ডাঃ আবু মুহম্মদ ছালেহ
মহান রুবুল আল্মীনের অশেষ শোকরীয়া, কারণ তিনি আমাদেরকে চোখের মত একটি আশ্চর্য্য নেয়ামতের অধিকারী করেছেন। তাঁর প্রেরীত রসূল এনং বান্দা হযরত মুহম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর উপর অশেষ দরুদ ও সালাম, কারণ তিনি আমাদেরকে এমন একটি নেয়ামতের যথাযথ হেফাজত এবং ব্যবহার অকপটে শিক্ষা দিয়েছেন। এনিয়েই আমাদের আজকের পরিবেশনা কেমন করে যায় দেখা! চোখে চার ধরনের যন্ত্রপাতি বিদ্যমান protective covers, lense system, Recesptors এবং Nervesi এদের প্রতিটিরই গঠন এবং কার্যাবলী সম্পূর্ন আলাদা আলাদা কিন্তু অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত এবং সুসমন্বিত। Protcetive cover নামের যে স্তরটি রয়েছে আমাদের চোখের বাইরের দিকে, এর মধ্যে রয়েছে বাইরে থেকে দেখা সাদা অংশটি যাকে বলা হয় Sclera) তা ছাড়াও রয়েছে Choroid এবং অন্যান্য অংশ। এদের কাজই হলো তাদের অভ্যন্তরে ঠাঁই নেয়া অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলোকে রক্ষা করা। Lense system এর কাজ হলো বিভিন্ন দিক থেকে চোখে আপতিত যাবতীয় আলোকরশিকে Receptor এর উপর ফোকাস করা। Receptor এর কাজ হলো সেই ফোকাস করা রশ্মিকে receive করা এবং তার দ্বারা উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। সবশেষে Nerve গুলোর কাজ হলো Receptor দ্বারা সৃষ্ট উদ্দীপনাকে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর প্রাথমিক দায়িত্ব পালন। এদের প্রতিটির অবস্থান ও বেশ সুন্দরভাবে বিন্যস্ত। যেমন Protective Cover গুলো, স্বভাবতঃই থাকে সবার বাইরের দিকটায় সবাইকে কভার করে। আর তার অভ্যন্তর ভাগে Lense System, Receptors এবং Nerve গুলো এমন করে একের পর এক সজ্জিত থাকে যেন বাইরে থেকে প্রবাহমান আলোক রশ্মি গুলো নির্বেঘ্নে বাধা-বন্ধনহীনভাবে রেটিনার উপর নির্দিষ্টস্থানে পৌঁছুতে পারে এবং সেখান থেকে Nerve গুলোর দ্বারা মস্তিষ্কের দিকে বেরিয়ে যেতে পারে উদ্ভূত উদ্দীপনাটুকু।
প্রথমেই আমরা লেন্স সিষ্টেমকে বুঝতে চাচ্ছি। এর অংশ গুলো হচ্ছে- কর্ণিয়া, জলীয় দ্রবণ-১, জলীয় দ্রবণ-২ এবং দুই জলীয় দ্রবণের মধ্যিখানে লেন্স। এদের প্রতিটিই একেবারে স্বচ্ছ। প্রথমে আলোকমালা বিভিন্ন দিকথেকে এসে কর্ণিয়া, যাকে আমরা চোখের মনি বলে থাকি, তার উপর পড়ে কর্নিয়া ভেদ করে প্রথম জলীয় দ্রবণ (Aqueous Humour) তারপর লেন্স (Crystalline lense) তারপরে আবার দ্বিতীয় জলীয় দ্রবণ (Vitrious Humour) সবই পার হয়ে যায় আলোক রশ্মি. অবশেষে এসে পড়ে রেটিনার উপর নির্দিষ্ট স্থানে। (Lense system) এর প্রতিটিরই রয়েছে নিজস্ব নির্দিষ্ট একটি ক্ষমতা, যাকে বলা হয়ে থাকে (Refractive Power) যার দ্বারা আলোকরশ্মির গতিপথ ঠিককরে নিতে তারা সাহায্য করে, যেন পুংখানুপুংখরুপে নির্দিষ্ট স্থানে এসে দৃশ্যমান বস্তুর সঠিক প্রতিবিম্ব তৈরী হতে পারে। এই Refractive Power চোখের একটি অত্যাবশ্যকীয় শুন, যদিও শুধুমাত্র চোখেই এটি সীমাবদ্ধ নয়। এটি সহজেই বোঝা যায় পানি