হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযুতে মাথা মসেহ করেছেন এবং দুই কানের ভিতর দিক দুই শাহাদাত আঙ্গুলী দ্বারা এবং উহার বাইরের দিক দু’ বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা।
ওযুতে অঙ্গগুলো তিনবার ধোয়া সুন্নাত উনার বেশি ধুলে মাকরূহ হবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে- “হযরত আমর ইবনে শুয়াইব উনার পিতা হতে এবং উনার পিতা উনার দাতা হতে বর্ণনা করেন যে, তার দাদা বলেছেন, একদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এক বেদুইন, এসে উনাকে ওযু সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি উনাকে তিনবার করে দেখালেন, অতঃপর বললেন ওযু এরূপ যে ইহা হতে বেশি করলে সে মন্দ করলো, সীমা লঙ্ঘন করল ও জুলুম করলো।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো আছে- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আছে যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লঅহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন ছা’দ স্থানে আবি ওয়াক্বাছ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার নিকট গেলেন, ছা’দ তখন ওযু করছিলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই অপব্যয় কেন ছাদ? ছাদ বললেন, ওযুতেও কি অপব্যয় আছে? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই। যদিও তুমি প্রবাহমান নদীর ধারে হও।
খিলাল করা
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে, “হযরত লকীত ইবনে ছাবেরাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললাম, ইয়া রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ওযু শিক্ষা দিন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ওযুতে সকল স্থান পূর্ণভাবে দৌত করবে, আঙ্গুলসমূহ খিলাল করবে আর তুমি যদি রোজাদার না হও তবে নাকের ভিতর পানি টানবে দীর্ঘ করে।
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্নিত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তুমি ওযু করবে তোমার দু’হাতের ও দু’পায়ের অঙ্গুলিসমূহ খিলাল করবে।
হযরত মুরতাত্তারিদ বিন শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি দেখেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ওযু করতেন ছোট অঙ্গুলী দ্বারা দু’পায়ের অঙ্গুলী সমূহকে মলতেন।
দাড়ি খিলাল
দাড়ি যদি ঘন হয়, আর তার ফলে চামড়া দেখা না যায় তাহলে দাড়ি খিলাল করতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে- “হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযু করার সময় এক কোষ পানি নিতেন, অতঃপর তা চিবুকের নিম্নো দিয়ে দাড়িতে প্রবেশ করাতেন এবং তা দ্বারা দাড়ি খিলাল করতেন এবং বলতেন আমার আল্লাহ পাক আমাকে এরূপ করতে আদেশ করেছেন।
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত তিনি বলেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাড়িখিলাল করতে দেখেছি।”
“হযরত ওসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযু করার সময় দাড়ি খিলাল করেছেন।”
আংটি
যে আংটি সহজে নাড়ানো যায় না অর্থাৎ ঢিলা নয় এমন আংটি ব্যবহারকারী ওযুর সময় ঘুরিয় ফিরিয়ে দিতে হবে, যাতে সর্বস্থানে পানি পৌঁছুতে পারে; এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “হযরত আবু রাফে রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথন ওযু তরদেন. স্বীয় আঙ্গুলে পরিহিত আংটিকে নেড়ে দিতেন।
হযরত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্য/দু’একটি বিষয়ে আলোকপাত
মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ
সর্ব প্রথম সৃষ্টি নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম