“তুমি তো শুধুমাত্র অংগুলীই; যা রক্তাক্ত হয়েছে। যে কষ্ট তুমি পেয়েছ, তা তো মহান আল্লাহ পাক উনার পথেই” -বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযীতে হযরত জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত আছে যে, একবার একটি অংগুলিতে আঘাত লেগে রক্ত প্রবাহিত হলে রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
আর এ ঘটনার পর কিছু দিন হযরত জীব্রাঈল আলাইহিস সালাম ওহী নিযৈ আসলেন না। এতে কাফির-মুশরিকরা বলাবলি করতে শুরু করলো মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার রব পরিত্যাগ করেছেন ও উনার প্রতি কষ্ট হয়েছেন। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
যাঁর মুহব্বতে আশেক হয়ে মহান খোদা তামাম মাখলুকাত সৃষ্টি করলেন। প্রতি মূহুর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁর র’ফে-দারাজাত ঘটান। যাঁর নাম মুবারক, স্বীয় কালেমা শরীফ উনার মধ্যে সংযুক্তি করলেন, এক কথায় যাঁকে মহান আল্লাহ পাক সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করেন। মহান আল্লাহ পাক উনার সেই সম্মানিত মুহব্বত উনার প্রতিই মিথ্যা লেপন করে চরম জাহিলরা বলাবলি শুরু করল, মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি অসন্তুষ্টি হয়েছেন।
উম্মে জামীলা ছিল এই অপপ্রচারকারীনীদের অন্যতম। মূলতঃ কয়েকবারই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী ইচ্ছায় ওহী বিরতি দিয়ে দিয়ে আসে। আর সেটাকেই কাফিররা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি বলে প্রচার করে আত্মপ্রসাদ লাভ করতে চায়। এমন কি এক পর্যায়ে ওরা এও প্রচার করে যে তাওহীদ প্রচারে ওদের দেবতাদের প্রতি অবজ্ঞা করাতেই লা’নত পড়েছে, গযব পড়েছে এবং সামনে পরিণতি আরো ভয়াবহ। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইমামুল আয়িম্বা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুযযামান, আওলাদুর রসূল, মুহইস সুন্নাহ রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যথাসম্ভব সব সুন্নত পালন, পূনঃপ্রচলন করার মহান মর্যাদায় সমাসীন হয়েছেন। কিন্তু জামানার নিশান বরদার ওলীআল্লাহ হিসেবে প্রতি মুহুর্তেই যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন সেখানে আরো দু’চারটা সুন্নত পালন যা বাকী রয়েছে তা পালনের বিষয়ও এসে যায়। আর কাফিররা যেমন বলত; তাদের দেবতাদের অবজ্ঞা করাতে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন, উনার প্রতি আযাব-গযব নাযিল হবে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
তদ্রুপ উলামায়ে ‘সূ’দের মুখোশ উম্মোচন করার কারণে, হক্ব-নাহক্ব চিহ্নিত করে দেয়ার প্রেক্ষিতে, নামধারী অতি সুন্নী তথা চরম ফাসিক আব্দুল জলীলের হাক্বীক্বত উদঘাটনে কাফিরদের ভূমিকায় বর্তমান যুগেও এমন কিছু চরম জাহিল ও ফাসিক থাকা দরকার যে, বর্ণিত তাজদীদী কাজ হেতু যারা বলবে, রাজারবাগ শরীফ উনার পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। উনার প্রতি আযাব আসবে। নাউযুবিল্লাহ!
আর বাস্তবে দেখা গেল এ ধরণের বদবখত আর কেউ নয় গোমরাহ, বেশরা-বেপর্দা, চরিত্রহীন আব্দুল জলিলেরই পা-চাটা চেলা মুফতী নামধারী মিযান ও মুবারক। যারা এ যুগের উম্মে জামীলার ভূমিকা পালন করছে।
উম্মে জামীলা যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার রোষে কথা বলে, নিজেই মহান আল্লাহ পাক উনার রোষে পড়েছিল তেমনি রাজারবাগ-এর প্রতি বিপর্যয়ের কথা বলে গোমরাহ, ফাসিক জলীল গং নিজেরাই বিপর্যস্ত হচ্ছে, তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে। মূলতঃ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।
যার প্রমাণ তাদের ২৭ নং অবৈধ বুলেটিনের, রাজারবাগের প্রতি অমূলক বিষোদগারের আগে পত্রস্থ “আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত একটি সমীক্ষা” শীর্ষক আগের লেখা। (অসমাপ্ত)
-মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।
ওহাবী, দেওবন্দী, খারিজিদের যা চিরন্তন খাছলত। মাথায় ব্যাথার উপসর্গ দেখা দিলে তাতে ঔষধ প্রয়োগ না করে পুরো মাথাটিই কেটে ফেলা ওদের খাছলগত প্রবৃত্তি। সব ফরয নামাযের পর মুনাযাত করলে মানুষ একে ফরয মনে করতে পারে এই অমূলক আশঙ্কায় পরিশেষে তারা ফরয নামাযের পর মুনাযাতই বন্ধ করে দিল, মুনাযাত করাকে বিদয়াত বলে প্রচার শুরু করল। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
অথচ ঘাড় মসেহ করার মত মুস্তাহাব আমলকে অদ্যাবধি মানুষ মুস্তাহাব জেনেই করে আসছে। কেউ তাকে ফরয বলে গন্য করছেনা, সে দৃষ্টান্তেও ওদের চেতনা নেই।
সূক্ষ্ম চিন্তানুভূতি আর ছহীহ সমঝের পরিবর্তে ওরা মোটা বুদ্ধি আর বক্র চিন্তায়ই অভ্যস্ত।
ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কেন পালন করা যাবেনা সে বিষয়ে ওদের জাহিলী যুক্তি হচ্ছে- তথাকথিত সুন্নীদের কীর্তিকলাপকে কেন্দ্র করে। তাদের মুখপত্রের ভাষায়- “আতশ বাজি-পটকা, জশনে-জুলুস, রং বেরংয়ের আলেকসজ্জা, আনন্দ মিছিল প্রভৃতির মাধ্যমে ঈদ পালন করেন কিরূপে? ………
….. কিন্তু বিগত রাবীউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ রাজধানীতে দেখা যায় জশনে জুলুসে ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে অধিকাংশ আগাগোড়া সুন্নতহীন, পীর প্রেমে আচ্ছন্ন একদল তাদের পীরকে জেল ফেরত রাজনৈতিক নেতার ন্যায় ফুলের মালায় সজ্জিত করে ছাদ খোলা পাজেরো জীপে চড়িয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ থেকে শুরু করে পল্টন ময়দান প্রকম্পিত করছে। আর গাড়ীতে বসা পীর সাহেব হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। সঙ্গে বত্রিশ দন্ত বিকশিত করা ক্লোজআপ হাসি ফ্রি। তার ভাবখানা দেখে বুঝতে সত্যিই কষ্ট হচ্ছিল যে, জন্মদিন কি নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাকি ও পীর সাহেবের! আবার সুন্নী নামধারী একদলকেও দেখা গেছে রং বেরংয়ের ব্যানারে ফেস্টুন নিয়ে নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী নিবিশেষে পর্দাকে ডাস্টবিনে ফেলে রাসূল প্রেমে একাকার হয়ে সমস্বরে ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী উনার বন্দনা গেয়ে রাজপথ, অলি-গলি মুখরিত করতে।”
পাঠক! শুধু ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে বা উক্ত দিনে কেন? সব দিনেই, সবক্ষেত্রেই পর্দার খিলাফ করা, ছবি তোলা শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট হারাম। কাজেই শুধু এদিনে বা এ বিষয়ে নয় নামধারী সুন্নীদের মত খারিজী, ওহাবী গং এর নারী নেতৃত্ব গ্রহণ, নারী নেতৃত্বের সাথে সহাবস্থান, ছবি তোলা একইভাবে নিন্দনীয় ও বর্জনীয় কিন্তু কথা হলো মহল বিশেষের এসব বেশরা কাজগুলো কি আমরা কেবল ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিনেই লক্ষ্য করি?
