ভণ্ড পীরে তরীক্বতের গোমর ফাঁক-১০
চরম বেয়াদব, প্রতারক, জলীল, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে চূড়ান্ত বেয়াদবি ও প্রতারণা করেছে ॥ গ-ীভুক্ত গোমরাহ অনুসারীদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত বলে সে অন্য সবাইকে জাহান্নামী প্রতীয়মান করেছে
“সূরা কাউছারে” মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতাকারীদের র্নিবংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর পরে তাই হয়েছে। ঠিক মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ, উনার ওয়ারিছ, ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরোধীতাকারীদের ক্ষেত্রে একই অবস্থা প্রযোজ্য এবং আলোচ্য জলীল গং এর ক্ষেত্রেও তথৈবচ।
জলীল গং মূলতঃ এ যাবৎ অহর্নিশ, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পাহাড় সম প্রতারণা করে যাচ্ছে। উনার সাথে চরম বেয়াদবি করে যাচ্ছে।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত অভিহিত করার মালিক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেখানে ভ- আব্দুল জলীল যে তার গোমরাহ অনুসারীদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত বলে গ-ীভুক্ত করল এটা কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তার প্রকাশ্য বেয়াদবি নয়?
যেখানে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের অনুসরণকারী সকল উম্মতকে বলেছেন- “আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত” সেখানে ভ- জলীল গং বিদয়াত ও হারাম কাজ, যথা ছবি তোলা, মেয়েলোকের সাথে চলা, ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দল করা, একটি সিট প্রার্থনা করা এসব বেশরা কাজের অনুসরণ করার পরও কি করে নিজেদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত বলে দাবী করতে পারে? এবং প্রকারান্তরে বিশ্বের অন্য সব মুসলমানদের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত নয় বলে প্রতিপন্ন করতে পারে?
মূলত: চরম ফাসিক, জাহিল ও বেয়াদব জলীল সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যেখানে বেয়াদবি করতে পারে সেখানে উনার উম্মতদের প্রতি সে অবমাননাকর কুফরী উক্তি করবে এটা তার মত লা’নতগ্রস্থ লোকের পক্ষেই স্বাভাবিক।
তবে তার প্রতি এ লা’নত আজ প্রকাশিত হতে চলেছে। শুধু যে তার আমল, আক্বীদা, ঈমানই বিপর্যস্থ হচ্ছে কেবল তাই নয়, তার স্বঘোষিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতও এখন চলছে শতধা বিভক্ত হওয়ার পথে।
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইন্তিকালের কথা তখনও ছড়িয়ে পড়েনি। তবে তা আমীরুল মু’মিনীন, হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে গিয়ে পোঁছলো। বিষয়টি তার ভাবাবেগকে অতিক্রান্ত করে ফেলল। তিনি খোলা তরবারী উচু করে বজ্রকণ্ঠে হুঙ্কার ছাড়লেন, “আর যদি কেউ বলে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেছাল শরীফ লাভ (ইন্তিকাল) করেছেন, তবে এ তরবারী দিয়ে আমি তাকে দু’টুকরো করে ফেলব।” উনার জালালী তবিয়তের সামনে কথা বলার মত ছিলনা কেউ। শুধু খলীফাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি অশ্রুতপূর্ব কন্ঠে তিলাওয়াত করলেন এই আয়াত শরীফ,
وما محمد الا رسول- قد خلت من قبله الرسل.
অর্থ: “মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল। উনার পূর্বে অনেক রসূল অতীত হয়েছেন।”
হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি এক অপার্থিব আবেশী কণ্ঠে বলরেন, “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কর উনারা জেনে রাখ যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আর যারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইবাদত করা তারা জেনে রাখ যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মা’বুদ নন; তিনি হাবীবে মা’বুদ, তিনি ইন্তিকাল করেছেন।”
মানব ইতিহাসের এই চরম সন্ধিক্ষণে, আফজালুন নাছ বাদাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার এই প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য সম্পর্কে হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পরবর্তীতে মন্তব্য করেছেন। এখানে আলোচ্য আয়াত শরীফ তার মুখস্থও ছিল এবং অনেক অনেকবার তা তিলাওয়াতও করেছেন বটে। কিন্তু আলোচ্য প্রেক্ষাপটে তিলাওয়াত শুনে উনার অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন যে, “হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার কণ্ঠে সে মুহূর্তে এই আয়াত শরীফ শুনে আমার মনে হল এটা এই মাত্র নাযিল হয়েছে। আর তা আমাকে উদ্দেশ্য করেই নাযিল হল।” তিনি আরো বলেন যে, “সে সময় হযরত আবু বকর আলাইহিস সালাম তিনি দৃঢ়কণ্ঠে তা তিলাওয়াত না করতেন এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ না করতেন তাহলে শুধু হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিই নয় মূলত: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, সকলেরই সে অবস্থা সামাল দেয়া কঠিন হত।” কিন্তু আফজালুন নাছ বাদাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি ভাবাবেগকে রহিত করে শরীয়তের ফায়সালা তথা হুকুমের রূপায়ণ করে দিলেন এবং প্রদত্ত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন যে, এই ক্ষেত্রে ভাবাবেগকে স্থান দেয়া, শোকে মাতম করা এবং ক্রমাগত শোক বিহবল থাকা হবে প্রকৃত ইসলাম থেকে পশ্চাদপসরণের শামিল। মহান আল্লাহ পাক উনার ভাষায় “তাহলে তিনি যদি মৃত্যু বরণ করেন অথবা শহীদ হন তবে কি তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে?”
