সুওয়াল-জাওয়াব

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

মুহম্মদ আব্দুল কাদির

সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সুওয়াল: আক্বীদা শুদ্ধ না হলে নাকি নাজাত পাওয়া সম্ভব নয় একথা কতটুকু ঠিক?

জাওয়াব: উক্ত কথা পুরোই ঠিক। কেননা আক্বীদার শুদ্ধতাই হচ্ছে ঈমানের শুদ্ধতা। যার আক্বীদা শুদ্ধ সেই মু’মিন বা মুসলমান। যার আক্বীদা শুদ্ধ নয় সে মু’মিন ও মুসলমান থেকে খারিজ তথা কাফির কিংবা মুরতাদ।

গ্রীশচন্দ্র যাকে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে অনুষ্ঠান করে মাওলানা উপাধি দেয়া হয়েছিল। সে বাংলা ভাষায় ‘পবিত্র কুরআন শরীফ’ উনার অনুবাদ করে এবং তার কৃত অনুবাদটি ছাপা হয়, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রসিদ্ধ কিতাব ‘মিশকাত শরীফ’ কিতাবেরও সে অনুবাদ করে, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম উনাদের জীবনীগ্রন্থ ‘তাযকিরাতুল আওলিয়া’ কিতাবেরও অনুবাদ করে ইত্যাদি বেশ কিছু ছুরতান দ্বীনি খিদমত বা আমল করা সত্বেও সে কুফরীর গ্লানী নিয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয় এবং তার চির আবাসস্থল হয় জাহান্নাম। নাউযুবিল্লাহ!

এ থেকে ইবরত-নছীহত হাছিল করার বিষয় রয়েছে। তাহলো- কেউ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তাফসীর করলেই, তাফসীর পড়ালেই, তাফসীর লিখলেই, কিংবা হাদীছ শরীফের কিতাব বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ইত্যাদি পড়লেই, পড়ালেই, অনুবাদ করলেই, মুহাদ্দিছ, শাইখুল হাদীছ, শায়খুত্ তাফসীর, মুফাস্সিরে কুরআন, মুফতী, মাওলানা, পীর, ছূফী, দরবেশ, আমীর, মুরুব্বী, ইমাম, খতীব, ওয়ায়িজ, স্কলার  ইত্যাদি যশ-খ্যাতি লাভ করলেই সে নাজাত পাবেনা যদি তার আক্বীদা বিশুদ্ধ না হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি সে যত কিছুই অর্জন করুক এবং যত আমল-বন্দেগী করুক না কেন তার যদি আক্বীদা বিশুদ্ধ না হয় তবে সে চিরজাহান্নামী হবে। এর মেছাল হচ্ছে ‘কাদিয়ানী সম্প্রদায়’।

তাই সকলকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের যে আক্বীদা (বিশ্বাস) বর্ণিত রয়েছে সে আক্বীদা মুতাবিক আক্বীদা পোষণ করতে হবে। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اِنَّ بَـنِـى اِسْرَائِـيلَ تَـفَرَّقَتْ عَلـٰى ثِـنْـتَـيْـنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَـفْتَـرِقُ اُمَّتِـى عَلـٰى ثَلاَثٍ وَّسَبْعِيْـنَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِـى النَّارِ اِلاَّ مِلَّةً وَّاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِىَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا اَنَا عَلَيْهِ وَاَصْحَابِـى

অর্থ: “নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মতরা ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। এদের মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামী। আর একটি মাত্র দল জান্নাতী। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সেটি কোন দল? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমি এবং আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যার উপর আছি অর্থাৎ আমি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে আক্বীদাহ্ ও আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছি, সেই আক্বীদাহ্ ও আমল মুবারকের উপর যাঁরা থাকবেন, উনারাই হলেন জান্নাতী দল।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যে আক্বীদাহ্ ও আমল মুবারক শিক্ষা দিয়েছেন, সেই আক্বীদাহ্ ও আমল মুবারকের উপর যাঁরা থাকবেন, উনারাই হচ্ছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যারা হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী এই চার মাযহাবের কোন এক মাযহাবের অনুসারী এবং আদিল্লায়ে আরবায়াহ অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ এই ৪ দলীল মানেন উনারা হচ্ছেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অন্তর্ভুক্ত।

অত্যন্ত দুঃখ ও আফসোসের বিষয় হচ্ছে- মানুষ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকীদাহ্ মুবারক সম্পর্কে বেখবর। বিশেষ করে যিনি খ¦ালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে, উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্পর্কে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে কিরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ  করতে হবে, সে সম্পর্কে অনেকেই জানে না। নাঊযুবিল্লাহ! ফলে উনাদের প্রতি ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তারা কুফরী আক্বীদাহ্ পোষণ করে আসছে। নাঊযুবিল্লাহ!

উক্ত কুফরী আক্বীদা থেকে হিফাজত করে বিশুদ্ধ আক্বীদা শিক্ষা দানের লক্ষ্যেই বর্তমানে যমীনে আগমন করেছেন যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলে বাইতে রসূল, ক্বায়িম মাক্বামে রসূল, পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মহান মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! যে আক্বীদা পোষণ করলে জিন-ইনসান জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করতে পারবে, বিনা হিসেবে সম্মানিত জান্নাত লাভ করতে পারবে, সবোর্পরি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বত, মা’রিফাত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারবে সেসব আক্বীদা মুবারকই তিনি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। উনার প্রকাশিত কতিপয় বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক নিম্নে তুলে ধরা হলো-

মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি

বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক:

মহান আল্লাহ পাক তিনি খ¦ালিক্ব, তিনি মালিক, তিনি রব। তিনি একমাত্র মা’বুদ ও ইলাহ্। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তিনি অনাদি, অনন্ত। উনার সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি সবকিছু থেকে বেনিয়াজ। তিনি নিরাকার। তিনি আকার আকৃতি থেকে পবিত্র। উনার হাত-পা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে বলে বিশ্বাস করা শিরক। উনাকে আলো অর্থে নূর বলা কুফরী; বরং তিনি আসমান যমীন আলোকিতকারী বা হিদায়েত দানকারী অর্থে নূর। একইভাবে উনার জাতী নূরে বিশ্বাস করাও কুফরী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম গ্রহণও করেননি। এ প্রসঙ্গে খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ. اَللهُ الصَّمَدُ. لَـمْ يَلِدْ وَلَـمْ يُولَدْ. وَلَـمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ

অর্থ: “বলুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এক। মহান আল্লাহ পাক তিনি বেনিয়াজ অর্থাৎ তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। উনার থেকে কেউ আসেনি এবং তিনিও কারো থেকে আসেননি। উনার সমকক্ষ কেউ নেই।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইখলাছ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৪)

অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَلَمْ تَكُنْ لَّهٗ صَاحِبَةٌ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার কোন সঙ্গিণী (আহলিয়া বা স্ত্রী) নেই।

(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০১)

মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতা সম্পর্কে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

اَللهُ مُنَـزَّهٌ عَنْ جِسْمٍ وَّجَوْهَرٍ وَّعَرْضٍ وَّتَصْوِيْرٍ وَّتَـعْدِيْدٍ وَّتَـبْعِيْضٍ وَّتَـجْزِىٍ وَّتَـرْكِيْبٍ وَّتَـنَاهِىٍّ وَّتَـحْدِيْدٍ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি জিসিম বা শরীর বা নির্ভরশীলতা থেকে, চওড়া বা প্রশস্ত হওয়া থেকে, পরিধি বা ব্যাস বা বস্তু হওয়া থেকে, আকৃতি থেকে, সংখ্যা থেকে, টুকরা টুকরা হওয়া থেকে, অংশ হওয়া থেকে, সম্মিলিতরূপ হওয়া থেকে, না হওয়া থেকে, শেষ হওয়া, সীমা ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার

