হযরত রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বৈশিষ্ট্য/দু’একটি বিষয়ে আলোকপাত

সংখ্যা: ৪র্থ সংখ্যা | বিভাগ:

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

মুহম্মদ সাদী

এমনিভাবে দীর্ঘ তের বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় পবিত্র মক্কা শরীফ উনার যমীনে গড়ে উঠলো এক অকুতোভয় ও নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ কাফেলা। যাঁরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম  নামে পরিচিত। মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক অনুযায়ী ইসলাম প্রচারের জন্য আপাততঃ প্রতিকূল পরিবেশ জন্মভূমি পবিত্র মক্কা শরীফ ছেড়ে মুবারক মুজাহিদ কাফিলাসহ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বরকতময় স্থানে হিজরত করেন। মুহাজির ও আনসার ছাহাবায়ে কিরামগণ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জজবা ও ইখলাস তখন ইসলাম উনার হিলালী ঝান্ডা উত্তোলনের অনুকূলে।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত দ্বীন বিজয়ী করে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বুকে কায়েম করলেন পবিত্র ইসলামী ওয়াতান। রচনা করলেন সে ওয়াতানের সংবিধান। পবিত্র দ্বীন উনার দাওয়াত পাঠাতে লাগলেন দেশ থেকে দেশান্তরে। কাফিরদের মোকাবিলা করার জন্য সংঘিটিত হলো বদরের জ্বিহাদ। মহান আল্লাহ পাক তিনি দ্বীন ইসলাম উনার এই প্রথম ময়দানের জিহাদের বিজয় দান করলেন এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দিলেনঃ “আপনি যখন (বদরের জিহাদে একমুষ্ঠি) প্রস্তর নিক্ষেপ করেছিলেন তা আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিক্ষেপ করেছিলেন।” এভাবে দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম। পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়কালে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হেরেম শরীফ উনার স্থাপিত মুর্তিগুলি একটি লাঠির আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে দিতে বলেছিলেনঃ ‘সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে’। কেননা মিথ্যাতো নিশ্চিহ্ন হয়েই যায়।” চূড়ান্ত ইসলাম বিজয়ের এমনি এক সময়ে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওফাত মুবারক উনার ঈঙ্গিত পাঠালেন- “যখন আসবে মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য ও বিজয় এবং মানুষকে আপনি দলে দলে মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন। তখন আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ উনার মহিমা বর্ণনা করুন এবং উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি অধিকতর ক্ষমাশীল।”

          মহান আল্লাহ পাক উনার মহান ইচ্ছায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে ইসলাম প্রকাশ ও বিকাশ লাভ করে। ইসলাম উনার ধারক ও বাহক হিসেবে তিনি যে ত্যাগ তিতিক্ষা ও সৈনধর্যশীলতার অনুপম আদর্শ স্থাপন করেছেন ইসলাম উনার সুশীতল ছায়াতলে আমাদের চিরকালের অবস্থান তারই সুফল। নবুওয়াত লাভের পূর্বে সুদীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে যে কাফির-মুশরিকরা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আল্ আমীন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো তারাই তাওহীদ ও রিসালতের বিরুদ্ধাচরণ করেছিলো নির্মমভাবে। এদের মধ্যে পাপাত্মা আবু জেহেল, আবু লাহাব এবং আরো অনেক প্রধান। আল্ আমীন হিসেবে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নীতি ও রীতি বিধর্মীদের অংশীবাদী পৌত্তলিক ধর্মবিশ্বাসে আমূল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনি। কিন্তু নুবুওওয়াত লাভোত্তর পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনুশাসনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নীতি ও বিধান ওদের মন-মনন ও ধর্ম বিশ্বাসে প্রচন্ড আঘাত হানে। তাই কাফিরদের জীবনের অন্তিম মূহুর্ত পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিদ্রোহ ছিলো প্রকট। আইয়্যামে জাহেলিয়ার চরম কলঙ্কিত এই অধ্যায়ে রিসালতের মহান দায়িত্ব পালনে তিনি সীমাহীন প্রতিকূল অবস্থা ও বিদ্রুপাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করার জন্য যে অসীম ধৈর্যের প্রয়োজন তা’ একমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্রেই বিদ্যমান ছিলো। তায়েফের হৃদয় বিদারক ঘটনায় নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে অবর্ণনীয় কষ্ট দেয়া হয়েছিল তাতেও উনার কোমল অন্তকরণ অত্যাচারীদের প্রতি অভিসম্পাতের পরিবর্তে ক্ষমা ও হিদায়াত প্রার্থনা করেছিলেন।

