বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে বৃটিশ ভূমিকা- ৭

সংখ্যা: ১৩০তম সংখ্যা | বিভাগ:

মূল: এম সিদ্দিক গুমুজ, ভাষান্তর: মুহম্মদ রুহুল হাসান

[শয়তান যে মানুষকে নেক ছূরতে ধোকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খ্রীষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী-খ্রীষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা; যার মূলে থাকে খ্রীষ্টীয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন বৃটিশ গুপ্তচর হেমপার। মিসর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। উমভতণ্র্রধমভ মত ট ঈরর্ধধ্রদ ওযহ টভঢ ঈরর্ধধ্রদ ণভবর্ধহ টথটধর্ভ্র অ্রফটব গ্রন্থ হচ্ছে হেমপারের স্বীকারোক্তি মূলক রচনা। মূল গ্রন্থ থেকে ধারাবাহিকভাবে তার অনুবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। (ইনশাআল্লাহ)]     (ধারাবাহিক) আমি যখন আহমেদ আফেন্দীর কাছ থেকে বিদায় নিতে গেলাম তার চোখ অশ্রুতে ভরে উঠলো এবং তিনি বললেন হে বৎস! আল্লাহ পাক তোমার সহায় হোন। তুমি আবার ইস্তাম্বুলে এসে যদি দেখ আমি আর নেই তবে আমাকে স্মরণ করে আমার আত্মার জন্যে সূরা ফাতিহা পাঠ করো। শেষ বিচারের দিনে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে আবার আমাদের দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। আমার মন এতটাই বেদনাক্লিষ্ট হয়ে পড়ে যে আমার দ’ুচোখ বেয়েও অশ্রু গড়িয়ে পরে। তারপরেও আমার কতর্ব্য বোধ স্বাভাবিকভাবেই ছিল অধিকতর শক্তিশালী। (তৃতীয় পর্ব) আমার বন্ধুরা, আমার আগেই লন্ডনে ফিরে এসে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নির্দেশ লাভ করে। আমিও ফিরে আসার পর নতুন নির্দেশ পাই। তবে দুঃখজনকভাবে আমরা মাত্র ছয়জন ফিরে আসি। সচিব বললেন, বাকী চারজনের একজন মুসলমান হয়ে মিশরেই রয়ে গেছে। তথাপি সচিব সন্তুষ্ট ছিল কারণ সে মিশরে রয়ে গেলেও বিশ্বাসঘাতকতা করে কোন গোপন তথ্য ফাঁস করেনি। দ্বিতীয়জন রাশিয়া চলে যায় এবং সেখানে থেকে যায়। জন্মগতভাবে সে ছিল রাশিয়ান। সচিব তার জন্য খুব দুঃখ পেল। সে রাশিয়া গিয়ে আর ফিরে আসেনি বলে দুঃখ পায়নি। দুঃখ পেয়েছিল এ কারণে যে, সে রাশিয়ার হয়ে উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির চালিয়েছে এবং মিশন শেষে সে দেশে ফিরে গেছে। তৃতীয়জন, সচিব যা বললেন, বাগদাদের পাশ্ববর্তী শহর ‘ইমরায়’ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। চতুর্থজন ইয়েমেনের সানায় অবস্থানকালীন সময় পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং বছরখানেক সময় ধরে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট পাঠায়; পরবর্তীতে তার রিপোর্ট পাঠানো বন্ধ হয়ে যায় এবং হাজার চেষ্টা করেও তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি। চারজনের এভাবে হারিয়ে  যাওয়ার বিষয়টি ছিল মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় বিপর্যয়। কেননা, লোক সংখ্যায় আমরা কম হলেও দায়িত্ব পালনের দিক থেকে আমরা ছিলাম একটা জাতি। সে জন্যে প্রত্যেকের উপর আমাদের খুব হিসেব নিকেশ করে কাজ করতে হয়। রিপোর্টের কিছু অংশ বিশ্লেষণ করার পর, আমাদের চারজনের রিপোর্ট পর্যালোচনার জন্য সচিব এক সভা আহবান করেন। আমার বন্ধুরা যখন তাদের রিপোর্ট দিল, তখন আমিও আমার রিপোর্ট পেশ করলাম। আমার রিপোর্ট থেকে তারা কিছু কিছু নোট নিল।  মন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য যারা সভায় যোগ দিয়েছিল সবাই আমার কাজের প্রশংসা করলো, কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে আমি হলাম তৃতীয়। আমার বন্ধুদের মধ্যে জর্জ বেলকাউড হয়েছিল প্র্রথম এবং হেনরি ফেনস হয়েছিল দ্বিতীয়। সন্দেহ নেই যে, তুর্কী ও আরবী ভাষা, কুরআন ও শরীয়ত শিখে আমি বড় সফলতা অর্জন করি কিন্তু অটোম্যান সম্রাজ্যের দূর্বল দিকগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়কে কোন রিপোর্ট  দিতে পারিনি। দু’ঘণ্টা ধরে সম্মেলন চলার পর সচিব আমার ব্যার্থতার কারণ জানতে চাইলে, আমি বললাম, “আমার প্রধান কাজ ছিল ভাষা, কুরআন এবং শরীয়ত শিক্ষা করা। আমি অতিরিক্ত কিছুর জন্য কোন সময় ব্যায় করতে পারিনি। কিন্তু আপনি যদি আমার উপর আস্থা রাখেন তবে এবার আপনাকে খুশী করতে পারবো।”

মতামত বিভাগ

“নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বার স্বরূপ উন্মোচন” সুন্নীবার্তা না কুফরীবার্তা?

মৌলবাদী নাম ধারণই কেবল নয়, ধর্মের নামে চরম অধর্ম আর মসজিদে বর্বরোচিত হামলা করিয়া উহারা যথাযথই নিজেদের মৌলবাদীরূপে প্রতীয়মান করিয়াছে

মাহিউদ্দীনের দেয়া মদনপাল আর প্রিন্সিপালের উপমা কাফিরদেরই উপমার মত ওরা আল্লাহ্ পাক-এর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত নয়, আশরাফ আলী থানভীর উম্মত হতে চায়

এ বৎসরের শুরুতে ভারতের কাশ্মীরে মসজিদগুলোতে ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য চেয়ে ফর্ম বিলি পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কাশ্মীরে মেডিকেল কলেজ বন্ধ। ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। ভারতে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন নয়। অব্যাহত এবং ভয়াবহ কাশ্মীরে স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতারাম’- চাপানো হচ্ছে হিন্দুত্ববাদ কাশ্মীরি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জঙ্গিদের হুমকি ভারতে কাশ্মীরি ছাত্রকে মেয়েদের পোশাক পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন