তীব্র প্রতিবাদ

সংখ্যা: ০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

‘এডাব সংবাদ’ ১৪ বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৩৯৮, পৃষ্ঠা-১৩ এর “সবার উপরে ফতোয়া সত্য” শীর্ষক বক্তব্যটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রকাশিত বক্তব্যটির বিশেষ বিশেষ অংশ নিম্নে উদ্ধৃত হলো:-

“তোকে তিন তালাক দিলাম, যা এক্ষুনি আমার ঘর থেকে বেরিয়ে যা।” কথা শুনে বিশ বছরের সংসারকে পিঠ দেখিয়ে বেরিয়ে পড়লো ক্ষেন্তির মা। একদিন পরই ক্ষেন্তির বাপ তার ভুল বুঝতে পারে। এদিকে ক্ষেন্তির বাপ ক্ষেন্তির মাকে ফিরে পেতে চায়। তাই বুদ্ধি নেয়ার জন্যে যায় মাতবরের কাছে। অবশেষে মাতবর বললো, ক্ষেন্তির মাকে ফিরে পেতে হলে পাঁচজন মওলানা ডাকতে হবে। তারা যে ফতোয়া দেয় সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মওলানা আনা হলো। মওলানা ফতোয়া দিলেন- হিলা পালন করে ক্ষেন্তির মাকে নিয়ে ক্ষেন্তির বাপ পুনরায় সংসার করতে পারে। ক্ষেন্তির বাপ দিশা পায় না। দিন যায়, মাস আসে, বছর গড়ায়। ক্ষেন্তির বাপ আর ক্ষেন্তির মা উভয়ে পুনরায় ঘর সংসার করতে রাজী। অথচ তথাকথিত ফতোয়াবাজরা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ চলে এসব ফতোয়াবাজদের দ্বারা। তাদের মুখের উপর কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না।

অথচ মোল্লা মওলানাদের অজানা নয় যে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ মুতাবেক হিলা সম্পূর্ণরূপে রহিত করা হয়েছে। এ’আইন মুতাবেক তালাক দেয়ার পর স্বামী-স্ত্রী চাইলে পুনরায় বিবাহ করতে পারে। এর জন্যে কোন বাধ্য বাধকতা নেই। দেশের আইন ও মানুষের অধিকার সম্পর্কে এদেশের ক’জনই বা অবহিত আছেন? অনেক সুবিধাবাদী মওলানা দেশের আইন-কানুন অবজ্ঞা করে মান্ধাতার এমলের আইনকে এখনো সচল রাখতে বদ্ধপরিকর। গ্রামীন সালিশ ব্যবস্থা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে যারা অচল কিংবা ভুল আইনকে অসহায় মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে তাদের কঠোর হাতে দমন করা দরকার।

প্রকাশিত এস এস আবু জাকেরের বক্তব্যটি কুরআনের তথা ইসলামী শরীয়তের সরাসরি পরিপন্থী। ইহা বিশ্বের সমস্ত মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আইনকে মান্ধাতার আমলের অচল এবং ভুল আইন বলে আখ্যায়িত করে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে “খোলা তালাক বা হিলা” করার বিরুদ্ধে কি বলা হয়েছে না হয়েছে তা জনগণ কর্তৃক বা সমাজে বাস্তবায়িত হয়নি।

উক্ত অধাদেশ সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে এ’আশংকায় সরকার যেখানে চুপ রয়েছেন সেখানে ‘এডাব সংবাদ’ কিভাবে এহেন ধর্মবিরোধী ঔদ্ধত্য দেখাতে সাহস পায় তা’ আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানচ্ছি এবং এব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

পবিত্র কুরআন শরীফ তথা শরীয়তের বিধানকে কঠোর হস্তে দমন করার আহবান জানিয়ে এস এম আবু জাকের, সহ ‘এডাব’ কর্তৃপক্ষ সামাজিকভাবে জঘন্য অপরাধ করেছেন এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে বে-ঈমান এবং মুরতাদ হয়েছেন। সমস্ত মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে আমরা হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি যে, এর জন্যে অবিলম্বে ‘এডাব’ কর্তৃপক্ষকে ইসলামী শরীয়ত মুতাকে তওবা করে প্রকাশিত বক্তব্য প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে প্রত্যাহার করতে হবে। তা’ নাহলে আমরা বিশ্বের সমস্ত মুসলিম উম্মার প্রতি আহবান জানাতে বাধ্য হব যার পরিণতি হবে হয়তো শয়তান সালমান রুশদীর চেয়েও অত্যন্ত ভয়াবহ।