বলার অপেক্ষা রাখেনা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ (ইন্তিকালে) শোক-বিহবলে কাতর না হয়ে শরীয়ত মুতাবিক সুস্থ থাকাই কৃতজ্ঞতার লক্ষণ। যা আয়াত শরীফ উনার পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, “যারা এভাবে কৃতজ্ঞ থাকবেনা তারা শোকে কাতর থেকে কিছুই ক্ষতি- বৃদ্ধি করতে পারবেনা।”
বলাবাহুল্য, সমঝদার, দ্বীনদান ব্যক্তিবর্গ যুগে যুগে এ বিষয়টি ঠিকই মালুম করতে পেরেছেন। কেবল ব্যতয় ঘটিয়েছে, কম আকল, কম সমঝ তথা খারিজী, ওহাবীদের সমগোত্রীয় বক্রদিল বিশিষ্ট লোকেরা।
আবূ লাহাবের বংশবদ হদস গংও এই তবকার। তাদের মুখপত্র মে’০১ এর ভাষ্যমতে “সুতরাং যারা বারোই রাবীউল আউয়াল নবী কারীম উনার বিলাদত শরীফ (জন্ম দিবস) উপলক্ষে ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী পালন করে কথিত আশেকে রাসূল দাবী করছেন, তারা নবীজী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওফাতের এ বেদনাময় দিনে তার বিয়োগ ব্যথায় শোকে মুহামান না হয়ে আতশ বাজি-পটকা, জশনে জুলুস, রংবেরংয়ের আলোকসজ্জা, আনন্দ মিছিল প্রভৃতির মাধ্যমে ঈদ পালন করেন কিরূপে? তারা কি সত্যিই নিজেদেরকে অনুভূতি সম্পন্ন মুসলমান মনে করেন (এখানে উল্লেখ্য যে আতশ-বাজি, পটকা, বেপর্দা মিছিল ইত্যাদি জায়েয নয় তবে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনও নাজায়েয নয়; অবশ্যই বিরাট ফযীলতের বিষয়)? …….. এখন প্রশ্ন, আমাদের মাঝে এমনকি কেউ আছে যে তার আপন পিতা-মাতা স্ত্রী-পুত্র কন্যা পরিজনের মৃত্যু দিবসে আনন্দ উৎসব পালন করে? নিশ্চয়ই এমন কাজ করে কেউ ঘৃণিত, লাঞ্ছিত ও পাষ- অনুভূতিহীন হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে চাইবে না।”
পাঠক! ইতোপূর্বে সূরা আলে ইমরানের ১৪৪ নং আয়াত শরীফ উনার আলোচনায় আমরা জেনেছি যে, খারিজী, ওহাবীদের এসব কথা নিতান্তই অর্থহীন, অজ্ঞ, জিহালতি ও গোমরাহীমূলক।
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদায়ের কারণে বেদনাবিধূর থাকা মহান আল্লাহ পাক উনারও পছন্দনীয় নয়, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও পছন্দনীয় নয়। বরং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রচারিত শরীয়ত উনার হুকুম এই যে, কারো ইন্তিকালের তিন দিন পর শোক প্রকাশ করা হারাম (শুধু স্বামীর জন্য স্ত্রী ব্যতীত, তাও চার মাস দশ দিন পর্যন্ত)।
সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উনার মধ্যে কি তারা আরো একটা স্পষ্ট হারাম, বিদয়াতী কাজ প্রচলন করতে চায় এবং কুরআন শরীফ উনার ভাষায় পশ্চাদপসরণকারী দলের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় ও সবাইকে তাই করাতে চায়? অথচ মহান আল্লাহ পাক বলেছেন কৃতজ্ঞ হতে।
মূলত: এরা কৃতজ্ঞতা বোঝে না। কারণ এরা আবু লাহাবের বংশবদ, তার সন্তান। আর আবু লাহাবের মুহব্বত এদের অন্তরে টইটম্বুর।
যে কারণেই “খোদায়ী ঈদ” “মুত্তালিবী ঈদ” সকল ঈদের, ঈদকে” “লাহাবী উৎসব” বলে নিজেদেরকে এরা শয়তানের দোসর হিসেবে প্রতীয়মান করেছে। (নাউযুবিল্লাহ)।
-মুহম্মদ মা’ছূমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।
উহারা তোতা পাখি মাত্র! অথবা উহার চেয়ে অধম বটে! (১)
“মসনবী শরীফ” মাওলানা রূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পশু-পাখির অনেক রূপক ব্যবহার করেছেন। এটা অনেকটা হাদীছ শরীফ সমর্থিত। যেমন হযরত আলী কাররমাল্লাহু ওয়াজহাহু উনাকে বলা হয়েছে “আসাদুল্লাহ” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সিংহ।
পাশাপাশি বিপরীত মানসিকতার ক্ষেত্রেও রূপক প্রতীক ব্যবহার হয়েছে বটে। তোতা পাখি এই ধরণের একটি উদাহরণ। তোতা পাখিকে কথা শেখানো যায়। যা শেখানো হয় তাই সে আওড়ায়।