প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক:

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَرَفَـعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

অর্থ: “আর (আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিকির মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম নাশ্রাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারকের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ মুবারকে রয়েছেন অর্থাৎ হাক্বীক্বী দীদার, যিয়ারত, ছোহবত মুবারকে সৃষ্টির শুরু থেকেই ছিলেন, এখনও আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا حَضْرَتْ جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اِنَّ اللهَ تَـعَالـٰى قَدْ خَلَقَ قَـبْلَ الْاَشْيَاءِ نُـوْرَ نَبِـيِّكَ مِنْ نُّـوْرِهٖ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّـوْرُ يَـدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ تَـعَالـٰى

অর্থ: “হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম আপনার যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার ইযহার মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী উনার কুদরত মুবারকে অবস্থান মুবারক করছিলেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইযহার মুবারক করে উনার কুদরত মুবারকে অর্থাৎ উনার যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারকে অবস্থান মুবারক করান।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ্ ১/৪৮, শারহুয যারক্বানী ৫/২৬১, মাদারেজুন নুবুওওয়াত, ইতমামে নি’মাতুল কুবরা, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ্ ১/১২৫, কাশফুল খফা ১/২৬৫, বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/১৫ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

لِىْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ لَّا يَسْعٰنِىْ فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ وَلَا نَبِىٌّ مُّرْسَلٌ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আমার এমন দায়েমী নিসবত মুবারক যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না।” সুবহানাল্লাহ! (সিররুল আসরার, মকতূবাত শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক সমূহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বশরীরে পবিত্র মি’রাজ শরীফ অন্যতম। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ثُمَّ دَنَا فَـتَدَلّٰى. فَكَانَ قَابَ قَـوْسَيْنِ أَوْ أَدْنٰى. فَأَوْحٰى إِلٰى عَبْدِهٖ مَا أَوْحٰى

অর্থ: “তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম তিনি (মহান আল্লাহ পাক উনার) নিকটবর্তী হলেন এবং ঝঁুকে গেলেন। ধনুকের দুই মাথা টান দিলে যেরূপ মিলে যায়, তার চেয়েও অধিক তিনি নিকটবর্তী হলেন। যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র ওহী মুবারক করলেন, যা করার।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-১০)

কাজেই পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনাকে বিশ্বাস করা ফরয। আর অস্বীকার ও অবজ্ঞা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

তিনি হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَا تَـقُوْلُوْا لِمَنْ يُّـقْتَلُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ اَمْوَاتٌ بَلْ اَحْيَاءٌ وَّلَكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ

 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছেন উনাদেরকে তোমরা মৃত বলো না। বরং উনারা হায়াতপ্রাপ্ত বা জীবিত। কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারছো না। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত  ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৪)

  মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ قُتِلوْا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ اَمْوَاتًا بَلْ اَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يَـرْزُقُـوْنَ

 অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছেন উনাদেরকে মৃত (বলা তো দূরের কথা) ধারণাও করো না। বরং উনারা জীবিত এবং খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে উনারা রিযিকপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৯)

হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে ৩ টি স্তর মুবারক রয়েছেন। যথা- ১. ছিদ্দীক্ব ২. শহীদ এবং ৩. ছলেহ। উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম অর্থাৎ শহীদগণ উনাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, উনাদেরকে মৃত বলা যাবে না এবং উনাদেরকে মৃত (বলা তো দূরের কথা) মৃত ধারণাও করা যাবে না। উনারা হায়াতপ্রাপ্ত বা জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! তাহলে হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক কী? তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র শান মুবারক কেমন? এটা সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিসিম মুবারক ভক্ষণ করা যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহ ইবনে হিব্বান, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ ৩/১১৮, মুসনাদে আহমদ ৪/৮, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্, ইবনে মাজাহ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মু’জামুল আওসাত্ব ৫/৯৭, মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারানী ১/২৫২ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ فَـنَبِيُّ اللهِ حَيٌّ يُرْزَقُ

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিসিম মুবারক ভক্ষণ করা যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। সুতরাং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ, তুহ্ফাতুল মুহ্তাজ ২/৫২৬, মিশকাত শরীফ, জালাউল আফহাম ৬৩ পৃ:)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

وَقِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ صَلَاةَ الْمُصَلِّيْنَ عَلَيْكَ مِمَّنْ غَابَ عَنْكَ وَمَنْ يَأتِي بَعْدَكَ مَا حَالُـهُمْ عِنْدَكَ فَـقَالَ أَسْمَعُ صَلَاةَ أَهْلِ مَحَبَّتِي وَأَعْرِفُـهُمْ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আপনার নিকটবর্তী, দূরবর্তী এবং পরবর্তীতে যারা আসবে তাদের পবিত্র দুরূদ শরীফ সমূহের অবস্থা আপনার নিকট কেমন? জবাবে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আমাকে যারা মহব্বত করে, আমি স্বয়ং নিজে সরাসরি তাদের পাঠকৃত পবিত্র দুরূদ শরীফ শুনি এবং আমি তাদেরকে চিনি। সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুল খইরাত, মাতালিউল মুসার্রাত)

কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবশ্যই হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই আক্বীদা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় ঈমানদার হওয়া যাবে না।

তিনি নূরে মুজাসসাম ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম

খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قَدْ جَآءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُـوْرٌ وَّكِـتٰبٌ مُّبِيْـنٌ

অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব মুবারক এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫)

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُـوْرِىْ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْئٍ مِّنْ نُّـوْرِىْ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক ইযহার মুবারক করেন এবং আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাকতূবাত শরীফ, নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল ইনসানুল কামিল, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইত্যাদি)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক ইযহার মুবারক করেছেন। অতঃপর উনার সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে কুদরতীভাবে সারা কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

رَاَتْ اُمِّـىْ حِيْـنَ وَضَعَـتْـنِـىْ سَطَعَ مِنْـهَا نُـوْرٌ اَضَاءَتْ لَهٗ قُصُوْرُ بَصْرٰى

অর্থ: “আমি যখন যমীনে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিলাম, তখন আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি দেখলেন যে, উনার থেকে একখানা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক জাহির হয়েছেন। সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার আলোয় বছরার রাজপ্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গেলো।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা, ইবনে সা’দ ১/১০২)

আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-

اِنِّــىْ رَاَيْتُ خَرَجَ مِنِّـىْ نُـوْرٌ اَضَاءَتْ مِنْهُ قُصُوْرُ الشَّامِ

অর্থ: “আমি নিশ্চিতভাবে দেখলাম যে, আমার থেকে একখানা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক জাহির হলেন। যেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক উনার আলোতে শাম দেশের রাজপ্রাসাদগুলো আলোকিত হয়ে গেলো।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ২৯/১৯৬, আল আহাদ ওয়াল মাছানী ৩/৫৬, মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/২২২, আল খছায়িছুল কুবরা ১/১১০, ২/৩৩৬ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র তাহতাদ্ দ্বুলু’ অর্থাৎ পবিত্র বাম পাঁজর মুবারকের নীচ দিয়ে কুদরতীভাবে জমিনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক-এ (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিসিম বা শরীর মুবারক-এ) যা কিছু ছিলেন, সবকিছুই পবিত্র থেকে পবিত্রতম। উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক-এ কখনো মশা-মাছি বসতোনা। উনার ছায়া মুবারক ছিলেন না। উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুশ শিফা মুবারক (ছোট ইস্তেঞ্জা মুবারক) যাঁরা পান করেছেন, উনারা সর্বোচ্চ শ্রেণীর জান্নাতী। এক মুহূর্তের তরেও উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুত তাবার্রুক মুবারক-এ (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র স্পর্শ মুবারক-এ) যা কিছু এসেছেন তা আসমান-যমীন, সম্মানিত কা’বা শরীফ, সম্মানিত কুরসী শরীফ, মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে, এমনকি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক থেকেও অধিক পবিত্র, ফযীলতপ্রাপ্ত, সম্মানিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার জাতী নূর নন। জাতী নূরে বিশ্বাস করা কুফরী।

তিনি ‘মুত্ত্বলা’ আলাল গ্বইব ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম

মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন আলিমুল গইব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মুত্ত্বলা’ আলাল গ্বইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুত্ত্বলি’ আলাল গ্বইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

عَالِـمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلٰى غَيْبِهٖ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضٰى مِنْ رَّسُوْلٍ

অর্থ: “তিনি (মহান আল্লাহ পাক) আলিমুল গ্বইব, উনার গ্বইব সম্পর্কিত ইলিম মুবারক উনার মনোনীত সম্মানিত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশ করেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা জিন শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নং ২৬, ২৭)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُعْطِيْتُ جَوَامِعَ الْعِلْمِ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে সমস্ত প্রকার ইলিম মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সুনানে দারে কুত্বনী ৫/২৫৪, দায়লামী শরীফ ১/৪০০)

অন্য বর্ণনায় ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

أُعْطِيْتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ

অর্থ: “আমাকে সমস্ত ইলিম-কালাম মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ২/৪১১, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ১১/৩৭৭, দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ৫/৪৭২, সুনানে দারে কুত্বনী ১০/১০০, মিশকাত শরীফ ৫১২ ইত্যাদি)

আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ

অর্থ: “আমি সমস্ত ইলিম-কালাম মুবারকসহ প্রেরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ ২/২৬৪, মুসনাদে বাযযার ১৪/২১৪, দালাইলুন নুবুওওয়াহ ৫/৪৭১, মিশকাত শরীফ ৫১২ ইত্যাদি)

আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

أُوتِيْتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَفَـوَاتِحَهٗ وَخَوَاتِمَهٗ

অর্থ: “আমাকে শুরু-শেষ সমস্ত ইলিম-কালাম মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুছন্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ্ ১১/৪৮০, মাজমাউয যাওযায়িদ ১/২২৩, ফাতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ্ ১/১৬৬, জামিউল আহাদীছ ১২/২৭, মাত্বালিবুল আলিয়াহ্ ১৫/৬৩৪ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ حُذَيْـفَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَامَ فِيْـنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَـرَكَ شَيْـئًا يَكُوْنُ فِىْ مَقَامِهِ ذٰلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ

অর্থ: “হযরত হুযাইফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সবকিছুই বর্ণনা করে দিলেন, কোনো কিছুই বাদ দিলেন না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ)

কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন- মুত্ত্বলা’ আলাল গ্বইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুত্ত্বলি’ আলাল গ্বইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । সুবহানাল্লাহ! উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইলমে গইবসহ সমস্ত ইলিম-কালাম মুবারক হাদিয়া করেছেন। আর তিনি উক্ত সমস্ত ইলিম মুবারক কায়িনাতবাসীর নিকট প্রকাশ করেছেন বা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِيْنَ

অর্থ: “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি গ্বইব উনার সংবাদ প্রকাশে কৃপণতা করেন না। অর্থাৎ তিনি সমস্ত প্রকার গ্বইবের সংবাদ মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাকভীর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৪)

তিনি হাযির-নাযির ছল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়া সাল্লাম

মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ইলিম মুবারক ও সম্মানিত কুদরত মুবারক দ্বারা সর্বত্র হাযির-নাযির। জাত হিসেবে নয়। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলিম মুবারক ও মু’জিযা শরীফ উনাদের মাধ্যমে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত ক্ষমতা মুবারক-এ আর ছিফত হিসেবে সম্মানিত নূর মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّــاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْــرًا

অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি শাহিদ অর্থাৎ সাক্ষ্যদাতা, উপস্থিত, হাযির-নাযির হিসেবে, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারীরূপে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারকই হচ্ছেন ‘হাযির-নাযির’। সুবহানাল্লাহ! যেমন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জের সময় খুৎবা মুবারকের শেষে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন-

فَـلْـيُـبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ

অর্থ: “আপনারা যাঁরা এখানে হাযির বা উপস্থিত রয়েছেন, যাঁরা গায়েব বা অনুপস্থিত উনাদেরকে (আমার নছীহত মুবারকসমূহ) পেঁৗছিয়ে দিবেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ ইত্যাদি)

شَاهِدٌ (শাহিদ) শব্দ মুবারক উনার অর্থ মুবারকই যে ‘হাযির-নাযির’ এ বিষয়টি লুগাত বা অভিধান দ্বারাও প্রমাণিত।

আর এটা সকলের জানা রয়েছে যে, যিনি হাযির বা উপস্থিত তিনি নাযির বা প্রত্যক্ষকারী, প্রত্যক্ষদশীর্। অর্থাৎ যিনি হাযির তিনিই নাযির আবার যিনি নাযির তিনিই হাযির। সুবহানাল্লাহ!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ২৬৫ তম সংখ্যা পাঠ করুন।

সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির এবং কোনো সময় ও স্থান উনার সম্মানিত উপস্থিতি মুবারক থেকে খালি নয়। এই বিষয়টি মহাসম্মানিত  মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ! আর এ প্রসঙ্গে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ اَلَّذِىْ اِذَا اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهٗ كَشَفَهٗ عَنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهٗ اَنْـبَـتَـهَا لَكَ وَاِذَا كُنْتَ بِاَرْضٍ قَـفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَـتُكَ فَدَعَوْتَهٗ رَدَّهَا عَلَـيْكَ 

অর্থ: “আমি ঐ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তুমি কোনো বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হও তখন তুমি আমাকে ডাকবে, আমি তোমার বিপদ-আপদ, দুঃখ-দূর্দশা দূর করে দিবো। যখন তোমার জমিতে ফসল হয় না, দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তুমি আমাকে ডাকবে, আমি তোমার জমিতে ফসল ফলিয়ে দিবো, দূর্ভিক্ষ দূর করে দিবো। যখন তুমি কোনো জনমানবহীন শূন্য স্থানে, (খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে,) নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে থাকো আর তোমার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন তুমি আমাকে ডাকবে, আমি তোমার বাহন ফিরিয়ে দিবো, বাহনের ব্যবস্থা করে দিবো।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, আল কুনা’ ওয়াল আসমা’ ১/৫৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ১০/২৩৬, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ৪/১৩৪৪, জামী‘উল উছূল ১১/৭৪৬ ইত্যাদি)

উপরোক্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সহ আরো অসংখ্য মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির এবং কোনো সময় ও স্থান উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উপস্থিতি মুবারক থেকে খালি নয়। যার কারণে কোনো উম্মত যদি জনমানব শূন্য স্থানে, খাল-বিল, নদী-নালা, সমুদ্রে, নির্জন প্রান্তরে, মরুভূমিতে অথবা বনে, ঝোপ-ঝার, জঙ্গলে যেখানেই থাকে আর তার বাহন হারিয়ে যায় বা বাহন না থাকে, তখন সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট দোআ করলে তিনি উক্ত উম্মতের বাহন ফিরিয়ে দেন, বাহনের ব্যবস্থা করে দেন, কোনো বিপদে পড়লে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। সুবহানাল্লাহ!