          খন্দক ও ওহুদসহ বিভিন্ন জিহাদে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় শারিরীক নির্যাতন সত্বেও পরম ধৈর্যের সাথে তিনি যে বিপদের মুকাবিলা করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা চির ভাস্বর। মক্কাবাসী কাফিরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি উনার প্রিয় জন্মভূমি পবিত্র মক্কা শরীফ ছেড়ে পবিত্র মদীনা শরীফ যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। অষ্টম হিজরীতে পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর সে সব দুশমনদেরকে হাতে পেয়েও প্রতিশোধ না নিয়ে তিনি যে অনুকম্পা তথা মহানুভবতা প্রদর্শন করেছিলেন তা উনার পরম ধৈর্য্যপরায়নতারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ওহুদ জিহাদে তিনি উনার পবিত্র শরীর মুবারক উনার বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন। এর জন্য কোন কোন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বদ্দোয়া করার আরজ করেন। জবাবে তিনি বলেন- “আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য নবীরূপে প্রেরিত হইনি। আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনার দিকে আহ্বানকারী এবং পরিপূর্ণ রহমত হিসেবে এসেছি। আয় আল্লাহ পাক! আমার কওমকে হিদায়াত দান করুন। কেননা তারা (আমাকে) চিনেনা।” শুধু মুসলমানদের প্রতি নয়, বিধর্মীদের প্রতিও তিনি ছিলেন উদার ও ধৈর্য্যশীলতার এক মূর্ত প্রতীক। বিপদ-আপদ, রোগ-শোক ও ক্ষুধা-তৃষ্ণায় অবিচলিত থাকাই ছিলো উনার মুবারক চরিত্রের অন্যতম ভূষণ। মূলতঃ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আচার-আচরণের আন্তরিকতাই পবিত্র ইসলাম উনাকে পৃথিবীর বুকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হয়েছিলো।

          তিনি ছিলেন অসহায়ের সহায়, নিরাশ্রয়ের আশ্রয়, বিপদে পরামর্শদাতা এবং দান-খয়রাতে জগতের এক অনন্য উদাহরণ। ন্যায় বিচার, সাম্য ও সমতা ছিল উনার জীবনের মূল মন্ত্র। তিনি ছিলেন দরিদ্র, অসহায়, দূর্বল ও মজলুমের বন্ধু। সহায়-সম্বলহীন গরীব দুঃখীকে তিনি দান করেছেন অকাতরে। তিনি নির্দিষ্ট কোন কাল বা জনগোষ্ঠীর রসুল নন। তিনি কালজয়ী সকলের এক অবিসংবাদিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই উনার দান-খয়রাতের দয়াদ্র হাত সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। তিনি যে কোন উৎস থেকে সম্পদ প্রাপ্ত হতেন, তা’ যতো কম বা বেশীই হোক, সম্পূর্ণ দান করে ফেলতেন। উনার পবিত্র মুখ মুবারক নিঃসৃত বানীর মধ্যে দান খয়রাতের কথাই প্রাধান্য পেত বেশী। অভূক্ত থেকে নিজের খাবার সায়েলকে দান করে ফেলাই ছিলো উনার জীবনের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। সর্বোপরি উম্মতের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনায় মহান আল্লাহ্ পাক উনার কাছে উনার অনুক্ষণের সদয় সুপারিশ আমাদের জন্য এক আবেহায়াত। দান খয়রাতের সাথে সাথে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষকে সৎকর্ম সম্পাদনে উৎসাহিত করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দান খয়রাতের এই প্রকৃষ্ট পদ্ধতি তাই ভিক্ষাবৃত্তি সমর্থন  করেনা। মানুষকে কর্মবিমুখ ও নিষ্ক্রিয় করেনা, কর্মমুখী করে তোলে। এই কর্ম চাঞ্চল্য মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখায় এবং হালাল রুজী উপার্জনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভে সহায়ক হয়।

