দেশ্য ব্যতীত কেবল মাত্র আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি এবং প্রশন্নতা লাভের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলাম। যা মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াস্তে বিনা স্বার্থে (আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য) পাঠানো হয়েছিল কেবল তাই  তিনি রেখেছেন। আর যে একশত মুদ্রা আমি আমার ব্যক্তিগত স্বার্থের অভিপ্রায়ে অর্থাৎ পরকালে পূন্য প্রাপ্তির আশায় পাঠিয়েছিলাম তা তিনি গ্রহন না করে ফেরত দিয়েছেন। (টীকাঃ এখানে যেহেতু পরলৌকিক পূর্ণ অর্জন মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না। কাজেই নুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইহা গায়রুল্লাহ।

হযরত যুননুন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি মিসরের অধিবাসী, সৎপথ প্রদর্শকদের অগ্রনী, মহা বিচারদিনের প্রদীপ, তত্ত্বজ্ঞানের সুক্ষ্মদর্শী, বাদশাহ, দরিদ্রের বন্ধু, বিপদে পথপ্রদর্শক এবং সাধনায়ও একজন অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন মহা মানব্য ছিলেন।

আউলিয়াকুল শিরোমণি সুলতানুল আরেফিন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি অসাধরাণ কারামত সম্পন্ন এবং এলমে তাছাউফ জ্ঞানী ছিলেন। তৎকালে হাদিস শাস্ত্রে উনার সমতুল্য আর কেউ ছিলেন না। হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “তিনি ওলিদের মধ্যে এতদুর উন্নত ও সম্মানী ছিলেন, যেমন হযরত ফেরেশতা আলাহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে হযরত জিবরাঈল আলাইহিসালাম।” তিনি এশিয়ার অন্তুর্গত ইরানের বোস্তাম প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন।

উপরোক্ত মহান আউলিয়া কিরামদ্বয় দ্বীন ইসলাম উনার ইতহাসে এখলাছের সাথে ইবাদত করেই তারকা সদৃশ্য হয়েছেন উনাদের জীবনে আমরা পবিত্র কুরআন পাকের নিম্নোক্ত আয়াতের করিমার বাস্তবায়ন দেখতে পায়ঃ আমি জ্বিন ও ইনসান জাতিদ্বয়কে কেবল মাত্র আমার এবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অন্যত্র ইরশাদ মুবারক ফরমান : তাদেরকে অন্যান্য যাবতীয় পদার্থ হতে মুখ ফিরায়ে নিয়ে এখলাছের সাথে কায়মনোবাক্যে কেবল মাত্র মহান আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মশগুল থাকতে আদেশ করা হয়েছে।    উপরোক্ত পবিত্র কুরআন পাক উনার আয়াতে করীমাদ্বয় বিশ্লেষন করলে আমরা দেখতে পায় যে, প্রকৃত পক্ষে প্রথম আয়াতটির ব্যাখ্যা হচ্ছে দ্বিতীয় আয়াতে করীমাটি।

আয়াতদ্বয়ের মর্মার্থ হচ্ছে এই যে, আল্লাহ পাক যাবতীয় পদার্থ হতে মুখ ফিরিয়ে কেবলমাত্র উনার জন্যই ইবাদত করতে বলেছেন। এখন কেউ যদি বেহেশত লাভের অথবা দোযখের ভয়ে ইবাদত করে তবে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহনযোগ্য হবে না। কেবলমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তেুাষের জন্যই এবাদত করতে হবে। বরং বড় বড় আওলিয়া কিরামগণ আল্লাহ পাকের সন্তেুাষকেও মহান আল্লাহ পাক হতে ভিন্ন করে দেখেছেন। উনাদের মতে কেবলমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাওয়ার জন্যই ইবাদত করতে হবে।

একদিন হযরত যুননুন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি কে কাঁদতে দেখে এক ব্যক্তি তার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন গতরাত্রে সিজদার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে মেছালি ছুরতে স্বপে¦ দেখি। তিনি আমাকে বললেন, “ওহে আবুল ফয়েয। আদম পয়দা হলে তারা দশভাগে বিভক্ত হয়। আমি দুনিয়াকে তাদের সম্মুখে উপস্থিত করি। নয় ভাগ লোক দুনিয়া (সংসার)কে গ্রহন করে, কেবল একভাগ লোক উহা গ্রহন করে না। এই পরিত্যক্ত একভাগ আবার দশভাগে বিভক্ত হয়। তাদের নিকট তখন আমি বেহেশত উপস্থিত করি, নয় ভাগ লোক বেহেশতের প্রতি আসক্ত হয়। তারপর বাকীদের আবার দশ ভাগ করি ও তাদের নিকট দোযখ উপস্থিত করি। নয়-ভাগ লোক ভয়ে দোযখের নিকট হতে পলায়ন করে; কেবল একভাগ থেকে যায়। তারা না সংসারের মায়ায় মুগ্ধ হল, না বেহেশতের কামনা করল, না দোযখের ভয়ে ভীত হয়। তারপর জিজ্ঞেস করলাম ‘হে প্রিয় বান্দাগণ! তোমরা সংসারের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে না; বেহেশতের আশা করলে না দোযখকেও ভয় করলে না। বলত, তোমরা কি চাও?’ সকলেই মাথা নত করে বলল- আপনিই জানেন আমরা কাকে চাচ্ছি? হযরত বায়জীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন “যখন আমার অন্তুর পরিস্কার হলো, তখন আমার মন মওলার খুশির ধ্বনি শুনতে পেল। তিনি আমার প্রতি খুশির চিহৃ দেখালেন এবং আমাকে নুরানী (আলোকিত) করলেন এবং আমার অন্তুকরন ও শরীর হতে সব ময়লা দুর করলেন। আমি অনুভব করলাম যেন এতে আমি জীবিত হয়েছি তিনি বললেন, যা ইচ্ছা চাও। আমি বললাম হে প্রভু তোমাকেই চাই। সমস্ত দানের তুমিই আমার পক্ষে যথেষ্ট। আমি তোমার দ্বারাই তোমাতে তুষ্ট থাকবো। তুমি আমার হলে আমি সমস্ত পাই, তোমা হতে দুরে রেখোনা। তোমা ছাড়া যা কিছু আছে তা আমার নিকট এনোনা।     কিছুকাল তিনি আমার প্রার্থনার কোন জওয়াব দিলেন না, পরে গৌরবের তাজ আমার মাথায় রাখলেন ও বললেন, তুমি হক্ক বল ও হক্ক তালাশ কর এজন্যই তুমি দেখেছ ও শুনেছ।” আমি বললাম- আল্লাহ পাক, যদি আমি হক্ক দেখে থাকি তা তোমা দ্বারাই দেখেছি, আর যদি হক্ক শুনে থাকি তাও তোমা দ্বারাই শুনেছি।

ঈমান, আমল ও ইখলাসে সুন্নাতের তাৎপর্য

আসন্ন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ পবিত্র ১২ই শরীফ উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- ১২টি বিষয় পালন করা ও জারি করা

শুধুমাত্র আরবী জানলেই কুরআন শরীফ বোঝা যায়না

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী এর বেমেছাল তাজদীদ সম্পর্কে এবং তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী ক্বওল শরীফ সম্পর্কে জানতে হলে নিয়মিত সংগ্রহ করুন দৈনিক আল ইহসান

পবিত্র ১৯ শে রমাদ্বান শরীফ বাংলা ভাষার আজাদী দিবস পালন করা কেন জরুরী