এই বিষয়ে অসংখ্য বাস্তব ঘটনা মুবারকও রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক ১ম থেকে ১৮তম খণ্ড’ রেসালা শরীফসমূহ পাঠ করুন।

তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَـنْطِقُ عَنِ الْهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْىٌ يُّـوْحٰى

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোনো কথা মুবারক বলেন না, কোনো আমল মুবারক করেন না, কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন না।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَوْ تَـقَوَّلَ عَلَيْـنَا بَعْضَ الْاَقَاوِيْلِ.‏ لَاَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِيْنِ. ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِيْنَ. فَمَا مِنْكُمْ مِّنْ اَحَدٍ عَنْهُ حٰجِزِيْنَ

অর্থ: “যদি তিনি আমার নাম মুবারক-এ বানিয়ে বানিয়ে কোনো কথা বলতেন, তাহলে আমি আমার কুদরতী ডান হাত মুবারক দ্বারা অর্থাৎ কুদরতীভাবে উনাকে পাকড়াও করে উনার প্রাণ রগ কেটে দিতাম। তোমাদের কেউ উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে রক্ষা করতে পারতে না।” নাঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাক্কাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৪-৪৭)

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক ব্যতীত কোনো কথা মুবারক বলেননি, কোনো কাজ মুবারক করেননি এবং কোনো কিছু সম্মতি মুবারকও প্রকাশ করেননি। উনার ব্যক্তিগত যিন্দেগী বলে কিছু নেই। উনার পুরো যিন্দেগী মুবারকই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র  নুবুওওয়াতী-রিসালতী যিন্দেগী মুবরক। তিনি নিজ থেকে কিছু বলেছেন, করেছেন, সমর্থন বা সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেছেন এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। উনার হাঁটা-চলা মুবারক, নড়া-চড়া মুবারক, খাওয়া-দাওয়া মুবারক, ঘুম মুবারক এবং স্বপ্ন মুবারকও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং ‘তিনি ইজতিহাদ করেছেন এবং উনার ইজতিহাদে ভুল হয়েছে।’ এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

মুহম্মদ বাহাউল ইসলাম

মানিক নগর, ঢাকা

সুওয়াল: পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশ দিন ও দশ রাতের ফযীলত সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক।

জাওয়াব: পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশ দিন ও দশ রাত উনাদের সীমাহীন ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا اَحَبُّ اِلَى اللهِ مِنْ هٰذِهِ الْاَيَّامِ‏.‏ يَعْنِي الْعَشْرَ.‏ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَلَا الْـجِهَادُ فِى سَبِيْلِ اللهِ قَالَ وَلَا الْـجِهَادُ فِى سَبِيْلِ اللهِ اِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَـفْسِهٖ وَمَالِهٖ فَـلَمْ يَـرْجِعْ مِنْ ذٰلِكَ بِشَىْءٍ

অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদতের মতো এত প্রিয় কোন আমল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নেই। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সুওয়াল করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করাও কি প্রিয় নয়? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যুত্তরে ইরশাদ মুুবারক করেন, না, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তির কথা আলাদা যিনি উনার জান ও মাল-সম্পদ নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছেন, অতঃপর নিজের সম্পদ ও জানের কিছুই ফিরে এলেন না, অর্থাৎ শহীদ হয়ে গেলেন।” (বুখারী শরীফ- কিতাবুল ঈদাইন : বাবু ফাদ্বলিল আ’মালি ফী আইয়্যামিত তাশরীক্ব; ইবনে মাজাহ শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম; আবূ দাঊদ শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ফী ছাওমিল আশরি)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِى هُرَيْـرَةَ رَضِىىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ اَنْ يَّـتَـعَبُّدَ لَهُ فِيْـهَا مِنْ عَشْرِ ذِى الْـحِجَّةِ يَـعْدِلُ صِيَامُ كُلّ يَـوْمٍ مِّنْـهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلّ لَيْـلَةٍ مِّنْـهَا بِقِيَامِ لَيْـلَةِ الْقَدْرِ

অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যে দিন সমূহের ইবাদত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয় বা পছন্দনীয়। পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশ দিনের প্রতি দিনের রোযার ফযীলত হচ্ছে এক বছর রোযা রাখার সমপরিমাণ এবং প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে পবিত্র ক্বদর উনার রাতে ইবাদত করার সমপরিমাণ।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَت اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الرَّابِعَةِ عَلَيْـهَا السَّلَامَ قَالَتْ أَرْبَعٌ لَـمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامَ عَاشُورَاءَ وَالْعَشْرَ وَثَلَاثَةَ اَيَّامٍ مِنْ كُلّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَـيْنِ قَـبْلَ الْغَدَاةِ.‏

অর্থ : “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আর রবিয়া’ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো চারটি আমল পরিত্যাগ করেননি। সেগুলো হলো- পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ দিনের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা ও ফজর নামাযের পূর্বের দু’রাকয়াত নামায।” (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু কাইফা ইয়াছূমু ছালাছাতা আইয়্যামিন মিন কুল্লি শাহ্রিন ওয়া যিকরিখ তিরাফিন নাক্বিলীনা লিলখ¦াবারি ফী যালিক; আহমদ শরীফ; হাকিম শরীফ)

স্মরনীয় যে, পবিত্র যিলহজ্জ মাসের দশম দিনের রোযা হচ্ছে কুরবানী পর্যন্ত। অর্থাৎ কুরবানীর গোশ্ত দিয়ে ইফতার করা। অর্থাৎ যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে ছুবহে ছাদিক থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত কিছু পানাহার না করে কুরবানীর পর কুরবানীর গোশ্ত দিয়ে খাওয়া শুরু করা খাছ সুন্নত। যদি দ্বিপ্রহরের পূর্বে অর্থাৎ মাকরূহ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে কুরবানীর গোশত প্রস্তুত না হয়, তবে যে কোন খাদ্য-পানীয় খেয়ে রোযা ভঙ্গ করতে হবে।

পবিত্র ৯ যিলহজ্জ শরীফ যা ইয়াওমুল আরাফাহ বা আরাফা উনার দিবস নামে মশহূর। এ দিন রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبـِى قَـتَادَةَ رَضِىىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامُ يَـوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَـبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ

অর্থ : “হযরত আবূ ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আরাফাহ দিবসে রোযা রাখবে তার পিছনের এক বছরের এবং সামনের এক বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ) 

(৩) বছরে পাঁচ রাতে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। তার মধ্যে দু’ঈদের দু’রাত। এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ পাঠ, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দুরূদ শরীফ ও যিকির-আযকার করে রাত অতিবাহিত করা অতি উত্তম। দিলের নেক মকছূদসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট জানালে মহান আল্লাহ পাক তিনি তা কবুল করবেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِى اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَامَ لَيْـلَةَ الْعِيْدَيْنِ مُـحْتَسَبًا لِلّٰهِ لَـمْ يَـمُتْ قَـلْبَهُ يَـوْمَ تَـمُوْتُ الْقُلُوْبُ

অর্থ : “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” (তারগীব ও তারহীব ২য় খণ্ড)

অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ!