          নশ্বর এই পৃথিবীতে মানুষের কর্মময় জীবনের সাথে শ্রমের সম্পর্ক বিজড়িত। প্রকৃত প্রস্তাবে জীবনের সামগ্রিক আমল ও পরিশ্রমই মানুষের জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য নিরূপনের মানদন্ড। জীবন, জীবনকে অর্থবহ করার প্রয়োজনেই বহুমুখী কর্মের সমাহার। শ্রমকে বাদ রেখে তাই জীবনের সংজ্ঞা প্রনয়ন ও বাঞ্ছিত এবং গন্তব্য ঠিকানায় পৌঁছার প্রত্যাশা নিছক বাতুলতা। আমরা দেখতে পাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ জীবনে সক্রিয়ভাবে এই সত্যটির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। সৎ জীবিকা অর্জনের জন্য ইসলাম যে কোন শ্রম সম্পাদনে মানুষকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগায়। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির সুষ্ঠু শ্রমবন্টন নীতি নতুন কোন কথা নয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রম বন্টনের অনুকরণীয় উদাহরণ রেখে গেছেন আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে। আদর্শ শ্রমিক হিসেবে তিনি ছাগল (বকরি) চরিয়েছেন। তপ্ত মরুমাঠে, ব্যবসা উপলক্ষে গিয়েছেন সুদূর সিরিয়ার মাটিতে। কাপড় এবং নিজ পাদুকা সেলাই করেছেন আপন হাতে, হযরত উম্মুল মু’মিনিন আলাইহান নাস সালামগণ উনাদেরকে সাহায্য করেছেন গৃহকাজে। পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে একটি মসজিদ তৈরীর কাজে মাথায় করে ইটের বোঝা টেনেছেন দীন মজুরের মতো। শ্রম সম্পাদনের এমনি এক শারিরীক কষ্টের মূহুর্তে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  বিনয়ের সাথে আরজ করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ‘আমাকে দিন। আপনার ইটের বোঝা আমি বহন করি।’ তিনি জবাব দিলেন- ‘হে আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! অন্য ইট নিয়ে যাও, এই দুনিয়া আরামের জায়গা নয়। প্রকৃত আরামের স্থান পরকাল।’ এমনকি, তিনি জীবিকার তাগিদে পানি তুলেছেন জনৈক ইহুদীর কুপ থেকে। দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় প্রকাশে শানিত কৃষানে তিনি জিহাদ করেছেন। নের্তৃত্ব দিয়েছেন জিহাদের ময়দানে।

          শ্রমে উজ্জীবিত অর্থনীতি সমাজে সম্পদ ও অর্থের সুষম বন্টনের সহায়ক। এই ব্যবস্থা মানবসৃষ্ট অর্থনৈতিক পুঁজিবাদ ও রাজনৈতিক এক নায়কত্ববাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলির পুঁজিবাদ, সমরবাদ, সমাজতন্ত্রবাদ, কমিউনিজমের নামে নাস্তিকতাবাদ, এমনকি গণতন্ত্রবাদ ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান দৃষ্টিতে অপাংতেয়। সৎ শ্রমানুশীলন মানুষের আর্থিক বুনিয়াদকে মজবুত করে একমাত্র ইসলামী শরীয়ত সম্মত আমল ও কর্মানুষ্ঠানই মানুষকে অনুক্ষণ স্রষ্ঠামুখী করতে থাকে এবং আসমানী প্রেরনা ও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভে মদদ যোগায়। শ্রমের মর্যাদাকে অক্ষুন্ন ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যেই একটি পবিত্র হাদীছ শরীফ এখানে দৃষ্টান্তযোগ্য- “শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দাও।” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ প্রতিনিয়ত আমাদেরকে শ্রম ও শ্রমের মূল্যের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়।

          মানুষ হিসেবেই মানুষের মাঝে সকল আদর্শের সমাহার নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার রসুল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। একমাত্র উদ্দেশ্য পৃথিবীতে মহান আল্লাহ পাক উনার দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ সাধন এবং আত্মিক পরিশুদ্ধি ও পূণ্যতার মাঝে পারলৌকিক প্রশান্তি তথা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের সুস্পষ্ট পথ প্রদর্শন জাগতিক জীবনে মানুষের ধর্ম ও কর্মের মাঝে সুসামঞ্জস্য বিধান করে গিয়েছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যার পেছনে উনার মহান চরিত্র মুবারক বৈশিষ্ট্যগুলি আমরা খুঁজে পাই। দলমত নির্বিশেষে আমাদের মাঝে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল আম্বিয়া, রহমাতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার পূর্ণাঙ্গ রূপায়নই হোক আজকে আমাদের সকলের কামনা। ঈমান ও আমলের বর্তমান সংকট নিরসনে এর কোন বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। (আমীন)

মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য হযরত আবু বকর ছিদ্দীক আলাইহিস সালাম উনার নির্যাতন ভোগ

আশ্চর্য হলেও সত্য

যমযম কুপের ও ওযুর পানি দাঁড়িয়ে পান করা মোস্তাহাব অন্য কোন পানি বা খাদ্য দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ

ইলমে তাসাউফ

সর্ব প্রথম সৃষ্টি নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম