সন্তান সম্ভবা নারীর পালনীয়
কতিপয় সুন্নত মুবারক (৪)
সন্তান সম্ভবা মাকে গান-বাজনা, নভেল নাটক-সিরিয়ালপ্রীতি বর্জন করতে হবে, কণ্ঠস্বরকে সংযত করতে হবে, ছবি ভিডিও থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন দেখা না দিলে ঘর হতে বের হওয়া যাবে না। সব সময় খাছ পর্দার সাথে থাকতে হবে। তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফের লাহিক তথা সুসংবাদ প্রাপ্ত হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْرًا
অর্থ: নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই আছে সুখ। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম-নাশরাহ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
إِن تَـجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُـنْـهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
অর্থ: যে সকল কবীরা গুনাহ্ থেকে তোমাদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে যদি তোমরা তা থেকে বেঁচে থাক তাহলে আমি তোমাদের ছোট ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং সম্মানজনক স্থানে তোমাদের প্রবেশ করাব। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
৫। সন্তান সম্ভবনা মায়ের সবসময় ধৈর্য্য ধারণ করা উচিত। অসুস্থতা, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা ইত্যাদির কারণে ধৈর্যহারা হওয়া উচিত নয়। এভাবে ভাবতে হবে যে, ‘এই সময়টার প্রতিটি মুহূর্ত জিহাদতূল্য ইবাদত’। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাকই আমার সাথে আছেন। এতে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হবে। তখন কষ্ট শক্তিতে পরিণত হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
অর্থ: নিশ্চিতই মহান আল্লাহ পাক তিনিই ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাকারাহ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৩)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
الصَّبْـرُ ضِيَاءٌ
অর্থ: ছবর হল জ্যোতি। (মুসলিম শরীফ: ২২৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّمَا يُـوَفَّى الصَّابِرُوْنَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ
অর্থ: ছবরকারীগণ বেহিসাব ও পরিপূর্ণ প্রতিদান পেয়ে থাকেন। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা যুমার শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০)
৬। সময় মত নামাজ আদায় করতে হবে। কখনো গাফিল থাকা যাবেনা। এসময়ে অস্থিরতা বেশি কাজ করে। তাই যথাসময়ে নামাজ আদায় অন্তরকে প্রশান্ত রাখে। মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তায়াল্লুক নিছবত, কুরবত-নৈকট্য লাভ হয়। এজন্যই নামাজের সময় হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বলতেন-
يَا بِلَالُ أقِمِ الصَّلَاةَ، أرِحْنَا بِهٖ অর্থ: হে বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আযান দিয়ে নামাজের ব্যবস্থা করুন এবং তার মাধ্যমে আমাকে প্রশান্তি দান করুন। (আবু দাউদ শরীফ: ৪৩৩৩)