মুহম্মদ মুঈনুল ইসলাম (রাফি)

আমানবাড়িয়া, ঢাকা

সুওয়াল: মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে বা উনার নাম মুবারকে অনেক কুরবানীদাতাকে কুরবানী করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়ত উনার কি হুকুম? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম মুতাবেক প্রত্যেক উম্মতের জন্য দায়িত্ব র্কতব্য হচ্ছে, উম্মতের যিনি মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, যিনি ইমামুল মুরসালীন, যিনি খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করা। কেননা

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য উম্মতকে তিনি ওছীয়ত মুবারক এবং আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ে একাধিক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ سَيِّدَنَا حَضْرَتِ الْاِمَامَ الْاَوَّلَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحِّىْ بِكَبْشَيْـنِ فَـقُلْتُ لَهٗ مَا هٰذَا فَـقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِـىْ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ

অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে দুটি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি? (দুটি কেন?) জবাবে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ওছীয়ত মুবারক করেছেন যে, আমি যেন উনার পক্ষ হতে কুরবানী মুবারক করি। সুতরাং আমি উনার পক্ষ থেকে কুরবানী মুবারক করছি।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ ১২৮)

অপর বর্ণনায় রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتِ الْاِمَامَ الْاَوَّلِ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اَمَرَنِـىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْ اُضَحِّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحِّىْ عَنْهُ اَبَدًا

অর্থ: “বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে আদেশ মুবারক করেছেন যে, আমি যেন উনার পক্ষ থেকে কুরবানী মুবারক করি। সেজন্য আমি সবসময় অর্থাৎ প্রতি বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী মুবারক করি।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ১/১০৭, ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা লি আহমদ ইবনে হাম্বল ২/৬৯৮)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহের ব্যাখ্যায় যামানার মহাসম্মনিত মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওয়ারিছ এবং সম্মানিত আহলে বাইত আলাইহিস সালাম। যার কারণে উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার তরফ থেকে সবসময় বা প্রতি বছর কুরবানী মুবারক করার জন্য ওছীয়ত মুবারক করেছেন এবং আদেশ মুবারক করেছেন।  সুবহানাল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে উক্ত ওছীয়ত ও আদেশ মুবারক সকল উম্মতের প্রতিই প্রযোজ্য। কারণ সম্মানিত ওহী মুবারক উনার নুযূল খাছ অথার্ৎ ব্যক্তি বিশেষ হয়ে থাকে কিন্তু হুকুম হচ্ছে আম অর্থাৎ ব্যাপক বা সকলের জন্য।

মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে সমস্ত উম্মতকেই উনার তরফ থেকে কুরবানীর দিনসমূহে এবং কুরবানীর দিনসমূহ ব্যতীত অন্য দিনসমূহে অথার্ৎ সবসময়ের জন্য কুরবানী মুবারক করার জন্য ওছীয়ত মুবারক এবং আদেশ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার এই ওছীয়ত মুবারক এবং আদেশ মুবারক মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই সম্মানিত ওহী মুবারকের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত কোন কথা মুবারক বলেন না, কাজ মুবারক করেন না, ওছীয়ত মুবারক করেন না, আদেশ মুবারক করেন না, নিষেধ মুবারক করেন না, সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেন না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا يَـنْطِقُ عَنِ الْـهَوٰى. اِنْ هُوَ اِلَّا وَحْيٌ يُّوحٰى

অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা মুবারক বলেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নজম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩-৪)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُـوْحٰى إِلَيَّ

অর্থ : (বলে দিন…,) আমি তো কেবল তা-ই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী মুবারক করা হয়। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫০)

স্মরণীয় যে, সাধারণ একজন উম্মত যদি তার সন্তানদেরকে ওছীয়ত করেন তাহলে সন্তানের জন্য তা মান্য করা ফরয-ওয়াজিব হয়ে যায়। সন্তান যদি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও সেই ওছীয়ত পূর্ণ না করে তাহলে সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে।

একজন পিতার ওছীয়ত পালন না করলে সন্তান যদি গুনাহগার হয় তাহলে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ওছীয়ত মুবারকের  গুরত্ব কতখানি এবং তা পালন না করার পরিণতি কি হতে পারে তা ফিকির করতে হবে।

আর যিনি সকল হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও নবী, সকল হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও রসূল, যিনি সমস্ত মাখলুকাতের মহাসম্মানিত রসূল এবং মহাসম্মানিত পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার পরে যিনি মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব মুবারকের অধিকারী তিনি যে ওছীয়ত মুবারক ও আদেশ মুবারক করেছেন, উক্ত ওছীয়ত মুবারক ও আদেশ মুবারক পালনের গুরুত্ব উম্মতের প্রতি কতবেশি তা উম্মত মাত্রই সকলকে উপলব্ধি করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَـهَاكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوا وَاتَّـقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

অর্থ: মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন বা তোমাদেরকে যা আদেশ মুবারক করেছেন তা তোমরা অঁাকড়ে ধরো বা পালন করো এবং তিনি তোমাদেরকে যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন বা যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৭)

প্রতিভাত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মান্য করা উম্মতের জন্য ফরযে আইন।

  অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِيْ وَسُنَّةِ الْـخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الـمَّهْدِيّـيْنَ تَـمَسَّكُوْا بِـهَا وَعَضُّوْا عَلَيْـهَا بِالنَّـوَاجِذِ

অর্থ : তোমাদের জন্য আমার ও আমার হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক (আদর্শ মুবারক) পালন করা অপরিহার্য কর্তব্য। তোমরা তা মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্ত করে অঁাকড়ে ধরবে।” (আহমদ শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত বা আদর্শ মুবারক পালন করা ফরয-ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়েছে। আর হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজজাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব। এছাড়া উনাকে উদ্দেশ্য করেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

أَنْتَ مِنِّى بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهٗ لاَ نَبِىَّ بَعْدِى

অর্থ: “আপনি আমার নিকট তদ্রƒপ মর্যাদার অধিকারী, যেরূপ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার নিকট হযরত হারূন আলাইহিস সালাম; তবে আমার পরে কোনো নবী নেই।”

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রতিয়মান হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে অবস্থানকালীন সময়ে কেউ যদি নবী হতেন তাহলে তিনি হতেন হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজজাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

সর্বোপরি, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজজাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই হচ্ছেন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব বা মযার্দা। সুবহানাল্লাহ!