এমনকি এটাও বিচিত্র নয় যে কোন তোতা পাখিকে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ মুখস্থ করানো হলে সম্পূর্ণটাই সে আওড়াতে পারবে; সাথে হাদীছ শরীফও। শুনে শুনে মুখস্ত করার এবং সেই সাথে শোনানোর বা আওড়ানোর অদ্ভূত ক্ষমতা তোতা পাখির রয়েছে। কিন্তু যা নেই তা- হৃদয়ঙ্গম করার, অনুধাবন করার, উপলব্ধি করার, এবং বিশেষত তা আমল করার ক্ষমতা।
খারিজী, ওহাবী, নামধারী সুন্নীদেরও একই অবস্থা। এরা বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ ইত্যাদি হাদীছ শরীফ উনার কিতাব পড়ে, মুখে আওড়ায় আবার লিখেও থাকে- “কিয়ামতের ময়দানে ঐ ব্যক্তির সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে, যে ছবি তোলে বা আঁকে।” কিন্তু বাস্তবে তাদের আমলে এই হাদীছ শরীফ উনার কোনই অনুসরণ দেখা যায়না। দেখা যায় বুখারী শরীফ উনার অনুবাদকারী, শিক্ষাদানকারীকেও দিব্যি ছবি তুলে শাইখুল হাদীছ শরীফ উনার তবকা থেকে শাইখুল হদসের তবকায় পতিত হতে, মুহিউদ্দীনকে মাহিউদ্দীন, আমিনীকে কমিনীতে পরিণত হতে। একইসঙ্গে নামধারী সুন্নীরাও সমালোচিত হয় সুন্নীয়তের ধারা হতে বিচ্যূত হওয়ার কারণে।
মূলত: এইসব বেআমল, বিদাতীরা এখনও মুখে আওড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের ছাত্রদের শিক্ষা দিচ্ছে- “ছবি তোলা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নিষেধ, মেয়ে লোকের নেতৃত্ব লা’নত, ইসলামে গণতন্ত্র জায়েয নেই” কিন্তু কার্যত সেই কাজগুলোই তারা নির্দ্বিধায়, নিঃসঙ্কোচে ক্রমাগতভাবে করে যাচ্ছে। তাই একান্ত ভদ্রভাবে বলতে হয় যে, এরা হল তোতা পাখি, এরা শুনে মুখস্থ করে অতঃপর তা আওড়ায়। কিন্তু তা হৃদয়ঙ্গম করে, সমঝে, বাস্তবে আমল করার মত হিম্মত বা প্রবৃত্তি এদের নেই আদৌ।
অপরদিকে তোতা পাখি যতই কথা বলুক তাকে কেউ মানুষ বলেনা; ঠিক এরা যতই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ মুখস্থ করুক আর আওড়াক হাক্বীক্বতের বিচারে এদেরকে মানুষ বা আলিম কোনটাই বলা যায়না।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “অনেক জিন-ইনসান তৈরি হয়েছে জাহান্নামের ইন্ধন হিসেবে। তাদের অন্তর থাকতে তারা বুঝবে না, কান থাকতে তারা শুনবে না, চক্ষু থাকতে তারা দেখবে না, তারা পশুর ন্যায় বরং পশুর চেয়েও অধম এবং তারা হচ্ছে ঐ সম্প্রদায় যারা জানা ও শোনার পরও মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে গাফিল।”
-মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা।
“বায়হাক্বী শরীফ উনার মধ্যে” বর্ণিত হয়েছে, রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “বেহেশতের দরজা খুলে এক ব্যক্তিকে বেহেশতে প্রবেশ করতে আহবান করা হবে, সে যখন নিকটে পৌছবে তখন বেহেশতের দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। পুনরায় অন্য দরজা খুলে তাকে ডাকা হবে, সেখানেও দরজার নিকট পৌঁছানো মাত্র দরজা বন্ধ হয়ে যাবে, শেষ পর্যন্ত এই ব্যক্তি নিরাশ হয়ে বেহেশতে যাওয়ার আশা ত্যাগ করবে। কারণ, এই ব্যক্তি দুনিয়ার বুকে মানুষের সাথে প্রবঞ্চনা করত, ধোকা দিত।”
“আবূ দাউদ শরীফ উনার মধ্যে” বর্ণিত হয়েছে, “এক ব্যক্তি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট বললো, যখন আমরা কোন নবাব বাদশাহর নিকট যাই তখন আমরা যেভাবে কথা বলি, বাইরে এসে সেভাবে কথা বলিনা বরং ভিন্ন কায়দায় কথা বলি।”
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় আমরা একে মুনাফিকীর শামিল বলে মনে করতাম।”
“তিবরানী শরীফ উনার মধ্যে” এ প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি এক মুখে দুই কথা বলে কিয়ামতের দিন আগুনের দ্বারা তার দুটি মুখ তৈরি করে দেয়া হবে।”
পাঠক! উপরোক্ত সব হাদীছ শরীফ উনার হুবহু মেসদাক হচ্ছে আজকের শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, ফজলু গং। তারা তাদের মুখপত্রের জুন/০১ ঈসায়ী সংখ্যায় হরতাল করার পক্ষে নির্লজ্জ ওকালতি করেছে, আবার এরাই জবাবের এক পর্যায়ে লিখেছে, “এতে কাজ না হলে হরতাল বা লংমার্চ-এর ঘোষণা দিবে। পাশাপাশি উল্লিখিত কর্মসূচী চলাকালে নাজায়িযভাবে যেন কোন জান বা মালের ক্ষয়-ক্ষতি না হয় এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কোন নাজায়িয ও হারাম কাজ প্রকাশ না পায় তার জন্য সব-রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও সতর্ক দৃষ্টি রাখা কর্তব্য।”