খারিজী, ওহাবী, দেওবন্দীরা কেবলমাত্র যে দু-ঈদের কথা স্বীকারেই আগ্রহী সে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আদ্বহার দিনেও কি আজকের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক হারে পাপের সয়লাব দেখা যায় না? দেখা কি যায় না ঈদের রাত থেকেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে অত্যাধুনিক লাউড স্পীকার সাথে উদ্দাম নৃত্য এমনকি প্রকাশ্যে শরাব পানের মহড়া?
আর সারাদিন ধরেই যেন বিরামহীনভাবে চলে জঘন্য বেপর্দার মিছিল। ঈদের আনন্দের নামে ডিস, সিনেমা, টিভি ইত্যাদি হারাম মউজের মহোৎসব। মূলতঃ গোটা দিনই বায়িত হয় ঈদের পবিত্র আনন্দের পরিবর্তে এক মহা নোংরামি-ও হারামের মহোৎসবে। এখানে নামধারী সুন্নীরা বেশরা, বের্পদা কাজ করে বলে যারা গোটা ঈদ-ই-মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বয়কট করতে চান, সেক্ষেত্রে এর চেয়েও ব্যাপকহারে যে পাপের ঢল নামে আমাদের পবিত্র দু ঈদে; সে দু ঈদও কি তাহলে তাদের কথানুযায়ী একইভাবে বর্জন করা উচিৎ? কিন্তু তাতে নিজেদের জিহালতি ব্যাপকভাবে উদঘাটিত হয়ে তা জনরোষ তৈরি করতে পারে বলেই সে বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। বিষয়টি তাদের অস্বচ্ছতা, অসততা সর্বোপরি সিলসিলার অন্তঃসারশুন্যতা ও জিহালতিই গভীরভাবে প্রতীয়মান করে। আর আগাছা জন্মোছে বলে যারা মূল গাছকেই উপড়ে ফেলতে চায় তারাই আবু জেহেলের যোগ্য বংশবদ। সঙ্গতকারণেই তাদের অন্তরে আবু লাহাবের মুহব্বত টইটম্বুর। সে কারণেই খোদায়ী ঈদ, মুত্তালিবী ঈদ, সকল ঈদের ঈদকে তারা ‘লাহাবী ঈদ’ বলে নিজেদের শয়তানের দোসর হিসেবে প্রতীয়মান করেছে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
-মুহম্মদ মাছূমুর রহমান, গোড়ান, ঢাকা।
জিহাদের ময়দানে পরপর তিনদিন ক্রমাগত কোশেশের পর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বিধর্মীটকে ধরাশায়ী করে তার উপরে উঠে বসলেন। এর অব্যবহিত পরে যখনই তার বুঝে খঞ্জর বিদ্ধ করতে যাবেন তখনই বিধর্মীটি উনার মুখ মুবারকে নিক্ষেপ করল দলা দলা থু থু। হাতের মুঠোয় আবদ্ধ মৃত্যু পথযাত্রী শত্রুর এহেন উদ্ধত আচরণে ক্রোধে অধীর হয়ে দ্বিগুন রেগে খঞ্জরের আঘাত হানার পরিবর্তে তিনি সে মুহূর্তেই বিধর্মীর বুক থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
ছাড়া পেয়ে উঠে দাঁড়াল বিধর্মী। কিন্তু হতভম্ভ সে, হতবিহবল তার দৃষ্টি। সবিস্ময়ে তার জিজ্ঞাসা, “হযরত! তিনদিন ধরে একাদিক্রমে কোশেশ করার পর আমাকে হত্যার করার এমন মোক্ষম সুযোগ পেয়ে কেন তা হাতছাড়া করলেন?” জবাবে আসাদুল্লাহ, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার হৃদয়গ্রাহী জবাব, “তোমাকে হত্যার করার কোন উদ্দেশ্য আমার নেই, মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম পালন ব্যতীত। কিন্তু তুমি যখন আমার প্রতি থু থু নিক্ষেপ করলে তখন আমার হৃদয়ে সামান্য ক্রোধের সঞ্চার হয়েছিল বৈকি। আর তখন যদি আমি তোমাকে হত্যা করতাম তাহলে তা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে এবং উনার হুকুম মুতাবিক হত না। তাই মি তখন তোমাকে হত্যা করা সমীচিন মনে করিনি। কারণ জিহাদের ময়দানে হলেও যেনো-তেনোভাবে শত্রু নিধন করা নয় বরং মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুতাবিক পরিচালিত হওয়াই আমাদের আদর্শ। মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুতাবিক চলে জাহিরান, ছূরতান হার হলেও হাক্বীক্বতান সেখানেই আমাদের কামিয়াবী; আর মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুতাবিক না চলে, ছূরতান বা জাহিরান বিজয় সাধিত হলেও হাক্বীক্বতান সেখানেই আমাদের ব্যর্থতা, পরাজয়।”
হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার এ প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য তৎক্ষণাতই প্রতিফলিত হয়েছিল। হাতের মুঠোয় আবদ্ধ শত্রুকে খতম না করলেও সেই শত্রুই উনার উদারতায় ইসলামের অনুপম আদর্শে মুগ্ধ হয়ে ঈমান এনেছিল।
