সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

মানুষের জীবন এক বিরাট কর্মক্ষেত্র। সংক্ষিপ্ত জীবনের বিরাট এ কর্মক্ষেত্রে মানুষের প্রতিটি কর্ম সূচারুরূপে সম্পাদনের জন্য আমাদের অত্যন্ত মনোযোগী দৃষ্টিভংঙ্গী নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। সুদূর প্রসারী এ দৃষ্টিভংগীর মাধ্যমে আমাদেরকে নৈতিকতা শিক্ষার চিরঞ্জীব ঐজ্জাল্যে ভাস্কর হয়ে উঠতে হবে। যুগ যুগ ধরে ইসলামের নামে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের দ্বারা সমাজে যে ক্লেদাক্ত ক্ষতের সৃষ্ট হয়েছে নতুন উৎসাহ আর উদ্দীপনার জোয়ারে ভেসে এইসমস্ত অজ্ঞ আর অজ্ঞানতার মূলউৎপাটন করে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশিত পথে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে নিজেদের জীবনকে সুগঠিত করে ব্যক্তি তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামী বিপ্লবের ধন্বন্তরী ভেঁপু বাজিয়ে কুহেলিকা আর অজ্ঞানতার মুলোৎপাটনের দায়িত্ব মূলত: আমাদেরই। আমাদের এ মাতৃভুমিতে দশ কোটি মানুষের আবাস। নানা মতভেদের মধ্যে দিয়ে চর্তুদিকে বিজাতীয়দের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েও আমরা যারা মুসলিম, তারা নিজস্ব ঈমান ও আক্বিদায় বিশ্বাসী। আবহমান কাল হতে দেখা গেছে বাংলাদেশের মানুষ বড় সাদাসিদে, বড় ধর্মপ্রাণ, ধর্মের কোমল এবং ঈমানী হাতছানিতে এদেশের মুসলমানদের মনমানসিকতা অন্ধ এবং আবেগ দ্বারা পরিপুর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ইসলামের নামে বা ইসলামী পেশার বদৌলতে সমাজের কিছু স্থুলপূর্ণ মানুষ ধর্মের নামে সমাজে অধর্মের আর অসত্যের জোয়ারে আধুনিকতার নামাবলী পরিয়ে নতুন কিছু করার ব্যর্থ প্রয়াসে লিপ্ত। স্বাভবিক ভাবেই এটি সাধারণ মানুষের মনে রেখাপাত করছে, মানুষ বিভ্রান্তির রোযানলে পড়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ঈমানের ফাটলে সৃষ্ট বেড়াজালে হারাচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাত।

ফলত: শয়তানী চেলা চামুডাদের দ্বারা সমাজ এখন এমন সব কর্মকাণ্ডে পরিপূর্ণ যদ্বারা মনে হয় এ সকল শয়তানী অপশক্তির বিরুদ্ধে কলমি জ্বিহাদ এবং শরীয়তি অভিযানে এগিয়ে আসতে হবে। তথাকথিত দুনিয়াদারী আলেম সমাজেও এ ধরণের শয়তানী জ্বীনের আচর পড়েছে। দ্বিধাদ্বন্ধের এ ফলশ্রুতিতে সাধারণ ধর্ম প্রাণ মানুষ এখন হতবাক। বাজারে ইসলামী পত্রিকার সবুজ চত্বরে অনেক পত্রিকার সমাবেশ। ইনশাআল্লাহ হাঁটি হাঁটি পা করে সম্পুর্ন কুরআন ও হাদীছৈর সুনিয়ন্ত্রিত ও সুঅনুকরনের আলোকে সঠিক তথ্যাবিন্যাসে সমৃদ্ধ হয়ে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আল বাইয়্যিনাত নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে এগিয়ে চলেছে। অনেক দিন ধরেই আমরা গভীর দুঃখের সাথে অবলোকন করে আসছি যে মানুষকে জানানোর জন্য, সাধারণের বোধগম্যের জন্য, জন সাধারণের হৃদয়ে বাজিয়ে নতুন ঈমান আক্বিদায় তেজস্বী দীপ্তীতে বলীয়ানের জন্য নতুন ভাবে বাবতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে। সেজন্যই আমরা আল বাইয়্যিনাতে চেষ্টা করেছি সেভাবে বলঅর জন্যযা সহজে বোধ হয়, সহজে গ্রহন হয় এবং সহজে আকৃষ্ট হয়। ইসলাম বড় সরল আর সহজ পথ, বিভ্রান্তি আর বেড়াজালের স্থান ইসলামে নেই। ব্যক্তি পূজা আর ব্যক্তি কেন্দ্রিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সমস্ত পূজীভ’ত বেদায়াত আর কুসংস্কারকে দলিত মথিত করে সরল সঠিক পথে চললেই আমাদের মুক্তি। আমরা সাধ্যাতীত চেষ্টা করছি মুসলমান ভাইদেরকে জানানোর। জানানোর দায়িত্ব কতটুকু আন্তরিকতার সাথে পালিত হয়েছে সে প্রশ্ন এখন তোলা হবে অবান্তর, তবে গ্রহন করার মানসিকতা প্রদানের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাক উনার। সমাজের সকল স্তরের ভাইদের প্রতি আবেদন, আসুন আমরা অজ্ঞানতা ভেদী, জ্ঞান চক্ষু উম্মীলন করে নিজেদের ভুল শোধরানোর চেষ্টা করি। সঠিক ও সুন্দর পথের দিশারী হই, তবেই মুক্তি। অহর্নিশি আজ যারা ইসলাম ইসলাম করে তড়পাচ্ছে ভাবতে হবে নতুন করে, তারা ইসলামের কতটুকু দাবীদার। হৃদয়, মন আর অনুভুতির দেয়াল যেন আর ভোঁতা না হয়, শয়তানের বেড়াজালে পড়ে যেন ইহকাল আর পরকালের সিঁড়ি না হারাই। সবাই মিলে এক আল্লাহ এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বরণ করে প্রমাণ করার চেষ্টা করি ঈমানের উত্তাপ আমাদের কমেনি বরং ঈমানের উত্তাপ সঞ্জাত অনূভুতি আরও শানিত হয়েছে, হয়েছে প্রখর। এই প্রখর ঈমানের তীব্র উত্তাপের উষ্ণ তেজে অন্যায় অবিচার গোমরাহী, শয়তানী বেদায়াত সর্বোপরি সমস্ত অসত্যের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়