বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রসার

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ আনিসুর রহমান

আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কালে পবিত্র মক্কাবাসীগণ ব্যবসাজীবি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। হিজরতের পরবর্তীকালে কৃষিজীবি মদীনাবাসী আনসারগণ উনাদের সাথে ব্যবসাজীবি মক্কাবাসী মুহাজিরগণ উনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পবিত্র মদীনা শরীফ নগরীতে কৃষির পাশাপাশি বাণিজ্যের ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। শুধুমাত্র কৃষিকাজের মাধ্যমে কেনো জাতির অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুদৃর করা দুঃস্কর। শিল্পায়ন, আভ্যন্তরীণ কিংবা বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নতির একটি অন্যতম শর্ত। বৈদেশিক বাণিজ্য দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বৃদ্ধি, বণিজ্যের ভারসাম্যতা রক্ষা এবং দুই দেশের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

 বৈদেশিক বাণিজ্যে মুসলমান ব্যবসায়ীদের অগ্রগামীতা ইসলাম প্রসারের ক্ষেত্রেও অনেকখানি অবদান রেখেছে। ইতিহাসে নজির পাওয়া যায় যে, মালয় উপদ্বীপ, ফিলিপাইন, জাভা, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশগুলো মুসলমান ব্যবসায়ীদের দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়। মুসলমান ব্যবসায়ীদের সততা, নিপুনতা, চরিত্রের উৎকর্ষতা এবং ইসলাম নির্দেশিত পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য ব্যবস্থা অনেক অমুসলিম জাতিকে মুসলমান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে।

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিশোর বয়সে বাণিজ্যের তথা বৈদেশিক বাণিজ্যের সাথে জড়িত হন। বারো বৎসর বয়স মুবারকে চাচা আবু তালিব উনার সাথে বাণিজ্য উপলক্ষে তিনি সিরিয়া যাত্রা করেন। বসরা নগরী সেই সময়ে শিল্প ও বাণিজ্যের বিশাল ক্ষেত্র হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলো। পৃথিবীর বহুদেশ থেকে বহুবিধ লোকের এই বাণিজ্য ক্ষেত্র সমাগম হতো। এই বাণিজ্য ক্ষেত্রেই বহিরা নামক এক নেষ্টরীর খ্রিস্টান যাজক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা সমগ্র জাতির ত্রাণকর্তাকে সনাক্ত করেন। নেষ্টারীয় খ্রিস্টানেরা পৌত্তলিকতা বিরোধী এবং তারা পরবর্তী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন সম্বন্ধে অনুসন্ধিৎসু ছিলো। বাইবেলে বর্ণিত বর্ণনা মোতাবেক তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চিনতে পেরেছিলেন এবং ইহুদীদের হাত হতে উনাকে রক্ষার্থে চাচা আবু তালিব উনাকে সতর্ক করেছিলেন।

          এইভাবে বাণিজ্য যাত্রাই পবিত্র ইসলাম উনার প্রথম সুসংবাদের সূচনা ঘটিয়েছিলো। পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দামেশক, ইয়া¯্রবে, হাইফা, জেরুজালেম প্রভৃতি প্রসিদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিভ্রমণ করেন। এসময়ে তিনি হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাণিজ্যভার প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

          শুধুমাত্র কৃষিজাত পণ্যের উপর নির্ভর করে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো অত্যন্ত কঠিন। শিল্প ও হস্তশিল্পজাত পণ্যের উৎপাদনের উপরেও সমাধিক গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম স্বীয় হস্তশিল্পজাত পণ্যাদির বিক্রয় লব্ধ অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে কোনো উপার্জন অপেক্ষা নিজ হাতের উপার্জন উত্তম। আর মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতে উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন।”

          শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিপননের উদ্দেশ্য স্থল, পানি ও বায়ু যে কোন পথ বেছে নেয়া যেতে পারে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘তোমরা দেখ সমুদ্রের বুক চিরে জাহাজগুলো চলাচল করে যাহাতে তোমরা তার অনুসন্ধান করতে পারো।’ এখানে অবশ্য পানিপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সফলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বৈদেশিক বিপননের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশটির অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ইত্যাদি দিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।

          অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক বানিজ্যের প্রয়োজন এবং গুরুত্ব অপরিসীম। বস্তুত বৈদেশিক বাণিজ্যকে একটি সুন্নতের চর্চা বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। ইসলামের এই বৈদেশিক বাণিজ্য নীতির অনুশীলনের কারণে অমুসলিম বিশ্ব অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, কৌশলগত, জ্ঞানগত এবং আরও অনেক দিক থেকেই অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান

জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)

ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান

সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কৃষি