পাঠক! এ আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতিভাত হয় যে, জিহাদের ময়দানেও শত্রুকে আপন হাতের মুঠোয় পেয়েও ইসলাম-নির্দিষ্ট নির্দেশনার বাইরে এক বিন্দু চলা যাবেনা। অর্থাৎ ইসলামের রয়েছে স্বকীয় ও মৌলিক সীমারেখা। তার বাইরে চলমান কোন খেয়াল খুশি কোন মতেই গ্রহণ করা যাবেনা। সে প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়ম-নীতি, কর্মসূচী) তালাশ করে তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্থের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা আল ইমরান/৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন, “বলে দিন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার হিদায়েতই প্রকৃত হিদায়েত। আপনার কাছে সত্য ইলম (অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম) আসার পরও যদি আপনি তাদের নফসের বা মনগড়া নিয়ম-নীতির অনুসরণ করেন, তবে আপনার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কোন অভিভাবক বা সাহায্যকারী নাই বা পাবেন না।” (সূরা বাক্বারা/১২০)
পাঠক! কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ উনাদের ইত্যকার বর্ণনা থাকলেও শাইখুল হদস গং তাদের মুখপত্রে জুন সংখ্যায় বলেছে, “আজকাল অনেক সম্প্রদায় বিভিন্ন সাধারণ দাবী আদায়ের জন্যও হরতাল ডাকছে। সেক্ষেত্রে দ্বীনের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য অবশ্যই এসব কর্মসূচী (হরতাল, মৌলবাদ, নির্বাচন) ইত্যাদি জায়েয, বরং ক্ষেত্র বিশেষে জরুরীও (ফরয) বটে।” (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
পাঠক! আলোচ্য বক্তব্যে দুটো বিষয় উল্লেখ্য, প্রথমতঃ “আজকাল” দ্বিতীয়তঃ “অনেক সম্প্রদায়” বক্তব্যটি এরূপ যেহেতু আজকাল অর্থাৎ চলমান সময়ে অনেকে হরতালের মত কাজটি করছে সুতরাং ইসলামের ক্ষেত্রেও তা জায়েয হবে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
কারণ আজকাল, অর্থাৎ চলমান সময় বা সময় এবং অনেকে অর্থাৎ অধিকাংশ লোক এ দুটোর যুক্তি কোন মতেই ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। মশহুর সূরা, ‘সূরা আছরে’, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “সময়ের কছম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। কেবল মাত্র তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে।”
এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে প্রতিভাত হয় যে, প্রত্যেক চলমান সময়েই ঈমানদারদের ইসলাম নির্দেশিত নেককাজ ছাড়া আর সবাই ক্ষতিগ্রস্থ। আর অধিকাংশ লোককে অনুসরণ করা ইসলামী নির্দেশনার বাইরে। কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তোমরা যদি অধিকাংশ লোককে অনুসরণ কর তবে তারা তোমাদের গোমরাহ করে ফেলবে।”
সুতরাং অনেককে বা অধিকাংশ লোককে অনুসরণ করে চলমান সময়ের রীতি হরতালকে গ্রহণ ও কার্যকর করে শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, ফজলু গং যে ইতোমধ্যে ষোল আনার উপরে আঠার আনাই গোমরাহ হয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
গোমরাহ না হলে তাদের পক্ষে কি করে সম্ভব, আজকাল আর অনেক লোক এই দু’উপাত্তের উপর নির্ভর করে হরতালের মত কাট্টা বিজাতীয় ও সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী হারাম কাজকে হালাল বরং ফরয বলে ঘোষণা দিতে পারা!
এই গোমরাহ, জাহিল শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, নিজামী, ফজলু গং কি অনুধাবন করতে পারে যে, আজকাল এবং অনেক লোক এ দুয়ের দোহাই দিয়ে তারা যদি হরতালের মত হারাম কাজকে হালাল করতে চায় তাহলে ইসলাম নির্দেশিত আর কোন হারাম কাজই হারাম থাকেনা।
কারণ আজকাল অনেক লোকই পর্দা করছেনা, নাচ-গান করছে, ডিস-টিভি-সিনেমা দেখছে, সুদ খাচ্ছে, মিথ্যা বলছে, সন্ত্রাস করছে, ব্যভিচার করছে, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি করছে। মূলতঃ আজকাল, অনেক এর চেয়েও অনেক লোকই ইসলামিক আচার ছেড়ে যাবতীয় অনৈসলামিক আচরণে অভ্যস্ত হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, নিজামী, ফজলু গং এর ফতওয়া কি এই দাঁড়ায়না যে আজকাল অনেকেই যেহেতু সেগুলো করছে তাই সুদ-দুর্নীতি, বেপর্দা, সন্ত্রাস ইত্যাদি সবই জায়েয। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
মূলতঃ তাদের এ বক্তব্য মুত্তাকী মুসলমানদের কাছে রীতিমত মহা আশ্চর্যকর হলেও এই সব দেওবন্দী, ওহাবী, খারিজী তথা শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনী, নিযামী, ফজলু গং এর জন্য মোটেই অসমঞ্জম নয়। কারণ তারা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রচারিত ইসলাম এর অনুসারী হিসেবে নিজেদের প্রতিপন্ন করেনা তারা করে তাদের প্রচারিত দেওবন্দী, খারিজী, জামাতী, ওহাবী, মৌলবাদী ধর্ম। তাদের রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন বরং তাদের লালনকৃত মোটা, তাজা বা পশুবৎ বরং তার চেয়েও হীন তাদের নফস।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “আপনি তাদেরকে দেখেছেন কি যারা তাদের নফসকে নিজেদের রব বানিয়ে নিয়েছে?”
