সত্য স্বপ্নে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরোগ্য লাভ

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

          শায়খুল ইসলাম হযরত শরফুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাম্মাদ ইমাম হাসান আল বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাধক বা সূফী এবং সত্যিকার অর্থে আলেম। আরবী সাহিত্যের একজন প্রথম কাতারের কবি প্রতিভারূপে তিনি বিশেষভাবে সুপরিচিত। ইমাম হাসান আল বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৬০৮ হিজরীতে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯৬ হিজরীতে তিনি ইন্তিকাল করেন। মিসরের এসকান্দারিয়ায় উনার মাযার শরীফ অবস্থিত। আনুমানিক পঞ্চাশ বৎসর বয়সে হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি মিসরের একজন বিশিষ্ট সুফী আবুল আব্বাস আহমদ আল মারাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ইন্তেকাল ৬৮৬ হিজরী) নিকট মুরীদ হয়ে তাসাউফ চর্চায় (আধ্যাত্মিক সাধনায়) পূর্ণতা অর্জন করেন।

          হযরত ইমাম হাসান আল বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি রচিত ‘কাসিদাতুল-বোরদা’ শরীফ সমগ্র বিশ্বময় সর্বাধিক পঠিত একখানা দীর্ঘ কাসিদা শরীফ বা কবিতা শরীফ। একশত ষাট পুংক্তি বিশিষ্ট এই কাসিদা শরীফটি রচিত হয়েছে সপ্তম হিজরীতে। আজও এ কাসিদা শরীফ প্রতিদিন অগনিত সুফী সাধক নিত্য পঠিত ওযীফার ন্যায় পাঠ করে থাকেন। পৃথিবীর এমন কোন অঞ্চল নাই যেখানে ‘কাসিদাতুল-বোরদা’ শরীফ উনার নিয়মিত পাঠক পাওয়া যাবে না। এই ‘কাসিদাতুল-বোরদা’ শরীফ উনার সাথে একটি মুবারকময় স্বপ্নের ঘটনা জড়িত আছে।

          হযরত ইমাম হাসান আল বুসিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স যখন ষাট বৎসর তখন তিনি মারাত্মক পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। উনার শরীর মুবারক উনার নিম্নাংশ একেবারে অবশ হয়ে যায়। অনেক চিকিৎসার পরও তিনি কোন উপকার পেলেন না। বরং দিন দিন উনার শরীর মুবারক আরও ভেঙ্গে পড়তে থাকে। এমতাবস্থায় উনার মনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে (প্রশংসার) একটি কবিতা রচনা করার প্রেরণা জাগ্রত হয় এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এই কবিতার ভাষাতেই তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসিলায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ উনার মধ্যে রোগ মুক্তির জন্য দোয়া চাইবেন।

          দীর্ঘ কবিতা শরীফ বা কাসিদা শরীফটি রচনার পর হযরত হাসন বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক জুমুয়ার রাতে কবিতা শরীফটি কয়েকবার আবেগ ভরে পাঠ করে শুয়ে রইলেন। স্বপে¦ দেখলেন, তিনি যেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাক দরবার শরীফে কবিতাটি আবৃতি করছেন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্টচিত্তে তা শ্রবণ করছেন। সন্তুষ্ট হয়ে এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গায়ে পাড়যুক্ত একখানা ইয়ামানী চাদর জড়িয়ে দিলেন। হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জাগ্রত হয়ে দেখলেন, সত্যি সত্যিই একখানা ইয়ামানী চাদর উনার গায়ে জড়ানো এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। এমন মনে হচ্ছে যেন উনার শরীরে কোন দিন কোন অসুখই ছিলনা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া পাওয়ায় এবং আশ্চার্যজনকভাবে সুস্থ হওয়ায় তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে প্রানভরে শুকরিয়া আদায় করলেন।

          ঘটনা এখানে শেষ নয়। পরদিন হযরত ইমাম বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চলার পথে আগলে দাঁড়ালেন এক দরবেশ। বললেন, আপনি যে কবিতাটা গতরাতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে পাঠ করছিলেন, সেটা আমাকে লিখে দিতে হবে। হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এটা আপনি কি করে জানলেন?

          দরবেশ বললেন, আপনি যখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে তা পাঠ করছিলেন, তখন সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম।

          শেষ পর্যন্ত এই মুবারকময় স্বপে¦র কথা আর গোপন রইল না। মিসরের তদানীন্তন শাসক মালিক তাহেরের উজীর শায়খ বাহাউদ্দীনের কানে পৌঁছলে একদিন তিনি হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাড়ীতে এসে হাজির কাসিদা শরীফটা শুনার জন্য। এই মুবারকময় কবিতা শরীফটির কথা জানতে পেরে বহু সাধক আশেকে রসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামগণ উনারা এটা নিত্যপাঠ্য ওযীফা হিসাবে গ্রহণ করলেন। বহুস্থানে, ইমারত গাত্রে এই কবিতা সোনার হরফে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তুর্কী সুলতানগণ মসজিদে নববী শরীফ উনার গায়েও পূর্ণ কবিতা শরীফখানা সোনালী হরফে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন।

উল্লেখ্য যে, ‘বোরদাহ’ শব্দের অর্থ পাড়যুক্ত ইয়ামানী চাদর। হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ কবিতার পুরস্কার সরূপ সে চাদর লাভ করেছিলেন বলেই এর নামকরণ হয়েছে ‘কাসিদাতুল-বোরদা’। হযরত বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সমস্ত কাব্যসম্ভার দীওয়ানে-বুসিরী নামে প্রকাশিত হয়েছে।  

ইতিহাসে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের স্থান

জিওগ্রাফি অব বাংলাদেশ (Geography of Bangladesh)

ইস্তিঞ্জা যদি কমাতে চান বেশী করে জাম্বুরা খান

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা ও প্রসার

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে কৃষি