সততা ও আমানতদার বা বিশ্বস্ততার ফযীলত ও গুরুত্ব (২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قَالَ اللهُ هٰذَا يَـوْمُ يَـنْـفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُـهُمْ ۚ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْـهَارُ خَالِدِيْنَ فِيهَا أَبَدًا ۚ رَّضِيَ اللهُ عَنْـهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আজ সত্যবাদীগণকে তাদের সততাই ফায়দা দান করবে। তাদের জন্য এমন জান্নাত রয়েছে, যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান রয়েছে। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের উপর সন্তুষ্ট এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তষ্ট। ইহা উনাদের জন্য বিরাট কামিয়াবী। (সম্মানিত ও পবিত্র সুরা মায়িদা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلصِّدْقُ يُـنْجِيْ وَالْكِذْبُ يُـهْلِكُ
অর্থ: সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা মানুষকে ধবংস করে।
সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মুজাদ্দিদে যামান, শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন গাউসুল আ’যম বড়পীর হযরত আব্দুল কাদীর জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছোটবেলার একটি ঘটনা বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য। তিনি ইলিম হাছিলের উদ্দেশে, একদা এক কাফেলার সাথে বাগদাদ শরীফ গমন করছিলেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। কাফেলার লোকজন এক জায়গায় রাত যাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন। রাত যাপনের আয়োজনে সকলেই যখন ব্যস্ত তখনই একদল ডাকাত এসে উনাদের উপর হামলা করলো। সকলের সব মালামাল লুণ্ঠন করে নিল। শায়েখ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার দিকে একজন ডাকাত এগিয়ে আসলো, উনাকে লক্ষ্য করে বললো, হে প্রিয় বালক! আপনার নিকট কিছু আছে কি? গাউসূল আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি অকুণ্ঠচিত্তে জবাব দিলেন, জি হ্যাঁ, আছে। অতঃপর দ্বিতীয়বার অপর ডাকাত এসে উনাকে একই প্রশ্ন করলো। এভাবে অপর ডাকাত এসে তৃতীয়বার উনাকে একই প্রশ্ন করলো। প্রতিবার তিনি একই রকম জবাব দিলেন। উনার দৃঢ়চিত্ত জবাব শুনে ডাকাতরা আশ্চর্য হলো এবং তাদের সর্দারকে সংবাদ দিলো। ডাকাত দলের সর্দার সেখানে উপস্থিত হয়ে বললো, আচ্ছা, আপনার স্বর্ণমুদ্রাগুলো কোথায় রেখেছেন? তিনি বললেন, আমার জামার আস্তিনের মধ্যে মুদ্রাগুলো সেলাই করা রয়েছে। আমার মা স্বয়ং নিজেই তা সেলাই করে দিয়েছেন।
উনার কথা মতো মুদ্রাগুলো পেয়ে ডাকাত সর্দার বললো, আপনি আমাদেরকে সত্য কথা বললেন কেন! আপনি যদি আমাদেরকে এগুলোর খোঁজ না দিতেন, তাহলে কিছুতেই আমরা এগুলোর খোঁজ পেতাম না। একথা শুনে মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদুল আউলিয়া গাউসূল আযম আওলাদে রসূল হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় আমার আম্মা বলে দিয়েছেন যে, হে প্রিয় বৎস! সদা সত্য কথা বলবেন। কখনো মিথ্যা কথা বলবেন না। আমি কিভাবে উনার আদেশ মুবারকের খিলাফ কথা বলতে পারি! উনার এই উপদেশের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমি আজ তোমাদের নিকট সত্য কথা বলেছি।
সহজ সরল ছোট এ কথাটি সর্দারের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করলো। ডাকাত সর্দারের চোখে পানি চলে এলো। সে ভাবতে লাগলো, ছোট এই ছেলেটি মায়ের কথা তিলে তিলে মেনে চলছে। মায়ের আদেশের খিলাফ করছেনা। অথচ আমি এই বুড়ো বয়সে উপনিত হয়েও মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ অমান্য করে, চুরি ডাকাতি করছি! মানুষকে কষ্ট দিচ্ছি!! অন্যায় কাজে জড়িয়ে আছি।
পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে
পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৪) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৮)
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৬৩) বিশুদ্ধ নিয়ত এবং তার ফযীলত ও গুরুত্ব (৭)
ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর সাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৩৩)