আর সেই নফসের বান্দা হিসেবেই তারা বাদশাহ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহীর ন্যায় নতুন দ্বীন-ই-ওহাবী, খারিজী, জামাতী, দেওবন্দী বানিয়েছে। আর দ্বীন-ই-ইলাহীর অনুসারীদের সম্বোধন ‘চেলার’ মত নিজেদের মৌলবাদী পরিচয়ে পর্যায়ভূক্ত করেছে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, বাসাবো, ঢাকা।
(ইসলামী বিশ্বকোষ থেকে হুবহু উদৃত)
এই কথা বলা অনাবশ্যক যে, প্রথমত দীর্ঘ বাষট্টি বৎসর পর দুই গজ লম্বা ও এক গজ চওড়া একটি স্থানে নির্ভুলভাবে নির্দেশ করিতে পারা প্রায় অসম্ভব ছিল অথবা বলা যায় যে, এই বিষয়ে নিশ্চিত নির্ভুলতায় পৌঁছাইবার দাবিকে বিবেচনা বহির্ভূত মনে করা উচিৎ। দ্বিতীয়ত যদি এই কথা স্বীকার করিয়াও লওয়া হয় যে, উক্ত চিহ্নিতকরণ সঠিক ও নির্ভূল ছিল, তথাপি ইহা নিশ্চিত যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লাশ চিহ্নিত করবে বর্তমান নাই। কারণ দাফনের তিনদিন পর উহাকে কবর হইতে বাহির করিয়া নদীতে নিক্ষেপ করা হইয়াছিল এবং অতঃপর উহাকে পুনরায় স্বস্থানে ফিরাইয়া আনিয়া দাফন করিবার স্বপক্ষে কোনও বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় না। অধিক বলিতে গেলে শুধু এইটুকুই বলা যায় যে; হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লাশ, উক্ত চিহ্নিত কবরে তিনদিন মাদফুন ছিল।
উল্লিখিত মাযার ঠিক সড়কের উপর অবস্থিত। তবে উহার দ্বার পশ্চিম দিকে অবস্থিত একটি গলি অভিমূখী।
বালাকোটের যুদ্ধ : সর্বশেষে বালাকোট যুদ্ধের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদত্ত হইতেছে। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে পাঞ্জতার (খাদ্দ ওয়াখায়ল) নামক স্থানে অবস্থিত মুজাহিদ কেন্দ্র ত্যাগ করিয়া হাযারা জেলার উচ্চ ভূমির দিকে গমন করিয়াছিলেন, উহার উদ্দেশ্য ছিল কাশমীরের দিকে অগ্রসর হইয়া উহাকেই কেন্দ্র বানাইয়া উপমহাদেশকে বিধর্মী ও বিদেশীদের যবর দখলদারী হইতে মুক্ত করিবার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। এই সময়ে কাশমীর গমনের পথে খান ও সামন্তগণ মুজাফফারাবাদের শাসনকর্তা যবরদস্ত খান, ঘুড়ী অঞ্চলের সামন্ত নাজাফ খান, দেরাবা অঞ্চলের সামন্ত মানসুর খান ও গাঢ়ী অঞ্চলের সামন্ত হাবীবুল্লাহ খানের পক্ষ হইতে সাহায্য প্রার্থনা করিয়া উনার নিকট আবেদন আসিল। এমনকি যবরদস্ত খানের সাহায্যার্থে মাওলাবী খায়রুদ দ্বীন শেরকূটী-এর নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ মুজাফফারাবাদে প্রেরিতও হইলো। (চলবে)
-মুহম্মদ নূরুল আলম, ঢাকা।
চট্টগ্রামের কয়েক কিলোমিটার অধ্যুষিত তথাকথিত সুন্নী জামায়াতের ইমাম হুক্কা-বিড়ি সেবনকারী “শের-ই-বাংগাল” নামধারী আজিজুল হক এমন এক রহস্যময় ব্যক্তি যার লেখনী ও গলাবাজীর মধ্যে আসমান-যমীন ফারাক।
হে সম্মানিত পাঠক সমাজ! এই সেই নামধারী শেরে বাংলা যাকে আমাদের দেশের চাটগাঁর কিচু সংখ্যক লোকেরা মতলব হাছিলের নিমিত্তে তার নামের পূর্বে “ইমামে আহলে সুন্নত ওয়াল জায়ামাত” শব্দটি যোগ করে থাকে।
তিনি মাঠে ময়দানে কষনও সুন্নী আবার কষনবা ওহাবীর ভূমিকা পালন করে দর্শকদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। কষনও তিনি গৃহস্থকেও সজাগ থাকতে বলে নিজেই চোরের ভূমিকায় নেমে পড়েন। তিনি শত্রুর পশ্চাতে তরবারী নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অবশেষে শিকারী শত্রু নাগালের বাইরে চলে গেলে গোসসায় নিজেরই তরবারীর আঘাতে স্বীয় মসতক ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।
পাঠকবর্গ! বুঝতেই পারছেন কার কথা বলছি। যিনি মুসলমান হয়েও মুনাফিকের কাতারে বন্দী হয়ে গেছেন। চট্টগ্রামের নামধারী মুখোশ পরা তথাকথিত সুন্নীদের ইমাম শেরে বাংলা লক্ববধারী আজিজুল হক তার দিওয়ানে আযীযের ১৮২ পৃষ্ঠায় আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সিলসিলাকে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার করুণা ও ফুয়ুজাত থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেছেন।
অথচ এই “দিওয়ানে আযীযের” বহু স্থানে আযিযুল হক শেরে বাংলা হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা অনুসারীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের কারো কারো নামের পূর্বে কুতুবুল ইরশাদ, পীরে কামিল, গাউসুল আযম, উচ্চ বেলায়েতধারী ওলী, শহর কুতুব ইত্যাদি লক্ববও উল্লেখ করেছেন।
যেমন, তিনি “দিওয়ানে আযীযের” ১৬০ পৃষ্ঠায় হযরত সূফী নূর মুহম্মদ নিযামপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, “দিওয়ানে আযীযের” ১৬৬ পৃষ্ঠায় রসূল নোমা পীর হযরত সূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, “দিওয়ানে আযীযের” ১৩৫ পৃষ্ঠায় ফুরফুরা শরীফ-এর মুজাদ্দিদুয যামান হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রশংসা করেছেন।
অথচ উপরোক্ত তিনজন বুযুর্গই চারটি তরীক্বার মধ্যে দিয়েই হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সহিত মিলিত হয়েছেন। হযরত সূফী নূর মুহম্মদ নিযামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তো সরাসরি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা।
এরপর “দিওয়ানে আযীযের” ৮৫ পৃষ্ঠায় হযরত মাওলানা আব্দুল মজিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, “দিওয়ানে আযীযের” ৭৩ পৃষ্ঠায় নারিন্দা মুশুরীখোলার পীর ছাহেব হযরত সূফী আহসানউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং “দিওয়ানে আযীযের” ৬৫ পৃষ্ঠায় হাফিয বজলুর রহমান বেতাগী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
হযরত মাওলানা আব্দুল মজিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হযরত সূফী ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুই সিঁড়ির পরই আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। নারিন্দা মুশুরীখোলার পীর ছাহেব হচ্ছেন হযরত লশকর মোল্লা, উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন, হযরত শাহ গুলজার রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
আর হাফিয বজলুর রহমান বেতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন নারিন্দার মুশুরীখোলার সূফী হযরত আহসানউল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
“দিওয়ানে আযীযের” ৩৯ পৃষ্ঠায় গাউসুল আযম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভা-ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, “দিওয়ানে আযীযের” ৬৬ পৃষ্ঠায় আল্লামা হযরত দোস্ত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেলায়েতের প্রশংসা করা হয়েছে।