পাঠক! বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, একদিকে হরতাল করার কথা বলা আবার অপর দিকে হরতাল করার সময় কোন জান মালের ক্ষতি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার সুপারিশ করা এটা যে সম্পূর্ণই দ্বিমুখী কথা, এটা যে স্পষ্ট প্রতারণা তা বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়না।
বুঝতে বাকী থাকেনা যে, হরতালের মত জুলুমবাজী, বিদয়াতী, বিধর্মীয় কাজের সুপারিশ করাতে, ধর্মপ্রাণ জনতা যখন ওদের প্রতি নিমিষে, সহজেই ক্ষেপে উঠবে তখন ওরা তাদের শান্ত করার মওকা হিসেবে এটি ব্যবহার করবে যে, “কেন, আমরা তো বলেছি যে, “কোন রকম জান বা মালের ক্ষতি যাতে না হয়।”
কিন্তু এই প্রতারণা করে, এই দ্বিমুখী কথা বলে ওরা একদিকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে পাক-পবিত্র, ভদ্র-ভালাইয়ের মুখোশ পড়ে থাকতে চাইলেও ওরা কি মনে করে- সাধারণ মানুষ, ধর্মপ্রাণ মানুষ এতই অজ্ঞ, এতই বোকা, এতই বাস্তবতা থেকে দূরে আছে যে, তারা এ কথা উপলব্ধি করতে পারবেনা যে, হরতাল মানেই তো জান-মালের ক্ষতির। কারণ হরতালে ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী, কারখানার মালিক, শ্রমিক কার না মালের ক্ষতি হয়? আর বর্তমানে প্রতিদিনের হরতালে যে গড়ে ৩৮৬ কোটি টাকা দেশের ক্ষতি হয় এ ক্ষতির ভার কার ঘাড়ে গিয়ে পড়ে? এ ক্ষতিপূরণ কে দেয়? এটা কি ভ-, অজ্ঞ, ধূর্ত, ঠগ, শঠ, প্রতারক, ধোকাবাজ শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, নিজামী, ফযলু গংই বহন করে অথবা পূরণ করে, নাকি দেশের ভূখা-নাঙ্গা, দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠিকেই বহন করতে হয়?
এই শাইখুল হদস গং কি মনে করে, এরা হরতাল করবে আর ক্ষুদে তরকারী, ফল, মনোহারী, রকমারী ব্যবসায়ীরা দিনের কামাই করতে না পেরে, না খেয়ে মনে করবে যে তাদের মালের কোন ক্ষতি হচ্ছেনা!
এই গোমরাহ, জালিম, জাহিল হদস গং কি মনে করে হরতালের কারণে আজকে যে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়কর অবস্থা, আজকের নবাগত শিশুও যে ৬’ হাজার টাকার বৈদেশিক ঋণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে; তারপরেও কি তারা এই কথা জোর গলায় বলতে পারবে যে তাদের দেয়া হরতালে জনগণের মালের কোন ক্ষতি হচ্ছেনা?
এই হদস গং কি মনে করে যে, দেশবাসী তাদের মতই জাহিল যে, দেশবাসী বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের এই গবেষণার ফল সম্পর্কে অবগত নয় যে, গত ৩০ বছরে ১১শ ৩০টি হরতালে দৈনন্দিন ৩৮৬ কোটি টাকা হিসেবে কমপক্ষে ক্ষতি হয়েছে চার লক্ষ আটাশ হাজার চুয়াত্তর কোটি টাকা। যে টাকার যথাযথ ব্যবহারের অনায়াসে একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তোলা যেত। আর তার পরেও হা-ভাতের বর্তমান অবস্থায় হদস গং কি বলবে তাদের চাপিয়ে দেয়া, সমর্থন করা হরতালে মালের কোন ক্ষতি হয়না?
এই হদস গং কি মনে করে, তারা উল্লুক বলে দেশবাসীও তাদের মত, যে তারা হদস গং এর এই কথা মেনে নেবে- “হরতালে জানের কোন ক্ষতি হয়না।” দেশবাসী জানে শুধু সমর্থিত সূত্রেই এ যাবৎ হরতালে মারা গেছে ২৪৫ জন, আহত হয়েছে ১২, ৭৭৭ জন।
এরা কি মনে করে এরা যেমন পশুবৎ মানসিকতায় বেঁচে আছে, দেশবাসীও তাদের মত বিবেকহীন যে, হরতালের কারণে- রোদ্রাদ্র দিনে ঘর্মাক্ত হয়ে পায়ে হেঁটে অফিসে গিয়ে, যান-বাহন, ফেরী, রেল ইত্যাদি না পেয়ে অসুস্থ ব্যক্তি পথে মারা যাওয়ায়, নিরীহ পথচারী প্রেট্রোল বোমায় ঝলসে যাওয়ার পরও একথা গ্রহণ করা হবে যে, “হরতালে জানের কোন ক্ষতি হয়না!”
