সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত-ই নাজাতের পথ

সৃষ্টির পর থেকেই পথভ্রষ্ঠ মানুষকে হিদায়েতের জন্য, মুক্তির পথে আহ্বান জানানোর জন্য, অন্ধকারের ভয়াল পথ থেকে নতুন আলোর পথের সন্ধান দেবার জন্য, যুগে যুগে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা এসেছেন। যখনই কোনো জাতি গোমরাহী আর সর্বনাশের চরম শীর্ষে উঠে ধ্বংসের দ্বারা পথে উপনীত হয়েছে, তখনই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার দয়ার সাগর উথলে উঠেছে। যে মানবজাতিকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তার ধ্বংস তিনি কখনো কামনা করেননি। উনার রহমতস্বরূপ তিনি মনোনীত বান্দা বা রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ উনাদেরকে পাঠিয়েছেন। সর্বোপরি কল্যাণের জন্য, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতা পূর্ণায়নের জন্য, যাতে করে মানুষ পেতে পারে মুক্তির পথ, কল্যাণের পথ। মানুষের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহ পাক অগণিত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাগণ উনাদেরকে পাঠিয়েছেন যুগে যুগে।

তমসাচ্ছন্ন পথ থেকে ঐ সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম ও শ্রেষ্ঠ বান্দাগণ খোদার রাহে জীবনপাত করে গেছেন। অন্যায়অসত্যের বিরুদ্ধে সমস্ত জিহাদ করেছেন, কষ্ট ও তাকলীফ করেছেন বিভিন্নভাবে তবুও সত্যের পথে উনারা ছিলেন অমলিন চিরভাষ্কর। শয়তানের আর শয়তানীর কবর রচিত হয়েছে উনাদের একান্ত চেষ্টায়। মুখ থুবড়ে পড়া মানুষ বাঁচার স্বাধ আস্বাদন করেছে নতুনভাবে। আমাদের প্রিয় নবীজী নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ উনার পর আর কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম নেই। একথা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেও স্বীকৃত। তবুও রিপুর তাড়নায় শয়তানী মন্ত্রে দুনিয়ার মানুষ যেই না খেই হারিয়েছে অমনি মহান রব্বুল আলামীন তিনি তাদেরকে উদ্ধারের জন্য রহমতস্বরূপ নায়েবে রসূলগণ উনাদেরকে প্রেরণ কেেছন। সুহবাল্লাহ!

নায়েবে রসূলগণ উনারা খোদা প্রেমে বিলীন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইশকে পূর্ণ বিলীন। হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইশকে পূর্ণ। মহান আল্লাহ পাক উনার শ্রেষ্ঠ বান্দাগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সমাজ বদল হয়েছে, সভ্যতার স্তর নতুনভাবে উপাস্থাপিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাদের সর্বনাশের পথে নিক্ষেপ করেছে। অন্যায়, অসত্য, মিথ্যাচার আর পাপাচারে দুনিয়া যখন পরিপূর্ণ তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয় ওলীআল্লাহগণ ইবাদত-বন্দিগীর দ্বারা উনাদের চারিত্রিক মাধুর্য্য দ্বারা সর্বোপরি ঐশী শক্তিতে বলীয়ান হয়ে শয়তানী ঝান্ডাকে, শয়তানী কর্মকা-কে ধ্বংস করে সত্যকে সমূন্নত করেছেন।

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মানুষের সর্বনাশের খেলা দেখার জন্য মানুষের শত্রু শয়তান তার রাহুর থাবা নিয়ে সর্বদা দণ্ডায়মান। মুর্খ বান্দা যারা তারা তা অনুভব করে না।

আমরা আখিরী যামানার মানুষ। যুগ হিসেবে এ হচ্ছে ফিৎনা ফাসাদের যুগ। এযুগে ঈমান রাখা, ঈমানী পথে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও উনার ওলীগণের ছোহবত বা নেক নজরে থাকলেই একমাত্র স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন ও পরকারে মুক্তির কথা চিন্তা করা যেতে পারে। সভ্যতা এখন তুঙ্গে। বিজ্ঞানের এ যুগে মানুষ এখন নতুন করে ভাবছে ধর্মকে নিয়ে। আস্তিক এবং নাস্তিকের এ যুদ্ধে পথভ্রষ্ট মানুষ বিজ্ঞান নিয়েই মত্ত। কিন্তু ভুলেও মানুষ ভেবে দেখেনি ও এ বিজ্ঞান মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতের হেকমতস্বরূপ। যারা প্রকৃত জ্ঞানী তারা স্বীকার করেছেন যে, মনুষ্য মস্তিস্কে বিজ্ঞানের সামান্য ছটা হিকমত হিসেবে এসেছে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে। এ বিজ্ঞান আসলে মহান আল্লাহ পাক উনার ছানা-সিফত গাইছে। পাশ্চাত্যে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ধর্মেই প্রকৃত শান্তি নিহিত রয়েছে। আসলে তাই। এসত্য মানুষ অনুধাবন করেছে অনেক ভোগান্তির পরে।

যে কথা বলছিলাম, আজ যে যামানা এ যামানায় মানুষের ঈমানী জ্ঞান পূর্বের মত নয়। সম্মানিত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এবং তাবেঈনগণ উনাদের জীবনী ও অন্যান্য ওলী আউলিয়ায়েগণ উনাদের জীবনীতে আমরা যা দেখতে পাই, সত্যিকারভাবে বিচার করলে আমরা শুন্যের কোঠায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হতাশ না হয়ে ধৈর্য্য ধরো এবং সত্য সন্ধান করো” এতো গুমরাহী আর অন্যায়ের ছড়াছড়ির মাঝেও দুনিয়া চলছে। কিন্তু এখনও ঈমানদার বান্দাগণ মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন নিয়ে পূর্ণ ঈমান নিয়ে বেঁচে আছেন। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার ছানা-সিফত ঘোষিত হচ্ছে, সকাল সন্ধ্যায়। তারপরেও যেন কি নেই। সুতরাং আমাদের ঈমানী শিক্ষক খুঁজতে হবে। দুনিয়ার লোভে না পড়ে সত্য তালাশ করতে হবে। উনারা নির্দেশপ্রাপ্ত, উনারা কোনোদিনই নিজেদের জয়ঢাক পেটান না। আপনা থেকেই এ খুশবু আমোদিত হয়। আপনা থেকেই এ সৌরভ ফুলে ফওলে ছড়া। আমাদের প্রয়োজনে, আমাদেরই এ খুশবুর সন্ধান নিতে হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ যে পথ দিয়ে যান, সে পথের খুশবু সবাই পায়। পায়না শুধু আহম্মদ মানুষেরা। আমাদের উচিত ওলী আল্লাহগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করা। গাইড স্বরূপ উনাদের আদেশ নির্দেশ মেনে চলা এবং সর্বোপরি তা যথাযথভাবে নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা তাহলেই আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত উনার শামিয়ানায় স্থান পাব- নচেৎ নয়। মহান আল্লাহ পাক সবার ভাগ্যে এ তাওফিক ইনায়েত করুন। আমীন।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়