অথচ গাউসুল আযম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভা-ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাদেরীয়া তরীক্বার নিসবত হযরত মাওলানা সালেহ লাহোরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট থেকে এবং নকশবন্দীয়া তরীক্বার নিসবত সূফী নূর মুহম্মদ নিযামপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট থেকে হাছিল করেন। আল্লামা দোস্ত মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর ছাহেব হচ্ছেন ছারছীনারা বিখ্যাত কামিল পীর কুতুবুল আলম হযরত মাওলানা নেছার উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি চারটি তরীক্বায় চতুর্থ সিঁড়িতে গিয়ে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে মিলিত হয়েছেন।
হযরত মাওলানা মুফতী মুহম্মদ শামসুল আলম, ঢাকা।
বিচ্যূত ব্যক্তি কি রকমভাবে তার একান্ত ভাবনায় মিথ্যা উপলব্ধির অলীক জগত গড়ে তুলতে পারে তার নজীর তাজকেরাতুল আউলিয়াতে বর্ণিত রয়েছে।
প্রতিদিনই সে ব্যক্তি তার একান্ত ভাবনায় স্বপ্নের জগতে বেহেশতে যেত। সুবেশধারী, সুদর্শন ফেরেশতা এস আরামদায়ক আরোহনে তাকে বেহেশতে নিয়ে যেত। একান্ত ভাবনায় সে বেহেশতের যাবতীয় নাজ, নিয়ামত দেখতে পেত। সে খেলা-ধুলা করত, আমোদ-প্রমোদ করত। কিন্তু এতটুকুতেই শেষ থাকলনা। এরপরে সে প্রবৃত্ত হল তার একান্ত ভাবনার এই অবলোকিত দৃশ্যের ভিত্তিতে নিজের আহামরি জাহির করতে পক্ষান্তরে হক-বুযুর্গদের প্রতি তাচ্ছিল্য ও নিন্দাবাদ জ্ঞাপন করতে। অভিজ্ঞমহল তার এই একান্তভাবনার একান্ত কথাকে সঙ্গতকারণেই কোন আমল দিলেন না। কিন্তু সে যখন তার একান্তভাবনার জগতকে ক্রমাগত জাহির করা শুরু করল তখন একজন হক ওলীআল্লাহ নিতান্ত দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছোট একটি নসীহত করলেন। বললেন দেখ এরপরে যখন তুমি তোমার একান্ত ভাবনার বেহেশতে যাবে তখন সেখানে গিয়ে “লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ো।” নিজের মত্ততায় মশগুল থাকলেও সত্যিই কি হয় এই কৌতুহলে সে ব্যক্তি সত্যিই একদিন তার একান্ত ভাবনার বেহেশতে গিয়ে পড়ল “লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” অমনি ছন্দপতন। এতদিনের একান্ত ভাবনার জাকঁজমকপূর্ণ বেহেশতী আবেশটি নিমিয়ে হাওয়া হয়ে গেল। বিপরীতে বীভৎস দৃশ্য। পঙ্কিল আবর্ত। কুৎসিত কদাকার পরিবেশ অচ্ছূৎ ময়লাযুক্ত নোংরা স্থান। আরামদায়ক আরোহনের পরিবর্তে অস্থি কঙ্কালসার হিং¯্র কুকুর। সুবেশধারী সুদর্শন ফেরেশতার পরিবর্তে উর্ধ্বশ্বাসে পলায়নরত কুটিল ইবলিশ শয়তান।
পাঠক! এই ছিল বিচ্যূত ব্যক্তির একান্ত ভাবনার অলীক বেহেশতের হাক্বীক্বত, বেহেশত লাভের গর্বে স্ফীত হয়ে উক্ত বিচ্যূত ব্যক্তি হক্ব ওলীআল্লাহগণ উনাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা শুরু করেছিল।
পাঠক! মিথ্যার ইমাম, আহমদ রেযা খার মুখপত্রেও একইভাবে একান্ত ভাবনা নামক ¯্রফে মিথ্যাচারের প্রতি সঙ্গতকারণেই নজর দেয়া হয়নি। কিন্তু ক্রমাগত মিথ্যাচার ছাড়াও আগস্ট সংখ্যায় যে হাক্বীক্বতটি প্রকাশ পেল তা একটু গুরুত্ব রাখে। দেখা গেল ৩১ পৃষ্ঠার একান্ত ভাবনার ভাবুক স.আ.ত.ম আলাউদ্দীনের সংক্ষিপ্ত নামটি ৩০ পৃষ্ঠায় প্রকাশ পেয়েছে তথাকথিত সুন্নীদের মাদরাসার বিজ্ঞাপনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দ আবূ তালেব মুহম্মদ আলাউদ্দীন রূপে। অর্থাৎ বলার অপেক্ষা রাখেনা যে তাদের মুহম্মদপুর তথাকথিত সুন্নীদের মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষই প্রকাশিত একান্ত ভাবনার একচ্ছত্র ভাবুক। এখন এই ভাবুক ব্যক্তিটির প্রতি একটু আলাদা নজর দেয়ার দাবী রাখে এই জন্য যে, পদাধিকার বলে এই বিচ্যূত, বিকৃত ভাবুক তথাকথিত সুন্নীদের একবারে শীর্ষস্থানীয় আলিম (?) ব্যক্তিত্ব। কিন্তু তার বিকৃত ভাবনাই প্রমাণ করে দিয়েছে সে যে, কতদূর আশাদদুদ দরজার জাহিল ও কাজ্জাব। আর এই আশাদদুদ দরজার জাহিলই যখন ওদের শিক্ষা দেয়ার উস্তাদ তখন উক্ত মাদরাসার ছাত্ররা, সিলসিলার ব্যক্তিবর্গ যে কত জাহিল আর উস্তাদদের উস্তাদরূপে স.আ.ত.ম আলাউদ্দীন যে সত্যই আবূ জাহিলের ভূমিকা পালন করছে তা এ লেখার আলোচনার বিষয়।
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মিথ্যাকে সকল পাপের মা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মূর্খতা তথা জিহালতকে অন্ধকার বলা হয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় নামধারী সুন্নীদের শীর্ষ ইলমী মারকাজের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তথা অধ্যক্ষ নামধারী আবূ জাহিল তথা আবু কাজ্জাব স.আ.ত.ম আলাউদ্দীনের বাইয়্যিনাত বিষোধগারের একান্ত ভাবনার শুরুই হয়েছে মিথ্যা আর মূর্খতা দিয়ে। আর পুরো লেখায়ই চলছে একই ভ-ামি, শঠতা, প্রতারণা।
এই বিচ্যুত বিকৃত ভাবুকের ভাবনার শুরুটাই এরকম “তার রূহানিয়তের উৎকর্ষতা এত চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল যে, জাহান্নামে আসা যাওয়া নাকি তার জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। (দ্র: ১১৪/৮২) যেমন উনার আপন ঘর। আল বাইয়্যিনাতের ভাষায়- এ ধরণের একজন জাহান্নামীকে (নাউযুবিল্লাহ) আলা হযরত (?) তার কিতাবাদিতে নাকি কাফির, ওহাবী, ইংরেজদের দালাল ফতওয়া দিয়ে এমন জঘন্য অপরাধ ও অমার্জনীয় ত্রুটি করেছেন যে তা কস্মিনকালেও ক্ষমাযোগ্য নয়। এই হল আল বাইয়্যিনাত-এর অভিযোগ।” (দ্র: ১০৮/৮২) (তরজুমান/আগস্ট)
পাঠক! বিচ্যুত ভাবুকের এই অলীক ভাবনায় যেসব মিথ্যাচার সম্পৃক্ত হয়েছে তার সামান্য আলোকপাত করা হলো- বিকৃত ভাবুক ব্যক্তি উল্লেখ করেছে, “আল বাইয়্যিনাত-এর ভাষায় এধরণের একজন জাহান্নামীকে। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আল বাইয়্যিনাত-এর কোথাও মুযাহিদে আযম, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জাহান্নামী বলা হয়নি। আর কি করেই বা তা বলা যেতে পারে! বরং নামধারী সুন্নীরা উনার প্রতি তোহমত দেয়ার কারণেই তো উনার পক্ষে আল বাইয়্যিনাত-এর এত লেখালেখি।
মূল কথা হলো, বিকৃত, বিচ্যুত ভাবুক কাজ্জাব অধ্যক্ষ এখানে প্রতারণা করে আল বাইয়্যিনাত-এর বক্তব্যকে অসৎভাবে উপস্থাপিত করে প্রতারণা করতে চেয়েছে।
৮২তম সংখ্যা, আল বাইয়্যিনাতে প্রকাশিত, আমীরুল মু’মিনীন, মুজাহিদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শরীফ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মানতেক শাস্ত্রর ইমাম উনাদের সাথে যোগাযোগের জন্য রূহানীভাবে যে আসা-যাওয়া করেছিলেন সেটাকেই উপজীব্য করে বাইয়্যিনাত-এর নামে অপবাদ দিয়েছে যে- ‘বাইয়্যিনাতের ভাষায় জাহান্নামী।’
আপসুস! বিস্ময়ের খেই হারাবার বিষয়! কি করে সম্ভব, তথাকথিত সুন্নীদের শীর্ষ মাদরাসার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, অধ্যক্ষ নামধারী কাজ্জাবের এতবড় জিহালতির পরিচয় দেয়া!