মোটকথা, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম। উনাদের মহব্বত, খিদমত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার মহব্বত ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হয়ে থাকে। আর এক্ষেত্রে উনারাই হচ্ছেন সবোর্ত্তম ও মহানতম উছীলা।

সুতরাং, আহলে বাইতে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজজাহূ আলাইহিস সালাম উনার আদর্শ মুবারক- “প্রতি বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে একটি এবং নিজের তরফ থেকে একটি কুরবানী করা” এই সম্মানিত আদর্শ মুবারক প্রতিটি মুসলমানের মাড়ির দাঁত দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে হবে অর্থাৎ দৃঢ়তার সাথে দায়িমীভাবে অনুসরণ বা পালন করতে হবে।

তাছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানী দিয়েছেন। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কুরবানী করার সুমহান দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই উম্মতের উপর বর্তায়। তাই উম্মতের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, চূড়ান্ত মহব্বত ও আনুগত্যতার সাথে তাদের যিনি মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কুরবানী করা। এটা উম্মতের জন্য ফরযে আইন।

এক্ষেত্রে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তার ওয়াজিব কুরবানীর পাশাপাশি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে বা উনার নাম মুবারকে কুরবানী দিবে। এতে যেমন তার নিজের কুরবানী নিশ্চিতভাবে কুবুল হওয়ার উছীলা হবে এবং সেইসাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল হওয়ারও উছীলা হবে। সুবহানাল্লাহ!

যাদের একাধিক কুরবানী করার সামর্থ রয়েছে, তাদের উচিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম তরফ থেকে এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম, মহাসম্মানিতা হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম, মহাসম্মানিতা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, মহাসম্মানিত হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিতা হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের নাম মুবারকে কুরবানী দেয়া।

আর যাদের কুরবানী করার সামর্থ নেই বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদের জন্য কর্তব্য হচ্ছে, তারা একাধিকজন মিলে পশু কিনে অথবা পশু প্রতিপালন করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নাম মুবারকে কুরবানী করা এবং গোশ্ত নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়া। এর ফলে প্রত্যেকেই কুরবানীর ফযীলত লাভ করার সাথে সাথে গোশ্তও লাভ করা সম্ভব হবে। সুবহানাল্লাহ!

মুহম্মদ আহসানুল হক

ঢাকা।

সুওয়াল: পবিত্র কুরবানীর কিছুদিন আগে নাকি হাত ও পায়ের নখ কাটা, মোছ ছাঁটা এবং মাথার চুল ইত্যাদি কাটা যায় না? কুরবানী করার পর কাটতে হয়! কথাটা কতটুকু সত্য?

জাওয়াব: হ্যাঁ, যারা পবিত্র কুরবানী দেয়ার নিয়ত রাখেন, তাদের পক্ষে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে এই চাঁদের দশ তারিখ পবিত্র কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল হাতের ও পায়ের নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ السَّادِسَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَأَى هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ فَأَرَادَ أَنْ يُّضَحِّيَ فَلَا يَأْخُذُ مِنْ شَعْرِهٖ وَلَا مِنْ أَظْفَارِهٖ حَتّٰى يُضَحِّيَ

অর্থ: “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেন কুরবানী করা পর্যন্ত তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ ইত্যাদি)

মূলত ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা পবিত্র কুরবানী করবে এবং যারা পবিত্র কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি পবিত্র কুরবানীর ছওয়াব পাবে। সুবহানাল্লাহ! {দলীলসমূহ: নাসায়ী শরীফ, মিশকাত শরীফ, শরহে নববী শরীফ, বজলুল মাযহূদ শরীফ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত শরীফ, আশয়াতুল লুময়াত শরীফ, শরহুত ত্বীবী শরীফ, তা’লীকুছ ছবীহ শরীফ, মুযাহিরে হক্ব শরীফ ইত্যাদি।}

মুহম্মদ আকবর হুসাইন

মানিকগঞ্জ

সুওয়াল: তাকবীরে তাশরীক কাকে বলে? তা কতবার বলতে হয়?

জাওয়াব: পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর যে তাকবীর পাঠ করা হয় তাকেই তাকবীরে তাশরীক বলে। জামায়াতে বা একাকী, মুসাফির অথবা মুকীম, শহর অথবা গ্রামে প্রত্যেককেই প্রতি ফরয নামাযের পর উক্ত তাকবীর পাঠ করতে হবে।

তাকবীরে তাশরীক হলো-

اَللهُ اَكْبَـرُ اَللهُ اَكْبَـرُ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَـرُ اَللهُ اَكْبَـرُ وَلِلّٰهِ الْـحَمْدُ

“দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে যে, “তাকবীরে তাশরীক” একবার বলা ওয়াজিব, তবে যদি (কেউ) একাধিকবার বলে, তাহলে তা ফযীলতের কারণ হবে।

আর “ফতওয়ায়ে শামী” কিতাবে উল্লেখ আছে-

وَقِيْلَ ثَلَاثُ مَرَّاتٍ

অর্থ: “কেউ কেউ বলেছেন, তাকবীরে তাশরীক তিনবার।” 

“গায়াতুল আওতার শরহে দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ আছে-

اور واجب ہے تکبیر تشریق صحیح ترقول میں ایکبار بسبب اسکے مامور ہونے کے اور اگر زیادہ کہےایکبار سے تو ہوگا ثواب.

অর্থ: “বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে (মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে) আদিষ্ট হওয়ার কারণে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। আর যদি একবারের চেয়ে অতিরিক্ত বলে তবে ছাওয়াবের অধিকারী হবে।”

উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য কিতাবের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব এবং তিনবার বলা মুস্তাহাব-সুন্নত। {দলীলসমূহ: শামী, আইনী, আলমগীরী, হাশিয়ায়ে তাহতাবী, রদ্দুল মুহতার, দুররুল মুখতার ইত্যাদি।}

মুহম্মদ ফরহাদ আলম

চটগ্রাম

সুওয়াল:   পবিত্র কুরবানী কার উপর ওয়াজিব?

জাওয়াব:  পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার দশ, এগার, বার অর্থাৎ দশ তারিখের ছুবহে ছাদিক হতে বার তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নিছাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়িজে আছলিয়াহ (নিত্য প্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্য বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব। কুরবানীর নিছাব অন্যান্য নিছাব যেমন যাকাত, ফিতরার নিছাবের অনুরূপ নয়। উল্লেখ্য যে, যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নিসাব পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে তার উপরেও কুরবানী ওয়াজিব হবে। {দলীলসমূহ: (১) আলমগীরী, (২) শামী, (৩) আইনুল হিদায়া, (৪) ফতহুল কাদীর, (৫) গায়াতুল আওতার, (৬) শরহে বিকায়া, (৭) বাহর, (৮) দুররুল মুখতার, (৯) কাজীখান, (১০) ইনায়া ইত্যাদি।

মুহম্মদ আরিফুল ইসলাম

মোমেনশাহী

সুওয়াল: পবিত্র ঈদুল আযহার দিনের সুন্নতসমূহ জানতে চাই।

জাওয়াব:  পবিত্র ঈদের দিনের সুন্নত হলো- ১. খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা ২. গোসল করা ৩. মিস্ওয়াক করা ৪. সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন কিংবা পরিস্কার পোশাক পরিধান করা ৫. আতর ব্যবহার করা ৬. মহল্লার মসজিদে গিয়ে জামায়াতে ফজরের নামায পড়া ৭. ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া ৮. ঈদুল আযহার দিন সকালে কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া ৯. ঈদুল আযহার দিন পবিত্র কুরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া শুরু করা ১০. ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা ১১. সকাল সকাল পবিত্র ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া ১২. ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া, সম্ভব না হলে মহল্লার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া। ১৩. নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া:

