পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র তাফসীর শরীফ

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ কি পবিত্র সুরা ফাতিহা শরীফ উনার অংশ :

“বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম” পবিত্র সুরা ফাতিহা শরীফ উনার অংশ কিনা- এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কুফাপন্থী পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠকগণ একে ‘পবিত্র সুরা আল ফাতিহা শরীফ’ উনার অংশ সাব্যস্ত করেছেন। পক্ষান্তরে বসরাপন্থী পাঠকগণ তা অনুমোদন করেননি। হানাফী ফিকহবিদগণ উনাদের পক্ষ থেকে কোন সুস্পষ্ট ফয়সালা হয়নি। তবে শায়েখ আবুল হাসান আল কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নামাযে তা উচ্চস্বরে পাঠ না করার সপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এ হিসাবে সাবেত হয় উনাদের মতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ ‘পবিত্র সুরা আল ফাতিহা’ শরীফ উনার কোন আয়াত শরীফ নয়। কেননা তা যদি ‘পবিত্র সুরা আল ফাতিহা শরীফ’ পবিত্র আয়াত শরীফ হতো তবে তা অবশ্যই নামাযে উচ্চস্বরে অন্যান্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ন্যায় পড়ার আবশ্যক হত। হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে তা ‘পবিত্র সুরা ফাতিহা শরীফ’ উনার একটি পবিত্র আয়াত শরীফ। তাই তা পাঠ না করলে পুনরায় নামায আদায় করতে হবে।

          ‘বিসমিল্লাহ’ প্রত্যেকটি সূরার শুরুতে উল্লেখ্য কোন আয়াত শরীফ কিনা- এই নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে এ যে ‘পবিত্র সুরা ফাতিহা শরীফ’ পবিত্র আয়াত শরীফ নয় একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা তার প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন। হযরত নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, قال الله تعالى قسمك الصلاة

অর্থঃ “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সালাত দ্বারা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুইভাগে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তার অর্ধেক আমার জন্য ও অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দার জন্য তাই আছে যা সে চেয়েছে। সে যখন আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ’লামিন বলে তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার বান্দা আমার হামদ (প্রশংসা) করছে। যখন সে বলে ‘আর রহমানির রাহীম’ তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার বান্দা আমাকে মর্যাদাবান করেছে বা আমার গুণ বর্ণনা করেছে। যখন সে বলে ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’ তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন আমার বান্দা আমার নিকট সব কিছু সোপর্দ করছে। যখন সে বলে ‘ইয়্যাকানা’বুদু অইয়্যাকা নাসতাইন’, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন- এই কথাটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। আমার বান্দা যা চেয়েছে তাই সে পাবে। এরপর বান্দা ‘ইহ্দিনাসছিরাতাল মুস্তাকীম শেষ পর্যন্ত পড়ে, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমার বান্দা তাই পাবে যা সে চেয়েছে।”

          পবিত্র বিসমিল্লাহ্ শরীফ যদি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ হতো তাহলে পবিত্র সূরা মুবারকটির পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের বর্ণনার প্রেক্ষাপটে তাও উল্লেখ থাকত। এর থেকে সাবেত হয় যে, পবিত্র বিসমিল্লাহ্ শরীফ পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ উনার অংশ নয়।

          পবিত্র বিসমিল্লাহ্ শরীফ সূরা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমুহের অন্তর্গত না হবার আরো একটি প্রমাণ হলো হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি  বলেন, আমি হযরত ওসমান ইবনে আফফান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললাম,

ما حملكم على ان عمد تم الى براة وهى من الم عن والى الانفال ومى الم مانى وحعلتهو هما فى السبع الطوال ولم تكتبوا بينهم سطر لبسم الله الرحمن الحيم.

অর্থঃ “সূরা বরায়াত (তওবা) দুইশ’ আয়াত সম্বলিত, সূরা আনফাল মাসানীর মধ্যে গণ্য, এই দুইটিকে আপনারা সাতটি সূদীর্ঘ সূরার মধ্যে গণ্য করেছেন এবং এদু’টির মধ্যে বিসমিল্লাহ্ লিখেননি তার কারণ কি? জবাবে হযরত ওছমান আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যখন অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ একসঙ্গে নাযিল হতো, তখন তিনি নিয়োজিত লেখককে ডেকে বলতেন এই পবিত্র আয়াত শরীফ অমুক সূরা শরীফ উনার, যাতে এ কথা বলা হয়েছে, শামিল কর। আর যখন একটি বা দু’টি পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হতো তখনও এরূপ বলতেন। ‘পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ’ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রথম নাযিল হয়েছিল, আর ‘পবিত্র সূরা বরায়াত শরীফ’ পবিত্র কুরআন মজীদ উনার শেষ পবিত্র সূরা শরীফ হিসাবে নাযিল হয়েছিল। আর এ দু’টি সূরা শরীফ উনার বিষয়বস্তু সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। আমি মনে করেছি এ সূরাটি ওটারই অংশ। এ কারণে আমি এ দু’টিকে সুদীর্ঘ সাত সূরার মধ্যে গণ্য করেছি। এই দুটির মধ্যে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ লিখিনি।

          এতে প্রমাণিত হলো- হযরত ওসমান আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র বিসমিল্লাহ্ শরীফ উনাকে পবিত্র সূরা শরীফ উনার অংশ হিসাবে গণ্য করেননি। যদি এটা পবিত্র সুরা শরীফ উনার অংশ হতো তাহলে অবশ্যই তিনি তা লিখতে বাকী রাখতেন না বরং দু’টি পবিত্র সূরা শরীফ উনার মধ্যে পার্থক্য করণের জন্যই তা লিখতেন মাত্র। অপর একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ পবিত্র সূরা সমূহের প্রথম পবিত্র আয়াত শরীফ নয়। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

سودة فى القران ثلاتون اية شغعت لصا حبها حتى فوله ثبا رى الذى بيده المللك

অর্থঃ “পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ত্রিশটি পবিত্র আয়াত শরীফ সমন্বিত পবিত্র সূরা শরীফ তার পাঠকের জন্য শাফায়াত করবে। শেষ পর্যন্ত সমগ্র রাজ্যের কর্তা আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দেবেন।”

          সব ক্বারী এতে একমত হয়েছেন, যে ত্রিশটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ গণ্য নয়। যদি তা গণ্য হতো তাহলে ত্রিশটি পবিত্র আয়াত শরীফ না হয়ে একত্রিশটি পবিত্র আয়াত শরীফ হতো। কিন্তু তাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথার বিপরীত হবে। উপরন্ত সমস্ত ক্বারী এবং ফিকহবিদ এতে একমত যে, ‘পবিত্র সূরা আল কাওসার শরীফ’ তিন আয়াত শরীফ বিশিষ্ট, ‘পবিত্র সূরা ইখলাস শরীফ’ চার আয়াত শরীফ বিশিষ্ট।

পবিত্র বিসমিল্লাহ শরীফ যদি পবিত্র সূরা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার গণ্য হতো, তাহলে এদু’টি পবিত্র সূরা শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনার সংখ্যা যথাক্রমে চার ও পাঁচ ধরতে হতো। (চলবে)

বিসমিল্লাহ শরীফ উনার তাফসীর

আউযুবিল্লাহর ব্যাখ্যা ও বিধান

শানে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

শানে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

তাফসীরুল কুরআন: বাহ্যিক ইবাদত কোন হক্কানী-রব্বানী, আল্লাহ্ ওয়ালা, পীর-দরবেশের সাথে ক্বালবী নিস্বত ক্বায়েম ব্যতীত মকবুল হওয়া সম্ভব নয়