এই জাহিল কি জানেনা যে, জাহান্নামীদের কেবল জাহান্নামে প্রবেশ করার বিধান আছে, তাদের ইচ্ছেমত বের হওয়ার অধিকার নেই আদৌ! অথচ মুযাহিদে আযম, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ব্যাপারটি ছিল রূহানী ভাবে ইচ্ছেমত আসা-যাওয়ার ব্যাপার। কারণ এ ঘটনা যখন ঘটে তখন জিসমানীভাবে অর্থাৎ শরীরিকভাবে তিনি তো বাহাসকারীদের সামনেই উপস্থিত ছিলেন। আর বাইয়্যিনাতে যে বিষয়টি বলা হয়েছে সেটা ওরাও স্বীকার করে জিহালতির সূরে বলেছে, “উনার রূহানিয়াতের উৎকর্ষতা এত চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল যে, জাহান্নামে যাওয়া-আসা নাকি তার জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।”
পাঠক! এরা এতই মূর্খ যে নিজেরাই উদ্ধৃত করল কিন্তু নিজেরাই তার বিপরীত লিখল।
আফসুস! এই জাহিলরা কি জানেনা, খোদ জাহান্নামে অনেক ফেরেশতাই বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। সুতরাং শুধু প্রবেশ নয় বরং দায়িমীভাবে সেখানে থাকার কারণে তারা কি তাহলে বিকৃত ভাবুক আলাউদ্দীনের মতে খাছ জাহান্নামী হবে? নাউযুবিল্লাহ!
আর এই জাহিলদের জানা উচিৎ যে, হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে জাহান্নামে সকল পাপিষ্ঠদের প্রবেশের পরও জাহান্নাম বলবে আমাকে আরো দাও, আরো দাও। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী পা জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তখন জাহান্নাম বলবে যে, যথেষ্ট, যথেষ্ট। তাহলে এখন সুন্নী নামধারী জাহিলরা কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে জাহান্নামী বলবে? নাউযুবিল্লাহ!
এছাড়া আরো বর্ণিত আছে যে, হযরত জীব্রাইল আলাইহিস সালাম হাজার হাজার পাখা সহ, হাজার হাজার বছর উড়েও জান্নাত ভ্রমণ শেষ করতে পারেননি। কিন্তু আফজালুন্নাছ বাদাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আননহু চোখের নিমিষে রূহানীভাবে সারে আলম ভ্রমণ করেছেন।
সুতরাং এই নামধারী সুন্নী জাহিলরা কি তাহলে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জাহান্নামী বলবে? নাউযুবিল্লাহ!
নামধারী সুন্নী জাহিলদের অধ্যক্ষের একান্ত ভাবনার এহেন দূরবস্থা দেখে সত্যিই আমরা বিস্মিত ও দুঃখিত না হয়ে পারি না। কারণ বাইয়্যিনাত বিষোদগারে তার একান্ত ভাবনার পুরোটিই যুগপৎ মিথ্যা ও মূর্খতার উপর ভাসমান। যা কিনা এ লেখার প্রথমে বর্ণিত বিচ্যুত ভাবুকের অলীক বেহেশতের সাথেই মিলে। আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বিচ্যুত সে ভাবুকের অলীক বেহেশতের মূলে যেমন ছিল ইবলিছ এখানেও বিপথগামী জাহিল অধ্যক্ষ স.আ.ত.ম আলাউদ্দীনের বাইয়্যিনাত বিরোধীতার একান্ত ভাবনার মূলেও রয়েছে সেই একই ইবলিছ। (আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম) (অসমাপ্ত)।
আশরাফুল মাহবুবে মুহম্মদ রব্বানী, ঢাকা।
জিমি কার্টার আসলো, গেল কথিত নির্বাচন উপলক্ষ্যেই তার আসা। উদ্দেশ্য সবক দেয়া, নছীহত করা, মোড়লের ভূমিকা পালন করা। বলা বাহুল্য এ সব কটি কাজ সে নির্বিঘেœই করতে পেরেছিল। আমাদের রাজনীতিকরা নিজেদের ভেতরে যেরূপ বৈরী সম্পর্ক বজায় রাখেন, এক্ষেত্রে বিদেশী মেহমানের সামনে নিজেদের সেই অভদ্রতা প্রকাশ করেননি। পাশাপাশি নিজেদের ক্ষেত্রে তারা যেমন একজন অপরজনের কথা শুনতে চরম অসহিষ্ণতা প্রদর্শন করেন জিমি কার্টারের সামনে তারা সেই বহু পুরাতন অভ্যাসটিও বেমালুম চেপে রেখেছিলেন।
সবচেয়ে বেশি আনুগত্যতা আর ভদ্রতা দেখিয়েছিল আমাদের তাবত তথাকথিত ইসলামিক দল। জিমি কার্টারের প্রতি ভদ্রতায় তারা দু’নেত্রীকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। কারণ দু’নেত্রী জিমি কার্টারের কাছে যা যা ওয়াদাবদ্ধ হয়েছে তারা জিমি কার্টারের সাক্ষাত না পেয়েও সুবোধ বালকের মত একান্ত সম্মতি দিয়েছে। এমনকি দু’নেত্রী জিমি কার্টারের সামনে ভোজ টেবিলে বসার, সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও কথিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মর্যাদায় তাদের সমাসনে উঠতে না পারার কারণে তারা সে সুযোগটিও পর্যন্ত না পাওয়ার অপমান নীরবে সহ্য করেছে।
এদিকে জিমি কার্টারের মোড়লীপনার একটা ঐতিহ্যগত দাবী আছে বটে। কারণ তার দেশ গণতন্ত্রের তীর্থস্থান, তথা পীঠভূমি। দেশটির গণতান্ত্রিক ইতিহাস দু’শত বৎসর অতিক্রম করেছে। বিশ্বের সকল মুসলিম দেশে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গণতন্ত্রের নামে বল্পাহারা জীবনদর্শন চলতে পারে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হওয়ার নামে অনৈসলামিক তথা নগ্ন সংস্কৃতি প্রসার লাভ করতে পারে, গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের নামে নামধারী ইসলামী দলগুলোকেও গণতন্ত্রের যাকাকলে জড়ানোর ফাঁদ পাতা এসব মার্কিনী প্রচেষ্টা আজ প্রকাশিত সত্য।
