সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ৩০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

হামদ ও সুজুদ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। ছলাত ও সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য। হামদ ও শুকরিয়া মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার জন্য এবং উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ঘোষণা অনুযায়ী আশহুরুল হজ্জ বা পবিত্র হজ্জের মাস হচ্ছেন শাওওয়াল শরীফ, যিলক্বদ শরীফ, যিলহজ্জ শরীফ। একইভাবে আশহুরুল হারাম বা বিশেষভাবে ফযীলতপ্রাপ্ত মাসসমূহের মধ্যে যিলক্বদ ও যিলহজ্জ শরীফ মাস অন্যতম। তাছাড়া শাহরুল উদ্বহিয়্যা বা কুরবানীর মাস হিসেবেও যিলহজ্জ শরীফ মাসের তাৎপর্য অত্যধিক। সঙ্গতকারণেই বর্তমান সময় মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ামত হাছিলের বিশেষ সুযোগ। তাই, বান্দা ও উম্মতের প্রতি অর্পিত দায়িত্বসমূহ শরঈ তারতীব অনুযায়ী যথাযথভাবে সম্পন্ন করার আশ্যকতাই বলাবাহুল্য।

বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুলত্বানুন নাছীর সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একখানা ক্বওল শরীফ কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়। অনেক ওয়াজ শরীফে তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ মুবারক করেন যে, “খোদায়ী বল ও রসূলী বল ব্যতিত রাজ্যবল, ধনবল, জনবল, রণবলসহ কোন বলই কাজে আসবে না, স্থায়ী হবে না।” দ্বীন ইসলাম উনার সূচনা হতে সর্বযুগের ইতিহাসে এ পবিত্র ক্বওল শরীফই বারবার চিত্রিত হয়।

কাফির নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থাসমূহ আমেরিকাকে অনেক ফুলিয়ে  ফাঁপিয়ে প্রকাশ করা হতো। ডলারের মাধ্যমে তারা নাকি বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বের সব দেশের অর্থ তাদের কাছে জমা থাকে। তারাই নাকি সবকিছুর মালিক। অথচ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্ববাসীর কাছে দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্ট হয়েছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে দূর্দশাগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত এবং আর্থিক সংকটময় দেশ হচ্ছে আমেরিকা। বিশ্বজুড়ে লুটতরাজ আর ডাকাতির মাধ্যমে আমেরিকার অস্তিত্ব টিকে আছে। মূলত, এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান উনাদের বিরোধিতায় লিপ্ত কারো ধনবল-অর্থবল কখনোই স্থায়ী হবে না।

ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ফিলিস্তিনকে মিটিয়ে দিয়ে অবৈধভাবে ইজরাইল প্রতিষ্ঠার দুঃস্বপ্ন দেখে। যার কারণে প্রায় ৮০ বছর যাবত ফিলিস্তিনের উপর কাফিররা সম্মিলিতভাবে জুলুম করছে। কিন্তু ফিলিস্তিনবাসীর ঈমানি জজবা কাফেরদেরকে প্রতিবার পরাজিত করছে। কারণ একটাই। পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী জনবল কখনোই চূড়ান্ত কামিয়াবী লাভ করতে পারবে না, স্থায়ী হবে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “হাবলুল্লাহ বা মহান আল্লাহ পাক উনার রজ্জুকে তোমরা আঁকড়ে ধরো, পৃথক হয়োনা।” অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক দামান দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে, কখনোই পৃথক হওয়া যাবেনা। একইভাবে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবেনা। তখন মুসলমানদের জন্য কামিয়াবী লাভ করা সহজ ও সম্ভব হবে। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট তার বাস্তব প্রমাণ।

সন্ত্রাসী আমেরিকা ও সন্ত্রাসী ইসরাইল নিজেদেরকে বিশ্বের সর্বাধুনিক এবং সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি মনে করতো। কিন্তু ইরান যুদ্ধ বিশ্ববাসীর চোখ-কান খুলে দিয়েছে। বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকা ও সন্ত্রাসী ইসরাইল ইরানের সাথে কোনভাবেই পেরে উঠতে পারছে না। এমনকি ইরানের সামরিক শক্তির কাছে ইহুদী-নাসারা-মুশরিকদের সম্মিলিত বাহিনী অতি তুচ্ছ ও নগণ্য প্রমাণিত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরানের দুর্ভেদ্য ও দুর্জয় এ শক্তির উৎস কোথায়?

মূলত, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ইরানবাসী দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন। উনাদের নিসবত মুবারকই ইরানের শক্তির মূল উৎস। যা বিশ্ববাসী মুসলমানদের জন্য ইবরত ও নসীহতের বিষয়।

এ জন্য সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমানদেরকে হাক্বীক্বী নিসবত হাছিল করে তাতে ইস্তিকামত থাকতে হবে। এ জন্য ৫ ওয়াক্ত নামায ও তাহাজ্জুদ গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হবে। বাদ ইশা ও বাদ ফজর ১০০ বার করে পবিত্র দরুদ শরীফ নিয়মিত পাঠ করতে হবে। পাস আনফাস যিকির হতে কখনোই গাফিল থাকা যাবেনা। পবিত্র সুন্নত মুবারক এবং পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ পালনে সর্বদা মশগুল থাকতে হবে। সাথে সাথে হারাম, নাজায়িয, কুফরী, শিরকী, বিদয়াত ও বেশরা হতে পরহেয থেকে কাফির-মুশরিক ও মুনাফিকদের সাথে সব সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তাহলে মুসলমানরা সার্বিকভাবে কামিয়াবী ও নিরাপত্তা লাভ করতে পারবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মাহকে ছহীহ সমঝ ও হাক্বীক্বী নিসবত হাছিলের তাওফীক্ব নসীব করুন।

পবিত্র কুরবানীর ৩টি বিশেষ ফযীলত

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়