মূলত: ধোকা, জালিয়াতী আর মিথ্যা দিয়ে ধর্মের নামে ব্যবসা তথা রাজনৈতিক জাতে উঠার জন্য এরা এদের বিবেক বুদ্ধি সব নফস আর শয়তানের কাছে বিসর্জন দিয়ে বসেছে। যে কারণে “একদিকে হরতাল করার কথা বলে অপর দিকে হরতালের মধ্যে জান-মালের যেন কোন ক্ষতি না হয় তার সুপারিশ করা” এদের এই বক্তব্য গ্রাম বাংলার সে বহুল প্রচারিত “চোরকে বলে চুরি করতে আর গৃহস্থকে বলে পাহারা দিতে” তারই অনুরূপ হয়েছে।
মূলত: তাদের এই দ্বিমুখী কথা তথা ধোকা বা প্রতারণার পিছনে তাদের কূট উদ্দেশ্য আরও গভীরে নিহিত। দৃশ্যত ধোকার পাশাপাশি এদের মূল নফসানিয়াতে খাহেশাত এটাই যে, কুটকৌশলে প্রকারান্তরে এটাই সাব্যস্ত করা তথা প্রচার করে দেয়া যে, “হরতালের দ্বারা যে সব জান-মালের ক্ষতি হচ্ছে সেগুলো আসলে কোন ক্ষতি হচ্ছেনা আর এতে যে নাজায়েয কাজ হচ্ছে সেটা আসলে কোন নাজায়েয হচ্ছেনা।” বরং হরতালের ক্ষতিগুলো তাদের দৃষ্টিতে উপকার এবং এই নাজায়েয কাজটি তাদের মতে বিলকুল জায়েয। অর্থাৎ এরা সাধারণ বা বিশেষ স্তরের ধোকাবাজ নয় বরং শেষ বা চরম স্তরের শঠ, ধূর্ত, প্রতারক, প্রবঞ্চক তথা ধোকাবাজ। যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, স্বীয় উম্মত হতে খারিজ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।
“মাসিক আল বাইয়্যিনাত” ৯৬তম সংখ্যার ৫৮নং পৃষ্ঠায় “তাহের শাহ আর হোসনে আরা ছি! লজ্জা, ছি! লজ্জা, ছি! লজ্জা! শিরোনামে প্রকাশিত মতামতের বিপরীতে মাসিক তরজুমান-এ আহলে সুন্নত চট্টগ্রাম-এর সম্পাদক অধ্যক্ষ আলহাজ্জ মাওলানা জালালুদ্দীন আল ক্বাদেরী ছাহেবের প্রতিবাদ লিপিটি যথারীতি আমার হস্তগত হয়েছে। জনাব ক্বাদেরী ছাহেব তার প্রতিবাদ পত্রে যা জ্ঞাপন করেছেন- “পাক ভারত উপমহাদেশের লক্ষ-লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদর পরম শ্রদ্ধার পাত্র, এতদ্ব অঞ্চলে আধ্যাত্ম বিপ্লবের মহান দিকপাল, ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের সফল পৃষ্ঠপোষক আওলাদে রাসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুযূর ক্বিবলা সৈয়দ মুহম্মদ তাহের শাহ (মঃ আঃ) বর্তমান বিশ্বে দ্বীন-মাযহাবের খিদমতে যে অবদান রেখে যাচ্ছেন তা সর্বমহলে স্বীকৃত ও সমাদৃত। গাউছিয়তের ধারাবাহিকতায় উনার পূর্ব পুরুষদের যথাযথ পদাঙ্কানুসরণ পূর্বক ভ্রান্ত আকীদার স্বরূপ উম্মোচন, দিশেহারা মানুষদের সৎ ও সঠিক পথ প্রদর্শনে উনার বৈপ্লবিক চিন্তাধারা সত্যিই ঈর্ষনীয়। এ মহান সাধক এর বিশাল সফলতাকে হেয় করার দুঃসাহস দেখানো সত্যিই হাস্যকর ও নির্লজ্জও বটে। পত্রিকার কাটতি বাড়াতে এ ধরণের হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে কারো সম্পর্কে অহেতুক বানোয়াট ভিত্তিহীন মন্তব্য পোষণ ও প্রচার মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় পত্রিকার নামে প্রকাশিত লেখনীতে কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার, আমানত খিয়ানত করার নামান্তর। আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার এহেন নির্লজ্জ প্রকাশিত বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এবার সঙ্গতকারণেই জনাব ক্বাদেরী ছাহেবের প্রতিবাদের প্রতিবাদে লেখককে বলতে হচ্ছে-
জনাব ক্বাদেরী ছাহেব মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সংশ্লিষ্ট মতামতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিবাদ করেছেন মাত্র। এ ক্ষুব্ধতা একান্ত তার ব্যক্তিগত। যা তার হাক্বীক্বত প্রকাশের কারণ বটে। কিন্তু জনাব ক্বাদেরী ছাহেব তার প্রতিবাদ লিপিতে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর সংশ্লিষ্ট মতামতের কোন তথ্যগত ত্রুটি উল্লেখ করতে পারেননি। আর সেটি তার জন্য সম্ভবও নয় বটে। কারণ আল বাইয়্যিনাত-এ তার সম্পাদনায় তারই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতির আলোকেই লিখা হয়েছে। পাঠকের জ্ঞাতার্থে তা হুবহু উল্লেখ করা হলো-
“ষোলশহরস্থ জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসা পবিত্র ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও পুরস্কার বিতরণী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার হোসনে আরা বেগম।
মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন- আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া’র জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ্জ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন- জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসা বর্তমানে নারি শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”
“অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মদ মহসিন, আলহাজ্জ এম.এ. ওহাব আল ক্বাদেরী, অধ্যক্ষ আল্লামা জালালুদ্দীন আল ক্বাদেরী।”
তবে একই মাহফিলে বক্তব্যের পর্যায়ে হোসনে আরা ছাহেবার বক্তব্যও যে ছিল তার প্রমাণ- “বিশেষ অতিথি জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, “জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসা বর্তমানে নারি শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”
এরপর তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী মাহফিলে আরো যেসব পুরুষ উপস্থিত ছিলঃ “অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আনজুমান কর্মকর্তা আলহাজ্জ মুহাম্মদ সামশুদ্দীন, আলহাজ্জ লোকমান হাকিম মুহাম্মদ ইব্রাহীম, আলহাজ্জ গোলাম সারোয়ার, আলহাজ্জ সিরাজুল হক, মুহম্মদ রশিদুল হক এবং মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার ও মাওলানা আবু তাহের। পরে মহিলা মাদরাসার কৃতি ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সর্বশেষে হুযূর কেবলা মাদ্দাজিল্লুহুল আলী সবার জন্য দোয়া করেন।”
প্রনিধানযোগ্য যে, বক্তাদের বক্তব্যের পরেই পুরস্কার বিতরণ করা হয়। “পরে মহিলা মাদরাসার কৃতি ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।”
এরপরে উল্লেখ করা হয়েছে, “সর্বশেষে হুযূর ক্বিবলা মাদ্দা জিল্লুহুল আলী সবার জন্য দোয়া করেন।” অর্থাৎ প্রধান অতিথি হিসেবে যথারীতি শেষে তিনি তার ভূমিকা পালন করেন।
আর সাধারণ অনুষ্ঠানের মতই প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথির পাশেই অবস্থান করেন, যুবতী ছাত্রীরা তার উপস্থিতিতেই এ পুরস্কার গ্রহণ করে, স্বাগত বক্তা বা অন্যান্য বক্তারাও যথারীতি বক্তব্য দেয়। আর ওদের পত্রিকায় প্রকাশিত পরিস্কার ও স্পষ্ট এ বিষয়টিকেই উল্লেখ করে আমার লিখায় মন্তব্য করা হয়েছে।
আমার লিখায় বলা হয়েছিল, “পাঠক! মাসিক আল বাইয়্যিনাত এ বহুদিন ধরেই তথাকথিত সুন্নী ও তাদের পীরে তরীক্বত তাহের শাহর মহা আপত্তিকর, প্রকাশ্যে বে-পর্দা সম্পর্কে বলা হলেও মিথ্যাবাদী, নামধারী সুন্নীরা তা বরাবর অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু কিছুটা রাখ-ঢাক করে পত্রস্থ করার পরও রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্র জুলাই/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় যা ছাপা হয়েছে তাতে সমঝদার পাঠকের আর কিছুই বুঝতে বাকী থাকেনা।”
পাঠক! ব্যাপারটি যে সত্যিই বুঝতে কিছু বাকি থাকেনা এবং ওদের দেয়া তথ্যানুযায়ীই তাহের শাহর বে-পর্দা হওয়া বা উক্ত অনুষ্ঠানের বে-পর্দা হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ থাকেনা তা আর না বললেও চলে।
“এ ক্ষেত্রে এটাও বিশেষভাবে উপজীব্য যে, ওদের পত্রস্থ পুরো সংবাদটিতেই পর্দা করার কথা উল্লেখ নেই। বিশেষ অতিথি হোসনে আরা আলাদাভাবে বসেছিলেন, মহিলা ছাত্রীদের জন্য ভাল পর্দা করে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, মহিলা ছাত্রীরা- মহিলা অধ্যক্ষা বা শিক্ষিকার কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছিলো, মহিলাদরে কার্যক্রমগুলো সম্পূর্ণ পর্দার ভিতরে আলাদাভাবে হয়েছিল, যা একটি মহিলা মাদরাসার সংবাদ পরিবেশনে আবশ্যকীয় শর্ত- তার বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই। এটি রেযাখানী মাযহাবের মুখপত্রের সম্পাদক ছাহেবের পেশাগত তথ্য পরিবেশনে নিতান্ত অদক্ষতা অথবা হাক্বীক্বত বে-পর্দার বিষয়টিই বিশেষভাবে প্রতীয়মান করে।