কিন্তু মার্কিনী প্রচেষ্টার সে ফাঁদে আটকানো ইসলাম নামধারীদের পক্ষে কতটুকু সমীচিন? সে প্রশ্ন উত্থাপন করা নিতান্তই অর্থহীন। কারণ বাস্তবতা এই যে, আমাদের নামধারী তাবত ইসলামি দলগুলো যে বহুপূর্বেই সে ফাঁদে স্বেচ্ছায় আত্মহুতি দিয়ে মিথ্যা আত্মপ্রসাদে মগ্ন রয়েছে। কার্টার সাহেবের কাছে দু’নেত্রী পাঁচটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে (১) রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার থাকবে, তবে কোনো পর্যবেক্ষক সম্পর্কে কোনো রাজনৈতিক দল আপত্তি জানালে তা বিবেচনা করতে হবে। (২) কোন দল অস্ত্র সন্ত্রাসের আশ্রয় নিবেনা, দলগুলো নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলবে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে সমর্থন দিবে। (৩) কোন দল আগামীতে সংসদ বর্জন করবে না। জাতীয় সংসদের স্পিকার পদকে নিরপেক্ষ করা হবে। (৪) জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনে অন্ততঃ ৬০ জন মহিলা প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে। (৫) আগামীতে কেউ হরতাল করবেনা।
গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা, এই পাঁচটি অঙ্গিকারকে দাসখাতের সাথে তুলনা করেছেন। তারা একে দু’নেত্রী কর্তৃক দেশ ও জনতার অবমূল্যায়ণের শামিল বলেছেন। দেশের ব্যাপারে বিদেশী প্রেসক্রিপশান সাদরে গ্রহণের দ্বারা নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু দু’নেত্রীর কার্টার প্রীতির পাশাপাশি হক্বানী আলিম সমাজ-নামধারী আলিম এবং তথাকথিত ইসলামী আন্দোলনকারী নেতাদের কূপম-ুকতা এবং স্পষ্ট মুনাফিকী আরো করুণভাবে লক্ষ্য করেছেন। কারণ জিমি কার্টারের সাম্প্রতিক ছবক ও নছীহতের ব্যাপারে তাদেরও কোন উচ্চবাচ্য নেই। নেত্রীরা তবু কার্টারের কাছে অবনত। কিন্তু তথাকথিত ইসলামী নেতারা সেই অবনতদেরও পদানত। সত্যিই অব্যক্ত ধিক্কার তাদের প্রতি।
ধর্ম নিয়ে এরূপ জ্বাজ্বল্যমান জালিয়াতি ও মুনাফিকী পৃথিবীর আর কোন সময়ে হয়েছে কিনা সন্দেহ। এই তথাকথিত ইসলামী নেতাদের প্রধান বুলি দেশে ইহুদী-খ্রিস্টানদের আইন চলবেনা, তাদের অনুসরণ করা যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কার্টার সাহেব যখন এসে তাদের নির্বাচনের সবকটি দিক নির্দেশ দিয়ে গেলেন, নছীহত করলেন রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কথা, স্পীকারের পরিম-লের কথা, ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনের কথা তথা নির্বাচন সংক্রান্ত আরো বিধান তখন তথাকথিত ইসলামী দলের নেতারা ওহীর আদেশের মত নির্বিবাদে তা মেনে নিতে পারলেন কিভাবে? এতটুকুটু শব্দ তাদের থেকে বের হলনা কেন?
আবারো বলতে হয় কথিত দু’নেত্রী যদি কার্টারকে সন্তুষ্ট করার জন্য সব মেনে থাকেন তাহলে তথাকথিত ইসলামী নেতারা শুধু খ্রিস্টান কার্টারের ভয়েই তার নছীহত বিধান মেনে নেয়নি বরং তার সাথে উপরোক্ত দু’মহিলা নেত্রীর ভয় তাদের ক্ষেত্রে ‘উপরি’ হিসেবে যোগ হয়েছিল। কার্টার সাহেব প্রেসক্রাইবড করলেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৬০জন মহিলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। দুই নেত্রী মেনে নিলেন। আর জোটভূক্ত শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, নিজামী এবং ফজলু গংও সে বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকলেন। অর্থাৎ খ্রিস্টান কার্টারের হুকুম মেনে নিয়ে তারা হারাম নারী নেতৃত্বের পথ আরো প্রসারিত করলেন।
এরপর কার্টার ছাহেব বললেন, আর হরতাল করা যাবেনা। দু’নেত্রী অম্লান বদনে তা গ্রহণ করলেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায় থেকে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, চাকরীজীবি, ছাত্র, শিক্ষক সর্বস্তরের জনগণ যে হরতাল না করার জন্য গগণ বিদারী আওয়াজ তুলে আকাশ-বাতাস ভারী করে ফেলেছিল তখন তাদের কর্ণকুহরে কোন আওয়াজ পৌঁছেনি। কিন্তু কার্টার সাহেবের এক মিনিটের মৃদু আওয়াজই উক্ত নেত্রীদ্বয়ের টনক নাড়িয়েছিল। অর্থাৎ নেত্রীরা দেশের তেরকোটি মানুষের একযুগের মর্মভেদী আর্তনাদের চেয়ে, এক মার্কিনীর মিনিটের মৃদুভাষণকে অনেক বেশি মূল্য দিলেন।
বিষয়টি নেত্রীদ্বয়ের জন্য যতটা আত্মশ্লাঘার বিষয় তার চেয়েও অনেক বেশি ধিক্কারের, লজ্জার বিষয় আমাদের তথাকথিত ইসলামী নেতাদের।
কারণ দৃ’নেত্রীর আঁচলে আশ্রয় নিয়ে তাদের কথামত মুখে চকলেট পুরে হরতালের ঘোশণা দিতেন আর সেটাকেই ঘোষণা করতেন জিহাদ জিহাদ বলে কিন্তু এখানে খ্রিস্টান কার্টার যখন বললেন যে হরতাল করা যাবেনা তখন তাদের বহুল প্রচারিত সে জিহাদের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়াতেও তারা কোন ক্ষোভ ব্যক্ত করলনা কোন জিহাদী চেতনা প্রকাশ করলনা। বরং ‘যো হুকুম’ বলে নির্বিবাদে ঘাড় কাত করলেন।