اَللهُ اَكْبَـرُ اَللهُ اَكْبَـرُ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَـرُ اَللهُ اَكْبَـرُ وَلِلّٰهِ الْـحَمْدُ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ১৪. সম্মানিত শরীয়ত উনার সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত। (আলমগীরী, নূরুল ঈজাহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব)

মুহম্মদ মোস্তফা

নূরানীবাদ

সুওয়াল: পবিত্র ঈদুল আযহা উনার নামায কখন পড়া সুন্নত? জানতে বাসনা রাখি।

জাওয়াব: সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে (অর্থাৎ মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে অথবা সূর্য উদয়ের শুরু থেকে ঘড়ির মিনিট অনুযায়ী ২৩ মিনিট পর) ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর যাওয়াল বা শরয়ী অর্ধদিন বা দ্বিপ্রহর অর্থাৎ সূর্যের এস্তাওয়া আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র ঈদের নামাযের ওয়াক্ত থাকে।

     ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর ২৩ মিনিট পর্যন্ত মাকরূহ ওয়াক্ত এবং এরপরই পবিত্র ঈদের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং যুহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র ঈদের নামাযের ওয়াক্ত থাকে। সূর্য পূর্ণভাবে উদিত হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ মাকরূহ ওয়াক্ত যা ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী ২৩ মিনিট অতিক্রম হওয়ার পূর্বে পবিত্র ঈদের নামায আদায় করলে নামায হবে না এবং যুহরের নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বের ১ ঘণ্টা যা মাকরূহ ওয়াক্ত নামে পরিচিত। উক্ত মাকরূহ ওয়াক্তের মধ্যে ঈদের নামায আদায় করলে তা আদায় হবে না।

পবিত্র ঈদের নামায কোন সময় আদায় করলে তা সুন্নত হবে সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র ঈদের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফজরের নামায পড়ে হুজরা শরীফে গিয়ে সকাল সকাল গোসল করতেন এবং ঈদুল ফিতর হলে বিজোড় সংখ্যক (৩, ৫, ৭) খোরমা খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। আর পবিত্র ঈদুল আযহার সময় কিছু না খেয়ে সরাসরি ঈদগাহে যেতেন এবং পবিত্র ঈদের নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে পবিত্র ঈদের নামায আদায় করতেন। তারপর খুতবা দিতেন এবং নছীহত মুবারক  করতেন।”

কাজেই, পবিত্র ঈদের নামায সকাল সকাল পড়া সুন্নত। পবিত্র ঈদের নামাযের সম্মানার্থে এবং পবিত্র ঈদের নামায যাতে আদায়ে দেরি না হয়, সেজন্য ঈদের দিন ইশরাকসহ অন্যান্য নফল নামায পড়া নিষিদ্ধ। (সমূহ ফিক্বহের কিতাব দ্রষ্টব্য)

মুহম্মদ বেলাল হুসাইন

সদর, চাঁদপুর

সুওয়াল: পবিত্র কুরবানীর পশু যবেহ করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত জানালে খুশি হবো।

জাওয়াব:  পবিত্র কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর পবিত্র কুরবানী করতে হবে। আর  পবিত্র কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরে নরম স্থানের উপর থেকে গলার মধ্যে একটি উঁচু হাড় রয়েছে উভয়ের মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবেনা। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বিজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

কুরবানীর নিয়ত: (যবেহ করার পূর্বে)

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيْـفًا وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِى لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَبِذٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ اَللّٰهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ

উচ্চারণ: ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুছুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহূ ওয়া বি যালিকা উমির্তু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা। এ দোয়া  পড়ে بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَـرُ ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে যবেহ করতে হবে।

যবেহ করার পর এ দোয়া পড়বে-

اَللّٰهُمَّ تَـقَبَّـلْهُ مِنِّىْ كَمَا تَـقَبَّـلْتَ مِنْ حَبِيْبِكَ سَيِّدِنَا مَوْلٰنَا رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَلِيْلِكَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اِبْـرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা মাওলানা রাসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খলীলিকা সাইয়্যিদিনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।

যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে مِنِّى (মিন্নী) বলতে হবে। আর যদি  অন্যের  কুরবানী হয়, তবে  مِنْ (মিন) শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয়, তাহলে مِنِّى (মিন্নী)ও বলবে, অতঃপর  مِنْ (মিন) বলে অন্যদের নাম বলতে হবে। কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে যবেহ করার সময় শুধু বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে পবিত্র কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিত উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে পবিত্র কুরবানী করা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

{দলীলসমূহ: আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, দারিমী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, বদ, মিশকাত শরীফ, বজলূল মযহুদ, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, মুযাহেরে হক্ব, ত্বীবী, তালিকুছ ছবীহ, আলমগীরী, শামী, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া ও বাহরুর রায়িক্ব ইত্যাদি।}

মুহম্মদ আবূ আইয়ূব

সদর, খুলনা

সুওয়াল: আইয়ামে নহর বা পবিত্র কুরবানী উনার দিনে কুরবানীর পশু কুরবানী করার পূর্বে অথবা পবিত্র কুরবানী করার সময়ে হাঁস, মুরগি, কবুতর ইত্যাদি যবেহ করার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি?

জাওয়াব: মুসলমানদের আইয়ামে নহর বা পবিত্র কুরবানী উনার দিনে যারা মজুসী বা অগ্নি উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় আমল মুতাবিক হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবাহ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিন হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَـهُوَ مِنْـهُمْ

অর্থ: “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (মিশকাত শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)

আর যদি কোন মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ তাহরীমী হবে, যেহেতু এটাও মুশাবাহ হয়ে যায়।

আর যদি কোন মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ তানযীহী হবে। আর এমন কোন মুসলমান, যার উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি পবিত্র কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেন ছুবহি ছাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ করে, কেটে, পাক করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ করে, কেটে রেখে দিবে পরে পাক করলেও চলবে। (এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ৪৪, ৭০, ৭৯, ১০৭তম সংখ্যাগুলি পাঠ করুন।) {দলীলসমূহ: শামী, আলমগীরী, ফতহুল ক্বাদীর, শরহে হিদায়া ইত্যাদি।}

মুহম্মদ আবুল কাশেম

সদর, চাঁদপুর

সুওয়াল:  হালাল পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ?

জাওয়াব:  পবিত্র কুরবানী বা হালাল পশুর ৮টি জিনিস খাওয়া যাবেনা। (১) দমে মাছফুহা বা প্রবাহিত রক্ত হারাম, (২) অণ্ডকোষ, (৩) মূত্রনালী, (৪) পিত্ত, (৫) লিঙ্গ, (৬) গুহ্যদ্বার, (৭) গদুদ বা গুটলী মাকরূহ তাহরীমী, (৮) শিরদাড়ার ভিতরের মগজ, এটা কেউ মাকরূহ তাহরীমী, আবার কেউ মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। {দলীলসমূহ: শামী, মাতালেবুল মু’মিনীন, উমদাতুল কালাম, কিতাব- শাইখুল ইসলাম ইত্যাদি।

মুহম্মদ মুহিদ্দীন

নূরানীবাদ।

সুওয়াল: ওয়াজিব ও নফল কুরবানী, ওলীমা ও  আক্বীকা একসাথে করা জায়িয হবে কিনা? জাওয়াব:  হাঁ জায়িয হবে।  {দলীল: শামী, আলমগীরী ইত্যাদি।}

মুহম্মদ পারভেজ হুসাইন

কুষ্টিয়া

সুওয়াল: কোন ব্যক্তির উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব। সে তার নিজের নামে বা পক্ষ থেকে কুরবানী না দিয়ে মৃত বা জীবিত পিতা-মাতার পক্ষ থেকে অর্থাৎ তাদের নামে কুরবানী দিলে তার নিজের কুরবানী আদায় হবে কিনা?