মূলত: বে-পর্দার বিষয়টিই এখানে মূখ্য। কারণ মহিলা মাদরাসার সংবাদ হলেও পুরো সংবাদে পর্দার কোন কথাই নেই। এমনকি হোসনে আরা ছাহেবা নিজেও যে শরীয়তী পর্দা থেকে বে-খবর তা তার বক্তব্য থেকেও পরিস্ফুট হয়। তিনি বলেন, “জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদরাসা বর্তমান নারি শিক্ষার ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।”
এখানে উল্লেখ্য, পর্দা প্রতিপালিত হয়নি বলেই মহিলা মাদরাসার বয়ান হিসেবে যা একান্ত যুক্ত হওয়ার কথা ছিল “… মাদরাসার পর্দা পালন ভিত্তিক ইসলামিক শিক্ষা বর্তমান নারী অপশিক্ষা ও নারী অবমাননার যুগে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস” এ কাঙ্খিত ও বাঞ্ছিত বক্তব্য প্রদানে তিনি করুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তদুপরি তার রোজনামচাই প্রমাণ করে যে, পুরো শরীয়তী পর্দা সম্পর্কে তিনি সত্যিই বে-খবর।
তাই জনাব ক্বাদেরী ছাহেবের প্রেরিত প্রতিবাদকে শুধু প্রচলিত প্রতিবাদরূপে আখ্যা দিয়ে শেষ করা যায় না বরং তার প্রতিবাদখানা অসত্য, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিধায় আমরা সঙ্গতকারণেই তার প্রতিবাদ লিপির আরো প্রতিবাদ করতে বাধ্য হই।
ক্বাদেরী ছাহেব বলেছেন, তাহের শাহ বর্তমান বিশ্বে ধর্ম-মাযহাবের খিদমতে যে অবদান রেখে যাচ্ছেন তা সর্বমহলে স্বীকৃত ও সমাদৃত।
কিন্তু নামধারী গ-ীভুক্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত নয় দেশের তথা সারা বিশ্বের সত্যিকারের আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত এর পাতায়, শরীয়তের দৃষ্টিতে তাহের শাহ গভীরভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত। আর এ সমালোচনার সমর্থন রয়েছে তাদের তথাকথিত ইমাম আহমদ রেযা খার ওছীয়ত নামায়ও। মৃত্যুর পূর্বেও তাদের ইমাম যেখানে ছবি সম্পর্কে চরম নিষেধবাণী ব্যক্ত করেছে সেখানে তাহের শাহ এখনও আহমদ রেযার ভক্ত দাবী করে তারই নিন্দনীয় কাজ ছবি তুলে, ভি.ডি.ও করে আহমদ রেযার ওছীয়তকে অবমাননা করে আহমদ রেযা ভক্তদের কাছেই কঠোরভাবে সমালোচিত ও নিন্দার পাত্র বলে বিবেচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি তাহের শাহর বে-পর্দা প্রীতি প্রমাণের জন্য আলোচ্য আলোচনার প্রয়োজন পড়েনা। বরং বাস্তবে বহু ঘটনা এবং বহু সাক্ষী এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে মওজুদ। আর বিষয়টি সাধারণের মাঝেও বহুল আলোচিত বলে তারা তাদের মুখপত্রে সাথে সাথে প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। মনগড়া বক্তব্য দিয়ে মিথ্যার ঝুড়ি তৈরি করতে সময় ক্ষেপন করছে।
তদুপরি ক্বাদেরী ছাহেব কি রকম একচোখা, পক্ষপাতদুষ্ট হীনউদ্দশ্যে প্রণোদিত মনোভাব নিয়ে রেযাখানী মাযহাবটির মুখপত্র সম্পাদনা করছেন তা দর্শনে তার এবং সমগোত্রীয়দের অর্থাৎ সুন্নী নামধারীদের মুনাফিকী প্রকটভাবে প্রকাশ পায়।
ক্বাদেরী ছাহেব বলেছেন, “ধর্মীয় পত্রিকার নামে প্রকাশিত লেখনীতে কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার আমানত খিয়ানত করার নামান্তর।”
এ কথার জবাবে বলতে হয়, সাধারণ অপপ্রচার তো তুচ্ছ বিষয়, তের শতকের মুজাদ্দিদ এবং সেই সময় থেকে শত শত কোটি মুসলমানের প্রাণ পুরুষ, রূহানীয়ত, মুহব্বত-মারিফাত হাছিলের উৎস, সুন্নতী আমলের চেতনা ও আমিরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যে আপনার পত্রিকায় ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যায় কাফির ফতওয়া দেয়া হলো এবং উনার কুফরীতে যারা সন্দেহ করবে তারাও কাফির বলা হলো এবং সে প্রেক্ষিতে বর্তমান বিশ্বের গুটিকতক নামধারী সুন্নী ব্যতীত প্রায় দেড়শ কোটি লোকই কাফির সাব্যস্ত হলো- এটা কোন পর্যায়ের অধর্ম আর কোন পর্যায়ের আমানতের খিয়ানত তথা মুনাফিকী; জনাব ক্বাদেরী ছাহেব সে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে পাঠক সমাজে কিরূপ মুনাফিকী খাছলতের অধিকারী প্রমাণিত হলেন তা ভেবে দেখার মত সর্ষে পরিমাণ ঈমান তার এখনও অবশিষ্ট আছে কি?