অর্থাৎ কিনা এইক্ষেত্রে কার্টারকে তারা, তাদের জন্য আখিরী রসূল হিসেবে গ্রহণ করেছে, যে কিনা ওদের প্রচারিত জিহাদকে (হরতালকে) তার ইচ্ছানুযায়ী রদ করতে পারে। প্রসঙ্গতঃ বলার অপেক্ষা রাখেনা ইসলামের নামে আধুনিক ভোট ও নির্বাচন ভিত্তিক গণতন্ত্র করে এইসব খারিজী, ওহাবী, বিদয়াতী, অতি সুন্নী তথা শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, নিজামী, ফযলু গং মূলত কার্টার, আব্রাহাম লিঙ্কন, জেফারসন প্রমূখ খ্রিস্টান-ইহুদী গণতান্ত্রিক নেতাদেরই তাদের নবী-রসূল বলে প্রতীয়মান করে। কারণ ভোট ও নির্বাচনের এই গণতন্ত্রের জনক কোন নবী-রসূল নন বরং ঐসব খ্রিস্টান-ইহুদীরাই। আর তাই এরা যখন তাদের প্রচারিত পথে হাঙ্গামা বাধিয়ে ফেলে তখন ঐসব খ্রিস্টান-ইহুদীরাই তা মীমাংসার ভার নেয়। মিটিয়ে দেয়ার কোশেশ করে।
ইতোপূর্বে এ ধরণের সঙ্কটে কমনওয়েলথ মহাসচিবের মধ্যস্থতার প্রয়াস, গ্যাস নিনিয়ানের ভূমিকা এবং বর্তমান কার্টারের অভিযাত্রা সে বিষয়টিকেই প্রকট করে প্রকাশ করে। আরো স্পষ্ট করে প্রতিভাত করে যে, বর্তমান নির্বাচন ভিত্তিক গণতন্ত্র এদেরই প্রবর্তিত, এদেরই নিয়ন্ত্রণে, এদেরই নির্দেশনায় চালিত আর তথাকথিত ইসলামিক রাজনীতিকরা ইসলামের নামে এ ধারার নির্বাচন করে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিবর্তে ঐসব ইহুদী-খ্রিস্টানদেরই তাদের নবী এবং তাদের দেয়া প্রেসক্রিপশানকেই ওহীর বার্তা বলে প্রতিপন্ন করে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা।
আবহমানকাল ধরে বক্রদিলওয়ালারা আয়াতে মুতাশাবিহাতের বিপরীত অর্থ করে তাদের বিকৃত মানসিকতদা চরিতার্থ করতে চেয়েছে। একই রূপে ইসলামের মূল ইলমে তাছাউফ পালনে ব্যর্থ হয়ে তাছাউফ বিরোধীতাকারীরা হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহগণ উনাদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুন্নত পালন, তাদের অনুপম রূহানিয়াত, মানুষের দিলকে ইছলাহ করে আল্লাহওয়ালা বানানোর অর্ভুতপূর্ব ক্ষমতা ইদ্যাদির দৃষ্টান্ত বর্ণনা করার বিপরীতে বরাবরই তাছাউফ প্রসঙ্গে উদাহরণ দিতো- বেশরা, জটাধারাী লালসালুওয়ালা ফকিরলাদ। গাঁজা খাওয়া, গান-বাজনা করা, পর্দার ধার না ধরে মহিলাদের সাথে একাকার হয়ে চলা ইত্যাদি বেশরীয়তী আমলই যাদের চরম আপত্তিকর বিষয় নং বরং তাদের প্রতি অভিযোগের চরম বিষয় হলো, তাদের প্রচারিত এ কুফরী কথা, “আমরা বাতিনী ফকির, শরীয়তের ধার ধারিনা; শরীয়ত আমোদর লাগেনা।”
বলাবাহুল্য, ইলমে তাছাউফ বিরোধী জাহিরী আলিমরা খুব রসিয়ে রসিয়ে এই সব বাতিনী ফরিকদের তৎপরতা তুলে ধরার প্রয়াস পেতো। কিন্তু হালে এই চিত্র আরো প্রসারিত হয়েছে। এখন জাহিরী আলিমরাও নিজেদেরকে বাতিনী ফকিরের তবকায় সমাসীন করেছে। বাতিনী ফকিরদের শরীয়ত লাগেনা এই কুফরী মতবোদে বাতিনী ফকিরদের শরীয়ত লাগেনা এই কুফরী মতবদে দীক্ষা নিয়ে কথিত জাহিরী আলিমরাও তাদের অনুসরণে শরীয়তকে বিসর্জন দেয়া শুরু করেছে।
শরীয়তে ছবি তোলা নাজায়েয ও হারাম, ঘরে রহমত না আসার কারণে, নামায মাকরূহ হওার কারণ, ক্বিয়ামতের ময়দানে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হওয়ার আমল, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করার শামীল।
পর্দা করা মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি কঠোর আদেশ। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শক্ত নির্দেশ। এমনকি হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অন্ধ হলেও বিপরীত লিঙ্গের সামনা-সামনি হওয়া নিষেধ রয়েছে।
সেক্ষেত্রে শাইখুল হাদীছ, আমীরে জামায়াত, মুফতী, মাওলানা, মুহিউদ্দীন দাবীদার হওয়ার পরও যারা শরীয়তের সম্পূর্ণ খিলাফ ছবি তোলে, লাখ-লাখ মানুষের সামনে প্রকাশ্যে মেয়ে লোকের সাথে বসে থাকে, গণতন্ত্র করে, নির্বাচন করে, মৌলবাদ সমর্থন করে, হরতাল করে, প্রকাশ্যে সুস্পষ্ট হারাম কাজগুলোর সাথে নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত করে তখন একথাই সূর্যের আলোর ন্যায় প্রতিভাত হয় যে, “বাতিনী ফকিরদের ন্যায় এরাও এখন এদের খাহেশাত নফসের তাড়নায়, স্বার্থসিদ্ধি প্রবণতায়, রাজনৈতিক মসনদের মোহে শরীয়তের সব স্পষ্ট, অকাট্য মৌলিক বিধানগুলোও একে একে অস্বীকার করছে, অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করছে।
অর্থাৎ বাতিনী ফকিররা বাতিনীর নাম দিয়ে যেমন শরীয়তকে অস্বীকার করছে তেমনি এসব নামধারী জাহিরী আলিমরা জাহিরী প্রয়োজনের কথা বলে স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতির তাগিদে অকল্পনীয়ভাবে শরীয়তকে অস্বীকার করছে।
সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শরীয়ত অস্বীকারকারী জটাধারী লালসালুওয়ালারা যদি হয় বাতিনী ফকির তবে প্রকাশ্যে জনতার সামনে পর্দার খিলাফকারী, মহিলা সঙ্গ উপভোগকারী, মহিলা নেতৃত্বগ্রহণকারী, যাবতীয় হারাম কাজের সাথে যুক্ত এসব শাইখুল হদস, মাহিউদ্দীন, কমিনি, ফজলু ইসলামের নামে হারাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ হচ্ছে জাহিরী ফকির। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
-মুহম্মদ গরীবে নেওয়াজ।
ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস- (৪)
তিনি কি শের-ই-বাংলা, না শের-ই-মুনাফিক (২)
মিযানরূপী ভন্ড জলীল নিজেই প্রচার করলো সে ও তার গুরু রেযা খাঁ কাফির