কিতাবুল জামে-
-মূলঃ ওস্তাজুল মোহাদ্দেসীন সাইয়্যেদ আমিমুল এহসান রহমতুল্লাহি আলাইহি,
তরজমা ও ব্যাখ্যাঃ মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম আল বাযযাযী
عن عمربن الحظاب رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انما الاعمال بالنيات وانما الامرى ما نوى-
অর্থ : হযরত উমর ইবনে খাত্তাব আলাইহিস সালাম উনার হতে বর্ণিত- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই কর্মফল কার্যকরি হয় নিয়ত অনুযায়ী। প্রত্যেক মানুষ তার কর্মফল তেমনই পাবে যেরুপ সে নিয়ত করবে। ব্যাখ্যাঃ নিয়তের আভিধানিক অর্থ হলো ব্জল্ফৈম্বম্ফ ইচ্ছা মনের দৃঢ় সংকল্প। নিয়ত মনের সাথে সম্পৃক্ত, এ সম্বন্ধে মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন-
النية بالقلب لانه عليه والنكلم لامعتبرله
“নিয়ত হলো ক্বলব (অন্তুর) এর সাথে সম্পৃক্ত। মুখে মুখে নিয়ত করলে তা গ্রহণীয় নহে।
শরীয়তের আলোকে নিয়তের অর্থ সম্বন্ধে আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
النيه عبارة عن انبعاث الفلب نمو مايراه موافعا لغرض من جلب نفع او دفع اوضرحلا او مالا
“বর্তমান ও ভবিষ্যতের কোন ফায়দা বা কোন ক্ষতিকর কাজের প্রতিরোধের জন্য অনুরূপ কাজ করতে মনের উদ্যোগকেই বলে নিয়ত। মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে-
النيه نوجه الفلب نحو الفعل ابتعاء لوجه الله
“মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তেুাষ লাভের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করতে উদ্যোগ গ্রহন।
ইসলামী উপকরণের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। তাই দেখা যায় ছিহাহ সিত্তার সমস্ত ইমামগণই এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে স্বীয় কিতাবে সংযোজন করেছেন। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে একমাত্র মুয়াত্তাই ইমাম মালিক ব্যতীত সব হাদীছ গ্রন্থেই এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সন্ধান মিলে। এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার গুরুত্বের ব্যপকতা সম্বন্ধে ইমামগণ উনাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
হযরত মুছান্নেফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ফিক্বহুস সুনানে ওয়াল আছার কিতাবে উক্ত হাদীছ শরীফের অংশবিশেষ লিপিবদ্ধ করেছেন। এখানে সনদসহ পূর্ণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো।
অন্যত্র এভাবে বর্ণিত আছে-
انمالاعمال بالنبات وانما لكل امرى مانوى فمن كانت هجته الى دنيا يصيبما ار الى امرأه ينكحما فمجرته الى ما هاجر الله.
“নিয়তের উপর সমস্ত কর্মফল নির্ভর করে আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা নিয়ত করেছে। সুতরাং যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার সে হিজরত মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্যই হয়। আর যে দুনিয়া ও বিবাহ করার নিয়তে হিজরত করে তার সে হিজরত সে জন্যই হয় যে নিয়তে সে হিজরত করেছে।”
জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ হিজরতের উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য দারুল কুফর-এর নিজস্ব বাস ভুমি ত্যাগ করে দারুল ইসলামকে স্বীয় বাসস্থানে রূপান্তুরিত করা। তাই হিজরতকারীর উদ্দেশ্য থাকতে হবে, সে যেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মাতৃভূমি ত্যাগ করে। অন্যথায় যদি মুহাজির ব্যবসা-বানিজ্যের জন্য বা দুনিয়ার অন্য কোন উদ্দেশ্যের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার জন্য হিজরত করে তাহলে তার হিজরতের ফলে কোন সওয়াব পাবে না, কেননা তা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য করা হয় নাই। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাসিল ব্যতীত যদি অন্য কোন নিয়তে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করা হয় তা গ্রহণীয় হবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে আমাদেরকে যে শিক্ষা দিয়েছেন তা হলো-
فل ان صلانى ونسلى ومحياى ومماتى لله رب العالمين.
“হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন আমার নামায এবং আমার কুরবানী, আমার হায়াত ও মউত সমস্তই একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার উদ্দেশ্যে নিবেদিত।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬২)
ধর্মীয় অনুশাসনের সমস্ত অবস্থাতেই নিষ্কলুষ মনের ভাবধারা থাকা বাঞ্ছনীয় ইহাতে যদি তিল পরিমাণও ছেঁদ থেকে যায় তাহলে তা প্রাণহীন মানবের মতই অচল ও অকেজো হবে। তাই এ হাদীছ শরীফের মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হবে ইবাদতের ক্ষেত্রে যাতে মনের সংকল্পে মহান আল্লাহ পাক তিনি ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্যে কিছু করা না হয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উৎস : এক ব্যক্তি বিবাহ করার জন্য পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করেছিল, আর মহিলার নাম ছিল উম্মে কায়স। তাই ঐ ব্যক্তি হিজরত করার পর তাকে মুহাজিরে উম্মে কায়স হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত আছে- তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উম্মে কায়স নাম্নি এ মহিলাকে বিবাহ করার পয়গাম প্রেরণ করে, ফলে এ শর্ত আরোপ করে যে, পয়গাম প্রেরণকারীকে মদীনা শরীফ হিজরত করতে হবে; তাহলেই বিয়ে হতে পারে। ইহার ফলে সে মদীনা শরীফ হিজরত করে এবং মহিলার সাথে বিয়ে হয়। এরপর হতেই ঐ ব্যক্তি মুহাজিরে উম্মে কায়স নামে পরিচিতি লাভ করে।
ফিক্বহুস সুনান: কিতাবুত্তাহারাত
ফিক্বহুস্ সুনান : নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান নামায আদায়ের তরতীব