সত্যিকার অর্থে এটা যে আশাদ্দুদদরজার মুনাফিকী তা মালুম করতে ক্বাদেরী ছাহেব আপনার কষ্ট হলেও সাধারণের জন্য মোটেই কষ্টকর নয়। সাথে এটাও বোঝার বাকী নেই যে, আপনার মত মুনাফিকদের প্রসঙ্গেই হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই ধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু।” (নাউযুবিল্লাহ)
-মুহম্মদ আব্দুল্লাহিল মা’ছূম, ঢাকা।
ছাইকে উড়ানোর সম্মতি জ্ঞানীদের থেকে পাওয়া গেছে বটে। তাতে কচিৎ রত্ম মিললে মিলতেও পারে। কিন্তু ময়লা বা বিষ্ঠা ঘাটার ব্যাপারে অনুমোদন দেননি কখনও। কেননা, তাতে কেবল দুর্গন্ধই বিস্তার লাভ করে।
অমিয়াপুরে ছয় সন্তানের এক মহিলাকে ঘিরে ভ-, ফাসিক, জলীলের যে কেলেঙ্কারীর ব্যাপারে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল তাতে সামান্য জ্ঞান থাকলেও জলীল এ বিষয়ে নিঃশ্চুপ থাকতে পারত।
কিন্তু ময়লা বা বিষ্ঠা ঘাটার মতই সে এ বিষয়টিকে আরো বিস্তার করতে চাইছে।
অমিয়াপুরের জনৈক শামছুদ্দীনকে সে এ বিষয়ে নিয়োগ করেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিষয়টি যদি অসত্য হত তাহলে উক্ত মহিলা বা তার পুত্রদের থেকে অথবা খোদ জলীলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবাদ আসতে পারত।
কিন্তু তা না করে উক্ত শামছুদ্দীন গংকে এ ব্যাপারে নিয়োগ দান এটাই প্রমাণ করে যে বিষয়টি এখন আর উক্ত মহিলা ও জলীলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অমিয়াপুরে তো বটেই বরং বাইরের অনেকেই এ বিষয়টি ঢালাওভাবে জানে। শামছুদ্দীন গং-এর এ বিষয়ে লেখালেখি তারই প্রমাণ।
-মুহম্মদ হাফিজুর রহমান, ঢাকা।
সত্যবাদী প্রমাণিত হওয়ার ভিত্তিটি কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলে দেয়া হয়েছে। সেটি হলো, “দলীল”। মাসিক মুহীনুল ইসলাম তথা তার সম্পাদক আহমক শফীর অনেক অনেক গোমরাহী ও জিহালতি এযাবৎ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে যা প্রকাশিত হয়েছে তার প্রত্যেকটির পিছনে অকাট্য অনেক অনেক দলীল এবং সাক্ষাত প্রমাণ দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে রাজারবাগ শরীফ উনার বিরুদ্ধে তারা পুনঃ পুনঃ অনেক বিষোদগার করলেও তার স্বপক্ষে কোনই দলীল পেশ করতে পারেনি।
প্রসঙ্গতঃ মুহীনুল ইসলামের সেপ্টেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার জিজ্ঞাসা-সমাধানে রাজারবাগ শরীফ উনার প্রতি বিষোদগার করা হলেও তার কোন গ্রহণযোগ্য দলীল তারা দিতে পারেনি।
বরং বলেছে, “রাজারবাগের পীর ছাহেবের কিছু আক্বীদা-বিশ্বাসের বিবরণ মাসিক আল বাইয়্যিনাত জুন/১৯৯৯ ঈসায়ী সংখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যার অধিকাংশই শরীয়ত পরিপন্থী এবং বিদআত।”
পাঠক! মাসিক আল বাইয়্যিনাত জুন/৯৯ ঈসায়ী সংখ্যায় সত্যিই যদি কোন শরীয়ত পরিপন্থী লিখা থাকতো তাহলে তারা আগস্ট/২০০১ ঈসায়ী পর্যন্ত উনার সে আক্বীদাগুলোর কথা উল্লেখ করে বিরুদ্ধে লিখলো না কেন? আর সেপ্টেম্বর সংখ্যায় যদিও বলেছে, তবুও তার বিবরণ পেশ করলো না কেন? দেশবাসীকে তা অবহিত করলোনা কেন?
মূলতঃ তারা জানে যে সত্যিকার অর্থে আল বাইয়্যিনাতে দলীলবিহীন কোন লিখাই নেই। রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মাঝে শরীয়ত পরিপন্থী কোন আমলই নেই। কিন্তু তারপরেও তারা হয়তোবা মনগড়া, বানোয়াটি ও মিথ্যা দিয়ে বর্তমান সেপ্টেম্বর সংখ্যায়ই কিছু লিখতো। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা তাদের এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত, রাজারবাগ শরীফ উনার বিরুদ্ধে বানোয়াটি আর মিথ্যা দিয়ে কিছু লিখেও পার পাওয়া যায় না। কারণ সেক্ষেত্রে তার পরবর্তী সংখ্যায় মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর এমন তথ্য প্রমাণ ও দলীল-আদীল্লাভিত্তিক চৌকষ জবাব দেয়া হয় যে, তাতে পাঠক মানসে ওদের নাস্তানাবুদ আর নাকানি-চুবানি খাওয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর থাকেনা।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে তাই ওরা নতুন প্রতারণার সূরে বলেছে, “.. এটা সবার নিকটেই স্পষ্ট যা এখানে উল্লেখ করার দরকার নেই।”
পাঠক! উল্লিখিত বিষয়ই যখন প্রদত্ত জিজ্ঞাসা-সমাধানের ভিত্তি তখন তার উল্লেখ করার যদি দরকার নাই থাকে, এটা যদি তাদের ভাষায় সকলের নিকট স্পষ্টই থাকে তাহলে আবার আলাদা করে তাদের পত্রিকায় এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা-সমাধানের অবতারণা করার দরকারই কি? এটা কি এ বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট স্ববিরোধীতা এবং মুনাফিকী নয়?
তদুপরি তারা হক্কানী-রব্বানী পীর ছাহেবের যে ৮টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছে, প্রমাণ করা যাবে যে, তার সবগুলোই রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মাঝে উপস্থিত, আর তারা সবাই সেসব আদর্শ থেকে অনেক দূরে বিরাজমান অর্থাৎ তাদের ভাষায়ই প্রমাণিত হবে যে রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি সম্পূর্ণই হক্ব এবং তারাই কাযযাব, মুনাফিক, জাহিল ও গোমরাহ। আগামী সংখ্যায় ইনশাআল্লাহ তা আলোচনা করা হবে।
-মুহম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)
তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)
মিযানরূপী ভন্ড জলীল নিজেই প্রচার করলো সে ও তার গুরু রেযা খাঁ কাফির