পবিত্র কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি চার স্থানে শূকরের গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন- ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের প্রতি হারাম করেছেন মৃত জীবজন্তুর গোশত, প্রবাহমান রক্ত, শূকরের গোশত এবং সেইসব জন্তু যা মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত অন্য কারো নামে জবেহ করা হয়। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল-বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭৩)
‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, প্রবাহমান রক্ত, শূকরের গোশত, মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহকৃত পশু, আর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত জন্তু, আঘাতে মৃত জন্তু, উপর থেকে পতনের ফলে মৃত, সংঘর্ষে মৃত আর হিংস্র জন্তুর খাওয়া পশু। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল মায়িদাহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩)
অন্যত্র মহান আল্লাহ তাআলা আরও বলেন- ‘বলুন! আমার প্রতি যে অহী মুবারক করা হয়েছে তাতে মানুষ যা আহার করে তার কিছুই নিষিদ্ধ পাই না; মৃত, প্রবাহমান রক্ত ও শূকরের গোশত ছাড়া। কারণ, তা অপবিত্র অথবা মহান আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা ফাসেক্বী কাজ। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল-আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৪৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও বলেন- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত পশু, রক্ত, শূকরের গোশত আর যা আল্লাহ পাক ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আন-নাহল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ১১৫)
মুসলিমদের কাছে শূকরের গোশতকে কুরআন শরীফ উনার স্পষ্ট আয়াত শরীফ দ্বারা হারাম করা হয়েছে বলে কোনো মুসলিম শূকরের গোশত খান না। কঠিন ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখান করেন। পাশাপাশি মুসলিম দেশ সমূহেও সরকারীভাবে তার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুসারে যে ২৬ ধরণের পণ্য নিষিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম হলো শূকর ও শূকরজাত সব পণ্য।
শূকরের গোশত থেকে উৎপন্ন উপজাত খাদ্য ও পণ্য ব্যবহার করে তৈরি করা আমদানি করা নিষেধ বাংলাদেশে।
এমন বিধি-নিষেধের পরও সুদখোর, শুকরখোর ইউনুস শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামে এই বাণিজ্য চুক্তিতে শুকরের গোশত আমদানীর শর্ত জুড়ে দেয়। (নাউযুবিল্লাহ)
এই চুক্তিতে বলা হয়েছে- ব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভ্রম্নস্ট, ক্যাপোকোলা, চরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো এবং সালামি বাজারে প্রবেশগম্য পণ্যের তালিকায় রাখতে হবে। মূলতঃ এগুলো শূকরের গোশত দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরণের পণ্য।
কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য হারাম শুকরের গোশত আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
Article 2.5 (Meat Terms) বলছে, গোশতের নির্দিষ্ট টার্ম বা নাম ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশ কোনো মার্কিন পণ্যের প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না। অর্থাৎ, `meat‘ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ পণ্যের মধ্যে pork-ও পড়ে – সেক্ষেত্রে দ্বীনি বা সামাজিক কারণে নামের ভিত্তিতে বাধা দেয়া যাবে না – এই ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হবে।
Article 2.3 (Agriculture) বলছে, বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য market access দিতে হবে এবং SPS ব্যবস্থা হতে হবে Òscience-basedÓ – অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো পণ্য ঠেকানো যাবে না।
Article 2.1 (Import Licensing) অনুযায়ী, আমদানি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না যাতে মার্কিন পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
Article 2.7 (Non-discrimination) –এর নীতি অনুযায়ী, কোনো ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণও করা যাবে না।
চুক্তিতে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে- যেখানে শুকরের গোশত আমদানীর চাপ তৈরি করার সুযোগ আছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামের পদাতিক বাহিনী প্রকাশ্যে বিপ্লবে যোগদান করে এবং জেলখানা থেকে সব বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়।
১৮৫৭ সালে ঝাঁকে ঝাঁকে সৈন্য ব্যারাক ছেড়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ইংরেজ দখলদারদের বিরুদ্ধে।
‘সিপাহী বিপ্লবে’র প্রধান কারণ ছিল ‘দ্বীন ইসলাম’। উপমহাদেশের মুসলিম সৈন্যদের এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজের সঙ্গে শূকরের চর্বি মুসলমানদের দ্বীনি মূল্যবোধে আঘাত হানার প্রতিবাদে সৈন্যদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ব্রিটিশ শাসনকে প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিল।
১৮৫৭ সালের সেই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে এখন বাংলাদেশের মুসলমানদের সন্ত্রাসী আমেরিকার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী আমেরিকার সাথে গোলামীর চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ব্যাপক করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
সবার আগে বাংলাদেশ ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রম্নতিশ্রম্নতির সরকারকে অবিলম্বে মহান আল্লাহ পাক যা হারাম করেছেন, সে চুক্তিকে হারাম ঘোষণা করতে হবে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
“নব্য মুশাব্বিহা ফিরক্বার স্বরূপ উন্মোচন” সুন্নীবার্তা না কুফরীবার্তা?