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সন্মানার্থে “১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ” এর যে সমস্ত ধারাগুলি সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ তথা ইসলামী শরীয়তের বিরোধ এবং পরিপন্থী তা অবিলম্বে বাতিল করার জন্যে সমস্ত ধর্মপ্রান মুসলমানের পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এবদন জানাচ্ছি। আর মুসলমান নামধারী বেঈমান এবং নাস্তিক যারা পবিত্র কুরআন হাদীছ এবং হযরত নবী রসূল আলাইহিস সাল্লাম উনাকে অবমাননা করার দুঃসাহস দেখায়; তাদেরকে অবিলম্বে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্যে সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি। সাথে সাথে আহবান জানাচ্ছি দেশের সমস্ত কাজী এবং আলিমদেরকে যেন ঐ সমস্ত মুসলমান নামধারী মুরতাদ, বেঈমান এবং নাস্তিকদেরকে চিহ্নিত করা হয় এবং তাদের কোন বিবাহ এবং জানাজা পড়ানো না হয়।

মযহারুল ইসলাম ও এস এম আবু জাকের এবং তার সহযোগী সম্পর্কে শরীয়ত মুতাবেক ফতোয়া নিন্মরূপ:-

ফতওয়া

“যদি কেউ শরীয়তের কোন আইনকে অবজ্ঞা করলো, ইংকার বা অপছন্দ করলো, তবে সে কুফরী করলো। যে কুফরী করে সে মুরতাদ হয়ে যায়। মুরতাদের মাসায়ালা হলো- তার স্ত্রী তালাক হয় (যদি বিবাহিত হয়), হজ্জ বাতিল হয় (যদি হজ্জ করে থাকে) এবং সে কাফির হয়। অর্থাৎ তার সকল নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। তওবা না করা পর্যন্ত সে ঈমানদার হবে না। বিবাহ না দোহরালে স্ত্রীর সাথে সংসার করা যাবে না। যদি সংসার করে তবে জ্বিনাকারীর গুনাহ হবে। সন্তান হলে তা হালাল হবে না। যদি হজ্জের সামথ্য থাকে তবে পুনরায় হজ্জ করতে হবে, যদিও সে পূর্বে হজ্জ করে থাকে। তা না করলে কবিরা গুনাহ হবে। তিন দিনের মধ্যে তওবা না করলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

কিতাব গ্রন্থ

(১। আল ফিকুল আকবার, ২। শরহে আকাইদে নছর্ফি, ৩। আকাইদে হাক্কা, ৪। তাকমিলুল ঈমান, ৫। দোররুল মোক্তার, ৬। খানিয়া, ৭। ফতোয়ায়ে কাজীখান, ৮। বাহরুররায়েক, ৯। ফতোয়ায়ে আলমগীরি, ১০। ফতোয়ায়ে আল বারুরিয়া, ১১। জামিউল ফুছুলিন এবং ১২। আল বাযযাজিয়া)

উপরোক্ত ফতোয়া মোতাবেক এসএম আবু জাকের এবং তার সহযোগী যারা শরীয়ত বিরোধী উক্ত বক্তব্য লিখা এবং ছাপানোর ব্যাপারে সাহায্য সহযোগিতা করেছে এবং উৎসাহ দিয়েছে তারা সকলে কাফির হয়েছে। ইতিপূর্বে তাদের কেউ যদি হজ্জ করে থাকে তবে তা বাতিল হয়েছে। বিবাহিত হয়ে থাকলে তাদের স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। তওবা করে বিবাহ পূণরায় না দোহরানো পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সংসার করলে তা জ্বিনা করার ন্যায় পাপী হবে এবং যত সন্তান হবে তা সম্পূর্ন অবৈধ হবে। যেহেতু তারা প্রকাশ্যে পাপ করেছে সেহেতু তাদের প্রকাশ্যে তওবা করতে হবে। যদি তারা তওবা না করে তবে তাদের জানাজার নামায পড়া হারাম। যারা তাদের জানাজার নামাজ পড়বে তারাও কাফির হয়ে যাবে।

ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান

জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)

ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান

সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রসার