তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)

সংখ্যা: ৯৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

এরপর আযিযুল হক “দিওয়ানে আযিযের” ৫১ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা ইকামুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, ৫৩ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা নজীর আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ৫৫ পৃষ্ঠায় আল্লামা আব্দুল হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রশংসা করেছে।

অথচ এই তিনজন বুযুর্গই হচ্ছেন আজমগড়ী সিলসিলার সবচেয়ে মশহুর ওলী হযরত হাফিয হামিদ হাসান আলভী আজমগড়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফাদের অন্তর্ভুক্ত। আর হাফিয হামিদ হাসান আলভী আজমগড়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছয় তবকায় শুধু নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া তরীক্বার দিক দিয়ে আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছে।

এরপর সে “দিওয়ানে আযিয”-এর ৪৭ পৃষ্ঠায় বিশিষ্ট সূফী, বুযুর্গ হযরত আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ৬৭ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা আব্দুল লতীফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম উল্লেখ করেছে। অথচ এই দু’জন বুযুর্গও মুজাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলার অন্তর্ভুক্ত। এতদ্বভিন্ন আরো সূফীদের মধ্যে সূফী আহসানুজ্জামান রহমতুল্লাহি আলাইহি, সূফী নূরুল হক রহমতুল্লাহি আলাইহি, সূফী সাইয়্যিদ শামছুল হুদা রহমতুল্লাহি আলাইহি, গারাঙ্গীয়া সিলসিলার সূফী আব্দুল মজিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মাওলানা মুফতী মোজাফফার আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, কাজী সিরাজুল মুস্তফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, মাওলানা জাফর আহমদ বদরী ছাহেব, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ছাহেব, হযরত মাওলানা মুহম্মদ ছাহেব এবং আরো বহু বুযুর্গানে দ্বীন রয়েছেন যারা ভিন্ন ভিন্ন তরীক্বার মধ্যস্থতায় ফুরফুরা শরীফ উনার পীর ছাহেব হযরত আবূ বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও আমিরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন।

এদের কারো কারো মাযার শরীফ উনার মধ্যে গিয়ে সুন্নী নামধারী এই শের-ই-বাংলা আযিযুল হক সরাসরি ফাতিহা পর্যন্ত পাঠ করেছে এবং বহু বুযুর্গ থেকে রূহানী ফায়দা লুটেছে।

আল্লামা হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি চট্টগ্রাম জেলার একজন বিশিষ্ট ও মশহুর ওলী। উনার সিলসিলার বহু ভক্ত, মুরীদান চট্টগ্রামে রয়েছেন।

আযিযুল হক শেরে বাংলা “দিওয়ানে আযিয”-এ হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের উচ্চ প্রশংসা করেছে, উনাকে কুতুবুল ইরশাদ বলে সম্বোধন করেছে এবং চট্টগ্রাম হালিশহরে উনার মাযার শরীফ উনার মধ্যে একটি অভিনন্দন পত্র বা তাহনীয়ত নামা আয়নায় বাঁধিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। যার মধ্যে উনার সম্পর্কে বহু প্রশংসিত পংক্তি রয়েছে। তন্মাধ্যে কয়েকটি পংক্তি এই যে, “আমাদের সে হাফিয মুনীরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রশংসা আমি কি করব? উনার প্রশংসা করার মত ক্ষমতা আমার আদৌ নেই। যেহেতু তিনি নিঃসন্দেহে একজন শেখে “ফাআল” এবং নিখূঁত ওলী আল্লাহগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বর্তমান যামানার কুতুবুল তিনি ইরশাদ। নিশ্চয়ই উনার মত কামিল পীর আমি এ পৃথিবীতে দেখিনি। সাইয়্যিদ হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি লক্ষ লক্ষ ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ। যেহেতু তিনি মুরীদানদের জন্য নিঃসন্দেহে পূর্ণিমার উজ্জল চন্দ্রের ন্যায় একজন কামিল পীর ছিলেন। তিনি ঈমানদারদের জন্য মহা পরশ পাথর স্বরূপ ছিলেন। আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি উনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নামক শীর্ষস্থানীয় বেহেশত প্রদান করুন এবং আমার এ প্রার্থনা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হযরত মুহম্মদ মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলায় কবুল করুন।

ভুলে নিমজ্জিত শের-ই-বাংলা আপনার পাক দরবারে এসেছে, তাই হে সত্যের দিশারী হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াস্তে আমাকে একটি কৃপা দৃষ্টি দান করুন।”

উল্লেখ্য, এই হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুজাদ্দেদীয়া তরীক্বায় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। এমনকি এই আযিযুল হক হাফিয মুনিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ উনার মধ্যে উপস্থিত হয়ে উনার রূহানী ফয়েজ এবং করুণা লাভের জন্য নিজেকে অধম এবং গুণাহগার পর্যন্ত ভেবেছে।

আশ্চর্য! সুন্নীবেশে মাঠে-ময়দানে সারাজীবন এই নামধারী শের-ই-বাংলা কি ওয়াজ নসিহত করলো? একদিকে “আওর মুহম্মদীয়া” তরীক্বার ইমামের সিলসিলাকে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার করুণা ও রহমত থেকে বঞ্চিত ঘোষণা দিয়ে আবার উনারই রূহানী সন্তান, উনার অনুসারী ভক্ত এবং উনার সিলসিলার বুযুর্গগণ উনাদের শানে কাছিদা শরীফ পাঠ করলো এবং উনাদের থেকে রূহানী ফয়েজ পর্যন্ত হাছিল করলো, এটা কি এক দিকে মস্তবড় মুনাফিকী আর অন্য দিকে মস্তবড় গোমরাহীর পরিচয় বহন করে না? সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলমান হয়েও মুনাপিক সাজতে অধিক আগ্রহী তার ওয়াজ নসিহত এবং রচনা সমূহ থেকে মানুষ কি ফায়দা পাবে?

অতএব, নির্লজ্জ, বে-শরম, নামধারী সুন্নীদের লজ্জিত হওয়া উচিত এবং কামিল ঈমানদার মুসলমানদের জন্য মুনাফিকদের কাতারে বন্দি ব্যক্তিদের লিখনী, রচনা সমূহ দলীল হিসেবে পেশ করা ঠিক হবে না। কারণ কামিল মুসলমানরা কস্মিনকালেও মুনাফিকদের দলীল গ্রহণ করবে না।

-হযরত মাওলানা মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)

একই অঙ্গে বহুরূপে সজ্জিত, বিকৃত মস্তিস্ক সম্পন্ন স, আ, ত, ম আলাউদ্দীনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

মিযানরূপী ভন্ড জলীল নিজেই প্রচার করলো সে ও তার গুরু রেযা খাঁ কাফির