হামদ ও সুজুদ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। ছলাত ও সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য। হামদ ও শুকরিয়া মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার জন্য এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য।
সাইয়্যিদুনা হযরত খ¦লীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার আগমনের মহান মাস পবিত্র রমাদ্বান শরীফ। দ্বীন ইসলামের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভিত্তি রোযা ও যাকাত অর্থাৎ জিসমানী ও মালী ইবাদতের জন্য এ মাস অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যা বলাই বাহুল্য।
মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক ঘোষণা অনুযায়ী রোযার মাধ্যমে উম্মাহ তাক্বওয়া হাছিল করবে। সঙ্গত কারণেই পবিত্র রমাদ্বান শরীফ হচ্ছেন তাক্বওয়া হাছিলের মাস। তাই, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, বৈশ্বিক, আন্তর্জাতিকসহ কুল উম্মাহর সবার জন্যই এ মহান মাসে রয়েছে অনেক অনেক দায়িত্ব।
তাক্বওয়া হাছিলের ক্ষেত্রে গুনাহ ও গাইরুল্লাহ হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাঁধা। প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ -মহিলা যেন হাক্বীক্বী তাক্বওয়া হাছিল করতে পারে, সে জন্য হারাম-নাজায়িজ, কুফরী-শিরকীসহ শরীয়ত বিরোধী সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। শরীয়ত বিরোধী যাবতীয় কর্মকান্ড হতে নিজে বিরত থাকতে হবে, পরিবার-পরিজন ও অধীনস্তদেরকে বিরত রাখতে হবে। সার্বিকভাবে প্রত্যেক দেশের সরকারের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, শরীয়ত বিরোধী সর্বপ্রকার কার্যক্রম বন্ধ করা।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফে রমাদ্বান শরীফকে সহানুভূতির মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই, রমাদ্বান শরীফে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কে সহানুভূতি আরো সুদৃঢ় করা অতীব জরুরী। প্রতি বছর রমাদ্বান শরীফে মুসলিম দেশসমূহের উপর কাফির-মুশরিকগুলো জুলুম-নির্যাতন তীব্র হতে তীব্রতর করে, নতুন নতুন দেশে আক্রমণ করে, ফিলিস্তিন-কাশ্মীরের নতুন নতুন এলাকায় আক্রমণ করে। নাউযুবিল্লাহ। তাই, মুসলিম দেশগুলো সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাফির-মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতন ও নিপীরণের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও প্রতিহতের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। সাথে সাথে জালিম বিধর্মীদের ধ্বংস কামনা করে কঠিন বদ দুআ করাও প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। যা হাদীছ শরীফ অনুযায়ী জিহাদ স্বরূপ।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি নেকী ও পরহেযগারীতে পরস্পরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করার আদেশ মুবারক করেছেন। পবিত্র রমাদ্বান শরীফকে কেন্দ্র করে পারস্পারিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পায়। রমাদ্বান শরীফের রাতে ছলাতুত তারাবীহ আর দিনে রোযা যথাযথভাবে আদায় করার জন্য পারস্পারিক সহযোগিতার হাত সকলকে প্রসারিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের দ্বীনি মূল্যবোধ সৃষ্টিতে অভিভাবককে সজাগ-সচেতন হতে হবে, রোযা ও তারাবীহ এবং আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করে দুনিয়াবী পড়া-শুনার চাপ হ্রাস করতে হবে। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উপলক্ষে মাসব্যাপী সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং চাকুরীজীবিদের কর্ম ঘন্টা কমিয়ে দেয়া সরকারের জন্য ফরয। যা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হালাক বা ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যে রমাদ্বান শরীফ মাস পেল, তবুও তার গুনাহখতা ক্ষমা করাতে পারলো না।” তাই, নিজের সব গুণাহ ক্ষমা করিয়ে মা’ছূম বা বেগুণাহ হয়ে হাক্বীক্বী মুত্তাক্বী হওয়াই প্রত্যেক মু’মিনের লক্ষ্য ও গন্তব্য হোক।
মূলত, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার হক্ব আদায় এবং বারাকাত-ফুয়ূজাত সত্যিকার অর্থে লাভ করতে হলে কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ও ফয়েজ হাছিলের কোন বিকল্প নেই।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক তাওয়াজ্জুহ দায়িমীভাবে উম্মাহর সবাইকে নসীব করুন। আমীন।