সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন- দাতা আর আমি হচ্ছি বন্টনকারী।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
বলাবাহুল্য, বর্তমান সময়ে প্রায়ই মুসলমানদের ঈমান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকর বিষয়টি শুনতে হয়, দেখতে হয়। নাউযুবিল্লাহ!
এর মূল কারণ, মুসলমানগণ মহান আল্লাহ পাক যিনি দাতা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি বন্টনকারী-উনাদের কাছে সসম্মানে ঈমানের সাথে থাকার আরজী করেনি, চায়নি। হিম্মতও চায়নি। এতদ্বসংক্রান্ত ইলম, আমল, আক্বলের জন্য দোয়া করেনি। নিজেরাও আমল করেনি।
উল্লেখ্য, মুশরিকদের দেশ ভারতে শুধু সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মানহানী শুধু করা হয় না, নির্মমভাবে মসজিদ মাদরাসাগুলোকে ভেঙ্গে কেবল চুরমারই করা হয় না, পাশাপাশি মুসলমানদ উনাদের নির্বিচারে শহীদও করা হয়। যা সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনও ব্যক্ত করেছে এবং ভারত তার জবাব দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। অথচ ভারত যে মুসলিম দেশগুলোর কাছে কতটা মুখাপেক্ষী সে বিষয়ে এতদিন যাবত মুসলিম দেশগুলো আক্বল খাটায়নি। ঈমানী দায়িত্ব পালন করেনি।
উল্লেখ্য, মুসলিম দেশগুলোর উপর ভারতের বিশাল আকারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্ভরশীল। কুয়েত, কাতার, জাজিরাতুল আরব, বাহরাইন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ২০২৪-২৫ সালে ভারতের বাণিজ্য দাঁড়িয়েছিল ১৫৪ বিলিয়ন ডলার বা ১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা ভারতের মোট বার্ষিক বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে, আরব আমিরাত রফতানি বাবদ ভারতের কাছে পায় মোট ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও আরব অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলার, যার পুরো দায় ভারতের। অর্থাৎ, মুসলিম বাণিজ্যিক জোটভুক্ত দেশগুলোর সাথে ভারতের মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি।
সেইসাথে ভারতের মোট আমদানির অর্ধেক আসে উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য ৬টি দেশ থেকে। এছাড়া, ১ কোটি ভারতীয় নাগরিক এসব দেশে কাজ করে। লাখ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠায়।
অপরদিকে, আভ্যন্তরীনভাবে মুসলিম স্থাপনাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায় ভারত। বিভিন্ন সময়ে মুসলিম শাসকরা এ সব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। আর এসব স্থাপনা দেশটির পর্যটন খাতে বিশাল অবদান রাখে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো মুসলিম স্থাপনা নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধপরিকর। যার ফলশ্রম্নতিতে ৪০০ বছরেরও পুরনো ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। আরও ৩২ হাজার মুসলিম স্থাপনা ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণ করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সংগঠন। অথচ, ভারত তাদের পর্যটন খাতের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব পায় মুসলিম স্থাপনাগুলো থেকে। আগ্রার দূর্গ, কুতুব মিনার, তাজমহল, লালকেল্লা, ফতেহপুর সিকরি, আগ্রার দূর্গের পর্যটন থেকে ভারত প্রতি বছর শত শত কোটি রুপি আয় করে থাকে।
প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, ভারতে দ্বীন ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে শুধু ভারতীয় পণ্য বর্জনই সমাধান নয়। বরং এক্ষেত্রে বিদয়াতী পণ্যের পরিবর্তে সুন্নতী দ্রব্য এবং খাদ্যসামগ্রী গ্রহণই মূল প্রতিকার। কারণ, একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক একটি বিদয়াতকে বিদূরীত করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলমানদের মাঝে আজ সম্মানিত সুন্নতী খাদ্য ও দ্রব্যাদি ব্যবহারের অনুভূতি ও অনুশীলন নেই। যার কারণে মুসলমানদের অন্তরে সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার নূর অর্থাৎ ঈমান উনার নূর নেই। যা মুসলমান অনুধাবন করতে না পারলেও কাফের মুশরিকরা ঠিকই নির্ণয় করতে পারে। ফলত; তারা নির্বিচারে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করে। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মানহানী করে। নাউযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত, সারা বিশ্বব্যাপী মহাসম্মানিত সুন্নতী দ্রব্য ব্যবহার, পবিত্র সুন্নতী খাদ্য খাদ্য গ্রহণ অর্থাৎ আমলের জন্য ছাহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আযম, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র। মুসলিম দেশগুলোর সরকার প্রধান এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদ উনাদের উচিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত হওয়া। সম্মানিত সুন্নতের আবহে সমৃদ্ধ হওয়া।
ছাহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শির্দ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।