ভর্তি বালতির তলায় একটি পয়সাকে ধরতে গেলে যে অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় তা থেকে আঙ্গুলগুলো কেমন তির্যকভাবে এগিয়ে যায়, তাইনা। অতপর Receptor যা কিনা আমাদের বহুল পরিচিত রেটিনারই অংশ বিশেষ। এখানে জেনে রাখা সুবিধে হবে যে, রেটিনা যদিও খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির দেখতে, অবশ্যই খালি চোখে আশ্চয্য ব্যাপার হলো, এটিও কিন্তু দশ-দশটি পূর্নগঠিত স্তরেরই সমন্বয়। এদের মধ্যে পিছন থেকে যে দ্বিতীয়ন্তর সেটিই হলো Receptor Layer যা কিনা আবার দুটি বিশেষ ধরনের কনিকা সমৃদ্ধ রড্ এবং কোন্। নাম থেকেই এদের দৈহিক আকার আকৃতি অনুমেয় এবং সত্যিই তাই। দেখতে একটি সত্যিই ক্ষুদ্রকৃতি দন্ডস্বদৃশ্য, আরেকটি মোচাকৃতি। রডের কাজ হলো অন্ধকারে ঠিক জিনিসঠিকে ঠাওড়ানো আর কোনের কাজ হলো রং চিনেনেয়া অর্থাৎ Color Vision এদের উভয়ের মধ্যেই থাকে প্রায় একই ধরনের Light Sensitive কিছু বিশেষ কেমিক্যাল কোনে Iodopsin আর রডে Rodopsin যেগুলো আলোকরশ্মির সংস্পর্শে এসেই বিশ্লিষ্ট হয়ে যায় এবং নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কিছু অনুভূতি তৈরীকরে। এ অনুভূতি তৈরীরমাধ্যমেই এ স্তরের পার্শ্ববর্তী রেটিনার অপরস্তরের উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে, উদ্ভুত এ অনুভূতির উদ্দীপনা। টুকু বয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব হলো সম্মিলিত Nerve গুলোর। এদেরউৎপত্তি হলো পূর্ব বর্নিত রেটিনার দশ স্তরের মধ্যে পিছন থেকে তৃতীয় স্তরে যাকে “বলা হয় Outer Nuclear Layear. এই স্তরের সাথে পরবর্তী স্তরের এবং তার সাথে পরেরটির-এমনিভাবে একটি যোগসূত্র তৈরী হয়ে যায় যা সত্যি অর্থেই যেন একটি অবিচ্ছেদ্দ যোগসূত্র। এই যোগসূত্র অর্থাৎ ই বয়ে নিযে যায় উদ্ভূত উদ্দিপনা টুকুকে চোখের সীমানার বাইরে, অর্থাৎ Optic Nerve দেয়ে অবশেষে এটি মস্তিষ্কে প্রবেশ করে যেখানে হয়ে থাকে দৃষ্ট বস্তর পূর্ণ বিশ্লেষণ এবং পরিচয় জ্ঞান লাভ। এখানে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই যে, আমাদের দেখা কোন বস্তুর যখন প্রতিবিম্ব তৈরী হয় রেটিনাতে সেটি কিন্তু হয় সম্পূর্ন উল্টানো একটি প্রতবিম্ব, অর্থাত মাটি চলে যায় আকাশের স্থানে। আর আকাশ নেমে যায় মাটিতে। রাস্তায় হাঁটতে থাকা ভালো মানুষটি যেন আকাশের দিকে পা দিয়ে ঝুলে ঝুলে চলার ম্যাজিক দেখাচ্ছে। সত্যই কি ভয়ংকর, তাইনা! কিন্তু তয় পাবার কিছুই নেই। কারণ দেমাগ বিগঞ্জিয়ে না থাকলে সে কিন্তু ব্যাপারটি ঠিকই বুঝে নেয় তাৎক্ষনিকভাবে, যেহেতু সে এভাবেই প্রশিক্ষিত সেই মহান পাকজাতের দ্বারা যিনি বাস্তবিকই আশ্চর্যতম।
হযরত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্য/দু’একটি বিষয়ে আলোকপাত
মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ
যমযম কুপের ও ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা মোস্তাহাব অন্য কোন পানি বা খাদ্য দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