জাওয়াব: না, আদায় হবে না। আমাদের হানাফী মাযহাব মতে মালিকে নিছাব প্রত্যেকের উপর আলাদাভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। যার উপর  কুরবানী ওয়াজিব তার পক্ষ থেকেই কুরবানী করতে হবে। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে তার নামে  কুরবানী না করে মৃত বা জীবিত অপরের নামে কুরবানী করলে ওয়াজিব তরকের কারণে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। যদিও বাবা-মা উনাদের নামে কুরবানী করে, যাদের প্রতি কুরবানী ওয়াজিব নয়। (দলীলসমূহ: সমূহ পবিত্র হাদীছ শরীফ, তাফসীর শরীফ ও ফিক্বাহর কিতাব দ্রষ্টব্য)

 বিঃ দ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত ১৫৩তম সংখ্যার সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ পাঠ করুন।

মুহম্মদ আবূ আহমদ

কুড়িগ্রাম

সুওয়াল: ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে কি?

জাওয়াব: ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসাতে তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী ও সম্মানিত ইসলাম উনার নামে রাজনীতি তথা গণতন্ত্র, ভোট, নির্বাচনকারী মাদরাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কুরবানীর চামড়া দেয়ার উত্তম স্থান হলো ‘রাজারবাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’।

পবিত্র কুরবানী একটি ঐতিহ্যবাহী শরয়ী হুকুম ও ইসলামী কাজ। যা উম্মতে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ওয়াজিব। কাজেই পবিত্র কুরবানী দেয়ার সাথে সাথে পবিত্র কুরবানীর চামড়া সঠিক স্থানে দেয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উল্লেখ্য, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সবস্থানে মহান আল্লাহ পাক তিনি আগে ‘ঈমান’ আনার কথা বলেছেন পরে ‘আমলের’ কথা বলেছেন।

এক খোদা তায়ালা উনাকে প্রায় সবাই মানে কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না মানার কারণেই অর্থাৎ আক্বীদার পার্থক্যের কারণেই পৃথিবীতে হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদী, খৃস্টান ইত্যাদি হাজারো বিধর্মী তথা কাফিরের দল রয়েছে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ভাষায় তারা সবাই জাহান্নামী যদি তওবা-ইস্তিগফার করে ঈমান না আনে।

স্মরণীয় যে, শুধু কাফির সম্প্রদায়ই নয়, মুসলমান নামধারী অনেক মালানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসির, শাইখুল হাদীছ, ইমাম, খতীব তথা অনেক ইসলামী দলও রয়েছে যাদের মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আক্বীদা খারাপ রয়েছে। কাজেই তারা মুসলমান নামধারী হলেও তারা মুসলমানের অন্তভুর্ক্ত নয়। তারা ইসলামী দল নামধারী হলেও আসলে তারা ইসলামী দলের অন্তভুর্্ক্ত নয়।

উল্লেখ্য, ইসলামে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ হারাম। ইসলাম উনার নামে ব্যবসা করা হারাম। ইসলাম উনার নামে গণতান্ত্রিক দল করা হারাম। ইসলাম উনার নামে নির্বাচন করা হারাম। ইসলাম উনার নামে ভোট চাওয়া হারাম।

আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে অধিকাংশ মাদরাসাগুলোই হচ্ছে জামাতী, ওহাবী, খারিজী মতাদর্শের তথা সন্ত্রাসী তৈরির সূতিকাগার। পবিত্র ইসলাম উনার দোহাই দিয়ে, পবিত্র ইসলাম উনার নামে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হাছিলের প্রকল্প। পবিত্র ইসলাম উনার নামে নির্বাচন করার ও ভোটের রাজনীতি করার পাঠশালা- যা পবিত্র ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কাজেই, কুরবানীর চামড়া কোথায় দেয়া হচ্ছে তা দেখে দিতে হবে। জামাতী, খারিজী, ওহাবী, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী তথা ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসাতে কুরবানীর চামড়া দেয়া কস্মিনকালেও জায়িয হবে না।

জামাতী, ওহাবী তথা সন্ত্রাসীদের মাদরাসায় পবিত্র কুরবানীর চামড়া দিলে তাতে বদ আক্বীদা ও বদ আমলের প্রচারে সহায়তা করা হবে। তাতে কবীরা গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।

মূলত ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসায় কুরবানীর চামড়া, যাকাত-ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা না দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ মুবারক করেন-

وَتَـعَاوَنُـوْا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّـقْوٰى وَلَا تَـعَاوَنُـوْا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّـقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ

অর্থ: “তোমরা নেক কাজে ও পরহেযগারীতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদ কাজে ও শত্রুতার মধ্যে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২)

পত্রিকার সংবাদে পাওয়া যায়, জামাতী-খারিজীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদরাসায় সংগৃহীত যাকাত, ফিতরা, পবিত্র কুরবানীর চামড়ার মাধ্যমে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে। যা মূলত তাদের বদ আক্বীদা ও বদ আমল তথা ধর্মব্যবসার কাজেই ব্যয়িত হয়।

অনুরূপভাবে এমন কোন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকেও যেমন আনজুমানে মুফিদুল ইসলাম, কোয়ান্টাম এদেরকে পবিত্র কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না, যারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তা-ঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে এবং হিন্দু, বৌদ্ধদেরকে সাহায্য করে। অথচ পবিত্র কুরবানীর চামড়া মুসলমান গরিব মিসকীনদের হক্ব। তা মুসলমান গরিব মিসকীনদের মালিক করে দিতে হবে।

খলীফাতু রসূলিল্লাহ আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র যাকাত উনার একটি রশির জন্যও জিহাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই, পবিত্র যাকাত উনার একটি রশির মতোই পবিত্র কুরবানীর একটি চামড়াও যাতে ভুল উদ্দেশ্যে ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لَنْ يَّـنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَّـنَالُهُ التَّـقْوٰى مِنْكُمْ

“পবিত্র কুরবানীর রক্ত ও গোশত কিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ পেঁৗছায় না। পেঁৗছায় তোমাদের বিশুদ্ধ নিয়ত।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)

কাজেই বিশুদ্ধ নিয়তে পবিত্র কুরবানীর চামড়া ঠিক জায়গায় দিতে হবে। অনেকে পাড়ার মাস্তান, গুণ্ডা-পাণ্ডা, ছিনতাইকারী ও হিরোইনখোরদের হাতে রাখার উদ্দেশ্যে তাদেরকে কম দামে কুরবানীর চামড়া দেয়। এতে কিন্তু নিয়ত বিশুদ্ধ হবে না এবং পবিত্র কুরবানীও শুদ্ধভাবে আদায় হবে না।

তাই বর্তমান হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, যামানার মহান ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, আহলে বাইতে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফের মহান মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বর্তমানে হক্ব মত-পথ ও সুন্নতী আমলের একমাত্র ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’।

কাজেই, পবিত্র যাকাত-ফিতরা বা কুরবানীর চামড়া দিয়ে যারা ছদকায়ে জারীয়ার ছওয়াব হাছিল করতে চায় উনাদের জন্য একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো- ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’ ৫/১ নং আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